যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২

উপন্যাস : নবীন প্রেমের উদয়! দ্বিতীয় খণ্ড, পর্ব : চৌদ্দ ,

 নবীন প্রেমের উদয়! দ্বিতীয় খণ্ড,  

লেখক নাঈম হোসেন 

পর্ব: চৌদ্দ,  [ হুবহু জেমির বর্ণনা; ] 

👩জেমি: আমার খুব তৃষ্ণা পেয়েছে এক গ্লাস জল দিতে পারবে?

💂পরিরাজ : চোখের পলকের মধ্যে এক গ্লাস জল এনে দিল; জেমি: এক চুমুকে সবটুকু শেষ করে বললঃ ধন্যবাদ ৷

💂পরিরাজ : তোমাকেও ধন্যবাদ ৷ 

💂পরিরাজ: একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ...

মুসা (আ:) মাদায়িন অভিমূখে রওনা হলেন। দীর্ঘ পথ ও পাহাড়-সাগর পেরিয়ে মাদায়িন শহর। পথ চলতে চলতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

তৃষ্ণা নিবারণের জন্য একটি কূপের নিকট গেলেন। কিন্তু সেখানে প্রচণ্ড ভীড়। রাখালের দল ও অন্যরা নিজ নিজ পশুপালকে পানি পান করাচ্ছেন। ভীড়ের মাঝে মুসা (আঃ) দেখলেন দুইজন রমণী একপাশে দাড়িয়ে আছেন। অপেক্ষা করছে পুরুষের ভীড় কমে যাওয়ার। তারা তাদের পশুদের পানি পান করানোর জন্য এসেছে। 

💂পরিরাজ: মুসা (আঃ) তাদের অবস্থা জানতে চাইলেন। রমনীদ্বয়ের উত্তর ছিল এ রকম–
"আমরা পুরুষের ভীড়ে পানি পান করাতে সংকোচবোধ করছি। আমরা অপেক্ষা করছি— রাখালদল চলে গেলে পানি পান করাব। তাছাড়া আমাদের পিতা একজন অতিশয় বৃদ্ধ। তিনি এ কাজ করতে অক্ষম। তাই আমরা বাধ্য হয়ে এখানটায় এসেছি।" 

💂পরিরাজ: তাদের কথা শুনে মুসা (আঃ) এর হৃদয় বিগলিত হয়ে গেল। কূপ থেকে পানি উত্তলোন করে তিনি তাদের পশুদের পানি পান করাল। রমণীদ্বয় খুশি মনে বাড়ির পথ ধরল। 

💂পরিরাজ: মুসা (আঃ) দীর্ঘ পথ সফর করে এসেছেন। দীর্ঘ পথে সূর্যতাপ তাকে তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত বানিয়ে দিয়েছে। পথের পাশেই ছায়াদার বৃক্ষের নিচে বসলেন। একটু জিরিয়ে নিলেন। অতঃপর মহান আল্লাহর নিকট দোআ করলেন— তিনি যেন উত্তম মেহমানদারির ব্যবস্থা করেন। পানাহারের ব্যবস্থা করেন। 

💂পরিরাজ: বিষয়টি কোরআনে এবাবে বলা হয়েছে যে, [৬০] আর যখন সে মাদয়ানের কুয়ার কাছে পৌঁছল, সে দেখলো, অনেক লোক তাদের পশুদের পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের থেকে আলাদা হয়ে একদিকে দু’টি মেয়ে নিজেদের পশুগুলো আগলে রাখছে। মূসা মেয়ে দু’টিকে জিজ্ঞেস করলো,

"তোমাদের সমস্যা কি?” তারা বললো, “আমরা আমাদের জানোয়ারগুলোকে পানি পান করাতে পারি না যতক্ষণ না এ রাখালেরা তাদের জানোয়ারগুলো সরিয়ে নিয়ে যায়, আর আমাদের পিতা একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি।” 

💂পরিরাজ : অর্থাৎ মেয়েরা বুঝাতে চেয়েছে যে , আমরা মেয়ে মানুষ। এ রাখালদের সাথে টক্কর দিয়ে ও সংঘর্ষ বাঁধিয়ে নিজেদের জানোয়ারগুলোকে আগে পানি পান করাবার সামর্থ্য আমাদের নেই। 

অন্যদিকে আমাদের পিতাও এত বেশী বয়োবৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন যে, তিনি নিজে আর কষ্টের কাজ করতে পারেন না। আমাদের পরিবারে আর দ্বিতীয় কোন পুরুষ নেই। তাই আমরা মেয়েরাই এ কাজ করতে বের হয়েছি। 

সব রাখালদের তাদের পশুগুলোকে পানি পান করিয়ে নিয়ে চলে যাওয়া পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আমাদের অপেক্ষা করতে হয়।
মেয়ে দু’টি শুধুমাত্র একটি সংক্ষিপ্ত বাক্যের মাধ্যমে এ বক্তব্য উপস্থাপন করে। 

এ থেকে একদিকে তাদের লজ্জাশীলতার প্রকাশ ঘটে। অর্থ্যাৎ একজন পর পুরুষের সাথে তারা বেশি কথাও বলতে চাচ্ছিল না। 

আবার এটাও পছন্দ করছিল না যে, এ ভিন দেশী অপরিচিত লোকটি তাদের ঘটনা সম্পর্কে কোন ভুল ধারণা পোষণ করুক এবং মনে মনে ভাবুক যে, এরা কেমন লোক যাদের পুরুষরা ঘরে বসে রয়েছে আর ঘরের মেয়েদেরকে এ কাজ করার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। 

💂পরিররাজ: আর এ মেয়েদের বাপ ছিলেন হযরত শু’আইব আলাইহিস সালাম।

💂পরিরাজ: একথা শুনে মূসা তাদের জানোয়ারগুলোকে পানি পান করিয়ে দিল। তারপর সে একটি ছায়ায় গিয়ে বসলো এবং বললো, “হে আমার প্রতিপালক! যে কল্যাণই তুমি আমার প্রতি নাযিল করবে আমি তার মুখাপেক্ষী।”  

💂পরিরাজ: এ স্থানটি, যেখানে হযরত মূসা পৌঁছেছিলেন, এটি ছিল আরবীয় বর্ণনা অনুযায়ী আকাবা উপসাগরের পশ্চিম তীরে মানকা থেকে কয়েক মাইল উত্তর দিকে অবস্থিত। বর্তমানে এ জায়গাটিকে আল বিদ'আ বলা হয়। 

💂পরিরাজ : তারপর বৃদ্ধ পিতার কন্যাদ্বয় বাড়ি ফিরেছেন। অন্যান্য দিনের তুলনায় আগে বাড়ি ফেরায় পিতা খানিকটা বিষ্মিত হলেন। কারণ জিজ্ঞাসা করলে , পিতার নিকট সব ঘটনা খুলে বললেন। বৃদ্ধ ঘটনা শ্রবণ করে দ্রুত এক মেয়েকে পাঠালেন— তাকে বাড়িতে নিয়ে আসতে। 

অপরিচিত লোকটিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। মুসা (আঃ) বৃদ্ধের দাওয়াত কবুল করে তার বাড়ি আসলেন। আথিতেয়তা গ্রহণ করলেন। পানাহার শেষে বৃদ্ধ লোকটি যে প্রস্তাব দিলেন তার জন্য মুসা (আঃ) মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না।

তিনি তার দুই কন্যা থেকে একজনকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার নিবেদন করলেন। উভয় কন্যা থেকে যাকে পছন্দ হয় তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দেন। তবে শর্ত হলো- আট বা দশ বছর বৃদ্ধের বাড়িতেই অবস্থান করতে হবে। 

পাশাপাশি পশুপালের সার্বিক দেখাশুনা করবে। এটাই হলো স্ত্রীর মোহরানা। মুসা (আঃ) তার প্রস্তাব গ্রহণ করলেন।

💂পরিরাজ : বিষয়টি কোরআনে এভাবে বলা হয়েছে যে , (বেশিক্ষণ অতিবাহিত হয়নি এমন সময়) ঐ দু’টি মেয়ের মধ্য থেকে একজন লজ্জাজড়িত পদ বিক্ষেপে তার কাছে এলো  এবং বলতে লাগলো, “আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন, আপনি আমাদের জানোয়ারগুলোকে যে পানি পান করিয়েছেন আপনাকে তার পারিশ্রমিক দেয়ার জন্য।” মূসা যখন তার কাছে পৌঁছল এবং নিজের সমস্ত কাহিনী তাকে শুনালো তখন সে বললো, “ভয় করো না, এখন তুমি জালেমদের হাত থেকে বেঁচে গেছো।”

👸পরিরাজ : সাহাবী হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এ বাক্যাংশটির এরূপ ব্যাখ্যা করেছেনঃ “সে নিজের মুখ ঘোমটার আড়ালে লুকিয়ে লজ্জাজড়িত পায়ে হেঁটে এলো।

সেই সব ধিংগি চপলা মেয়েদের মতো হন হন করে ছুটে আসেনি, যারা যেদিকে ইচ্ছা যায় এবং যেখানে খুশী ঢুকে পড়ে।” 

💂পরিরাজ : এ বিষয়বস্তু সম্বলিত কয়েকটি রেওয়ায়েত সাঈদ ইবনে মানসুর, ইবনে জারীর, ইবনে আবী হাতেম ও ইবনুল মুনযির নির্ভরযোগ্য সনদ সহকারে উমর থেকে উদ্ধৃত করেছেন। 

এ থেকে পরিষ্কার জানা যায়, সাহাবায়ে কেরামের যুগে কুরআন ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বদৌলতে এ মনীষীগণ লজ্জাশীলতার ইসলামী ধারণা লাভ করেছিলেন তা অপরিচিত ও ভিন পুরুষদের সামনে চেহারা খুলে রেখে ঘোরাফেরা করা এবং বেপরোয়াভাবে ঘরের বাইরে চলাফেরা করার সম্পূর্ণ বিরোধী ছিল।

হযরত উমর (রাঃ) পরিষ্কার ভাষায় এখানে চেহারা ঢেকে রাখাকে লজ্জাশীলতার চিহ্ন এবং তা ভিন পুরুষের সামনে উন্মুক্ত রাখাকে নির্লজ্জতা গণ্য করেছেন। 

💂পরিরাজ : একথাও সে বলে লজ্জা-শরমের কারণে। কেননা, নির্জনে একজন ভিন পুরুষের কাছে একাকী আসার কোন কারণ বলা জরুরী ছিল। 

অন্যথায় একথা সুস্পষ্ট, একজন ভদ্রলোক যদি কোন মেয়ে মানুষকে পেরেশান দেখে তাকে কোন সাহায্য করে থাকে, তাহলে তার প্রতিদান দেবার কথা বলা কোন ভালো কথা ছিল না। তারপর এ প্রতিদানের নাম শোনা সত্ত্বেও মূসার মতো একজন মহানুভব ব্যক্তির উঠে এগিয়ে যাওয়া একথা প্রমাণ করে যে, তিনি সে সময় চরম দুরবস্থায় পতিত ছিলেন।

একেবারে খালি হাতে অকস্মাৎ মিসর থেকে বের হয়ে পড়েছিলেন। মাদয়ান পর্যন্ত পৌঁছতে কমপক্ষে আট দিন লাগার কথা। ক্ষুধা, পিপাসা এবং সফরের ক্লান্তিতে অবস্থা কাহিল না হয়ে পারে না। 

বিদেশে-পরবাসে কোন থাকার জায়গা পাওয়া যায় কিনা এবং এমন কোন সমব্যথী পাওয়া যায় কিনা যার কাছে আশ্রয় নেয়া যেতে পারে, এ চিন্তা সম্ভবত তাকে সবচেয়ে বেশী পেরেশান করে দিয়েছিল।

এ অক্ষমতার কারণেই এত সামান্য সেবা কর্মের পারিশ্রমিক দেবার জন্য ডাকা হচ্ছে শুনে মূসা যাওয়ার ব্যাপারে ইতস্তত করেননি। 

তিনি হয়তো ভেবেছিলেন যে, আল্লাহর কাছে এখনই আমি যে দোয়া করেছি তা কবুল করার এ ব্যবস্থা আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়েছে, তাই এখন অনর্থক আত্মমর্যাদার ভান করে আল্লাহর দেয়া আতিথ্যের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করা সঙ্গত নয়[৬১] 

💂পরিরাজ : তারপরে মুসা (আঃ) বৃদ্ধের বাড়িতে আগমন করলে তার উভয় মেয়ে থেকে যে কোন একজনকে নির্বাচন করার স্বাধীনতা দেন। 

নবী মুসা তার ছোট কন্যাকে নির্বাচন করেন। কেননা সে তাকে পথ দেখিয়েছেন। তার কিছু আচরণ ও ব্যবহার নবীকে মুগ্ধ করেছেন। উন্নত চরিত্র, লাজুকতা, নিজের সম্ভ্রম-আবরুর প্রতি রক্ষণশীলতার কারণে মুসা (আঃ) তাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সেই কন্যার নাম ছিল ‘সাফূরা’ বা সাফূরিয়া। 

💂পরিরাজ : পবিত্র কোরআনের ভাষায় মেয়ে দু'জনের একজন তার পিতাকে বললো, “আব্বাজান! একে চাকরিতে নিয়োগ করো, কর্মচারী হিসেবে ব্যক্তিই উত্তম হতে পারে যে বলশালী ও আমানতদার।”

💂পরিরাজ : হযরত মূসার সাথে প্রথম সাক্ষাতের সময় মেয়েটি তার বাপকে একথা বলেছিল কিনা এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে বেশির ভাগ সম্ভাবনা এটাই যে, তার বাপ অপরিচিত মুসাফিরকে দু-একদিন নিজের কাছে রেখে থাকবেন এবং এ সময়ের মধ্যে কখনো মেয়ে তার বাপকে এ পরামর্শ দিয়ে থাকবে। 

এ পরামর্শের অর্থ ছিল, আপনার বার্ধক্যের কারণে বাধ্য হয়ে আমাদের মেয়েদের বিভিন্ন কাজে বাইরে বের হতে হয়। বাইরের কাজ করার জন্য আমাদের কোন ভাই নেই। 

আপনি এ ব্যক্তিকে কর্মচারী নিযুক্ত করুন। সুঠাম দেহের অধিকারী বলশালী লোক। সবরকমের পরিশ্রমের কাজ করতে পারবে। আবার নির্ভরযোগ্যও। নিছক নিজের ভদ্রতা ও আভিজাত্যের কারণে সে আমাদের মতো মেয়েদেরকে অসহায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমাদের সাহায্য করেছে এবং আমাদের দিকে কখনো চোখ তুলে তাকায়ওনি৷  

💂পরিরাজ : তার পিতা (মূসাকে) বললো, “আমি আমার এ দু’মেয়ের মধ্য থেকে একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই। শর্ত হচ্ছে, তোমাকে আট বছর আমার এখানে চাকরি করতে হবে। আর যদি দশ বছর পুরো করে দাও, তাহলে তা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমার ওপর কড়াকড়ি করতে চাই না। তুমি ইনশাআল্লাহ আমাকে সৎলোক হিসেবেই পাবে।

💂পরিরাজ : একথাও জরুরী নয় যে, মেয়ের কথা শুনেই বাপ সঙ্গে সঙ্গেই হযরত মূসাকে এ কথা বলে থাকবেন। সম্ভবত তিনি মেয়ের পরামর্শ সম্পর্কে ভালোভাবে চিন্তা-ভাবনা করার পর এই মত স্থির করেছিলেন যে, লোকটি ভদ্র ও অভিজাত, একথা ঠিক। কিন্তু ঘরে যেখানে জোয়ান মেয়ে রয়েছে সেখানে একজন জোয়ান, সুস্থ্য, সবল লোককে এমনি কর্মচারী হিসেবে রাখা ঠিক নয়।

এ ব্যক্তি যখন ভদ্র, শিক্ষিত, সংস্কৃতিবান ও অভিজাত বংশীয় (যেমন হযরত মূসার মুখে তাঁর কাহিনী শুনে তিনি মনে করে থাকবেন) তখন একে জামাতা করেই ঘরে রাখা হোক।

এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর কোন উপযুক্ত সময়ে তিনি হযরত মূসাকে এ কথা বলে থাকবেন।

💂পরিরাজ : এখানে দেখুন বনী ইসরাঈলের আর একটি কীর্তি। তারা তাদের মহান মর্যাদাসম্পন্ন নবী এবং নিজেদের সবচেয়ে বড় হিতকারী ও জাতীয় হিরোর কী দুর্গতি করেছে।

তালমূদে বলা হয়েছে, “মূসা রূয়েলের বাড়িতে অবস্থান করতে থাকেন। তিনি নিজের মেজবানের মেয়ে সাফুরার প্রতি অনুগ্রহ দৃষ্টি দিচ্ছিলেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি তাকে বিয়ে করলেন।”

আর একটি ইহুদী বর্ণনা জুয়িশ ইনসাইক্লোপিডিয়ায় উদ্ধৃত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, “হযরত মূসা যখন যিথ্রোকে সমস্ত ঘটনা শুনালেন তখন তিনি বুঝতে পারলেন এ ব্যক্তির হাতেই ফেরাউনের রাজ্য ধ্বংস হবার ভবিষ্যতবানী করা হয়েছিল। তাই তিনি সঙ্গে সঙ্গেই হযরত মূসাকে বন্দী করে ফেললেন, যাতে তাঁকে ফেরাউনের হাতে সোপর্দ করে দিয়ে পুরস্কার লাভ করতে পারেন। সাত বা দশ বছর পর্যন্ত তিনি তার বন্দীশালায় থাকলেন। ভূ-গর্ভস্থ একটি অন্ধকার কুঠুরীতে তিনি বন্দী ছিলেন। 

কিন্তু যিথ্রোর মেয়ে যাফূরা (বা সাফূরা), যার সাথে কূয়ার পাড়ে তাঁর প্রথম সাক্ষাত হয়েছিল, চুপি চুপি তার সাথে কারাগৃহে সাক্ষাত করতে থাকে। সে তাঁকে খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করতো। তাদের দু’জনের মধ্যে বিয়ের গোপন চুক্তি হয়ে গিয়েছিল। সাত বা দশ বছর পর যাফূরা তার বাপকে বললো এত দীর্ঘকাল হয়ে গেল আপনি এক ব্যক্তিকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তারপর তার কোন খবরও নেননি। এতদিন তার মরে যাবারই কথা। কিন্তু যদি জীবিত থাকে তাহলে নিশ্চয়ই সে কোন আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তি।

যিথ্রো তার একথা শুনে কারাগারে গেলেন। সেখানে হযরত মূসাকে জীবিত থাকতে দেখে তার মনে বিশ্বাস জন্মালো অলৌকিকতার মাধ্যমে এ ব্যক্তি জীবিত আছে। তখন তিনি যাফূরার সাথে তার বিয়ে দিয়ে দিলেন।” পরিরাজ : যেসব পাশ্চাত্য প্রাচ্যবিদ কুরআনী কাহিনীগুলোর উৎস খুঁজে বেড়ান, কুরআনী বর্ণনা ও ইসরাঈলী বর্ণনার মধ্যে এই যে সুস্পষ্ট পার্থক্য এখানে দেখা যাচ্ছে তা কি কখনো তাদের চোখে পড়ে?  

💂পরিরাজ : মূসা জবাব দিল, “আমার ও আপনার মধ্যে একথা স্থিরীকৃত হয়ে গেলো, এ দু’টি মেয়াদের মধ্য থেকে যেটাই আমি পূরণ করে দেবো তারপর আমার ওপর যেন কোন চাপ দেয়া না হয়। আর যা কিছু দাবী ও অঙ্গীকার আমরা করছি আল্লাহ‌ তার তত্বাবধায়ক।” 

💂পরিরাজ : কেউ কেউ হযরত মূসার সাথে মেয়ের বাপের এ কথাবার্তাকে বিয়ের ইজাব কবুল মনে করে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁরা এ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন যে, বাপের সেবা মেয়ের বিয়ের মোহরানা হিসেবে গণ্য হতে পারে কিনা? এবং বিয়ে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ধরণের বাইরের শর্ত শামিল হতে পারে কি? 

অথচ আলোচ্য আয়াতের ভাষ্য থেকে স্বতস্ফূর্তভাবে একথা প্রমাণিত হচ্ছে যে, এটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল না। বরং এটি ছিলো প্রাথমিক কথাবার্তা, বিয়ের পূর্বে বিয়ের প্রস্তাব আসার পর সাধারণভাবে দুনিয়ায় যে ধরণের কথাবার্তা হয়ে থাকে। এটা কেমন করে বিয়ের ইজাব কবুল হতে পারে যখন একথাই স্থিরীকৃত হয়নি দু’টি মেয়ের মধ্য থেকে কোনটির সাথে বিয়ে দেয়া হচ্ছে? 

কথাবার্তা শুধূ এতটুকু হয়েছিল যেঃ “আমার মেয়েদের মধ্য থেকে একটির সাথে আমি তোমার বিয়ে দিতে চাই। তবে শর্ত হচ্ছে, তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, আট দশ বছর আমার এখানে থেকে আমার কাজে সাহায্য করতে হবে। কারণ এ আত্মীয়তা সম্পর্ক স্থাপনের পেছনে আমার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমি বৃদ্ধ লোক কোন ছেলে সন্তান আমার নেই, যে আমার সম্পত্তি দেখাশুনা ও ব্যবস্থাপনা করতে পারে। আমার আছে মেয়ে। বাধ্য হয়ে তাদেরকে আমি বাইরে পাঠাই। আমি চাই আমার জামাতা আমার দক্ষিণ হস্ত হয়ে থাকবে।

এ দায়িত্ব যদি তুমি পালন করতে পারো এবং বিয়ের পরেই স্ত্রীকে নিয়ে চলে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকে তাহলে আমার মেয়ের বিয়ে আমি তোমার সাথে দেবো। 

হযরত মূসা নিজেই এসময় একটি আশ্রয়ের সন্ধানে ছিলেন। তিনি এ প্রস্তাব মেনে নিলেন। বলা নিষ্প্রয়োজন, বিয়ের পূর্বে বর পক্ষ ও কনে পক্ষের মধ্যে যেসব চুক্তি হয়ে থাকে এটি ছিলো সে ধরনের একটি চুক্তি।

এরপর যথারীতি আসল বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকবে এবং তাতে মোহরানাও নির্ধারিত হয়ে থাকবে। সে বিয়েতে সেবা কর্মের কোন শর্ত শামিল হওয়ার কোন কারণ ছিল না।

💂পরিরাজ : মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করে দিল। এবং নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে চললো তখন তূর পাহাড়ের দিক থেকে একটি আগুন দেখতে পেলো। সে তার পরিবারবর্গকে বললো, “থামো! আমি একটি আগুন দেখছি, হয়তো আমি সেখান থেকে কোন খবর আনতে পারি অথবা সেই আগুন থেকে কোন অংগারই নিয়ে আসতে পারি যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পারো।”

💂পরিরাজ : হযরত হাসান ইবনে আলী ইবনে আবু তালেব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, মূসা (আঃ) আট বছরের জায়গায় দশ বছরের মেয়াদ পুরা করেছিলেন।


ইবনে আব্বাসের বর্ণনা মতে এ বক্তব্যটি নবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, “মূসা আলাইহিস সালাম দু’টি মেয়াদের মধ্য থেকে যেটি বেশী পরিপূর্ণ এবং তাঁর শ্বশুরের জন্য বেশী সন্তোষজনক সেটি পূর্ণ করেছিলেন অর্থাৎ দশ বছর।”

💂পরিরাজ : এ সফরে হযরত মূসার তূর পাহাড়ের দিকে যাওয়া দেখে অনুমান করা যায় তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে সম্ভবত মিসরের দিকে যেতে চাচ্ছিলেন। কারণ মাদয়ান থেকে মিসরের দিকে যে পথটি গেছে তূর পাহাড় তার ওপর অবস্থিত। সম্ভবত হযরত মূসা মনে করে থাকবেন, দশটি বছর চলে গেছে, যে ফেরাউনের শাসনামলে তিনি মিসর থেকে বের হয়েছিলেন সে মারা গেছে, এখন যদি আমি নীরবে সেখানে চলে যাই এবং নিজের পরিবারের লোকজনদের সাথে অবস্থান করতে থাকি তাহলে হয়তো আমার কথা কেউ জানতেই পারবে না।[৬২]

💂পরিরাজ : ঘটনার বিন্যাসের দিক দিয়ে বাইবেলের বর্ণনা এখানে কুরআন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বাইবেল বলে, হযরত মূসা তাঁর শশুরের ছাগল চরাতে চরাতে “প্রান্তরের পশ্চাদ্ভাগে মেষপালক লইয়া গিয়া হোরেবে ঈশ্বরের পর্বতে” চলে গিয়েছিলেন। তারপর তিনি নিজের শশুরের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন। এবং তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নিজের সন্তান-সন্ততি সহকারে মিসরের পথে যাত্রা করেছিলেন।[ ৬৩]

💂পরিরাজ:  অপরদিকে কুরআন বলে, হযরত মূসা মেয়াদ পুরা করার পর নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে মাদয়ান থেকে রওয়ানা হয়েছিলেন এবং এ সফরে আল্লাহর সাথে কথাবার্তা এবং নবুওয়াতের দায়িত্ব লাভ করার ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলেন।

বাইবেল ও তালমূদের সম্মিলিত বর্ণনা হচ্ছে, যে ফেরাউনের পরিবারের হযরত মূসা প্রতিপালিত হয়েছিলেন তাঁর মাদয়ানে অবস্থানকালে সে মারা গিয়েছিল এবং তারপর অন্য একজন ফেরাউন ছিল মিসরের শাসক।

💂পরিরাজ:  শুয়াইব (আঃ)-এর কন্যার সঙ্গে মুসা (আঃ)-এর শুভ পরিণয়ের ঘটনা খুবই অস্বাভাবিক ও ব্যতিক্রম। পিতা নিজে স্বেচ্ছায় কন্যাদানে আগ্রহ প্রকাশ করলেন। দুই কন্যা থেকে পছন্দ মত একটিকে বাছাই করার সুযোগ দিলেন। মুসা (আঃ) ছোট কন্যাকে নির্বাচন করলেন। তিনি ছোট মেয়ের মাঝে বিশেষ কিছু গুণ ও উন্নত চরিত্রের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। এছাড়াও আমাদের জন্য আরো কিছু শিক্ষনীয় বিষয় রয়েছে।

👩জেমি : কি শিক্ষা রয়েছে ?
পরিরাজ: কোনো দেশ বা শহরে কেউ যদি নিজের দ্বীন-ধর্ম, ধন-সম্পদ, ও মান-মর্যাদার নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা করে, তাহলে সে হিজরত করে অন্য দেশ বা শহরে আশ্রয় নিতে পারবে।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পরোপকার ও সাহায্য-সহযোগিতা করার মানসিকতা পোষন করা।

কোনো নারী বিপদগ্রস্থ হলে তাদেরও সহযোগিতা করা। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো কথা বলা জায়েজ হবে না।

বিপদ ও সংকীর্ণতায় মহান আল্লাহর উপর ভরসা করা এবং তার নিকট সাহায্য কামনা করা। মানুষের মুখাপেক্ষী না হওয়া।

কাউকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পরিপূর্ণ করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যেমনিভাবে মুসা (আঃ) তার শশুরকে দেওয়া ওয়াদা পুঙ্খানুপুঙ্খ পালন করেছেন। দীর্ঘ দশ বছর ওনার বাড়িতে শ্রম দিয়েছেন এবং পশুপাল দেখাশুনা করেছেন।

কোনো মুসলমান কাউকে আশ্রয় দিলে তার পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া। যেমনিভাবে শুয়াইব (আঃ) হযরত মুসা (আঃ)-কে পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়েছেন।

👩জেমিঃ আচ্ছা কোরআন কী ? আর এই কোরআন পৃথিবীতে নাযিলের পূর্বে  কোথায় ছিল ? এখন আমি কোরআন সম্পর্কে কিছু জানতে চাই !

💂পরিরাজ : দাঁড়ি কুচকিয়ে পরিরাজ : কুরআন মাজিদ ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, যা আল্লাহর বাণী বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করে থাকেন৷
এটিকে আরবি শাস্ত্রীয় সাহিত্যের সর্বোৎকৃষ্ট রচনা বলে মনে করা হয়।

কুরআনকে প্রথমে অধ্যায়ে (আরবিতে সূরা) ভাগ করা হয় এবং অধ্যায়গুলো (সূরা) আয়াতে বিভক্ত করা হয়েছে কুরআন তথ্যধর্ম ইসলাম এর ভাষা আরবি যুগ ৬০৯–৬৩২ এর অধ্যায় ১১৪টি৷

💂পরারাজ: এই কিতাব আল্লাহর ফেরেশতা জিবরাইল এর মাধ্যমে ইসলামিক নবি মুহাম্মাদ এর কাছে মৌখিকভাবে ভাষণ আকারে কুরআনের আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন, দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে সম্পূর্ণ কুরআন অবতীর্ণ হয়।

কুরআনের প্রথম আয়াত অবতীর্ণ হয় ৬০৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর যখন মুহাম্মাদের বয়স ৪০ বছর এবং অবতরণ শেষ হয় মুহাম্মাদের তিরোধানের বছর অর্থাৎ ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে। মুসলমানরা বিশ্বাস করে থাকেন কুরআন হচ্ছে মুহাম্মদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অলৌকিক ঘটনা যা তার নবুয়তের প্রমাণস্বরূপ এবং ঐশ্বরিক বার্তা প্রেরণের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায় যা আদম থেকে শুরু হয়ে মুহাম্মাদের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। তবে সুফিবাদের অনুসারীরা বিশ্বাস করে থাকেন মুহাম্মাদের সকল কর্মকান্ড উম্মতের কাছে বোধগম্য করে তোলার জন্যই কুরআন অবতীর্ণ করা হয়।

পরিরাজ :  কুরআনে সর্বমোট ১১৪টি সূরা আছে। আয়াত  সংখ্যা ৬,২৩৬ টি; মতান্তরে ৬,৬৬৬ টি। এটি মূল আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়৷  মুসলিম চিন্তাধারা অনুসারে কুরআন ধারাবাহিকভাবে অবতীর্ণ ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বশেষ এবং গ্রন্থ অবতরণের এই ধারা ইসলামের প্রথম বাণীবাহক আদম থেকে শুরু হয়।

কুরআনে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে যার সাথে বাইবেলসহ অন্যান্য ধর্মীয়গ্রন্থের বেশ মিল রয়েছে, অবশ্য অমিলও কম নয়। তবে কুরআনে কোনো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা নেই।

💂পরিরাজ :  ইসলামি ভাষ্যমতে কুরআন অপরিবর্তনীয় এবং এ সম্পর্কে  কুরআনে বলা হয়েছে " আমি স্বয়ং এ উপদেশগ্রন্থ অবতরণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।” [৬৪]

পরিরাজ :  কুরআন মজিদ আল্লাহর কালাম। এই কালাম শাশ্বত এবং চিরন্তন। এ অনাধিকাল থেকে সংরক্ষিত রয়েছে লওহে মাহফুজে। ইরশাদ হয়েছে : বাল হুয়া কুরআনুম মাজীদ, ফী লাওহিম মাহফুজ। [৬৫]

💂পরিরাজ: এই কুরআন মজিদকে সর্বশেষ নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট বিশ্বমানবের দিশারী হিসেবে নাজিলের জন্য লওহে মাহ্ফুজ থেকে সিদ্রাতুল মুন্তাহা মকামে ওহীবাহক ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল আলায়হিস্ সাল্লামের কাছে দেয়া হয়। হযরত জিবরাঈল (আঃ) সেই রাতেই তা বহন করে মক্কা-মুকাররমার হিরা গুহায় নির্জন বাসরত (ইতিকাফ) হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট অবতরণ করেন।

💂পরিরাজ : হেরা গুহায় প্রথম ওহী নাজিলের মধ্য দিয়ে পার্থিব জগতে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে নবুওয়ত ও রিসালতের অভিষেকে অভিষিক্ত করা হয়। আর আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু বিশ্বগত সৃষ্টির সূচনা করেন নূরে মুহম্মদী সৃষ্টি করে।

আল্লাহর নূরের তাজাল্লির ফয়েযে অর্থাৎ প্রাচুর্য প্রবাহে যে নূর মুবারক বিকশিত হয় সেই নূর মুবারকই নূরে মুহম্মদী। সেই নূর মুবারক থেকেই আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু বিশ্বজগতের তাবত কিছু একে একে বিকশিত করেন।

💂পরিরাজ : নূরে মুহম্মদী সৃষ্টি জগতের মূল উৎস। আধুনিক বিগব্যাং থিওরি যথার্থ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে নূরে মুহম্মদীর তাৎপর্য আরও অনুধাবিত হবে। সেই নূর মুবারক মানব সুরতে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে : হে আহলি কিতাব! আমার রসূল তোমাদের কাছে এসে গেছে। সে আল্লাহর কিতাবের এমন অনেক কথা তোমাদের কাছে প্রকাশ করছে যেগুলো তোমরা গোপন করে রাখতে এবং অনেক ব্যাপারে ক্ষমার চোখেও দেখছে। তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে গেছে এক জ্যোতি এবং আমি একখানি সত্য দিশারী কিতাব, যার মাধ্যমে আল্লাহ‌ তাঁর সন্তোষকামী লোকদেরকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথপ্রদর্শন করেন এবং নিজ ইচ্ছাক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোকের দিকে নিয়ে আসেন এবং সরল-সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। [৬৬]

💂পরিরাজ: প্রিয়নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীতে নবী আগমনের ক্রমধারায় সমস্ত নবীর শেষে আবির্ভূত হন, কিন্তু আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু তাঁকে সবার আগে নবুওয়ত ও রিসালত দান করেন।

প্রিয়নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : আমি তখনও নবী ছিলাম যখন আদম পানি ও মাটিতে বিলীন ছিল। তিনি আরও বলেন, আমি রসূলগণের ভূমিকা ও নবীদের উপসংহার। [৬৭]

এর দ্বারা এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, হযরত আদম আলায়হিস সাল্লামের সৃষ্টিরও বহু পূর্বে হযরত মুহম্মদ মুস্তাফা আহমদ মুজতবা সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম নবী ও রসূল ছিলেন।

💂পরিরাজ : আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু আলমে আরওয়া অর্থাৎ আত্মার জগতে সমস্ত নবী-রসূলের রুহকে সমবেত করে তাঁদের কাছ থেকে মীসাক (চুক্তি বা অঙ্গীকার) গ্রহণ করেন যাতে তাঁরা হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের প্রতি ইমান আনেন এবং তাঁকে রসূল হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাঁকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেন। কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে : [৬৮]

স্মরণ করো, যখন আল্লাহ‌ নবীদের থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, “আজ আমি তোমাদের কিতাব ও হিকমত দান করেছি, কাল যদি অন্য একজন রসূল এই শিক্ষার সত্যতা ঘোষণা করে তোমাদের কাছে আসে, যা আগে থেকেই তোমাদের কাছে আছে, তাহলে তোমাদের তার প্রতি ঈমান আনতে হবে এবং তাকে সাহায্য করতে হবে।”

💂পরিরাজ :  এই বক্তব্য উপস্থাপন করার পর আল্লাহ‌ জিজ্ঞেস করেনঃ “তোমরা কি এ কথার স্বীকৃতি দিচ্ছো এবং আমার পক্ষ থেকে অঙ্গীকারের গুরুদায়িত্ব বহন করতে প্রস্তুত আছো?” তারা বললো, হ্যাঁ, আমরা স্বীকার করলাম।

💂পরিরাজ : এর অর্থ হচ্ছে এই যে, প্রত্যেক নবীর কাছ থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার নেয়া হয়েছে। আর যে অঙ্গীকার নবীর কাছ থেকে নেয়া হয়েছে তা নিঃসন্দেহে ও অনিবার্যভাবে তাঁর অনুসারীদের ওপরও আরোপিত হয়ে যায়। অঙ্গীকারটি হচ্ছে, যে দ্বীনের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে তোমাদের নিযুক্ত করা হয়েছে সেই একই দ্বীনের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দিয়ে আমার পক্ষ থেকে যে নবীকে পাঠানো হবে তার সাথে তোমাদের সহযোগিতা করতে হবে।

তার প্রতি কোন হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করবে না। নিজেদেরকে দ্বীনের ইজারাদার মনে করো না। সত্যের বিরোধিতা করবে না। বরং যেখানে যে ব্যক্তিকেই আমার পক্ষ থেকে সত্যের পতাকা উত্তোলন করার দায়িত্বে নিযুক্ত করা হবে সেখানেই তার পতাকা তলে সমবেত হয়ে যাবে।

💂পরিরাজ : এখানে আরো এতটুকু কথা জেনে নিতে হবে যে, হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্বে যে নবীই এসেছিলেন তাঁর কাছ থেকে এই অঙ্গীকারই নেয়া হয়েছে। আর এরই ভিত্তিতে প্রত্যেক নবী নিজের উম্মাতকে তাঁর পরে যে নবী আসবেন তার খবর দিয়েছেন এবং তাঁর সাথে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে এ ধরনের কোন অঙ্গীকার নেয়া হয়েছে এমন কোন কথা কুরআনে ও হাদীসে কোথাও উল্লেখিত হয়নি। অথবা তিনি নিজের উম্মাতকে পরবর্তীকালে আগমনকারী কোন নবীর খবর দিয়ে তার প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিয়ে গেছেন বলে কোন কথাও জানা যায়নি।

💂পরিরাজ :  আল্লাহ্‌ বললেনঃ “আচ্ছা, তাহলে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম, এরপর যারাই এ অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে তারাই হবে ফাসেক।”

💂পরিরাজ: অতঃপর  হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট হযরত জিবরাঈল ‘আলায়হিস্ সালাম ৬১০ খ্রিস্টাব্দের ২৭ রমাদান রাতে কুরআন মজিদ নাজিলের সূত্রপাত্র ঘটালেন আল্লাহর নির্দেশে এক অনন্য উৎসাহে।

💂পরিরাজ:  যে নবীর নবুওয়তের অভিষেকের মাধ্যমে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু পৃথিবীতে নবী প্রেরণের ধারাবাহিকভাবে সূত্রপাত ঘটান, যার সৌজন্যেই আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন তাঁর নিকট কিতাব নাজিলের প্রথম মুহূর্তটা ছিল অত্যন্ত বরকতময়। যে কারণে সেই রাতটা সম্পর্কে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন : লায়লাতুল কাদরি  খায়রুম্ মিন্ আলফি শাহরি  লায়লাতুল কাদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।  [৬৯]

💂পরিরাজ : মুফাস্‌সিরগণ সাধারণভাবে এর অর্থ করেছেন, এ রাতের সৎকাজ হাজার মাসের সৎকাজের চেয়ে ভালো। কদরের রাত এ গণনার বাইরে থাকবে। সন্দেহ নেই একথাটির মধ্যে যথার্থ সত্য রয়ে গেছে এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এই রাতের আমলের বিপুল ফযীলত বর্ণনা করেছেন। কাজেই বুখারী ও মুসলিমে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রসূলুল্লাহ্‌  (সাঃ) বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি কদরের রাতে ঈমানের সাথে এবং আল্লাহ‌র কাছ থেকে প্রতিদান লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদাতের জন্য দাঁড়ালো তার পিছনের সমস্ত গোনাহ মাফ করা হয়েছে।”

💂পরিরাজ : মুসনাদে আহমাদে হযরত উবাদাহ ইবনে সামেত (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রসূলুল্লাহ (সাঃ)  বলেছেনঃ “কদরের রাত রয়েছে রমযানের শেষ দশ রাতের মধ্যে। যে ব্যক্তি প্রতিদান লাভের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসব রাতে ইবাদাতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে আল্লাহ‌ তার আগের পিছনের সব গোনাহ্‌ মাফ করে দেবেন।” কিন্তু আয়াতে উচ্চারিত শব্দগুলোয় একথা বলা হয়নি কদরের রাতের আমল হাজার রাতের আমলের চেয়ে ভালো) বরং বলা হয়েছে, “কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে ভালো।” আর মাস বলতে একেবারে গুণে গুণে তিরাশি বছর চার মাস নয়। বরং আরববাসীদের কথার ধরনই এই রকম ছিল, কোন বিপুল সংখ্যার ধারণা দেবার জন্য তারা “হাজার” শব্দটি ব্যবহার করতো। তাই আয়াতের অর্থ হচ্ছে, এই একটি রাতে এত বড় নেকী ও কল্যাণের কাজ হয়েছে যা মানবতার সুদীর্ঘ ইতিহাসে কোন দীর্ঘতম কালেও হয়নি।

💂পরিরাজ : প্রত্যক্ষ ওহী নাজিলের পূর্বে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম এমন কিছু সত্য স্বপ্ন দেখতেন যার তাবিরও তিনি সকালে ঘটতে দেখতেন। এই স্বপ্নযোগে তাঁকে বহু গুপ্ত রহস্য ও নিগূঢ়তত্ত্ব অবহিত করা হতো ৷

💂পরিরাজ :  তিনি হেরা গুহায় গিয়ে নির্জনবাস গ্রহণ করে মুরাকাবা-মুশাহাদা ও যিকির আযকারে নিমগ্ন থাকেন। এক অজানা আকর্ষণ তাঁকে তন্ময় করে তোলে। তিনি লক্ষ্য করেন তরুলতা, গাছপালা এমনকি পাথরও তাঁকে সালাম জানাচ্ছে রসূল্লাল্লাহ সম্বোধন করে। তিনি স্পষ্ট শুনতে পান ওগুলো তাঁকে বলছে : আসসালামু ‘আলায়কা ইয়া রসূল্লাল্লাহ। হেরা গুহায় গুজরান করতে একদিন রাতে সেই মুবারক ক্ষণটি এসে যায়। তিনি শুনতে পেলেন কে যেন তাঁকে সম্বোধন করে ডাকছেন। তিনি উর্ধদিকে এবং আশপাশের দিকে তাকিয়ে দেখলেন। কিছুই তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো না। তিনি হঠাৎ লক্ষ্য করলেন তাঁর সামনে এক আলোকোজ্জ্বল নূরানী মানব সুরত দণ্ডায়মান। তাঁর মাথায় নূরের মুকুট এবং পরিধানে সবুজ পোশাক। তিনি একখানি সোনার পাতের ওপর সোনালি হরফে লেখা কিতাব খুলে ধরে বললেন : পড়ুন। তিনি বললেন : আমি পড়তে পারিনা । তখন সেই নূর দেহধারী তাঁকে দুই বাহু দিয়ে আগলে ধরে বুকের সঙ্গে বুক মিলিয়ে এমন চাপ দিলেন যে তাঁর মনে হচ্ছিল যে, তাঁর সারা দেহ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। এভাবে পড়তে বলা, অপারগতা প্রকাশ করা এবং বুকে চাপ দেয়ার ঘটনা তিনবার ঘটার পর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লামের মধ্যে এমন এক প্রাচুর্য প্রবাহ প্রবাহিত হলো যে, তিনি এমন এক ফয়েজ লাভ করলেন যে, মুহূর্তের মধ্যে জ্ঞান রাজ্যের সমস্ত দুয়ার তাঁর সম্মুখে উন্মোচিত হয়ে গেল। তিনি কুরআন মজিদ থেকে সূরা আলাকের প্রথম পাঁচখানি আয়াতে কারিমা আত্মস্থ করলেন।

💂পরিরাজ : আয়াতে কারিমা ক’খানা আত্মস্থ করা হয়ে গেলে সেই কিতাব বাহক নূরানী সুরত অদৃশ্য হয়ে আকাশ সীমানায় মিলে গেল। এই কিতাব বাহক নূরের সুরতই ছিলেন হযরত জিবরাঈল ‘আলায়হিস সালাম। তিনি ওই রাতেই কুরআন মজিদ প্রথম আসমানে অবস্থিত বায়তুল ইয্যাতে সংরক্ষণ করেন এবং বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে কিংবা কোন প্রেক্ষাপটে আল্লাহর নির্দেশে তা খণ্ড খণ্ড করে ওহী আকারে প্রেরণ করেন।

💂পরিরাজ: পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, [৭০] "আর এ কুরআনকে আমি সামান্য সামান্য করে নাযিল করেছি, যাতে তুমি থেমে থেমে তা লোকদেরকে শুনিয়ে দাও এবং তাকে আমি (বিভিন্ন সময়) পর্যায়ক্রমে নাযিল করেছি।" " হে নবী, আমিই তোমার উপর এ কুরআন অল্প অল্প করে নাযিল করেছি।"

অস্বীকারকারীরা বলে,[৭১]  “এ ব্যক্তির কাছে সমগ্র কুরআন একই সাথে নাযিল করা হলো না কেন?” হ্যাঁ, এমন করা হয়েছে এজন্য, যাতে আমি একে ভালোভাবে তোমার মনে গেঁথে দিতে থাকি এবং (এ উদ্দেশ্যে) একে একটি বিশেষ ক্রমধারা অনুযায়ী আলাদা আলাদা অংশে সাজিয়ে দিয়েছি।"

💂পরিরাজ : সূরা আলাকের এই কয়খানি আয়াত দিয়ে কুরআন নাজিল শুরু হয় এবং বিদায় হজের খুতবা শেষে আরাফাত ময়দানে ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে ৯ জিলহজ একটি আয়াতের অংশবিশেষ হিসেবে সর্বশেষ যে ওহী নাজিল হয় তা হচ্ছে : আল ইয়াওমা আকমালতু লাকুম দীনাকুম ওয়া আতমামতু ‘আলায়কুম নিমাতী ওয়া রাদীতু লাকুমুল ইসলামা দীনা৷

💂পরিরাজ : অর্থাৎ বলা হয়েছে, আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছি, আমার নিয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করেছি এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছি ৷ [৭২]

উপরে বর্ণিত একই আয়াতের পূর্বের অংশে বলা হয়েছে , আজ তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে কাফেররা পুরোপুরি নিরাশ হয়ে পড়েছে। কাজেই তোমরা তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় করো।

💂পরিরাজ : আয়াতে বর্ণিত আজ’ বলতে কোন বিশেষ দিন, ক্ষণ বা তারিখ বুঝানো হয়নি বরং যে যুগে ও সময়ে এ আয়াত নাযিল হয় সেই সময়কালকে বুঝানো হয়েছে। আমাদের ভাষায়ও ‘আজ’ শব্দটি একইভাবে সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

💂পরিরাজ : “তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে কাফেররা পুরোপুরি নিরাশ হয়ে পড়েছে।”-অর্থাৎ তোমাদের দ্বীন এখন একটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে এবং সে তার নিজস্ব শাসন ও কর্তৃত্ব ক্ষমতার জোরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।

কাফেররা এতদিন তার পথে বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিল। কিন্তু এখন তারা এ দ্বীনকে ধ্বংস করার এবং তোমাদেরকে আবার জাহেলিয়াতের অন্ধকার গর্ভে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছে।

“কাজেই তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, আমাকে ভয় করো।” অর্থাৎ এ দ্বীনের বিধান এবং এর হেদায়াত কার্যকর করার ব্যাপারে এখন তোমাদের আর কোন কাফের শক্তির প্রভাব, পরাক্রম, প্রতিবন্ধকতা, প্রাধান্য ও হস্তক্ষেপের সম্মুখীন হতে হবে না।

এখন আর মানুষকে ভয় করার কোন কারণ নেই। তোমাদের এখন আল্লাহকে ভয় করা উচিত। আল্লাহর বিধান কার্যকর করার ব্যাপারে এখন যদি তোমরা কোন ত্রুটি করো তাহলে এ জন্য তোমাদের কাছে এমন কোন ওজর থাকবে না যার ভিত্তিতে তোমাদের সাথে কোমল ব্যবহার করা যেতে পারে। এখন আর শরীয়াতের বিরুদ্ধাচরণের অর্থ এ হবে না যে, এ ব্যাপারে তোমরা অন্যদের প্রভাবে বাধ্য হয়ে এমনটি করেছো। বরং এর পরিষ্কার অর্থ হবে, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করতে চাও না।

💂পরিরাজ : দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দেবার অর্থই হচ্ছে তাকে একটি স্বতন্ত্র চিন্তা ও কর্ম ব্যবস্থা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থায় পরিণত করা হয়েছে। তার মধ্যে জীবনের সমস্ত প্রশ্নের নীতিগত বা বিস্তারিত জবাব পাওয়া যায়। হেদায়াত ও পথনির্দেশ লাভ করার জন্য এখন আর কোন অবস্থায়ই তার বাইরে যাবার প্রয়োজন নেই।

নিয়ামত সম্পূর্ণ করে দেবার অর্থ হচ্ছে এই যে, তোমরা আমার আনুগত্য ও বন্দেগী করার যে অঙ্গীকার করেছিল তাকে যেহেতু তোমরা নিজেদের প্রচেষ্টা ও কর্মের মাধ্যমে সত্য ও আন্তরিক অঙ্গীকার হিসেবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছো, তাই আমি তাকে গ্রহণ করে নিয়েছি এবং তোমাদেরকে কার্যত এমন অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছি যে, এখন তোমাদের গলায় প্রকৃতপক্ষে আমার ছাড়া আর কারোর আনুগত্য ও বন্দেগীর শৃংখল নেই। 

এখন আকীদা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যেমন তোমরা আমার মুসলিম (আনুগত্যকারী) ঠিক তেমনি কর্মজীবনেও আমার ছাড়া আর কারোর মুসলিম (আনুগত্যকারী) হয়ে থাকতে তোমরা কোনত্রুমেই বাধ্য নও।

এ অনুগ্রহগুলোর কথা উচ্চারণ করার পর মহান আল্লাহ নীরবতা অবলম্বন করেছেন। কিন্তু এ বাক পদ্ধতি থেকে একথা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফুটে ওঠে, যেন এখানে আল্লাহ বলতে চাচ্ছেন, আমি যখন তোমাদের ওপর এ অনুগ্রহগুলো করেছি তখন এর দাবী হচ্ছে, এখন আমার আইনের সীমার মধ্যে অবস্থান করার ব্যাপারে তোমাদের পক্ষ থেকে যেন আর কোন ত্রুটি দেখা না দেয়।

💂পরিরাজ : বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়াত থেকে জানা যায়, এ আয়াতটি বিদায় হজ্জের সময় ১০ হিজরীতে নাযিল হয়েছিল। কিন্তু যে বক্তব্যের ধারাবাহিকতার সাথে এর সম্পর্ক তা ৬ হিজরীতে হোদাইবিয়া চুক্তির সমসাময়িক কালের। বর্ণনা রীতির কারণে বাক্য দু’টি পরস্পর এমনভাবে মিশে গেছে যার ফলে কোন ক্রমেই ধারণা করা যাবে না যে, শুরুতে এ বাক্যগুলো ছাড়াই এ ধারবাহিক বক্তব্যটি নাযিল হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে এ বাক্যগুলো নাযিল হবার পর তা এখানে এনে বসিয়ে দেয়া হয়েছে।

অবশ্য প্রকৃত ব্যাপার একমাত্র আল্লাহই জানেন, তবে তাফসীরকারকের অনুমান, প্রথম এ আয়াতটি এ একই প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছিল। তাই লোকেরা তখন এর আসল গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেনি। পরে যখন সমগ্র আরব ভূখণ্ড বিজিত হল এবং ইসলাম শক্তি অর্জন করে পূর্ণ যৌবনে পৌঁছে গেলো তখন মহান আল্লাহ পুনর্বার এ বাক্য তাঁর নবীর প্রতি নাযিল করেন এবং এটি ঘোষণা করে দেবার নির্দেশ জারি করেন।

💂পরিরাজ: আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন : আমি যদি এই কুরআনকে কোন পাহাড়ের ওপর নাযিল করতাম তাহলে তুমি দেখতে পেতে তা আল্লাহর ভয়ে ধসে পড়ছে এবং ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে ৷ আমি মানুষের সামনে এসব উদাহরণ এ জন্য পেশ করি যাতে তারা (নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে) ভেবে দেখে। [৭৩] 

💂পরিরাজ :  এই উপমার তাৎপর্য হলো, কুরআন যেভাবে আল্লাহর বড়ত্ব ও মাহাত্ম্য এবং তাঁর কাছে বান্দার দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে পাহাড়ের মত বিশাল সৃষ্টিও যদি তার উপলব্ধি লাভ করতে পরতো এবং কেমন পরাক্রমশালী ও সর্বসময় ক্ষমতার অধিকারী প্রভুর সামনে নিজের সব কাজকর্মের জবাবদিহি করতে হবে তা যদি জানতো তাহলে সেও ভয়ে কেঁপে উঠতো।

কিন্তু সে মানুষ কুরআনকে বুঝতে পারে এবং কুরআনের সাহায্যে সবকিছুর তাৎপর্য ও বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করছে, কিন্তু এরপরও তার মনে কোন ভয়-ভীতি সৃষ্টি হয় না কিংবা যে কঠিন দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত হয়েছে সে সম্পর্কে তার আল্লাহকে কি জবাব দেবে সে বিষয়ে আদৌ কোন চিন্তা তার মনে জাগে না।

বরং কোরআন পড়ার বা শোনার পরও সে এমন নির্লিপ্তি ও নিষ্ক্রীয় থাকে যেন একটি নিষ্প্রাণ ও অনুভূতিহীন পাথর। শোনা, দেখা ও উলপব্দি করা আদৌ তার কাজ নয়। মানুষের এই চেতানাহীনতা ও নিরুদ্বিগ্নতা বিষ্মরকর বৈকি।

💂পরিরাজ : আল্লাহ আরেকটি আয়াতে বলেন;  " আমি এ আমানতকে আকাশসমূহ, পৃথিবী ও পর্বতরাজির ওপর পেশ করি, তারা একে বহন করতে রাজি হয়নি এবং তা থেকে ভীত হয়ে পড়ে। কিন্তু মানুষ একে বহন করেছে, নিঃসন্দেহে সে বড় জালেম ও অজ্ঞ।[৭৪] 

💂পরিরাজ:  বক্তব্য শেষ করতে গিয়ে আল্লাহ‌ মানুষকে এ চেতনা দান করতে চান যে, দুনিয়ায় সে কোন ধরনের মর্যাদার অধিকারী এবং এ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত থেকে যদি সে দুনিয়ার জীবনকে নিছক একটি খেলা মনে করে নিশ্চিন্তে ভুল নীতি অবলম্বন করে, তাহলে কিভাবে স্বহস্তে নিজের ভবিষ্যত নষ্ট করে।

💂পরিরাজ: এ স্থানে “আমানত” অর্থ সেই “খিলাফতই” যা কুরআন মজীদের দৃষ্টিতে মানুষকে দুনিয়ায় দান করা হয়েছে। মহান আল্লাহ‌ মানুষকে আনুগত্য ও অবাধ্যতার যে স্বাধীনতা দান করেছেন এবং এ স্বাধীনতা ব্যবহার করার জন্য তাকে অসংখ্য সৃষ্টির ওপর যে কর্তৃত্ব ক্ষমতা দিয়েছেন। তার অনিবার্য ফল স্বরূপ মানুষ নিজেই নিজের স্বেচ্ছাকৃত কাজের জন্য দায়ী গণ্য হবে এবং নিজের সঠিক কর্মধারার বিনিময়ে পুরস্কার এবং অন্যায় কাজের বিনিময়ে শাস্তির অধিকারী হবে।

এসব ক্ষমতা যেহেতু মানুষ নিজেই অর্জন করেনি বরং আল্লাহ‌ তাকে দিয়েছেন এবং এগুলোর সঠিক ও অন্যায় ব্যবহারের দরুন তাকে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে, তাই কুরআন মজীদের অন্যান্য স্থানে এগুলোকে খিলাফত শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে এবং এখানে এগুলোর জন্য আমানত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

💂পরিরাজ : এ আমানত কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্বল সে ধারণা দেবার জন্য আল্লাহ‌ বলেন, আকাশ ও পৃথিবী তাদের সমস্ত শ্রেষ্ঠত্ব এবং পাহাড় তার বিশাল ও বিপুলায়তন দেহাবয়ব ও গম্ভীরতা সত্ত্বেও তা বহন করার শক্তি ও হিম্মত রাখতো না কিন্তু দূর্বল দেহাবয়বের অধিকারী মানুষ নিজের ক্ষুদ্রতম প্রাণের ওপর এ ভারী বোঝা উঠিয়ে নিয়েছে।

💂পরিরাজ : পৃথিবী ও আকাশের সামনে আমানতের বোঝা পেশ করা এবং তাদের তা উঠাতে অস্বীকার করা এবং ভীত হওয়ার ব্যাপারটি হতে পারে শাব্দিক অর্থেই সংঘটিত হয়েছে। আবার এও হতে পারে যে, একথাটি রূপকের ভাষায় বলা হয়েছে। নিজের সৃষ্টির সাথে আল্লাহর যে সম্পর্ক রয়েছে তা আমরা জানতেও পারি না এবং বুঝতেও পারি না। পৃথিবী, চাঁদ, সূর্য ও পাহাড় যেভাবে আমাদের কাছে বোবা, কালা ও প্রাণহীন, আল্লাহর কাছেও যে তারা ঠিক তেমনি হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। আল্লাহ‌ নিজের প্রত্যেক সৃষ্টির সাথে কথা বলতে পারেন এবং সে তার জবাব দিতে পারে। এর প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করার ক্ষমতা আমাদের বুদ্ধি ও বোশক্তির নেই। তাই এটা পুরোপুরিই সম্ভব যে, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ‌ নিজেই এ বিরাট বোঝা তাদের সামনে পেশ করে থাকবেন এবং তারা তা দেখে কেঁপে উঠে থাকবে আর তারা তাদের প্রভু ও স্রষ্টার কাছে এ নিবেদন পেশ করে থাকবে যে, আমরা তো আপনারই ক্ষমতাহীন সেবক হয়ে থাকার মধ্যেই নিজেদের মঙ্গল দেখতে পাই।

নাফরমানী করার স্বাধীনতা নিয়ে তার হক আদায় করা এবং হক আদায় না করতে পারলে তার শাস্তি বরদাশত করার সাহস আমাদের নেই। অনুরূপভাবে এটাও সম্ভব, আমাদের বর্তমান জীবনের পূর্বে আল্লাহ‌ সমগ্র মানবজাতিকে অন্য কোন ধরনের একটি অস্তিত্ব দান করে নিজের সামনে হাজির করে থাকবেন এবং তারা নিজেরাই এ দায়িত্ব বহন করার আগ্রহ প্রকাশ করে থাকবেন।

একথাকে অসম্ভব গণ্য করার জন্য কোন যুক্তি আমাদের কাছে নেই। একে সম্ভাবনার গণ্ডীর বাইরে রাখার ফায়সালা সেই ব্যক্তিই করতে পারে যে নিজের চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতার ভুল ধারণা নিয়ে বসে আছে।

💂পরিরাজ : তবে এ বিষয়টাও সমান সম্ভবপর যে, নিছক রূপকের আকারে আল্লাহ‌ এ বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন এবং অবস্থার অস্বাভাবিক গুরুত্বের ধারণা দেবার জন্য এমনভাবে তার নকশা পেশ করা হয়েছে যেন একদিকে পৃথিবী ও আকাশ এবং হিমালয়ের মতো গগণচুম্বী পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে আর অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে ৫/৬ ফুট লম্বা একজন মানুষ। আল্লাহ‌ জিজ্ঞেস করছেনঃ

“আমি আমার সমগ্র সৃষ্টিকূলের মধ্যে কোন একজনকে এমন শক্তি দান করতে চাই যার ফলে আমার সার্বভৌম কর্তৃত্বের মধ্যে অবস্থান করে সে নিজেই স্বেচ্ছায় ও সাগ্রহে আমার প্রাধান্যের স্বীকৃতি এবং আমার হুকুমের আনুগত্য করতে চাইলে করবে অন্যথায় সে আমাকে অস্কীকার করতেও পারবে আর আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঝাণ্ডা নিয়েও উঠতে পারবে।

এ স্বাধীনতা দিয়ে আমি তার কাছ থেকে এমনভাবে আত্মগোপন করে থাকবো যেন আমি কোথাও নেই। এ স্বাধীনতাকে কার্যকর করার জন্য আমি তাকে ব্যাপক ক্ষমতা দান করবো, বিপুল যোগ্যতার অধিকারী করবো এবং নিজের অসংখ্য সৃষ্টির ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করবো। এর ফলে বিশ্ব-জাহানে সে যা কিছু ভাঙা-গড়া করতে চায় করতে পারবে।

এরপর একটি নির্দিষ্ট সময়ে আমি তার কাজের হিসেব নেবো। যে আমার প্রদত্ত স্বাধীনতাকে ভুল পথে ব্যবহার করবে তাকে এমন শাস্তি দেবো যা কখনো আমার কোন সৃষ্টিকে আমি দেইনি

। আর যে নাফরমানীর সমস্ত সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও আমার আনুগত্যের পথই অবলম্বন করে থাকবে তাকে এমন উচ্চ মর্যাদা দান করবো যা আমার কোন সৃষ্টি লাভ করেনি। এখন বলো তোমাদের মধ্য থেকে কে এ পরীক্ষাগৃহে প্রবেশ করতে প্রস্তুত আছে?

💂পরিরাজ : এ ভাষণ শুনে প্রথমে তো বিশ্ব-জগত নিরব নিথর দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর একের পর এক এগিয়ে আসে। সকল প্রকাণ্ড অবয়ব ও শক্তির অধিকারী সৃষ্টি এবং তারা হাঁটু গেড়ে বসে কান্নাজড়িত স্বরে সানুনয় নিবেদন করে যেতে থাকে তাদেরকে যেন এ কঠিন পরীক্ষা থেকে মুক্ত রাখা হয়।

সবশেষে এ একমুঠো মাটির তৈরি মানুষ ওঠে। সে বলে, হে আমার পওয়ারদিগার! আমি এ পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত। এ পরীক্ষায় সফলকাম হয়ে তোমার সালতানাতের সবচেয়ে উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হবার যে আশা আছে সে কারণে আমি এ স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারের মধ্যে যেসব আশঙ্কা ও বিপদাপদ রয়েছে সেগুলো অতিক্রম করে যাবো।

💂পরিরাজ : নিজের কল্পনাদৃষ্টির সামনে এ চিত্র তুলে ধরেই মানুষ এই বিশ্ব-জাহানে কেমন নাজুক স্থানে অবস্থান করছে তা ভালোভাবেই আন্দাজ করতে পারে। এখন এ পরীক্ষাগৃহে যে ব্যক্তি নিশ্চিন্তে বসে থাকে এবং কতবড় দায়িত্বের বোঝা যে সে মাথায় তুলে নিয়েছে, আর দুনিয়ার জীবনে নিজের জন্য কোন নীতি নির্বাচন করার সময় যে ফায়সালা সে করে তার সঠিক বা ভুল হবার ফল কি দাঁড়ায় তার কোন অনুভূতিই যার থাকে না তাকেই আল্লাহ‌ এ আয়াতে জালেম ও অজ্ঞ বলে অভিহিত করছেন।

সে অজ্ঞ, কারণ সেই বোকা নিজেই নিজেকে অদায়িত্বশীল মনে করে নিয়েছে। আবার সে জালেম, কারণ সে নিজেই নিজের ধ্বংসের ব্যবস্থা করছে এবং নাজানি নিজের সাথে সে আরো কতজনকে নিয়ে ডুবতে চায়।

💂পরিরাজ : আল্লাহ তাআলা অন্য জায়গায় বলেন ; এ আমানতের বোঝা উঠাবার অনির্বায ফল হচ্ছে এই যে, আল্লাহ‌ মুনাফিক পুরুষ ও নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও নারীদেরকে সাজা দেবেন এবং মু’মিন পুরুষ ও নারীদের তাওবা কবুল করবেন, আল্লাহ‌ ক্ষমাশীল ও করুণাময় ৷ [৭৫]

💂পরিরাজ: সেই মহান কিতাব প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট নাজিলের যে সূত্রপাত হলো তা ২৩ বছর ধরে ক্রমান্বয়ে নাজিল হয়। হেরা গুহায় হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস্ সাল্লাম প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে আলিঙ্গন করে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর নির্দেশে যে ফয়েজ সঞ্চারিত করলেন ইলমে  তাসাওউফে একে ইত্তিহাদী ফয়েজ বলা হয়।

এই ফয়েজের ফলে তার কলব মুবারকে যে প্রাচুর্য প্রবাহ সঞ্চারিত হয়েছিল তা আল্লাহর কুদরতের সামগ্রিক শক্তিতে ভরপুর। মূলত শরিয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারুফাতের দুর্বার গতিধারার অগ্রসফরের নবদিগন্ত উন্মোচিত হয় সেদিন হেরা গুহায় কুরআন নাজিলের মধ্য দিয়ে।

👩জেমি: কোরআন কী? আর এ কোরআনের বৈশিষ্ট কী?

💂পরিরাজ : ওকে ,  বলছি ;

👉নবীন প্রেমের উদয় ! দ্বিতীয় খণ্ড, 
 👉পর্ব : চৌদ্দ 
👉 সমাপ্ত ৷৷ 
👉রচনাকাল : সংশোধিত ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ ইং 

👉বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷ 








উপন্যাস : নবীন প্রেমের উদয়! লেখক নাঈম হোসেন , দ্বিতীয় খণ্ড, পর্ব : তেরো,

উপন্যাস : নবীন প্রেমের উদয়! দ্বিতীয় খণ্ড 

লেখক নাঈম হোসেন 

পর্ব: তেরো[ হুবহু জেমির বর্ণনা ;]

💂পরিরাজ: মুসা আলাইহিস সালাম। বনি ইসরাইল জাতির প্রতি প্রেরিত আল্লাহর বিশেষ নবী। মিশরের বাদশাহ ফেরাউনের প্রাসাদেই কুদরতিভাবে বেড়ে উঠেছেন। রাজপ্রাসাদের কড়া নিরাপত্তা ও কঠোর সুরক্ষায় লালিত-পালিত হয়েছেন।

তারুণ্যে পদার্পণ করলেন। শক্তিশালী যুবক— স্বভাবগতভাবে একটু রাগী। যখন রাগ করেন চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে যায়। শরীরের লোমকূপ দাড়িয়ে যায়। একদিনের ঘটনা। মিসর শহরে দুইজন ব্যক্তি জগড়ায় লিপ্ত হলেন। একজন কিবতি, ফেরাউনের অনুসারী। অপরজন ইসরাইলি বংশীয়। তুমুল জগড়া। মুসা (সাঃ) ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলেন বিবাদ মিটিয়ে দিতে। কিন্তু কিবতি লোকটির অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে এক পর্যায়ে নবী মুসা রাগান্বিত হয়ে তাকে চপেটাঘাত করেন। কিন্তু অবাক কাণ্ড! ঘটে গেল অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশীত একটি ঘটনা। লোকটি মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যুর সংবাদ বিদ্যুৎ গতিতে চারদিক ছড়িয়ে পড়ল। ফেরাউনের রাজ্যে তার অনুসারীকে হত্যা! এতো বড়ই আশ্চর্য ও বিস্ময়কর ঘটনা। চারদিক থমথমে পরিবেশ। শহরে মানুষের মুখে মুখে একটিই কথা। মুসার হাতে কিবতি হত্যা। বাদশাহ ফেরাউন মুসার ওপর ক্রোধান্বিত। রাগে অগ্নিশর্মা। উপদেষ্টাদের ডেকে পাঠালেন। বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করলেন। সিদ্ধান্ত হলো- মুসা এই দুঃসাহসীকতার জন্য তাকে হত্যা করা হোক। মুসার খোঁজে ফেরাউন বাহিনী বের হলো।

[৪৯] এদিকে মুসা (আঃ) এর একজন হিতৈষী তাকে সুপরামর্শ দিলেন। বললেন, মিসর ছেড়ে চলে যেতে। মাদায়িন নামে একটি শহর আছে তাকে  সেখানে হিজরত করতে। সেখানে একজন সৎ ব্যক্তি আছেন। তাছাড়া দাম্ভিক ফেরাউনের নির্যাতনের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া জরুরি। স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের জন্য নিরাপদ স্থান দরকার।

💂পরিরাজ: এ ঘটনাটি কুরআনে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ,[৫০]  একদিন সে শহরে এমন সময় প্রবেশ করলো যখন শহরবাসীরা উদাসীন ছিল। সেখানে সে দেখলো দু'জন লোক লড়াই করছে। একজন তার নিজের সম্প্রদায়ের এবং অন্যজন তার শত্রুসম্প্রদায়ের। তার সম্প্রদায়ের লোকটি শত্রুসম্প্রদায়ের লোকটির বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করার জন্য ডাক দিল। মূসা তাকে একটি ঘুষি মারলো এবং তাকে মেরে ফেললো। (এ কাণ্ড ঘটে যেতেই) মূসা বললো, “এটা শয়তানের কাজ, সে ভয়ংকর শত্রুএবং প্রকাশ্য পথভ্রষ্টকারী।” 

👩জেমি:  এ ঘটনা  কোন সময় ঘটেছিল? 

💂পরিরাজ: হতে পারে এটা ছিল একেবারে ভোর বেলা অথবা গরমকালের দুপুরের সময় কিংবা শীতকালে রাতের বেলা। মোটকথা, তখন সময়টা এমন ছিল যখন পথ-ঘাট ছিল জন কোলাহল মুক্ত এবং সারা শহর ছিল নিরব নিঝুম।

💂পরিরাজ: “শহরে প্রবেশ করলো” এ শব্দগুলো থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, রাজপ্রাসাদ সাধারণ জনবসতি থেকে দূরে অবস্থিত ছিল। হযরত মূসা যেহেতু রাজপ্রাসাদে থাকতেন তাই শহরে বের হলেন না বলে বলা হয়েছে, শহরে প্রবেশ করলেন।

💂পরিরাজ:  মূলে আরবী  যে  শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ চড় মারাও হতে পারে আবার ঘুষি মারাও হতে পারে। চড়ের তুলনায় ঘুষির আঘাতে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশী। তাই তাফসীরকারক  এখানে অনুবাদে হয়তো ঘুষি শব্দ গ্রহণ করেছেন । 

💂পরিরাজ: এ থেকে অনুমান করা যায়, ঘুঁষি খেয়ে মিসরীয়টি যখন পড়ে গেল এবং পড়ে গিয়ে মারা গেল তখন কী ভীষণ লজ্জা ও শংকার মধ্যে হযরত মূসার মুখ থেকে কথাগুলো বের হয়ে গিয়ে থাকবে। হত্যা করার ইচ্ছা তাঁর ছিল না। হত্যা করার উদ্দেশ্যে ঘুঁষি মারাও হয়নি। কেউ এটা আশাও করেনি, একটি ঘুঁষি খেয়েই একজন সুস্থ সবল লোক মারা যাবে। তাই হযরত মূসা বললেন, এটা শয়তানের কোন খারাপ পরিকল্পনা বলে মনে হচ্ছে। সে একটি বড় বিপর্যয় ঘটাবার জন্য আমার হাত দিয়ে একাজ করিয়েছে। ফলে আমার বিরুদ্ধে একজন ইসরাঈলীকে সাহায্য করার জন্য একজন কিবতীকে হত্যা করার অভিযোগ আসবে এবং শুধু আমার বিরুদ্ধে নয় বরং সমগ্র ইসরাঈলী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মিসরে একটি বিরাট হাংগামা সৃষ্টি হবে।

💂পরিরাজ:  এ ব্যাপারে বাইবেলের বর্ণনা কুরআন থেকে  ভিন্ন। বাইবেল হযরত মূসার বিরুদ্ধে সেচ্ছাকৃত হত্যার আভিযোগ এনেছে। তার বর্ণনা মতে মিসরীয় ও ইসরাঈলীকে লড়াই করতে দেখে হযরত মূসা “এদিক ওদিক চাহিয়া কাহাকেও দেখিতে না পাওয়াতে ঐ মিসরীয়কে বধ করিয়া বালির মধ্যে পুতিয়া রাখিলেন।” [৫১] 

💂পরিরাজ: আবার তালমূদেও একই কথা বলা হয়েছে। এখন বনী ইসরাঈল কিভাবে নিজেদের মনীষীদের চরিত্রে নিজেরাই কলঙ্ক লেপন করেছে এবং কুরআন কিতাবে তাঁদের ভূমিকা পরিচ্ছন্ন ও কলঙ্কমূক্ত করেছে তা যে কোন ব্যক্তি বিচার করতে পারে। সাধারণ বিবেক-বুদ্ধিও এ কথাই বলে, একজন জ্ঞানী, বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ ব্যক্তি, পরবর্তীকালে যাঁকে হতে হবে একজন মহিমান্বিত পয়গম্বর এবং মানুষকে ইনসাফ ও ন্যায়নীতির একটি মর্যাদাশালী আইন ব্যবস্থা দান করা হবে যাঁর দায়িত্ব, তিনি এমন একজন অন্ধ জাতীয়তাবাদী হতে পারেন না যে, নিজের জাতির একজনকে অন্য জাতির কোন ব্যক্তির সাথে মারামারি করতে দেখে ক্রোধে ক্ষিপ্ত হয়ে সেচ্ছায় বিপক্ষীয় ব্যক্তিকে মেরে ফেলবেন। ইসরাঈলীকে মিসরীয়দের কবজায় দেখে তাকে ছাড়িয়ে নেবার জন্য হত্যা করা যে, বৈধ হতে পারে না, তা বলাই নিষ্প্রয়োজন।

💂পরিরাজ:  তারপর সে বলতে লাগলো, “হে আমার রব! আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি, আমাকে ক্ষমা করে দাও? “ তখন আল্লাহ‌ তাঁকে ক্ষমা করে দিলেন তিনি ক্ষমাশীল মেহেরবান। [৫২] 

💂পরিরাজ:  মূল শব্দ হচ্ছে “মাগিফরাত” এর অর্থ ক্ষমা করা ও মাফ করে দেয়াও হয় আবার গোপনীয়তা রক্ষা করাও হয়। হযরত মূসার (আঃ) দোয়ার অর্থ ছিল, আমার এ গোনাহ (যা তুমি জানো, আমি জেনে-বুঝে করিনি) তুমি মাফ করে দাও এবং এর ওপর আবরণ দিয়ে ঢেকে দাও, যাতে শত্রুরা জানতে না পারে।

💂পরিরাজ: এরও দুই অর্থ এবং দু’টিই এখানে প্রযোজ্য। অর্থাৎ আল্লাহ‌ তাঁর এ ত্রুটি মাফ করে দেন এবং হজরত মূসার গোপনীয়তাও রক্ষা করেন। অর্থাৎ কিবতী জাতির কোন ব্যক্তি এবং কিবতী সরকারের কোন লোকের সে সময় তাদের আশেপাশে বা ধারে কাছে গমনাগমন হয়নি। ফলে তারা কেউ এ হত্যাকাণ্ড দেখেনি। এভাবে হযরত মূসার পক্ষে নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়ার সুযোগ ঘটে।

💂পরিরাজ: মূসা শপথ করলো, “হে আমার রব! তুমি আমার প্রতি এই যে অনুগ্রহ করেছো, এরপর আমি আর অপরাধীদের সাহায্যকারী হবো না।”[৫৩] 

💂পরিরাজ: অর্থাৎ আমার কাজটি যে গোপন থাকতে পেরেছে, শত্রু জাতির কোন ব্যক্তি যে আমাকে দেখতে পায়নি এবং আমার সরে যাওয়ার যে সুযোগ ঘটেছে, এই অনুগ্রহ।

💂পরিরাজ : হযরত মূসার এ অঙ্গীকার অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবোধক শব্দাবলীর মাধ্যমে সাধিত হয়েছে। এর অর্থ কেবল এই নয় যে, আমি কোন অপরাধীর সহায়ক হবো না বরং এর অর্থ এটাও হয় যে, আমার সাহায্য-সহায়তা কখনো এমন লোকদের পক্ষে থাকবে না যারা দুনিয়ায় জুলুম ও নিপীড়ন চালায়।

💂পরিরাজ: ইবনে জারীর এবং অন্য কয়েকজন তাফসীরকারক এভাবে এর একেবারে সঠিক অর্থ নিয়েছেন যে, সেই দিনই হযরত মূসা ফেরাউন ও তার সরকারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার অঙ্গীকার করেন। কারণ ফেরাউনের সরকার ছিল একটি জালেম সরকার এবং সে আল্লাহর এ সরযমীনে একটি অপরাধমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছিল। তিনি অনুভব করেন, কোন ঈমানদার ব্যক্তি একটি জালেম সরকারের হাতিয়ারে পরিণত হতে এবং তার শক্তি ও পরাক্রান্ত বৃদ্ধির কাজে সহায়তা করতে পারে না।

💂পরিরাজ : মুসলিম আলেমগণ সাধারণভাবে হযরত মূসার এ অঙ্গীকার থেকে একথা প্রমাণ করেছেন যে, একজন মু’মিনের কোন জালেমকে সাহায্য করা থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা উচিত। সে জালেম কোন ব্যক্তি, দল, সরকার বা রাষ্ট্র যেই হোক না কেন। 

💂পরিরাজ : প্রখ্যাত তাবেঈ হযরত আতা ইবনে আবী রাবাহর কাছে এক ব্যক্তি বলে, আমার ভাই বনী উমাইয়া সরকারের অধীনে কূফার গভর্নরের কাতিব (সচিব), বিভিন্ন বিষয়ের ফায়সালা করা তার কাজ নয়, তবে যেসব ফায়সালা করা হয় সেগুলো তার কলমের সাহায্যেই জারী হয়। এ চাকুরী না করলে সে ভাতে মারা যাবে। আতা জবাবে এ আয়াতটি পাঠ করেন এবং বলেন, তোমার ভাইয়ের নিজের কলম ছুঁড়ে ফেলে দেয়া উচিত, রিযিকদাতা হচ্ছেন আল্লাহ।

💂পরিরাজ : আর একজন কাতিব আমের শা’বীকে জিজ্ঞেস করেন, “হে আবু আমর! আমি শুধুমাত্র হুকুমনামা লিখে তা জারী করার দায়িত্ব পালন করি মূল ফায়সালা করার দায়িত্ব আমার নয়। এ জীবিকা কি আমার জন্য বৈধ?” তিনি জবাব দেন, “হতে পারে কোন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে হত্যার ফায়সালা করা হয়েছে এবং তোমার কলম দিয়ে তা জারী হবে। হতে পারে, কোন সম্পদ নাহক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অথবা কারো গৃহ ধ্বসানোর হুকুম দেয়া হয়েছে এবং তা তোমার কলম দিয়ে জারী হচ্ছে।” তারপর ইমাম এ আয়াতটি পাঠ করেন। আয়াতটি শুনেই কাতিব বলে ওঠেন, “আজকের পর থেকে আমার কলম বনী উমাইয়ার হুকুমনামা জারী হবার কাজে ব্যবহৃত হবে না। ” ইমাম বললেন, “তাহলে আল্লাহও তোমাকে রিযিক থেকে বঞ্চিত করবেন না।”

💂পরিরাজ : আবদুর রহমান ইবনে মুসলিম যাহহাককে শুধুমাত্র বুখারায় গিয়ে সেখানকার লোকদের বেতন বণ্টন করে দেবার কাজে পাঠাতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি সে দায়িত্ব গ্রহণ করতেও অস্বীকার করেন। তাঁর বন্ধুরা বলেন, এতে ক্ষতি কি? তিনি বলেন, আমি জালেমদের কোন কাজেও সাহায্যকারী হতে চাই না। [৫৪] 

💂পরিরাজ: দ্বিতীয় দিন অতি প্রত্যুষে সে ভয়ে ভয়ে এবং সর্বদিক থেকে বিপদের আশঙ্কা করতে করতে শহরের মধ্যে চলছিল। সহসা দেখলো কি, সেই ব্যক্তি যে গতকাল সাহায্যের জন্য তাকে ডেকেছিল আজ আবার তাকে ডাকছে। মূসা বললো, “তুমি তো দেখছি স্পষ্টতই বিভ্রান্ত।” [৫৫]

💂পরিরাজ: অর্থাৎ তুমি ঝগড়াটে স্বভাবের বলে মনে হচ্ছে। প্রতিদিন কারো না কারো সাথে তোমার ঝগড়া হতেই থাকে। গতকাল একজনের সাথে ঝগড়া বাঁধিয়েছিল, আজ আবার আর একজনের সাথে বাঁধিয়েছো।

তারপর মূসা যখন শত্রু সম্প্রদায়ের লোকটিকে আক্রমণ করতে চাইলো তখন সে চিৎকার করে উঠলো, “হে মূসা! তুমি কি আজকে আমাকে ঠিক তেমনিভাবে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছো যেভাবে গতকাল একজনকে হত্যা করেছিলে? তুমি তো দেখছি এদেশে স্বেচ্ছাচারী হয়ে থাকতে চাও, সংস্কারক হতে চাও না?”[৫৬] 

যে ইসরাঈলীকে সাহায্য করার জন্য হযরত মূসা এগিয়ে গিয়েছিলেন, এ ছিল তারই চিৎকার। তাকে ধমক দেবার পর যখন তিনি মিসরীয়টিকে মারতে উদ্যত হলেন তখন ইসরাঈলীটি মনে করলো হযরত মূসা বুঝি তাকে মারতে আসছেন। তাই সে চিৎকার করতে থাকলো এবং নিজের বোকামির জন্য গতকালের হত্যা রহস্যও প্রকাশ করে দিল।
 
 💂পরিরাজ: এরপর এক ব্যক্তি নগরীর দূর প্রান্ত থেকে ছুটে এলো এবং বললো, “হে মূসা! সরদারদের মধ্যে তোমাকে হত্যা করার পরামর্শ চলছে। এখান থেকে বের হয়ে যাও। আমি তোমার মঙ্গলাকাংখী।” [৫৭] 

💂পরিরাজ: অর্থাৎ এ দ্বিতীয় ঝগড়ার ফলে হত্যা রহস্য প্রকাশ হয়ে যাবার পর সংশ্লিষ্ট মিসরীয়টি যখন গিয়ে সরকারকে জানিয়ে দিল তখন এ পরামর্শের ঘটনা ঘটে। 

💂পরিরাজ: এ খবর শুনতেই মূসা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বেরিয়ে পড়লো এবং সে দোয়া করলো, “হে আমার রব! আমাকে জালেমদের হাত থেকে বাঁচাও।”[৫৮]  

💂পরিরাজ:  মিসর থেকে বের হয়ে) যখন মূসা মাদয়ানের দিকে রওয়ানা হলো তখন সে বললো, “আশা করি আমার রব আমাকে সঠিক পথে চালিত করবেন।”[৫৯] 

💂পরিরাজ:  হযরত মূসার মিসর থেকে বের হয়ে মাদয়ানের দিকে যাবার ব্যাপারে বাইবেলের বর্ণনা কুরআনের সাথে মিলে যায়। কিন্তু তালমূদ এ প্রসঙ্গে এক ভিত্তিহীন কাহিনীর বর্ণনা করেছে। সেটা এই যে, হযরত মূসা মিসর থেকে হাবসায় পালিয়ে যান এবং সেখানে গিয়ে বাদশাহর পারিষদে পরিনত হয়। তারপর বাদশহর মৃত্যুর পর লোকেরা তাঁকেই নিজেদের বাদশাহের সিংহাসনে বসায় এবং বাদশাহর বিধবা স্ত্রীর সাথে তাঁর বিয়ে দেন। 

💂পরিরাজ: ৪০ বছর তিনি সেখানে রাজত্ব করেন। কিন্তু এ সুদীর্ঘ সময়কালে তিনি কখনো নিজের হাবশী স্ত্রীর নিকটবর্তী হননি। ৪০  বছর অতিক্রান্ত হবার পর ঐ ভদ্র মহিলা হাবশার জনগনের কাছে এ মর্মে অভিযাগ করেন যে, ৪০ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এ ব্যক্তি স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক রক্ষা করেননি এবং কখনো হাবশার দেবতাদের পূজা করেনি। এ কথায় রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাঁকে পদচ্যূত করে বিপুল পরিমাণ ধন-সম্পদ দিয়ে সসম্মানে বিদায় করে দেয়। তখন তিনি হাবশা ত্যাগ করে মাদয়ানে পৌঁছে যান এবং সেখানে সামনের যে সব ঘটনার কথা বলা হয়েছে সেগুলো ঘটে। তখন তাঁর বয়স ছিল ৬৭ বছর।

💂পরিরাজ: এ কাহিনীটি যে ভিত্তিহীন এর একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ হচ্ছে যে, এতে একথাও বলা হয়েছে যে, এসময় আসিরীয়ায় (উত্তর ইরাক) হাবশার শাসন চলছিল এবং আসিরীয়বাসীদের বিদ্রোহ দমন করার জন্য হযরত মূসা ও তাঁর পূর্ববতি বাদশহরাও সামরিক অভিযান চালান।

💂পরিরাজ: সামান্যতম ইতিহাস-ভূগোল জ্ঞান যার আছ সে পৃথিবীর মানচিত্রের দিকে একটু নজর দিলেই দেখতে পাবে যে, আসিরীয়ার উপর হাবশার শাসন বা হাবশি সেনাদলের আক্রমণের ব্যাপারটি কেবলমাত্র তখনই ঘটতে পারতো যখন মিসর, ফিলিস্তীন ও সিরিয়া তার দখলে থাকতো অথবা সমগ্র আরব দেশ তার কর্তৃত্বাধীন হতো কিংবা হাবশার নৌবাহিনী এতই শক্তিশালী হতো যে, তা ভারত মহাসাগর ও পারস্য উপসাগর অতিক্রম করে ইরাক দখল করতে সক্ষম হতো। এদেশগুলোয় কখনো হাবশীদের কতৃর্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অথবা তাদের নৌশক্তি কখনো এত বিপুল শক্তির অধিকারী ছিল এ ধরণের কোন কথা ইতিহাসে নেই। এ থেকে বুঝা যায় যে, নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে বনী ইসরাঈলের জ্ঞান কতটা অপরিপক্ব ছিল এবং কুরআন তাদের ভুলগুলো সংশোধন করে কেমন সুস্পষ্ট আকারে সঠিক ঘটনাবলী পেশ করছে। কিন্তু ইহুদী খৃস্টান প্রাচ্যবিদগণ একথা বলতে লজ্জা অনুভব করেন না যে, কুরআন এসব কাহিনী বনী ইসরাঈল থেকে সংগ্রহ করেছে।

💂পরিরাজ: অর্থাৎ এমন পথ যার সাহায্যে সহজে মাদয়ানে পৌঁছে যাবো। আর  সে সময় মাদয়ান ছিল ফেরাউনের রাজ্য-সীমার বাইরে। সমগ্র সিনাই উপদ্বীপে মিসরের কর্তৃত্ব ছিল না। বরং তার কর্তৃত্ব সীমাবদ্ধ ছিল পশ্চিম ও দক্ষিণ এলাকা পর্যন্ত। আকাবা উপসাগরের পূর্ব ও পশ্চিম তীরে ছিল বনী মাদয়ানের বসতি এবং এ এলাকা ছিল মিসরীয় প্রভাব ও কর্তৃত্ব থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত। এ কারণে মূসা মিসর থেকে বের হয়েই মাদয়ানের পথ ধরেছিলেন। কারণ এটাই ছিল নিকটতম জনবসতিপূর্ণ স্বাধীন এলাকা। কিন্তু সেখানে যেতে হলে তাঁকে অবশ্যই মিসর অধিকৃত এলাকা দিয়েই এবং মিসরীয় পুলিশ ও সেনা-চৌকিগুলোর নজর এড়িয়ে যেতে হতো। তাই তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, আমাকে এমন পথে নিয়ে যাও যেপথ দিয়ে আমি সহি-সালামতে মাদয়ান পৌঁছে যেতে পারি। 

👩জেমি : মূসা নবী  কোথায় আশ্রয় নিয়েছিলেন ? 

💂পরিরাজ: সে আরেক নতুন রহস্য ! 

👩জেমি: কী সেই রহস্য  ? আমি শুনতে চাই !

নবীন প্রেমের উদয়! দ্বিতীয় খণ্ড, পর্ব: তেরো
                        সমাপ্ত।। 
   👉রচনাকাল: ১৩ নভেম্বর  ২০২২। 

      👉বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷ 

নবীন প্রেমের উদয়! লেখক নাঈম হোসেন , দ্বিতীয় খণ্ড পর্ব: বারো

নবীন প্রেমের উদয়! দ্বিতীয় খণ্ড 

লেখক নাঈম হোসেন

পর্ব: বারো [ হুবহু জেমির বর্ণনা ;]

👩জেমি: চোখের পলক না ফেলতেই আমরা তূর পর্বতে পৌঁছে গেলাম ; আমি পাহাড়টাকে প্রথমে ভালো করে দেখলাম, জিজ্ঞেস করলাম এ পর্বতের সীমানা কতটুকু এবং এই পর্বতের বিস্ময়কর কাহিনী কী?

💂পরিরাজ: দাঁড়ি কুচকিয়ে বলছি; সিনাই পর্বত (আরবি: طور سيناء ,toor sinaa'i‎‎) (হিব্রু ভাষায়: הר סיני ,har sina'i), মিশরের একটি ধর্মীয় গুরুত্ববহ পর্বত। এটি মিশরের সিনাই উপদ্বীপের সেন্ট ক্যাথেরিন শহরে আবস্থিত। বেদুইনদের কাছে এটি হোরেব পর্বত, মুসা পর্বত, গাবাল মুসা তথা জাবাল মুসা (মুসার পর্বত) হিসেবেও পরিচিত ছিল।

💂পরিরাজ: সিনাই পর্বতের শীর্ষদৃশ্য: সর্বোচ্চ বিন্দুউচ্চতা ২,২৮৫ মিটার (৭,৪৯৭ ফুট) সুপ্রত্যক্ষতা ৩৩৪ মি (১,০৯৬ ফু) স্থানাঙ্ক ২৮°৩২′২৩″ উত্তর ৩৩°৫৮′২৪″ পূর্ব ভূগোলঅবস্থানসেন্ট ক্যাথেরিন শহর, সিনাই উপদ্বীপ, মিশর।

💂পরিরাজ: সিনাই পর্বতটির উচ্চতা ২২৮৫ মিটার। পর্বতের উপরে উঠার জন্য দুইটি রাস্তা রয়েছে। পায়ে অথবা বেদুইনদের উটের সাহায্যে উপরে উঠা যায়। পায়ে হেটে উপরে উঠাতে প্রায় তিন ঘন্টার মত লাগে।

💂পরিরাজ: পাহারের শৃঙ্গারে রয়েছে একটি গুহা, যেখানে বসে হযরত মুসা (আঃ) মহান আল্লাহ্ পাকের দেয়ানে মগ্ন থাকতেন। আরো রয়েছে দুটি ছোট রোম। একটি মুসলমানদের এবাদত করার জন্য ও অন্যটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এবাদত করার জন্য।

💂পরিরাজ: লোকমুখে  কথিত আছে যে, আল্লাহর নূরের তাজাল্লিতে ভস্মীভূত তুর পাহাড় থেকেই নাকি সুরমার উৎপত্তি হয়। সেই সুরমা লোকজন চোখে লাগায় যার ফলে চোখ ভাল থাকে (?) এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সুরমা একটি আলাদা খনিজদ্রব্য। এর সঙ্গে তুর পাহাড়ের কোনো সম্পর্ক নেই।

💂পরিরাজ: কোরআনে বা তাফসিরে কোথাও মুসা (আঃ)-এর আল্লাহকে দর্শনের ঘটনার সঙ্গে সুরমাকে জড়িয়ে দেওয়ার কথাটির সামান্যতমও উল্লেখ নেই। 

👩জেমি : আচ্ছা এ তূর পর্বতকে মুসার পর্বত বলা হয় কেন ?

💂পরিরাজ : কেননা এই তুর পাহাড়েই হযরত মুসা (আঃ) কে বাইবেলে বর্ণিত দশটি বিধান দেওয়া হয়। সেই কারণে এই পাহাড়কে মুসার পাহাড়ও বলা হয়।

💂পরিরাজ: তুর পাহাড়ের কাছাকাছি কয়েকটি পাহাড় আছে পাহাড়ের নাম ‘সানত কার্তিন’। এই পাহাড়টি দক্ষিণ সিনাই মহাফাজায় অবস্থিত এবং মিসরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়। এই পাহাড়টি মূসা (আঃ) পাহাড়ের সাথে একেবারে লাগানো। খ্রিস্টানরা এটাকে মহা পবিত্র স্থান মনে করে।

তাই পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকে খ্রিস্টান পর্যটকরা এই পাহাড় যিয়ারত করতে ছুটে আসে। পাহাড়টি মূলত খ্রিস্টান সন্ন্যাসীদের আবাসস্থল ছিল। বড় বড় ধর্মযাজকরা এখানে এসে বসবাস করত। যার ফলে খ্রিস্টানদের কাছে এটার গুরুত্ব অনেক বেশি। এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬০০ মিটার। এই পাহাড়টি দেখতে অনেক সুন্দর। সোনালি রংয়ের।

💂পরিরাজ: সিনাই পর্বতের কথা পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন;
[৩২] “আর আমি যখন তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর তুলে ধরেছিলাম এই বলে যে, তোমাদিগকে যে কিতাব দেয়া হয়েছে তাকে ধর সুদৃঢ়ভাবে এবং এতে যা কিছু রয়েছে তা মনে রেখো যাতে তোমরা ভয় কর।” 

💂পরিরাজ: অন্য এক আয়াতে এসেছে, শপথ ডুমুর, যয়তুন ও সিনাই প্রান্তরস্থ তূর পর্বতের এবং এই নিরাপদ নগরীর। এভাবেই মহান আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সূরা আত-ত্বীনে তূর পর্বতের শপথ করেছেন। 

💂পরিরাজ: তুর পাহাড়ের পবিত্র জুলন্ত ঝোপ গাছ (বার্নিং বুশ)! সিনাই পর্বতের পাদদেশে রয়েছে এক পবিত্র গাছ, যার নাম জ্বলন্ত ঝোপ বা বার্নিং বুশ। সিনাই পর্বতের স্তল ভুমি থেকে কিছুটা উপরে একটি গির্জার সামনে পাথর দিয়ে গোলাকারে বাঁধানো এই গাছটি তিন ধর্মের (ইহুদি, খৃষ্টান ও মুসলমান) মানুষের কাছেই পবিত্র। হাজার হাজার বছরের পুরানো এই গাছটি দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের লতা জাতীয় গাছের মত। এই গাছটির কথা পবিত্র কোরআন শরিফেও উল্লেখ রয়েছে।

💂পরিরাজ: গাছের দেওয়ালে লিখা রয়েছে পাতা ছেরা নিষেধ, কিন্তু কে শুনে কার কথা? পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আশা পর্যটকরা হাতের নাগালে পাওয়া সব পাতাই তুলে নিচ্ছেন। অনেকে তাদের মনোবাসনা কাগজে লিখে ছুরে ফেলছেন গাছের দেওয়ালের ভিতর।

💂পরিরাজ: তুর পাহাড় মিসরের দক্ষিণ সাইনা জেলায় অবস্থিত। সাইনার মূল শহরের নাম ‘আত তুর’। বড় শহরের নাম- শারমুশ শাইখ। পাহাড়টির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২৮৫ মিটার। এই পাহাড়কে জাবালে মুসা নামে নামকরণ করা হয়েছে। এই পাহাড়ের পাদদেশে হজরত মুসা (আঃ)-এর ভাই হজরত হারুন (আঃ)-এর কবর রয়েছে। 

👩জেমি: এরপর  আমাকে  প্রসিদ্ধ সুয়েজ ক্যানেল দেখিয়ে বলছে; 
পরিরাজ: এটাই সেই প্রসিদ্ধ সুড়ঙ্গ পথ। এই সুড়ঙ্গ পথটির নামকরণ করা হয়েছে শহীদ আহমদ হামদীর নামে। এই ব্যক্তি মিসরের তৎকালীন সেনাবাহিনীর একজন কর্ণেল ছিলেন। ১৯৭৩ সালে মিসর ও ইসরাঈলের সাথে যে যুদ্ধ হয়েছিল, তাতে তিনি শহীদ হন। যুদ্ধে শহীদ আহমাদ হামদীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্মৃতি স্বরূপ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদাত এর নামকরণ করেন শহীদ আহমাদ হামদী ক্যানেল। আফ্রিকা ও এশিয়া সংযোগ স্থাপনকারী এই সুড়ঙ্গটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ইসরাঈলের সাথে শান্তি প্রক্রিয়া চালু হলে ।

💂পরিরাজ:  এটা সুয়েজ খালের তলদেশ দিয়ে অতিক্রমের দ্বিতীয় পথ। কায়রো থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই সুড়ঙ্গ পথটি সাইনা উপদ্বীপের সাথে সুয়েজ শহরসহ মিসরের বাকি অংশের সাথে সংযোগ সৃষ্টি করেছে।

💂পরিরাজ:  প্রতিদিন প্রায় বিশ হাজারেরও অধিক গাড়ি পার হয় এই সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে। এটা নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য হল পর্যটন বিকাশ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। নির্মাণে ইউরোপীয় দেশগুলো অংশ নেয়। একটি বৃটিশ কোম্পানীর পরিকল্পনা মোতাবেক আরব ঠিকাদার কোম্পানি এর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে। সুড়ঙ্গ পথটি চালু করার পর ফাটল দেখা দিলে জাপানের এক কোম্পানীর মাধ্যমে তা মেরামত করা হয়। সুড়ঙ্গ পথটি লম্বায় ৫৯১২ মিটার। 

💂পরিরাজ: পশ্চিমের অনুপ্রবেশদ্বার থেকে ১৯৮৪ মিটার, মাঝখানে ১৬৪০ মিটার। এই সুড়ঙ্গটা অনেক সুন্দর। এটা দেখার জন্য অনেক পর্যটক আসে। 

👩জেমি : তারপর একটি শহর দেখিয়ে বলছে; এটা শারমুশ শাইখ শহর! 
পরিরাজ: এই শহরটা পৃথিবীর চতুর্থতম সুন্দর শহর হিসাবে গণ্য। খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। এখানে বাহরুল আহমার নামক সমুদ্র সৈকত(সী বিচ) আছে। অনেক পর্যটক এখানে ঘুরতে আসে। অবসর সময় যাপন করে।

💂পরিরাজ: এই সেই সমুদ্র যাতে মহান আল্লাহ তাআলা তার দুশমনকে চুবিয়ে মেরেছেন এবং তার প্রিয় বান্দাদের বাঁচিয়েছেন। কুরআনে তা বর্ণিত হয়েছে এভাবে- আমি মূসা ও তার সাথে যারা ছিল সকলকে রক্ষা করেছি। অতপর অন্যদের ডুবিয়ে মেরেছি।

💂পরিরাজ: আসলে আল্লাহর কুদরতের সামনে দুনিয়ার সব শক্তিই তুচ্ছ। তারপরও মানুষ এই নিদর্শন থেকে কেন শিক্ষা গ্রহণ করে না? কোথায় সেই দাম্ভিক ফেরাউন ও তার বিশাল সৈন্য বাহিনী? আল্লাহর এক ইশারাতেই মুহূর্তের মধ্যে তাদের সলিল সমাধি হয়েছে। এই সেই সমুদ্র, যুগ যুগ ধরে সেই সত্যের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। 

💂পরিরাজ: সাইনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা এবং এই এলাকার নাম কুরআন মাজীদে উল্লেখ হয়েছে। এই পাহাড়ি এলাকায় এক প্রকার গাছ হয় যা থেকে তেল তৈরি হয়। সাইনা নবীদের বরকতময় ভূমি। এই এলাকায় অনেক নবী রাসূলের আগমন ঘটেছে। এখানে রয়েছে সেই ঐতিহাসিক ‘জাবালে মূসা’,অনেক নবীদের কবর, বনী ইসরাঈলের তীহ নামক ময়দান। আরো অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে এই মাটি ও পাহাড় সম্পৃক্ত। সুতরাং এই ভূমির বরকত ও নিয়ামত কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। 

💂পরিরাজ: এলাকাটি মিসরবাসী ও  মিসর সরকারের কাছে বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। ইসরাঈল সবসময় এটা দখল করতে চায়, যে কোনো মূল্যে। যার ফলে অনেক সময় হামলা করে বসে এবং বিভিন্ন গ্রুপ ও এই এলাকাটা দখল করার জন্য বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনীর উপর হামলা করে থাকে।  অনেক সেনাও এতে হতাহত হয়। 

💂পরিরাজ: যুগ যুগ ধরে সাইনার  ভৌগলিক অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটা এশিয়া মহাদেশ ও আফ্রিকা মহাদেশের একমাত্র স্থলভাগ যেখানে দুটি মহাদেশ পাশাপাশি মিলিত হয়েছে।

💂পরিরাজ: প্রাচীন কাল থেকেই মিশর ও গোটা আফ্রিকার মানুষ হিজায, প্রাচীন রোম ও পারস্যের সাথে স্থল যোগাযোগের জন্য সাইনা উপত্যকা ব্যবহার করত। আকাশ ও সমুদ্রপথে যোগাযোগ সহজ হওয়ার আগে এই সাইনাই ছিল গোটা আফ্রিকা ও এশিয়ার বাণিজ্যিক,  কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আদান প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ পথ।

💂পরিরাজ: ৬৪০ খ্রিস্টাব্দে আমর বিন আছ রা.-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনীও এই সাইনা হয়েই মিশরে আসে এবং ওখানেই বাইজেন্টাইনদের প্রতিরোধের মোকাবেলা করে। দ্বাদশ শতকের ক্রুসেড বাহিনীর সাথেও মিসরের আইয়ুবিদের সাথে অনেক যুদ্ধ হয় এই সাইনাতে।

💂পরিরাজ: ১১৮৭ সালে যে ঐতিহাসিক হিট্টিনের যুদ্ধে সালাহউদ্দিন আইয়ুবির নেতৃত্বে মুসলিমবাহিনী কর্তৃক ক্রুসেডারদের পরাজয় ঘটে, সে হিট্টিনও ঐতিহাসিক সাইনার অংশ, যা বর্তমানে ফিলিস্তিনের অংশ। ত্রয়োদশ শতকের মাঝামাঝি ১২৬০ ঈ. মিসরের মামলুকি আমলে তাতারিদের সাথে যে ঐতিহাসিক আইন জালুত যুদ্ধ হয় তাও এই সাইনাতে।

💂পরিরাজ: এভাবে সব যুগের সাম্রারাজ্যবাদীদের লোলুপ দৃষ্টি থাকত এই সাইনার দিকে। এখানে অধিকার বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনেক যুদ্ধ হয়েছে। আধুনিককালের অন্যতম যুদ্ধ হল মিসর-ইসরাঈল যুদ্ধ। ১৯৬৭ সালে সুয়েজখাল পর্যন্ত গোটা সাইনা অঞ্চল মিশর থেকে ইইসরাঈল ছিনিয়ে নিয়েছিল। পরে ১৯৭৩ সালের ৬ অক্টোবর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে মিশর তা পুনরুদ্ধার করে।

💂পরিরাজ: আর আধুনিককালে সাইনা উপদ্বীপের বুক চিরে সুয়েজখাল খনন করে ভুমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের মাঝে সংযোগ ঘটানোর ফলে আন্তর্জাতিক সমুদ্র যোগাযোগে যে গতি এসেছে তাও ভৌগোলিক দিক থেকে সাইনার গুরুত্ব অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই সাইনা হলো ইসলাম ও প্রাগ-ইসলামিক যুগ থেকেই মিশর ও আফ্রিকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল।

👩জেমি: ওয়াও! তুর পাহাড়! কী মধুর অনুভূতি! 

👩জেমি: পাথরের পাহাড়ে রয়েছে বিভিন্ন রংয়ের মেলা। বড় বড় পাথর কী চমৎকার সাজে সজ্জিত। সত্যিই মহান আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি কত সুন্দর!

💂পরিরাজ :  আসলে আল্লাহর কুদরত নিয়ে আমাদের তেমন ভাবা হয় না। যার ফলে আমাদের মাঝে ঈমানের দুর্বলতা সৃষ্টি হয়। এজন্যই তো মহান আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি সর্ম্পকে বলেছেন,তোমরা পাহাড়ের দিকে দেখ;  

💂পরিরাজ: হযরত মূসা (আঃ) যখন মাদায়েন থেকে মিশরে স্বস্ত্রীক ফিরছিলেন, তখন একটি গাছের মধ্যে আগুন দেখতে পেলেন। অত:পর তিনি সেই গাছের কাছে গেলেন এমন সময় তূর পাহাড়ের পাদদেশে একটি বৃক্ষ থেকে হঠাৎ আওয়াজ আসছে, যিনি কথা বলছেন তিনি তার দৃষ্টির আড়ালেই থাকলেন, তিনি ছিলেন আল্লাহ ! 

👩জেমি: আল্লাহ তখন মূসাকে কী বলেছেন ; 

💂পরিরাজ: কুরআনে মূসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে অনেক আলোচনা করা হয়েছে। অনেক উপমা ও বিভিন্ন আঙ্গিকে তাঁর ঘটনা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। যাতে মানুষ এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

আল্লাহ বললেন; [৩৩] “হে মূসা! নিশ্চয় আমি তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপতক্যা “তূআ’য় রয়েছ। এবং আমি তোমাকে নির্বাচন করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে তা শুনতে থাক”

💂পরিরাজ: অতঃপর, আল্লাহ এবং মূসার মধ্যে কথোপকথন শুরু হয় ; আল্লাহ বলেন, হে মূসা! আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, কাজেই তুমি আমার ইবাদত করো এবং আমাকে স্মরণ করার জন্য নামায কায়েম করো। কিয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি তার সময়টা গোপন রাখতে চাই, যাতে প্রত্যেকটি প্রাণসত্তা তার প্রচেষ্টা অনুযায়ী প্রতিদান লাভ করতে পারে।
কাজেই যে ব্যক্তি তার প্রতি ঈমান আনে না এবং নিজের প্রবৃত্তির দাস হয়ে গেছে সে যেন তোমাকে সে সময়ের চিন্তা থেকে নিবৃত্ত না করে। অন্যথায় তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।

আর হে মূসা! এ তোমার হাতে এটা কি?” মূসা জবাব দিল, “এ আমার লাঠি। এর  ওপর ভর দিয়ে আমি চলি, নিজের ছাগলগুলোর জন্য এর সাহায্যে পাতা পাড়ি এবং এর সাহায্যে আরো অনেক কাজ করি।” বললেন, “একে ছুঁড়ে দাও হে মূসা”!

সে ছুঁড়ে দিল এবং অকস্মাৎ সেটা হয়ে গেলো একটা সাপ, যা দৌড়াচ্ছিল। বললেন, “ধরে ফেলো ওটা এবং ভয় করো না, আমি ওকে আবার ঠিক তেমনটিই করে দেবো যেমনটি সে আগে ছিল। আর তোমার হাতটি একটু বগলের মধ্যে রাখো, তা কোন প্রকার ক্লেশ ছাড়াই উজ্জ্বল হয়ে বের হয়ে আসবে, এটা দ্বিতীয় নিদর্শন।

এজন্য যে, আমি তোমাকে নিজের বৃহৎ নিদর্শনগুলো দেখাবো। এখন তুমি যাও ফেরাউনের কাছে, সে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে।” মূসা বললো, “হে আমার রব! আমার বুক প্রশস্ত করে দাও। এবং আমার কাজ আমার জন্য সহজ করে দাও এবং আমার জিভের জড়তা দূর করে দাও, যাতে লোকেরা আমার কথা বুঝতে পারে।

💂পরিরাজ : [৩৪]  বাইবেলে এর যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, হযরত মূসা বললেনঃ “হায় সদাপ্রভু! আমি বাকপটু নহি, ইহার পূর্বও ছিলাম না, বা এই দাসের সহিত তোমার আলাপ করিবার পরেও নহি। কারণ আমি জড় মুখ ও জড় জিহ্বা। 

কিন্তু তালমূদে এ সম্পর্কিত একটি দীর্ঘ কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। তাতে একথা বলা হয়েছে যে, শৈশবে হযরত মূসা যখন ফেরাউনের গৃহে লালিত পালিত হচ্ছিলেন তখন একদিন তিনি ফেরাউনের মাথার মুকুট নামিয়ে নিজের মাথায় পরে নেন। এতে প্রশ্ন দেখা দেয় যে, এ শিশু এ কাজটি ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে, অথবা এটা তার নিছক বালকসুলভ চপলতা। শেষে ঠিক করা হয়, শিশুর সামনে সোনা ও আগুন একসাথে রাখা হবে। সে মোতাবেক দু’টি জিনিস এনে একসাথে সামনে রাখা হলো এবং হযরত মূসা আগুন উঠিয়ে মুখে পুরে দিলেন। এতে তিনি কোন রকমে প্রাণে বেঁচে গেলেও তার জিহ্বায় চিরদিনের জন্য জড়তা সৃষ্টি হয়।

💂পরিরাজ : এ কাহিনী ইসরাঈলী বর্ণনা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে আমাদের তাফসীর প্রন্থগুলোতেও লিখিত হয়েছে। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তি এ কথা মেনে নিতে অস্বীকার করে। কারণ শিশু যদি আগুনে হাত দিয়েও ফেলে তাহলে এটা কোনক্রমেই সম্ভব নয় যে, সে অঙ্গার উঠিয়ে নিয়ে মুখের মধ্যে পুরে দেবে। শিশু তো আগুনের জ্বালা অনুভব করার সাথে সাথেই হাত গুটিয়ে নেবে। পোড়া হাতে অঙ্গার নিয়ে সে অংগার মুখে দেবার সাহস পাবে কেমন করে?

কুরআনের শব্দাবলী থেকে আমরা যে কথা বুঝতে পারি তা হচ্ছে এই যে, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম নিজের মধ্যে বাগ্মীতার অভাব দেখছিলেন। ফলে তাঁর মনেআশঙ্কা জেগেছিল যে, নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি তাঁর কখনো বক্তৃতা দেবার প্রয়োজন দেখা দেয় (এ পর্যন্ত যার কোন প্রয়োজন তাঁর দেখা দেয়নি) তাহলে তাঁর স্বভাবসুলভ সংকোচ বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তাই তিনি দোয়া করেন, হে আল্লাহ। আমার জিভের জড়তা দূর করে দাও যাতে আমি নিজের কথা লোকদেরকে ভালোভাবে বুঝাতে পারি। [৩৫] এ বিষয়েই ফেরাউন একবার তাঁকে খোঁটা দিয়ে বলেছিলঃ “এ ব্যক্তি তো নিজের কথাই সঠিকভাবে বলতে পারে না।”

💂পরিরাজ: অর্থাৎ যার কাছে না আছে অর্থ-সম্পদ না আছে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব। 
কোন কোন মুফাসসিরের ধারণা, বাল্যকাল থেকেই হযরত মূসার (আঃ) কথায় যে তোতলামি ছিল সে বিষয়েই ফেরাউনের এই আপত্তি। কিন্তু এ ধারণা ঠিক নয়।

সূরা তোহাতে একথা বলা হয়েছে যে, হয়রত মূসা(আঃ)কে যে সময় নবুওয়াতের পদ-মর্যদার ভূষিত করা হচ্ছিলো তখন তিনি আল্লাহর কাছে এই বলে প্রার্থনা করেছিলেন যে আমার কথার জড়তা দূর করে দিন যাতে মানুষ ভালভাবে আমার কথা বুঝতে পারে। সেই সময়ই তাঁর অন্যান্য প্রার্থনার সাথে এই প্রার্থনাও মঞ্জুর করা হয়েছিলো। তাছাড়া কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে হযরত মূসার (আঃ) যেসব বক্তৃতা উদ্ধৃত করা হয়েছে তা তাঁর পূর্ণ মাত্রার সাবলীল ভাষার প্রতি ইঙ্গিত করে। 

💂পরিরাজ: অতএব, ফেরাউনের আপত্তির কারণ তাঁর কথার তোতলামি ছিল না। বরং তার আপত্তির বিষয় ছিল এই যে, এ ব্যক্তি অজানা কি সব এলোমেলো কথাবার্তা বলে যার উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় কখনো আমাদের বোধগম্য হয়নি।

💂পরিরাজ: এ দুর্বলতা অনুভব করেই হযরত মূসা নিজের ভাই হারুনকে সাহায্যকারী হিসেবে চান। মূসা বলেন, [৩৬] “আমার ভাই হারুন আমার চেয়ে বাকপটু তাকে সাহায্যকারী হিসেবে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও।” 

💂পরিরাজ: পরবর্তী আলোচনায় আরো জানা যায় যে, হযরত মূসার এ দুর্বলতা দূর হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি বেশ জোরদার ভাষণ দিতে শুরু করেছিলেন। কুরআনে ও বাইবেলে তাঁর পরবর্তীকালের যেসব ভাষণ উদ্ধৃত হয়েছে তা উন্নত পর্যায়ের শাব্দিক অলংকার ও বাকপটুতার সাক্ষ্য দেয়।

💂পরিরাজ: জিভে জড়তা আছে এমন একজন তোতলা ব্যক্তিকে আল্লাহ‌ নিজের রসূল নিযুক্ত করবেন, একথা স্বাভাবিক বিচার বুদ্ধি বিরোধী। রসূলরা সব সময় এমন ধরনের লোক হয়েছেন যারা চেহারা, সুরত ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতার দিক দিয়ে হয়েছেন সর্বোত্তম, যাদের ভেতর বাইরের প্রতিটি দিক অন্তর ও দৃষ্টিকে প্রভাবিত করেছে। কোন রসূলকে এমন কোন দোষ সহকারে পাঠানো হয়নি এবং পাঠানো যেতে পারতো না যে কারণে তিনি লোকদের মধ্যে হাস্যাস্পদ হন অথবা লোকেরা তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে।

আর আমার জন্য নিজের পরিবার থেকে সাহায্যকারী হিসেবে নিযুক্ত করে দাও! আমার ভাই হারুনকে।

💂পরিরাজ: বাইবেলের বর্ণনা অনুসারে [৩৭] হযরত হারুন হযরত মূসার চাইতে তিন বছরের বড় ছিলেন।

মূসা বললেন, তার মাধ্যমে আমার হাত মজবুত করো। এবং তাকে আমার কাজে শরীক করে দাও, যাতে আমরা খুব বেশী করে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করতে পারি, এবং খুব বেশী করে তোমার চর্চা করি। তুমি সব সময় আমাদের অবস্থার পর্যবেক্ষক।” বললেন, “হে মূসা! তুমি যা চেয়েছো তা তোমাকে দেয়া হলো। আমি আর একবার তোমার প্রতি অনুগ্রহ করলাম।

💂পরিরাজ: এরপর আল্লাহ‌ হযরত মূসাকে তাঁর জন্ম থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত তার প্রতি যতগুলো অনুগ্রহ করা হয়েছিল, এক এক করে তার সবক’টি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেন। এর  উদ্দেশ্য হচ্ছে হযরত মূসাকে এ অনুভূতি দান করা যে, এখন যে কাজে তোমাকে নিযুক্ত করা হচ্ছে এ কাজের জন্যই তোমাকে পয়দা করা হয়েছে এবং এ কাজের জন্যই আজ পর্যন্ত বিশেষ সরকারী তত্ত্বাবধানে তুমি প্রতিপালিত হয়ে এসেছো।

💂পরিরাজ: আল্লাহ মূসাকে বললেন, সে সময়ের কথা মনে করো যখন আমি তোমার মাকে ইশারা করেছিলাম, এমন ইশারা যা অহীর মাধ্যমে করা হয়, এই মর্মে যে, এ শিশুকে সিন্দুকের মধ্যে রেখে দাও এবং সিন্দুকটি দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও, দরিয়া তাকে তীরে নিক্ষেপ করবে এবং আমার শত্রু ও এ শিশুর শত্রু একে তুলে নেবে। আমি নিজের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি ভালোবাসা সঞ্চার করেছিলাম এবং এমন ব্যবস্থা করেছিলাম যাতে তুমি  আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হও।

স্মরণ করো, যখন তোমার বোন চলছিল, তারপর গিয়ে বললো, “আমি কি তোমাদের তার সন্ধান দেবো, যে এ শিশুকে ভালোভাবে লালন করবে?” এভাবে আমি তোমাকে আবার তোমার মায়ের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছি, যাতে তার চোখ শীতল থাকে এবং সে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়। এবং (এটাও স্মরণ করো) তুমি একজনকে হত্যা করে ফেলেছিলে, আমি তোমাকে এ ফাঁদ থেকে বের করেছি এবং তোমাকে বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়ে এসেছি, আর তুমি মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে কয়েক বছর অবস্থান করেছিলে। তারপর এখন তুমি ঠিক সময়েই এসে গেছো। হে মূসা! আমি তোমাকে নিজের জন্য তৈরী করে নিয়েছি।

যাও, তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনগুলোসহ এবং দেখো আমার স্মরণে ভুল করো না। যাও, তোমরা দু’জন ফেরাউনের কাছে, সে বিদ্রোহী হয়ে গেছে।  তার সাথে কোমলভাবে কথা বলো, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভীত হবে।” উভয়েই বললো, “হে আমাদের রব! আমাদের ভয় হয়, সে আমাদের সাথে বাড়াবাড়ি করবে অথবা আমাদের ওপর চড়াও হবে।”

💂পরিরাজ:  এটা এমন সময়ের কথা হতে পারে  যখন হযরত মূসা (আঃ) মিসরে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং হযরত হারুন কার্যত তাঁর সাথে শরীক হয়ে গিয়েছিলেন। সে সময় ফেরাউনের কাছে যাওয়ার আগে উভয়েই আল্লাহর কাছে এ নিবেদন পেশ করে থাকবেন। 

আল্লাহ  বললেন, “ভয় করো না, আমি তোমাদের সাথে আছি, সবকিছু শুনছি ও দেখছি।

যাও তার কাছে এবং বলো, আমরা তোমার রবের প্রেরিত, বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য ছেড়ে দাও এবং তাদেরকে কষ্ট দিয়ো না। আমরা তোমার কাছে নিয়ে এসেছি তোমার রবের নিদর্শন এবং শান্তি তার জন্য যে সঠিক পথ অনুসরণ করে। আমাদের অহীর সাহায্যে জানানো হয়েছে যে, শাস্তি তার জন্য যে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।”

💂পরিরাজ: এ ঘটনাটি বাইবেল ও তালমূদে যেভাবে পেশ করা হয়েছে তার ওপরও একবার নজর বুলানো দরকার। এর ফলে কুরআন মজীদ আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের কথা কেমন মর্যাদা সহকারে বর্ণনা করেছে এবং বনী ইসরাঈলের বর্ণনসমূহে এর কি চিত্র অংকন করা হয়েছে তা আন্দাজ করা যাবে। [৩৮] বাইবেলের বর্ণনা হচ্ছে, প্রথমবার আল্লাহ‌ যখন মূসাকে বললেন, “এখন আমি তোমাকে ফেরাউনের কাছে পাঠাচ্ছি এ উদ্দেশ্যে যে, তুমি আমার জাতি বনী ইসরাঈলকে মিসর থেকে বের করে আনবে” তখন হযরত মূসা জবাব দিলেন, “ফেরাউনের কাছে যাবার এবং বনী ইসরাঈলকে মিসর থেকে বের করে আনার আমি কে? ” তারপর আল্লাহ‌ হযরত মূসাকে অনেক বুঝালেন, তাঁর মনে শক্তি সঞ্চার করলেন, মুজিযা দান করলেন কিন্তু মূসা আবার এ কথাই বললেন, “হে আমার প্রভু বিনয় করি, অন্য যাহার হাতে পাঠাইতে চাও এ বার্তা পাঠাও।”

💂পরিরাজ: তালমূদের বর্ণনা আবার এর চাইতে কয়েক কদম এগিয়ে গেছে। সেখানে বলা হয়েছেঃ এ ব্যাপারটি নিয়ে আল্লাহ‌ ও হযরত মূসার সাথে সাতদিন পর্যন্ত বাদানুবাদ হতে থাকে। আল্লাহ‌ বলতে থাকেন, নবী হও। কিন্তু মূসা বলতে থাকেন, আমার কণ্ঠই খুলছে না, কাজেই আমি নবী হই কেমন করে। শেষে আল্লাহ‌ বললেন, তুমি নবী হয়ে যাও এতেই আমি খুশী। একথায় হযরত মূসা বলেন, লূতকে বাঁচাবার জন্য আপনি ফেরেশতা পাঠিয়েছিলেন,

হাজেরা যখন সারার গৃহ থেকে বের হলেন তখন তার জন্য পাঁচজন ফেরেশতা পাঠিয়েছিলেন, আর এখন নিজের বিশেষ সন্তান (বনী ইসরাঈল)-দেরকে মিসর থেকে বেরকরে আনার জন্য আপনি আমাকে পাঠাচ্ছেন? একথায় আল্লাহ‌ অসন্তুষ্ট হলেন এবং তিনি রিসালাতের কাজে তাঁর সাথে হারুনকে শরীক করে দিলেন। আর মূসার সন্তানদের বঞ্চিত করে পৌরোহিত্যের দায়িত্ব সন্তানদের দিয়ে দিলেন-এগুলোই হচ্ছে প্রাচীন কিতাব এবং নির্লজ্জ লোকেরা এগুলো সম্পর্কে বলে থাকে যে, কুরআনের এ কাহিনীগুলো নাকি এসব কিতাব থেকে নকল করা হয়েছে।

💂পরিরাজ: এ কুরআনে যেসব কথা বলা হচ্ছে এগুলো কোন উড়ো কথা নয়। এগুলো কোন মানুষের আন্দাজ অনুমান ও মতামত ভিত্তিকও নয়। বরং এক জ্ঞানবান প্রাজ্ঞ সত্তা এগুলো নাযিল করছেন। তিনি নিজের সৃষ্টির প্রয়োজন ও কল্যাণ এবং তার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন। বান্দাদের সংশোধন ও পথনির্দেশনার জন্য তাঁর জ্ঞান সর্বোত্তম কৌশল ও ব্যবস্থা অবলম্বন করে।

💂পরিরাজ: পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে, [৩৯] (তাদেরকে সেই সময়ের কথা শুনাও) যখন মূসা তাঁর পরিবারবর্গকে বললো “আমি আগুনের মতো একটা বস্তু দেখেছি। এখনি আমি সেখান থেকে কোন খবর আনবো অথবা খুঁজে আনবো কোন অংগার, যাতে তোমরা উষ্ণতা লাভ করতে পারো।”

💂পরিরাজ: এটা তখনকার ঘটনা যখন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম মাদয়ানে আট দশ বছর অবস্থান করার পর নিজের পরিবার-পরিজন নিয়ে কোন বাসস্থানের সন্ধানে বের হয়েছিলেন। মাদয়ান এলাকাটি ছিল আকাবা উপসাগরের তীরে আরব ও সিনাই উপদ্বীপের উপকূলে, সেখান থেকে যাত্রা করে হযরত মূসা সিনাই উপদ্বীপের দক্ষিণ অংশে পৌঁছেন। এ অংশের যে স্থানটিতে তিনি পৌঁছেন বর্তমানে তাকে সিনাই পাহাড় ও মূসা পর্বত বলা হয়। কুরআন নাযিলের সময় এটি তুর নামে পরিচিত ছিল। এখানে যে ঘটনাটির কথা বলা হয়েছে সেটি এরই পাদদেশে সংঘটিত হয়েছিল।

💂পরিরাজ: আলোচনার প্রেক্ষাপট থেকে মনে হয় যে, এটা ছিল শীতকালের একটি রাত। হযরত মূসা একটি অপরিচিত এলাকা অতিক্রম করছিলেন। এ এলাকার ব্যাপারে তাঁর বিশেষ জানা-শোনা ছিল না। তাই তিনি নিজের পরিবারের লোকদের বললেন, আমি সামনের দিকে গিয়ে একটু জেনে আসি আগুন জ্বলছে কোন জনপদে, সামনের দিকে পথ কোথায় কোথায় গিয়েছে এবং কাছাকাছি কোন কোন জনপদ আছে। তবুও যদি দেখা যায়, ওরাও আমাদের মত চলমান মুসাফির যাদের কাছ থেকে কোন তথ্য সংগ্রহ করা যাবে না, তাহলেও অন্ততপক্ষে ওদের কাছ থেকে একটু অংগার তো আনা যাবে। এ থেকে আগুন জ্বালিয়ে তোমরা উত্তাপ লাভ করতে পারবে।

💂পরিরাজ: হযরত মূসা (আঃ) যেখানে কুঞ্জবনের মধ্যে আগুন লেগেছে বলে দেখেছিলেন সে স্থানটি তূর পাহাড়ের পাদদেশে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ফুট ওপরে অবস্থিত। রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম খৃস্টান বাদশাহ কনষ্টানটাইন ৩৬৫ খৃস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে ঠিক যে জায়গায় এ ঘটনাটি ঘটেছিল সেখানে একটি গীর্জা নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। এর দু’শো বছর পরে সম্রাট জাষ্টিনিয়ান এখানে একটি আশ্রম (Monasterery) নির্মাণ করেন। কনষ্টান্টাইনের গীর্জাকেও এর অর্ন্তভূক্ত করা হয়। এ আশ্রম ও গীর্জা আজও অক্ষুন্ন রয়েছে। এটি গ্রীক খৃস্টীয় গীর্জার (Greek Orthodox Church) পাদরী সমাজের দখলে রয়েছে।

💂পরিরাজ: সেখানে পৌঁছবার পর আওয়াজ এলো “ধন্য সেই সত্তা যে এ আগুনের মধ্যে এবং এর চারপাশে রয়েছে, পাক-পবিত্র আল্লাহ‌ সকল বিশ্ববাসীর প্রতিপালক।

💂পরিরাজ: সূরা কাসাসে বলা হয়েছে, আওয়াজ আসছিল একটি বৃক্ষ থেকে এ থেকে ঘটনাটির যে দৃশ্য সামনে ভেসে ওঠে তা হচ্ছে এই যে, উপত্যাকা  এক কিনারে আগুনের মতো লেগে গিয়েছিল কিন্তু কিছু জ্বলছিল না এবং ধোঁয়াও উড়ছিল না। আর এ আগুনের মধ্যে একটি সবুজ শ্যামল গাছ দাঁড়িয়েছিল। সেখান থেকে সহসা এ আওয়াজ আসতে থাকে।

💂পরিরাজ: আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের সাথে এ ধরণের অদ্ভূত ব্যাপার ঘটা চিরাচরিত ব্যাপার। নবী (সাঃ) যখন প্রথম বার নবুওয়াতের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হন তখন হেরা গিরিগূহায় একান্ত নির্জনে সহসা একজন ফেরেশতা আসেন।

💂পরিরাজ: তিনি তাঁর কাছে আল্লাহর পয়গাম পৌঁছাতে থাকেন। হযরত মূসার ব্যাপারেও একই ঘটনা ঘটে। এক ব্যক্তি সফর কালে এক জায়গায় অবস্থান করছেন। দূর থেকে আগুন দেখে পথের সন্ধান নিতে বা আগুন সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে আসেন। অকস্মাৎ সকল প্রকার আন্দাজ অনুমানের ঊর্ধ্বে অবস্থানকারী স্বয়ং আল্লাহ‌ তাঁকে সম্বোধন করেন। এসব সময় আসলে এমন একটি অস্বাভাবিক অবস্থা বাইরেও এবং নবীগণের মনের মধ্যেও বিরাজমান থাকে যার ভিত্তিতে তাঁদের মনে এরূপ প্রত্যয় জন্মে যে, এটা কোন জিন বা শয়তানের কারসাজী অথবা তাদের নিজেদের কোন মানসিক ভাবান্তর নয় কিংবা তাঁদের ইন্দ্রিয়ানুভূতিও কোন প্রকার প্রতারিত হচ্ছে না বরং প্রকৃতপক্ষে বিশ্ব-জাহানের মালিক ও প্রভু অথবা তাঁর ফেরেশতাই তাঁদের সাথে কথা বলা হয়েছে।

💂পরিরাজ: এ অবস্থায় “পাক-পবিত্র আল্লাহ” বলার মাধ্যমে আসলে হযরত মূসাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে যে, বিভ্রান্ত চিন্তা ও বিশ্বাস থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়েই এ ঘটনাটি ঘটছে। অর্থাৎ এমন নয় যে, আল্লাহ‌ রব্বুল আলামীন এ গাছের ওপর বসে আছেন অথবা এর মধ্যে অনুপ্রবেশ করে এসেছেন কিংবা তাঁর একচ্ছত্র নূর তোমাদের দৃষ্টিসীমায় বাঁধা পড়েছে বা কারো মুখে প্রবিষ্ট কোন জিহ্বা নড়াচড়া করে এখানে কথা বলছে। বরং এ সমস্ত সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন থেকে সেই সত্তা নিজেই তোমার সাথে কথা বলছেন।

💂পরিরাজ: আল্লাহ বললেন;  হে মূসা, এ আর কিছু নয়, স্বয়ং আমি আল্লাহ, পরাক্রমশালী ও জ্ঞানী।
এবং তুমি তোমার লাঠিটি একটু ছুঁড়ে দাও।” যখনই মূসা দেখলো লাঠি সাপের মত মোচড় খাচ্ছে, তখনই পেছন ফিরে ছুটতে লাগলো এবং পেছন দিকে ফিরেও দেখলো না। “হে মূসা! ভয় পেয়ো না, আমার সামনে রসূলরা ভয় পায় না।

💂পরিরাজ: সূরা আ’রাফে ও সূরা শু’আরাতে এজন্য (অজগর) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এখানে একে জান শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। “জান” শব্দটি বলা হয় ছোট সাপ অর্থে। এখানে “জান” শব্দ ব্যবহার করার কারণ হচ্ছে এই যে, দৈহিক দিক দিয়ে সাপটি ছিল অজগর কিন্তু তার চলার দ্রুততা ছিল ছোট সাপদের মতো। সূরা তা-হায় (ছুটন্ত সাপ) এর মধ্যেও এ অর্থই বর্ণনা করা হয়েছে।

💂পরিরাজ: অর্থাৎ আমার কাছে রসূলদের ক্ষতি হবার কোন ভয় নেই। রিসালাতের মহান মর্যাদায় অভিসিক্ত করার জন্য যখন আমি কাউকে নিজের কাছে ডেকে আনি তখন আমি নিজেই তার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে থাকি। তাই যে কোন প্রকার অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলেও রসুলকে নির্ভীক ও নিশ্চিন্ত থাকা উচিত। আমি তার জন্য কোন প্রকার ক্ষতিকারক হবো না। 
তবে হ্যাঁ, যদি কেউ ভুল-ত্রুটি করে বসে। তারপর যদি সে দুষ্কৃতির পরে সুকৃতি দিয়ে (নিজের কাজ) পরিবর্তিত করে নেয় তাহলে আমি আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।

💂পরিরাজ: আরবী ব্যাকরণের সূত্র অনুসারে এ বাক্যাংশের দু’রকম অর্থ হতে পারে। প্রথম অর্থ হলো, ভয়ের কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ যদি থাকে তাহলে তা হচ্ছে এই যে, রসূল কোন ভুল করেছেন। আর দ্বিতীয় অর্থ হলো, যতক্ষণ কেউ ভুল না করে ততক্ষণ আমার কাছে তার কোন ভয় নেই। অর্থাৎ অপরাধকারীও যদি তওবা করে নিজের নীতি সংশোধন করে নেয় এবং খারাপ কাজের জায়গায় ভাল কাজ করতে থাকে, তাহলে আমার কাছে তার জন্য উপেক্ষা ও ক্ষমা করার দরজা খোলাই আছে। প্রসঙ্গক্রমে একথা বলার উদ্দেশ্য ছিল একদিকে সতর্ক করা এবং অন্যদিকে সুসংবাদ দেয়াও। হযরত মূসা আলাইহিমুস সালাম অজ্ঞতাবশত একজন কিবতীকে হত্যা করে মিসর থেকে বের হয়েছিলেন। এটি ছিল একটি ত্রুটি। এদিকে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত করা হয়। এ ত্রুটিটি যখন অনিচ্ছাকৃতভাবে তাঁর দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল তখন তিনি পরক্ষণেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন এই বলেঃ “হে আমার রব! আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমাকে মাফ করে দাও।”

💂পরিরাজ: আল্লাহ সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে মাফ করে দিয়েছিলেনঃ [৪০] আল্লাহ‌ তাঁকে মাফ করে দিলেন। এখানে সেই ক্ষমার সুসংবাদ তাঁকে দেয়া হয়। অর্থাৎ এ ভাষণের মর্ম যেন এই দাঁড়ালোঃ হে মূসা! আমার সামনে তোমার ভয় পাওয়ার একটি কারণ তো অবশ্যই ছিল। কারণ তুমি একটি ভুল করেছিলে। কিন্তু তুমি যখন সেই দুষ্কৃতিকে সুকৃতিতে পরিবর্তিত করেছো তখন আমার কাছে তোমার জন্য মাগফিরাত ও রহমত ছাড়া আর কিছুই নেই। এখন আমি তোমাকে কোন শাস্তি দেবার জন্য ডেকে পাঠাইনি বরং বড় বড় মু’জিযা সহকারে তোমাকে এখন আমি একটি মহান দায়িত্ব সম্পাদনে পাঠাবো।

💂পরিরাজ: [৪১] আর তোমার হাতটি একটু তোমার বক্ষস্থলের মধ্যে ঢুকাও তো, তা উজ্জ্বল হয়ে বের হয়ে আসবে কোন প্রকার ক্ষতি ছাড়াই। এ (দু’টি নিদর্শন) ন’টি নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত ফেরাউন ও তার জাতির কাছে (নিয়ে যাবার জন্য) তারা বড়ই বদকার।”

পরিরাজ: সূরা বনী ইসরাঈলে বলা হয়েছে মূসাকে আমি সুস্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হয় এমন ধরনের নয়টি নিদর্শন দিয়ে পাঠিয়েছিলাম। সূরা আ’রাফে সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ  বর্ণনা করা হয়েছেঃ

👩জেমি:  সে নিদর্শন গুলো কি ছিল ?

💂পরিরাজ : সেগুলো হচ্ছে ,  (১) লাঠি, যা অজগর হয়ে যেতো (২) হাত, যা বগলে রেখে বের করে আনলে সূর্যের মতো ঝিকমিক করতো। (৩) যাদুকরদের প্রকাশ্য জনসমক্ষে পরাজিত করা (৪) হযরত মূসার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সারা দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়া। (৫) বন্যা ও ঝড় (৬) পংগপাল (৭) সমস্ত শস্য গুদামে শস্যকীট এবং মানুষ-পশু নির্বিশেষে সবার গায়ে উকুন। (৮) ব্যাঙয়ের আধিক্য (৯) রক্ত।

💂পরিরাজ: একইভাবে পবিত্র কুরআনের অন্য জায়গায় বলা হয়েছে'[৪২] সেখানে পৌঁছার পর উপত্যকার ডান কিনারায় পবিত্র ভূখণ্ডে একটি বৃক্ষ থেকে আহ্বান এলো, “হে মূসা! আমিই আল্লাহ, সমগ্র বিশ্বের অধিপতি।” আর (হুকুম দেয়া হলো) ছুঁড়ে দাও তোমার লাঠিটি। যখনই মূসা দেখলো লাঠিটি সাপের মতো মোচড় খাচ্ছে তখনই সে পেছন ফিরে ছুটতে লাগলো এবং একবার ফিরেও তাকালো না। বলা হলো, “হে মূসা! ফিরে এসো এবং ভয় করো না, তুমি সম্পূর্ণ নিরাপদ।

তোমার হাত বগলে রাখো উজ্জল হয়ে বের হয়ে আসবে কোন প্রকার কষ্ট ছাড়াই। এবং ভীতিমুক্ত হবার জন্য নিজের হাত দু’টি চেপে ধরো। এ দু’টি উজ্জল নিদর্শন তোমার রবের পক্ষ থেকে ফেরাউন ও তার সভাসদদের সামনে পেশ করার জন্য, তারা বড়ই নাফরমান।” মূসা নিবেদন করলো, “হে আমার প্রভু! আমি যে তাদের একজন লোককে হত্যা করে ফেলেছি, ভয় হচ্ছে, তারা আমাকে মেরে ফেলবে। আর আমার ভাই হারূন আমার চেয়ে বেশী বাকপটু, তাকে সাহায্যকারী হিসেবে আমার সাথে পাঠাও, যাতে সে আমাকে সমর্থন দেয়, আমার ভয় হচ্ছে, তারা আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে।”

আল্লাহ  বললেন, তোমার ভাইয়ের সাহায্যে আমি তোমার শক্তি বৃদ্ধি করবো এবং তোমাদের দু’জনকে এমনই প্রতিপত্তি দান করবো যে, তারা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আমার নিদর্শনগুলোর জোরে তোমরা ও তোমাদের অনুসারীরাই বিজয় লাভ করবে।”

💂পরিরাজ: একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, এটা হচ্ছে সেই তুর পাহাড় যার কথা কুরআনে কয়েক জায়গায় এসেছে। এখানে বলা হয়েছে  [৪৩] এ কিতাবে মূসার বৃত্তান্তও বিবৃত কর। নিশ্চয়ই সে ছিল আল্লাহর মনোনীত বান্দা এবং (তাঁর) রাসূল ও নবী। আমি তাকে তুর পাহাড়ের ডান দিক থেকে ডাক দিলাম এবং তাকে আমার অন্তরঙ্গরূপে নৈকট্য দান করলাম। আর আমি তার ভাই হারুনকে নবী বানিয়ে নিজ রহমতে তাকে (একজন সাহায্যকারী) দান করলাম।

💂পরিরাজ: সূরা আ‘রাফে তা উল্লেখ করেছেন-[৪৪] আমি মূসার জন্য ত্রিশ রাতের মেয়াদ স্থির করেছিলাম (যে, এ রাতসমূহে তুর পাহাড়ে এসে ইতিকাফ করবে)। তারপর আরও দশ রাত বৃদ্ধি করে তা পূর্ণ করি। এভাবে তার প্রতিপালকের নির্ধারিত মেয়াদ চল্লিশ দিন হয়ে গেল এবং মূসা তার ভাই হারুনকে বলল, আমার অনুপস্থিতিতে তুমি সম্প্রদায়ের মধ্যে আমার প্রতিনিধিত্ব করবে, সবকিছু ঠিকঠাক রাখবে এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অনুসরণ করবে না। মূসা যখন আমার নির্ধারিত সময়ে এসে পৌঁছল এবং তার প্রতিপালক তাঁর সাথে কথা বললেন, তখন সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দর্শন দিন আমি আপনাকে দেখব। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কিছুতেই দেখতে পাবে না। তুমি বরং পাহাড়ের প্রতি দৃষ্টিপাত কর। তা যদি আপন স্থানে স্থির থাকে, তবে তুমি আমাকে দেখতে পারবে। অতপর যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে তাজাল্লী ফেললেন ( জ্যোতি প্রকাশ করলেন) তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচ‚র্ণ করে ফেলল এবং মূসা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেল। পরে যখন তার সংজ্ঞা ফিরে আসল, তখন সে বলল,আপনার সত্তা পবিত্র।

আমি আপনার দরবারে তওবা করছি এবং (দুনিয়ায় কেউ আপনাকে দেখতে সক্ষম নয়- এ বিষয়ের প্রতি) আমি সবার আগে ঈমান আনছি। 

💂পরিরাজ: এছাড়া মূসা ও ফেরাউন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যেমন সূরা আল আরাফের (১০৩-১৩৭), আবার (৮৫-৯৩) নম্বর আয়াত। সূরা ইউনূস(৭৫-৯২), সূরা বনী ইসরাইল (১০১-১০৪), সূরা ত্ব-হা (৯-৭৯), সূরা নামল, সূরা কাসাস এর চার রুকুতে এবং সূরা  দু'খান ২৪ নম্বর আয়াতে, সূরা ত্ব-হা এর তাফহীমুল কোরআন থেকে ৫৩নং টিকা, সূরা নাযিয়াতসহ আরও অনেকগুলো সূরা ও আয়াতে হযরত মূসা ও ফেরাউনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। তুমি যদি মূসা ও ফেরাউন সম্পর্কে শুনতে চাও তাহলে অন্য একদিন বলব; আজ আরনা।

💂পরিরাজ:  এখন তোমাকে ফের ওহী সম্পর্কে রেখে যাওয়া কথাগুলো বলছি, উপরে আলোচনায় বর্ণিত ওহির নাযিলের তৃতীয় পদ্ধতিটি হচ্ছে, ফেরেশতা মানুষের আকৃতি ধারণপূর্বক নাবী কারীম (সাঃ)-কে সম্বোধন করতেন। তারপর তিনি যা কিছু বলতেন নবী কারীম (সাঃ) তা মুখস্থ করে নিতেন। এ অবস্থায় সাহাবীগণ (রাঃ)ও ফেরেশতাকে দেখতে পেতেন।

💂পরিরাজ: এ সম্পর্কে  পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, [৪৫] ওদেরকে বলে দাও, যে ব্যক্তি জিব্রীলের সাথে শত্রুতা করে, তার জেনে রাখা উচিত, জিব্রীল আল্লাহরই হুকুমে এই কুরআন তোমার দিলে অবতীর্ণ করেছে; এটি পূর্বে আগত কিতাবগুলোর সত্যতা স্বীকার করে ও তাদের প্রতি সমর্থন যোগায় এবং ঈমানদারদের জন্য পথনির্দেশনা ও সাফল্যের বার্তাবাহী। 

💂পরিরাজ: ইহুদিরা কেবল নবী (সাঃ) এবং তাঁর ওপর যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকেই গালাগালি দিতো না বরং তারা আল্লাহর প্রিয় মহান ফেরেশতা জিব্রীলকেও গালাগালি দিতো এবং বলতো; সে আমাদের শত্রু। সে রহমতের নয়, আযাবের ফেরেশতা।

অর্থাৎ এ জন্যই তোমাদের গালমন্দ জিব্রীলের ওপর নয়, আল্লাহর মহান সত্তার ওপর আরোপিত হয়। 
এর অর্থ হচ্ছে, জিব্রীল এ কুরআন মজীদ বহন করে এনেছেন বলেই তোমরা এ গালাগালি করছো। অথচ কুরআন সরাসরি তাওরাতকে সমর্থন যোগাচ্ছে। কাজেই তোমাদের গালিগালাজ তাওরাতের বিরুদ্ধেও উচ্চারিত হয়েছে।

💂পরিরাজ: এখানে একটি বিশেষ বিষয়বস্তুর প্রতি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত করা হয়েছে। সেটি হচ্ছেঃ ওহে নির্বোধের দল! তোমাদের সমস্ত অসন্তুষ্টি হচ্ছে হিদায়াত ও সত্য-সহজ পথের বিরুদ্ধে। তোমরা লড়ছো সঠিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। অথচ এই সঠিক ও নির্ভুল নেতৃত্বকে সহজভাবে মেনে নিলে তা তোমাদের জন্য সাফল্যের সুসংবাদ বহন করে আনতো। 

💂পরিরাজ:  ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় নাবী কারীম (সঃ)-এর নিকট ঘন্টার টুন টুন ধ্বনির মতো ধ্বনি শোনা যেত। ওহী নাযিলের এটাই ছিল সব চাইতে কঠিন অবস্থা। টুন টুন ধ্বনির সংকেত প্রকাশ করতে করতে ফিরিশতা ওহী নিয়ে আগমন করতেন এবং নাবী (সঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। ওহী নাযিলের সময় কঠিন শীতের দিনেও রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কপাল থেকে ঘাম ঝরতে থাকত। তিনি উষ্ট্রের উপর আরোহণরত অবস্থায় থাকলে উট বসে পড়ত। এক দফা এইভাবে ওহী নাযিল হওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উরু যায়দ বিন সাবেত (রা:)-এর উরুর উপর ছিল। তখন তাঁর উরুতে এতই ভারবোধ হয়েছিল যে মনে হয়েছিল যেন উরু চূর্ণ হয়ে যাবে।

💂পরিরাজ:  নাবী কারীম (সঃ) ফিরিশতাকে কোন কোন সময় নিজস্ব জন্মগত আকৃতিতে প্রত্যক্ষ করতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সেই অবস্থাতেই তিনি তাঁর নিকট ওহী নিয়ে আগমন করতেন। নাবী কারীম (সঃ)-এর এ রকম অবস্থা দু’বার সংঘটিত হয়েছিল যা আল্লাহ তা‘আলা সূরাহ ‘নাজমে’ উল্লে­খ করেছেন।

💂পরিরাজ: পবিত্র মি’রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন আকাশের উপর অবস্থান করছিলেন সেই সময় আল্লাহ তা‘আলা নামায এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে সরাসরি হুকুমের মাধ্যমে ওহীর ব্যবস্থা করেছিলেন।

💂পরিরাজ:  আল্লাহ তা‘আলার সঙ্গে নাবী কারীম (সাঃ)-এর সরাসরি কথোপকথন যেমনটি হয়েছিল, তেমনি মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে হয়েছিল।
কোন কোন লোক পর্দা বা আবরণ ব্যতিরেকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাঃ)-এর সামনা-সামনি কথোপকথনের মাধ্যমে ওহী নাযিলের অষ্টম রীতির কথা বলেছেন। কিন্তু ইসলামের পূর্বসূরীদের হতে শুরু করে পরবর্তীদের সময়কাল পর্যন্ত এ পদ্ধতিতে ওহী নাযিলের ব্যাপারে মতভেদ চলে আসছে।

👩জেমি : ওহী কী ধারাবাহিকভাবে নাযিল হয়েছে নাকি মাঝেমধ্যে বিরতি নিয়ে তারপর আবার নাযিল হয়েছে।

💂পরিরাজ: বলছি;

💂পরিরাজ: মহানবী (সাঃ) বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্য বিশেষ করে আরব সমাজের বিরাজমান অন্যায় অশান্তি ও মানুষের প্রভুত্ব থেকে কীভাবে মুক্তি পেতে পারে এ চিন্তায় মগ্ন ছিলেন তিনটি বছর। পারিপার্শ্বিক হৈচৈ ও হট্রগোল থেকে নির্জনতায় ও কোলাহল মুক্ত পরিবেশে হেরা গুহায় আধ‍্যাত্মিক ও রুহানি সফরে সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে গভীর ভাবনার পর তার ওপর প্রথম ওহী আসে পবিত্র রমজানের কদরের রজনীতে সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত, দশ দিন বিরতির পর দ্বিতীয় ওহী আসে সূরা মুদ্দাসসিরের প্রথম প্রথম পাঁচ আয়াত।

💂পরিরাজ: ওহী স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে নবী (সাঃ) বলেন, [৪৬] একদা আমি হেঁটে চলছি, হঠাৎ আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে চোখ তুলে তাকালাম! দেখলাম, সেই ফিরিশতা, যিনি হেরায় আমার কাছে এসেছিলেন, আসমান ও যমীনের মাঝখানে একটি কুরসীতে বসে আছেন, এতে আমি ভয় পেয়ে গেলাম, তৎক্ষণাৎ আমি ফিরে এসে বললাম আমাকে বস্ত্রাবৃত কর! আমাকে বস্ত্রাবৃত কর! তারপর আল্লাহতায়ালা নাযিল করলেন,

👉কোরআন : হে বস্ত্র মুড়ি দিয়ে শয়নকারী!

💂পরিরাজ:  এখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইয়া আয়্যুহাল রাসূল বা (ইয়া আয়্যুহান্নাবীয়ু) বলে সম্বোধন করার পরিবর্তে  (ইয়া আয়্যুহাল মুদ্দাস্সির) বলে সম্বোধন কেন করা হয়েছে। নবী (সাঃ) যেহেতু হঠাৎ জিবরাঈলকে আসমান ও পৃথিবীর মাঝখানে একটি আসনে উপবিষ্ট দেখে ভীত হয়ে পড়েছিলেন এবং সে অবস্থায় বাড়ীতে পৌঁছে বাড়ীর লোকদের বলেছিলেনঃ আমাকে চাদর দিয়ে আচ্ছাদিত করো, আমাকে চাদর দিয়ে আচ্ছাদিত করো। তাই আল্লাহ তাঁকে  (ইয়া আয়্যুহাল মুদ্দাস্সির) বলে সম্বোধন করেছেন।


💂পরিরাজ: সম্বোধনের এ সূক্ষ্ম ভংগী থেকে আপনা আপনি এ অর্থ পরিস্ফূটিত হয়ে ওঠে যে, হে আমার প্রিয় বান্দা, তুমি চাদর জড়িয়ে শুয়ে আছো কেন? তোমার ওপরে তো একটি মহৎ কাজের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এ দায়িত্ব পালন করার জন্য তোমাকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উঠে দাঁড়াতে হবে।

👉কোরআন : ওঠো এবং সাবধান করে দাও,

💂পরিরাজ: হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে নবুওয়াতের পদমর্যাদায় অভিষিক্ত করার সময় যে আদেশ দেয়া হয়েছিল এটাও সে ধরনের আদেশ। হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে বলা হয়েছিলঃ [৪৭] “তোমার নিজের কওমের লোকদের ওপর এক ভীষণ কষ্টদায়ক আযাব আসার পূর্বেই তাদের সাবধান করে দাও।”

💂পরিরাজ: আয়াতটির অর্থ হলো, হে বস্ত্র আচ্ছাদিত হয়ে শয়নকারী, তুমি ওঠো। তোমার চারপাশে আল্লাহর যেসব বান্দারা অবচেতন পড়ে আছে তাদের জাগিয়ে তোল। যদি এ অবস্থায়ই তারা থাকে তাহলে যে অবশ্যম্ভাবী পরিণতির সম্মুখীন তারা হতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে তাদের সাবধান করে দাও। তাদের জানিয়ে দাও, তারা “মগের মুল্লুকে” বাস করছে না যে, যা ইচ্ছা তাই করে যাবে, অথচ কোন কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে না।

👉কোরআন : তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো,

💂পরিরাজ: এ পৃথিবীতে এটা একজন নবীর সর্বপ্রথম কাজ। এখানে এ কাজটিই তাঁকে আঞ্জাম দিতে হয়। তাঁর প্রথম কাজই হলো, অজ্ঞ ও মূর্খ লোকেরা এ পৃথিবীতে যাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রতাপ মেনে চলছে তাদের সবাইকে অস্বীকার করবে এবং গোটা পৃথিবীর সামনে উচ্চ কণ্ঠে একথা ঘোষণা করবে যে, এ বিশ্ব-জাহানে এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোন শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রতাপ নেই।

💂পরিরাজ:  আর এ কারণেই ইসলামে “আল্লাহু আকবার” (আল্লাহই শ্রেষ্ঠ) কথাটিকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। “আল্লাহু আকবার” ঘোষণার মাধ্যমেই আযান শুরু হয়। আল্লাহু আকবার একথাটি বলে মানুষ নামায শুরু করে এবং বার বার আল্লাহু আকবার বলে ওঠে ও বসে। কোন পশুকে জবাই করার সময়ও “বিসমিল্লাহে আল্লাহু আকবার” বলে জবাই করে। তাকবীর ধ্বনি বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের সর্বাধিক স্পষ্ট ও পার্থক্যসূচক প্রতীক। কারণ, ইসলামের মহানবী (সাঃ) আল্লাহর বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণার মাধ্যমেই কাজ শুরু করেছিলেন।

💂পরিরাজ: এখানে আরো একটি সূক্ষ্ম বিষয় আছে যা ভালভাবে বুঝে নেয়া দরকার। এ সময়ই প্রথমবারের মত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে নবুওয়াতের বিরাট গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য তৎপর হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এ আয়াতগুলোর “শানে নুযুল” থেকেই সে বিষয়টি জানা গিয়েছে। একথা তো স্পষ্ট যে, যে শহর, সমাজ ও পরিবেশে তাঁকে এ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার জন্য তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছিল তা ছিল শিরকের কেন্দ্রভূমি বা লীলাক্ষেত্র। সাধারণ আরবদের মত সেখানকার অধিবাসীরা যে কেবল মুশরিক ছিল, তা নয়। বরং মক্কা সে সময় গোটা আরবের মুশরিকদের সবচেয়ে বড় তীর্থক্ষেত্রের মর্যাদা লাভ করেছিল।

আর কুরাইশরা ছিল তার ঘনিষ্ঠতম প্রতিবেশী, সেবায়ত ও পুরোহিত। এমন একটি জায়গায় কোন ব্যক্তির পক্ষে শিরকের বিরুদ্ধে এককভাবে তাওহীদের পতাকা উত্তোলন করা জীবনের ঝুঁকি গ্রহণ করার শামিল। তাই “ওঠো এবং সাবধান করে দাও” বলার পরপরই “তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো” বলার অর্থই হলো যেসব বড় বড় সন্ত্রাসী শক্তি তোমার এ কাজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে হয় তাদের মোটেই পরোয়া করো না। বরং স্পষ্ট ভাষায় বলে দাও, যারা আমার এ আহবান ও আন্দোলনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে আমার “রব” তাদের সবার চেয়ে অনেক বড়। আল্লাহর দ্বীনের কাজ করতে উদ্যত কোন ব্যক্তির হিম্মত বৃদ্ধি ও সাহস যোগানোর জন্য এর চাইতে বড় পন্থা বা উপায় আর কি হতে পারে? আল্লাহর বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের নকশা যে ব্যক্তির হৃদয়-মনে খোদিত সে আল্লাহর জন্য একাই গোটা দুনিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সামান্যতম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও অনুভব করবে না। 

👉কোরআন : তোমার পোশাক পবিত্র রাখো,

💂পরিরাজ: এটি একটি ব্যাপক অর্থ ব্যঞ্জক কথা। এর অর্থ অত্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি অর্থ হলো, তুমি তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ নাপাক বস্তু থেকে পবিত্র রাখো। কারণ শরীর ও পোশাক-পরিচ্ছদের পবিত্রতা এবং “রূহ” বা আত্মার পবিত্রতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোন পবিত্র আত্মা ময়লা-নোংরা ও পূতিগন্ধময় দেহ এবং অপবিত্র পোশাকের মধ্যে মোটেই অবস্থান করতে পারে না। রসূলুল্লাহ (সাঃ) যে সমাজে ইসলামের দাওয়াতের কাজ শুরু করেছিলেন তা শুধু আকীদা-বিশ্বাস ও নৈতিক আবিলতার মধ্যেই নিমজ্জিত ছিল না

বরং পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার প্রাথমিক ধারণা সম্পর্কে পর্যন্ত সে সমাজের লোক অজ্ঞ ছিল। এসব লোককে সব রকমের পবিত্রতা শিক্ষা দেয়া ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাজ। তাই তাঁকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, তিনি যেন তাঁর বাহ্যিক জীবনেও পবিত্রতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখেন।

এ নির্দেশের ফল স্বরূপ নবী (সাঃ) মানবজাতিকে শরীর ও পোশাক-পরিচ্ছদের পবিত্রতা সম্পর্কে এমন বিস্তারিত শিক্ষা দিয়েছেন যে, জাহেলী যুগের আরবরা তো দূরের কথা আধুনিক যুগের চরম সভ্য জাতিসমূহও সে সৌভাগ্যের অধিকারী নয়। এমনকি দুনিয়ার অধিকাংশ ভাষাতে এমন কোন শব্দ পর্যন্ত পাওয়া যায় না যা “তাহারাত” বা পবিত্রতার সমার্থক হতে পারে। পক্ষান্তরে ইসলামের অবস্থা হলো, হাদীস এবং ফিকাহর গ্রন্থসমূহে ইসলামী হুকুম-আহকাম তথা বিধি-বিধান সম্পর্কে সব আলোচনা শুরু হয়েছে “কিতাবুল তাহারাত” বা পবিত্রতা নামে অধ্যায় দিয়ে। এতে পবিত্রতা ও অপবিত্রতার পার্থক্য এবং পবিত্রতা অর্জনের উপায় ও পন্থাসমূহ একান্ত খুঁটিনাটি বিষয়সহ সবিস্তারে আলোচনা করা হয়েছে।

💂পরিরাজ: একথাটির দ্বিতীয় অর্থ হলো, নিজের পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখো। বৈরাগ্যবাদী ধ্যান-ধারণা পৃথিবীতে ধর্মাচরণের যে মানদণ্ড বানিয়ে রেখেছিল তাহলো, যে মানুষে যাতো বেশী নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন হবে সে ততো বেশী পূত-পবিত্র। কেউ কিছুটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পরলেই মনে করা হতো, সে একজন দুনিয়াদার মানুষ। অথচ মানুষের প্রবৃত্তি নোংরা ও ময়লা জিনিসকে অপছন্দ করে। তাই ঘোষণা করা হয়েছে যে, আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর বাহ্যিক অবস্থাও এতোটা পবিত্র ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া প্রয়োজন যেন মানুষ তাকে সম্মান ও মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখে এবং তার ব্যক্তিত্বে এমন কোন দোষ-ত্রুটি যেন না থাকে যার কারণে রুচি ও প্রবৃত্তিতে তার প্রতি ঘৃণার সৃষ্টি হয়।

💂পরিরাজ: একথাটির তৃতীয় অর্থ হলো, নিজের পোশাক পরিচ্ছদ নৈতিক দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র রাখো। তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন তো অবশ্যই থাকবে তবে তাতেও কোন প্রকার গর্ব-অহংকার, প্রদর্শনী বা লোক দেখানোর মনোবৃত্তি, ঠাটবাট এবং জৌলুসের নামগন্ধ পর্যন্ত থাকা উচিত নয়।

💂পরিরাজ:  পোশাক এমন একটি প্রাথমিক জিনিস যা অন্যদের কাছে একজন মানুষের পরিচয় তুলে ধরে। কোন ব্যক্তি যে ধরনের পোশাক পরিধান করে তা দেখে প্রথম দৃষ্টিতেই মানুষ বুঝতে পারে যে, সে কেমন স্বভাব চরিত্রের লোক। নওয়াব, বাদশাহ ও নেতৃ পর্যায়ের লোকদের পোশাক, ধর্মীয় পেশার লোকদের পোশাক, দাম্ভিক ও আত্মম্ভরী লোকদের পোশাক, বাজে ও নীচ স্বভাব লোকদের পোশাক এবং গুণ্ডা-পাণ্ডা ও বখাটে লোকদের পোশাকের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে থাকে। এসব পোশাকই পোশাক পরিধানকারীর মেজাজ ও মানসিকতার প্রতিনিধিত্ব করে। আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর মেজাজ ও মানসিকতা স্বাভাবিকভাবেই এসব লোকদের থেকে আলাদা হয়ে থাকে। তাই তার পোশাক-পরিচ্ছদ তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে স্বতন্ত্র ধরনের হওয়া উচিত। তাঁর উচিত এমন পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা যা দেখে প্রত্যেকেই অনুভব করবে যে, তিনি একজন শরীফ ও ভদ্র মানুষ, যাঁর মন-মানস কোন প্রকার দোষে দুষ্ট নয়।

💂পরিরাজ: এর চতুর্থ অর্থ হলো, নিজেকে পবিত্র রাখো। অন্য কথায় এর অর্থ হলো, নৈতিক দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র থাকা এবং উত্তম নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হওয়া। ইবনে আব্বাস, ইবরাহীম নাখয়ী, শা’বী, আতা, মুজাহিদ, কাতাদা, সা’ঈদ ইবনে জুবায়ের, হাসান বাসরী এবং আরো অনেক বড় বড় মুফাসসিরের মতে এটিই এ আয়াতের অর্থ। অর্থাৎ নিজের নৈতিক চরিত্রকে পবিত্র রাখো এবং সব রকমের দোষ-ত্রুটি থেকে দূরে থাকো।

প্রচলিত আরবী প্রবাদ অনুসারে যদি বলা হয় যে, অমুক ব্যক্তির কাপড় বা পোশাক পবিত্র অথবা অমুক ব্যক্তি পবিত্র।” তাহলে এর দ্বারা বুঝানো হয় যে, সে ব্যক্তির নৈতিক চরিত্র খুবই ভাল। পক্ষান্তরে যদি বলা হয় অমুক ব্যক্তির পোশাক নোংরা তাহলে এ দ্বারা বুঝানো হয় যে, লোকটি লেনদেন ও আচার-আচরণের দিক দিয়ে ভাল নয়। তার কথা ও প্রতিশ্রুতির উপর আস্থা রাখা যায় না।

👉কোরআন : অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকো,

💂পরিরাজ:  অপবিত্রতার অর্থ সব ধরনের অপবিত্রতা। তা আকীদা-বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণার অপবিত্রতা হতে পারে, নৈতিক চরিত্র ও কাজ-কর্মের অপবিত্রতা হতে পারে।
আবার শরীর ও পোশাক-পরিচ্ছদ এবং উঠা বসা চলাফেরার অপবিত্রতাও হতে পারে।

💂পরিরাজ: অর্থাৎ তোমার চারদিকে গোটা সমাজে হরেক রকমের যে অপবিত্রতা ও নোংরামী ছড়িয়ে আছে তার সবগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত রাখো।

💂পরিরাজ: কেউ যেন তোমাকে একথা বলার সামান্য সুযোগও না পায় যে, তুমি মানুষকে যেসব মন্দ কাজ থেকে নিবৃত্ত করছো তোমার নিজের জীবনেই সে মন্দের প্রতিফলন আছে।

💂পরিরাজ:  ওহী সম্পর্কে ইসলামী পণ্ডিত সফি উসমানী মা'আরেফুল কোরআনের ভূমিকায় বলেছেন," আল্লাহ থেকে মানবজাতি তিনটি মাধ্যমে ইলম লাভ করে, ইন্দ্রিয়, বিবেক এবং ওহীর মাধ্যমে। যার শেষটি শুধুমাত্র নবী রাসূল পেয়ে থাকে। হেদায়াত দানের উদ্দেশ্যে আল্লাহ যুগে যুগে নবী -রাসূল প্রেরণ করেছেন। যার প্রথম হযরত আদম (আঃ) আর সর্বশেষ হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)। আর ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে তার বাণী নবী রাসূলদের কাছে অবতীর্ণ করেন। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মুহাম্মদ (সাঃ) শেষ রাসূল বিধায় পৃথিবীতে আর কোন ওহী আসবে না। "

💂পরিরাজ: সূরা আলাকের কয়খানি আয়াত দিয়ে কুরআন নাজিল শুরু হয় এবং বিদায় হজ্জের খুতবা শেষে আরাফাত ময়দানে ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে ৯ জিলহজ একটি আয়াতের অংশবিশেষ হিসেবে সর্বশেষ যে ওহী নাজিল হয় তা হচ্ছে : [৪৮] আল ইয়াওমা আক্মালতু লাকুম দীনাকুম ওয়া আত্মামতু ‘আলায়কুম নিমাতী ওয়া রাদীতু লাকুমুল ইসলামা দীনা। আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের দীন ইসলামকে সানন্দ অনুমোদন দান করলাম।

💂পরিরাজ: মূলত শরিয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারেফাতের দুর্বার গতিধারার অগ্রসফরের নবদিগন্ত উন্মোচিত হয় সেদিন হেরা গুহায় কুরআন নাজিলের মধ্য দিয়ে। এই কুরআন হচ্ছে মানুষের দিশারী, সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য - মিথ্যার পার্থক্যকারী।

👩জেমি: মূসা (আঃ) যে বলল, সে একজনকে হত্যা করেছে, সে কাকে হত্যা করেছে? কেন হত্যা করেছে? সে বিস্ময়কর কাহিনি কী?

💂পরিরাজ: সে অনেক ঘটনা,

👩জেমি: আমি সে রহস্যময় ঘটনা শুনতে চাই...

💕নবীন প্রেমের উদয়!  
👉দ্বিতীয় খণ্ড
👉 পর্ব: বারো

,  সমাপ্ত।।

👉রচনাকাল: সংশোধিত, ১ নভেম্বর ২০২২ মঙ্গলবার।।
👉বিশেষ দ্রষ্টব্য: কপিরাইট সংরক্ষিত৷