নবীন প্রেমের উদয়! দ্বিতীয় খণ্ড,
লেখক নাঈম হোসেন
পর্ব: চৌদ্দ, [ হুবহু জেমির বর্ণনা; ]
👩জেমি: আমার খুব তৃষ্ণা পেয়েছে এক গ্লাস জল দিতে পারবে?
💂পরিরাজ : চোখের পলকের মধ্যে এক গ্লাস জল এনে দিল; জেমি: এক চুমুকে সবটুকু শেষ করে বললঃ ধন্যবাদ ৷
💂পরিরাজ : তোমাকেও ধন্যবাদ ৷
💂পরিরাজ: একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ...
মুসা (আ:) মাদায়িন অভিমূখে রওনা হলেন। দীর্ঘ পথ ও পাহাড়-সাগর পেরিয়ে মাদায়িন শহর। পথ চলতে চলতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
তৃষ্ণা নিবারণের জন্য একটি কূপের নিকট গেলেন। কিন্তু সেখানে প্রচণ্ড ভীড়। রাখালের দল ও অন্যরা নিজ নিজ পশুপালকে পানি পান করাচ্ছেন। ভীড়ের মাঝে মুসা (আঃ) দেখলেন দুইজন রমণী একপাশে দাড়িয়ে আছেন। অপেক্ষা করছে পুরুষের ভীড় কমে যাওয়ার। তারা তাদের পশুদের পানি পান করানোর জন্য এসেছে।
💂পরিরাজ: মুসা (আঃ) তাদের অবস্থা জানতে চাইলেন। রমনীদ্বয়ের উত্তর ছিল এ রকম–
"আমরা পুরুষের ভীড়ে পানি পান করাতে সংকোচবোধ করছি। আমরা অপেক্ষা করছি— রাখালদল চলে গেলে পানি পান করাব। তাছাড়া আমাদের পিতা একজন অতিশয় বৃদ্ধ। তিনি এ কাজ করতে অক্ষম। তাই আমরা বাধ্য হয়ে এখানটায় এসেছি।"
💂পরিরাজ: তাদের কথা শুনে মুসা (আঃ) এর হৃদয় বিগলিত হয়ে গেল। কূপ থেকে পানি উত্তলোন করে তিনি তাদের পশুদের পানি পান করাল। রমণীদ্বয় খুশি মনে বাড়ির পথ ধরল।
💂পরিরাজ: মুসা (আঃ) দীর্ঘ পথ সফর করে এসেছেন। দীর্ঘ পথে সূর্যতাপ তাকে তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত বানিয়ে দিয়েছে। পথের পাশেই ছায়াদার বৃক্ষের নিচে বসলেন। একটু জিরিয়ে নিলেন। অতঃপর মহান আল্লাহর নিকট দোআ করলেন— তিনি যেন উত্তম মেহমানদারির ব্যবস্থা করেন। পানাহারের ব্যবস্থা করেন।
💂পরিরাজ: বিষয়টি কোরআনে এবাবে বলা হয়েছে যে, [৬০] আর যখন সে মাদয়ানের কুয়ার কাছে পৌঁছল, সে দেখলো, অনেক লোক তাদের পশুদের পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের থেকে আলাদা হয়ে একদিকে দু’টি মেয়ে নিজেদের পশুগুলো আগলে রাখছে। মূসা মেয়ে দু’টিকে জিজ্ঞেস করলো,
"তোমাদের সমস্যা কি?” তারা বললো, “আমরা আমাদের জানোয়ারগুলোকে পানি পান করাতে পারি না যতক্ষণ না এ রাখালেরা তাদের জানোয়ারগুলো সরিয়ে নিয়ে যায়, আর আমাদের পিতা একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি।”
💂পরিরাজ : অর্থাৎ মেয়েরা বুঝাতে চেয়েছে যে , আমরা মেয়ে মানুষ। এ রাখালদের সাথে টক্কর দিয়ে ও সংঘর্ষ বাঁধিয়ে নিজেদের জানোয়ারগুলোকে আগে পানি পান করাবার সামর্থ্য আমাদের নেই।
অন্যদিকে আমাদের পিতাও এত বেশী বয়োবৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন যে, তিনি নিজে আর কষ্টের কাজ করতে পারেন না। আমাদের পরিবারে আর দ্বিতীয় কোন পুরুষ নেই। তাই আমরা মেয়েরাই এ কাজ করতে বের হয়েছি।
সব রাখালদের তাদের পশুগুলোকে পানি পান করিয়ে নিয়ে চলে যাওয়া পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আমাদের অপেক্ষা করতে হয়।
মেয়ে দু’টি শুধুমাত্র একটি সংক্ষিপ্ত বাক্যের মাধ্যমে এ বক্তব্য উপস্থাপন করে।
এ থেকে একদিকে তাদের লজ্জাশীলতার প্রকাশ ঘটে। অর্থ্যাৎ একজন পর পুরুষের সাথে তারা বেশি কথাও বলতে চাচ্ছিল না।
আবার এটাও পছন্দ করছিল না যে, এ ভিন দেশী অপরিচিত লোকটি তাদের ঘটনা সম্পর্কে কোন ভুল ধারণা পোষণ করুক এবং মনে মনে ভাবুক যে, এরা কেমন লোক যাদের পুরুষরা ঘরে বসে রয়েছে আর ঘরের মেয়েদেরকে এ কাজ করার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে।
💂পরিররাজ: আর এ মেয়েদের বাপ ছিলেন হযরত শু’আইব আলাইহিস সালাম।
💂পরিরাজ: একথা শুনে মূসা তাদের জানোয়ারগুলোকে পানি পান করিয়ে দিল। তারপর সে একটি ছায়ায় গিয়ে বসলো এবং বললো, “হে আমার প্রতিপালক! যে কল্যাণই তুমি আমার প্রতি নাযিল করবে আমি তার মুখাপেক্ষী।”
💂পরিরাজ: এ স্থানটি, যেখানে হযরত মূসা পৌঁছেছিলেন, এটি ছিল আরবীয় বর্ণনা অনুযায়ী আকাবা উপসাগরের পশ্চিম তীরে মানকা থেকে কয়েক মাইল উত্তর দিকে অবস্থিত। বর্তমানে এ জায়গাটিকে আল বিদ'আ বলা হয়।
💂পরিরাজ : তারপর বৃদ্ধ পিতার কন্যাদ্বয় বাড়ি ফিরেছেন। অন্যান্য দিনের তুলনায় আগে বাড়ি ফেরায় পিতা খানিকটা বিষ্মিত হলেন। কারণ জিজ্ঞাসা করলে , পিতার নিকট সব ঘটনা খুলে বললেন। বৃদ্ধ ঘটনা শ্রবণ করে দ্রুত এক মেয়েকে পাঠালেন— তাকে বাড়িতে নিয়ে আসতে।
অপরিচিত লোকটিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। মুসা (আঃ) বৃদ্ধের দাওয়াত কবুল করে তার বাড়ি আসলেন। আথিতেয়তা গ্রহণ করলেন। পানাহার শেষে বৃদ্ধ লোকটি যে প্রস্তাব দিলেন তার জন্য মুসা (আঃ) মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না।
তিনি তার দুই কন্যা থেকে একজনকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার নিবেদন করলেন। উভয় কন্যা থেকে যাকে পছন্দ হয় তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দেন। তবে শর্ত হলো- আট বা দশ বছর বৃদ্ধের বাড়িতেই অবস্থান করতে হবে।
পাশাপাশি পশুপালের সার্বিক দেখাশুনা করবে। এটাই হলো স্ত্রীর মোহরানা। মুসা (আঃ) তার প্রস্তাব গ্রহণ করলেন।
💂পরিরাজ : বিষয়টি কোরআনে এভাবে বলা হয়েছে যে , (বেশিক্ষণ অতিবাহিত হয়নি এমন সময়) ঐ দু’টি মেয়ের মধ্য থেকে একজন লজ্জাজড়িত পদ বিক্ষেপে তার কাছে এলো এবং বলতে লাগলো, “আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন, আপনি আমাদের জানোয়ারগুলোকে যে পানি পান করিয়েছেন আপনাকে তার পারিশ্রমিক দেয়ার জন্য।” মূসা যখন তার কাছে পৌঁছল এবং নিজের সমস্ত কাহিনী তাকে শুনালো তখন সে বললো, “ভয় করো না, এখন তুমি জালেমদের হাত থেকে বেঁচে গেছো।”
👸পরিরাজ : সাহাবী হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এ বাক্যাংশটির এরূপ ব্যাখ্যা করেছেনঃ “সে নিজের মুখ ঘোমটার আড়ালে লুকিয়ে লজ্জাজড়িত পায়ে হেঁটে এলো।
সেই সব ধিংগি চপলা মেয়েদের মতো হন হন করে ছুটে আসেনি, যারা যেদিকে ইচ্ছা যায় এবং যেখানে খুশী ঢুকে পড়ে।”
💂পরিরাজ : এ বিষয়বস্তু সম্বলিত কয়েকটি রেওয়ায়েত সাঈদ ইবনে মানসুর, ইবনে জারীর, ইবনে আবী হাতেম ও ইবনুল মুনযির নির্ভরযোগ্য সনদ সহকারে উমর থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
এ থেকে পরিষ্কার জানা যায়, সাহাবায়ে কেরামের যুগে কুরআন ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বদৌলতে এ মনীষীগণ লজ্জাশীলতার ইসলামী ধারণা লাভ করেছিলেন তা অপরিচিত ও ভিন পুরুষদের সামনে চেহারা খুলে রেখে ঘোরাফেরা করা এবং বেপরোয়াভাবে ঘরের বাইরে চলাফেরা করার সম্পূর্ণ বিরোধী ছিল।
হযরত উমর (রাঃ) পরিষ্কার ভাষায় এখানে চেহারা ঢেকে রাখাকে লজ্জাশীলতার চিহ্ন এবং তা ভিন পুরুষের সামনে উন্মুক্ত রাখাকে নির্লজ্জতা গণ্য করেছেন।
💂পরিরাজ : একথাও সে বলে লজ্জা-শরমের কারণে। কেননা, নির্জনে একজন ভিন পুরুষের কাছে একাকী আসার কোন কারণ বলা জরুরী ছিল।
অন্যথায় একথা সুস্পষ্ট, একজন ভদ্রলোক যদি কোন মেয়ে মানুষকে পেরেশান দেখে তাকে কোন সাহায্য করে থাকে, তাহলে তার প্রতিদান দেবার কথা বলা কোন ভালো কথা ছিল না। তারপর এ প্রতিদানের নাম শোনা সত্ত্বেও মূসার মতো একজন মহানুভব ব্যক্তির উঠে এগিয়ে যাওয়া একথা প্রমাণ করে যে, তিনি সে সময় চরম দুরবস্থায় পতিত ছিলেন।
একেবারে খালি হাতে অকস্মাৎ মিসর থেকে বের হয়ে পড়েছিলেন। মাদয়ান পর্যন্ত পৌঁছতে কমপক্ষে আট দিন লাগার কথা। ক্ষুধা, পিপাসা এবং সফরের ক্লান্তিতে অবস্থা কাহিল না হয়ে পারে না।
বিদেশে-পরবাসে কোন থাকার জায়গা পাওয়া যায় কিনা এবং এমন কোন সমব্যথী পাওয়া যায় কিনা যার কাছে আশ্রয় নেয়া যেতে পারে, এ চিন্তা সম্ভবত তাকে সবচেয়ে বেশী পেরেশান করে দিয়েছিল।
এ অক্ষমতার কারণেই এত সামান্য সেবা কর্মের পারিশ্রমিক দেবার জন্য ডাকা হচ্ছে শুনে মূসা যাওয়ার ব্যাপারে ইতস্তত করেননি।
তিনি হয়তো ভেবেছিলেন যে, আল্লাহর কাছে এখনই আমি যে দোয়া করেছি তা কবুল করার এ ব্যবস্থা আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়েছে, তাই এখন অনর্থক আত্মমর্যাদার ভান করে আল্লাহর দেয়া আতিথ্যের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করা সঙ্গত নয়[৬১]
💂পরিরাজ : তারপরে মুসা (আঃ) বৃদ্ধের বাড়িতে আগমন করলে তার উভয় মেয়ে থেকে যে কোন একজনকে নির্বাচন করার স্বাধীনতা দেন।
নবী মুসা তার ছোট কন্যাকে নির্বাচন করেন। কেননা সে তাকে পথ দেখিয়েছেন। তার কিছু আচরণ ও ব্যবহার নবীকে মুগ্ধ করেছেন। উন্নত চরিত্র, লাজুকতা, নিজের সম্ভ্রম-আবরুর প্রতি রক্ষণশীলতার কারণে মুসা (আঃ) তাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সেই কন্যার নাম ছিল ‘সাফূরা’ বা সাফূরিয়া।
💂পরিরাজ : পবিত্র কোরআনের ভাষায় মেয়ে দু'জনের একজন তার পিতাকে বললো, “আব্বাজান! একে চাকরিতে নিয়োগ করো, কর্মচারী হিসেবে ব্যক্তিই উত্তম হতে পারে যে বলশালী ও আমানতদার।”
💂পরিরাজ : হযরত মূসার সাথে প্রথম সাক্ষাতের সময় মেয়েটি তার বাপকে একথা বলেছিল কিনা এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে বেশির ভাগ সম্ভাবনা এটাই যে, তার বাপ অপরিচিত মুসাফিরকে দু-একদিন নিজের কাছে রেখে থাকবেন এবং এ সময়ের মধ্যে কখনো মেয়ে তার বাপকে এ পরামর্শ দিয়ে থাকবে।
এ পরামর্শের অর্থ ছিল, আপনার বার্ধক্যের কারণে বাধ্য হয়ে আমাদের মেয়েদের বিভিন্ন কাজে বাইরে বের হতে হয়। বাইরের কাজ করার জন্য আমাদের কোন ভাই নেই।
আপনি এ ব্যক্তিকে কর্মচারী নিযুক্ত করুন। সুঠাম দেহের অধিকারী বলশালী লোক। সবরকমের পরিশ্রমের কাজ করতে পারবে। আবার নির্ভরযোগ্যও। নিছক নিজের ভদ্রতা ও আভিজাত্যের কারণে সে আমাদের মতো মেয়েদেরকে অসহায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমাদের সাহায্য করেছে এবং আমাদের দিকে কখনো চোখ তুলে তাকায়ওনি৷
💂পরিরাজ : তার পিতা (মূসাকে) বললো, “আমি আমার এ দু’মেয়ের মধ্য থেকে একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই। শর্ত হচ্ছে, তোমাকে আট বছর আমার এখানে চাকরি করতে হবে। আর যদি দশ বছর পুরো করে দাও, তাহলে তা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমার ওপর কড়াকড়ি করতে চাই না। তুমি ইনশাআল্লাহ আমাকে সৎলোক হিসেবেই পাবে।
💂পরিরাজ : একথাও জরুরী নয় যে, মেয়ের কথা শুনেই বাপ সঙ্গে সঙ্গেই হযরত মূসাকে এ কথা বলে থাকবেন। সম্ভবত তিনি মেয়ের পরামর্শ সম্পর্কে ভালোভাবে চিন্তা-ভাবনা করার পর এই মত স্থির করেছিলেন যে, লোকটি ভদ্র ও অভিজাত, একথা ঠিক। কিন্তু ঘরে যেখানে জোয়ান মেয়ে রয়েছে সেখানে একজন জোয়ান, সুস্থ্য, সবল লোককে এমনি কর্মচারী হিসেবে রাখা ঠিক নয়।
এ ব্যক্তি যখন ভদ্র, শিক্ষিত, সংস্কৃতিবান ও অভিজাত বংশীয় (যেমন হযরত মূসার মুখে তাঁর কাহিনী শুনে তিনি মনে করে থাকবেন) তখন একে জামাতা করেই ঘরে রাখা হোক।
এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর কোন উপযুক্ত সময়ে তিনি হযরত মূসাকে এ কথা বলে থাকবেন।
💂পরিরাজ : এখানে দেখুন বনী ইসরাঈলের আর একটি কীর্তি। তারা তাদের মহান মর্যাদাসম্পন্ন নবী এবং নিজেদের সবচেয়ে বড় হিতকারী ও জাতীয় হিরোর কী দুর্গতি করেছে।
তালমূদে বলা হয়েছে, “মূসা রূয়েলের বাড়িতে অবস্থান করতে থাকেন। তিনি নিজের মেজবানের মেয়ে সাফুরার প্রতি অনুগ্রহ দৃষ্টি দিচ্ছিলেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি তাকে বিয়ে করলেন।”
আর একটি ইহুদী বর্ণনা জুয়িশ ইনসাইক্লোপিডিয়ায় উদ্ধৃত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, “হযরত মূসা যখন যিথ্রোকে সমস্ত ঘটনা শুনালেন তখন তিনি বুঝতে পারলেন এ ব্যক্তির হাতেই ফেরাউনের রাজ্য ধ্বংস হবার ভবিষ্যতবানী করা হয়েছিল। তাই তিনি সঙ্গে সঙ্গেই হযরত মূসাকে বন্দী করে ফেললেন, যাতে তাঁকে ফেরাউনের হাতে সোপর্দ করে দিয়ে পুরস্কার লাভ করতে পারেন। সাত বা দশ বছর পর্যন্ত তিনি তার বন্দীশালায় থাকলেন। ভূ-গর্ভস্থ একটি অন্ধকার কুঠুরীতে তিনি বন্দী ছিলেন।
কিন্তু যিথ্রোর মেয়ে যাফূরা (বা সাফূরা), যার সাথে কূয়ার পাড়ে তাঁর প্রথম সাক্ষাত হয়েছিল, চুপি চুপি তার সাথে কারাগৃহে সাক্ষাত করতে থাকে। সে তাঁকে খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করতো। তাদের দু’জনের মধ্যে বিয়ের গোপন চুক্তি হয়ে গিয়েছিল। সাত বা দশ বছর পর যাফূরা তার বাপকে বললো এত দীর্ঘকাল হয়ে গেল আপনি এক ব্যক্তিকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তারপর তার কোন খবরও নেননি। এতদিন তার মরে যাবারই কথা। কিন্তু যদি জীবিত থাকে তাহলে নিশ্চয়ই সে কোন আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তি।
যিথ্রো তার একথা শুনে কারাগারে গেলেন। সেখানে হযরত মূসাকে জীবিত থাকতে দেখে তার মনে বিশ্বাস জন্মালো অলৌকিকতার মাধ্যমে এ ব্যক্তি জীবিত আছে। তখন তিনি যাফূরার সাথে তার বিয়ে দিয়ে দিলেন।” পরিরাজ : যেসব পাশ্চাত্য প্রাচ্যবিদ কুরআনী কাহিনীগুলোর উৎস খুঁজে বেড়ান, কুরআনী বর্ণনা ও ইসরাঈলী বর্ণনার মধ্যে এই যে সুস্পষ্ট পার্থক্য এখানে দেখা যাচ্ছে তা কি কখনো তাদের চোখে পড়ে?
💂পরিরাজ : মূসা জবাব দিল, “আমার ও আপনার মধ্যে একথা স্থিরীকৃত হয়ে গেলো, এ দু’টি মেয়াদের মধ্য থেকে যেটাই আমি পূরণ করে দেবো তারপর আমার ওপর যেন কোন চাপ দেয়া না হয়। আর যা কিছু দাবী ও অঙ্গীকার আমরা করছি আল্লাহ তার তত্বাবধায়ক।”
💂পরিরাজ : কেউ কেউ হযরত মূসার সাথে মেয়ের বাপের এ কথাবার্তাকে বিয়ের ইজাব কবুল মনে করে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁরা এ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন যে, বাপের সেবা মেয়ের বিয়ের মোহরানা হিসেবে গণ্য হতে পারে কিনা? এবং বিয়ে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ধরণের বাইরের শর্ত শামিল হতে পারে কি?
অথচ আলোচ্য আয়াতের ভাষ্য থেকে স্বতস্ফূর্তভাবে একথা প্রমাণিত হচ্ছে যে, এটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল না। বরং এটি ছিলো প্রাথমিক কথাবার্তা, বিয়ের পূর্বে বিয়ের প্রস্তাব আসার পর সাধারণভাবে দুনিয়ায় যে ধরণের কথাবার্তা হয়ে থাকে। এটা কেমন করে বিয়ের ইজাব কবুল হতে পারে যখন একথাই স্থিরীকৃত হয়নি দু’টি মেয়ের মধ্য থেকে কোনটির সাথে বিয়ে দেয়া হচ্ছে?
কথাবার্তা শুধূ এতটুকু হয়েছিল যেঃ “আমার মেয়েদের মধ্য থেকে একটির সাথে আমি তোমার বিয়ে দিতে চাই। তবে শর্ত হচ্ছে, তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, আট দশ বছর আমার এখানে থেকে আমার কাজে সাহায্য করতে হবে। কারণ এ আত্মীয়তা সম্পর্ক স্থাপনের পেছনে আমার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমি বৃদ্ধ লোক কোন ছেলে সন্তান আমার নেই, যে আমার সম্পত্তি দেখাশুনা ও ব্যবস্থাপনা করতে পারে। আমার আছে মেয়ে। বাধ্য হয়ে তাদেরকে আমি বাইরে পাঠাই। আমি চাই আমার জামাতা আমার দক্ষিণ হস্ত হয়ে থাকবে।
এ দায়িত্ব যদি তুমি পালন করতে পারো এবং বিয়ের পরেই স্ত্রীকে নিয়ে চলে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকে তাহলে আমার মেয়ের বিয়ে আমি তোমার সাথে দেবো।
হযরত মূসা নিজেই এসময় একটি আশ্রয়ের সন্ধানে ছিলেন। তিনি এ প্রস্তাব মেনে নিলেন। বলা নিষ্প্রয়োজন, বিয়ের পূর্বে বর পক্ষ ও কনে পক্ষের মধ্যে যেসব চুক্তি হয়ে থাকে এটি ছিলো সে ধরনের একটি চুক্তি।
এরপর যথারীতি আসল বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকবে এবং তাতে মোহরানাও নির্ধারিত হয়ে থাকবে। সে বিয়েতে সেবা কর্মের কোন শর্ত শামিল হওয়ার কোন কারণ ছিল না।
💂পরিরাজ : মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করে দিল। এবং নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে চললো তখন তূর পাহাড়ের দিক থেকে একটি আগুন দেখতে পেলো। সে তার পরিবারবর্গকে বললো, “থামো! আমি একটি আগুন দেখছি, হয়তো আমি সেখান থেকে কোন খবর আনতে পারি অথবা সেই আগুন থেকে কোন অংগারই নিয়ে আসতে পারি যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পারো।”
💂পরিরাজ : হযরত হাসান ইবনে আলী ইবনে আবু তালেব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, মূসা (আঃ) আট বছরের জায়গায় দশ বছরের মেয়াদ পুরা করেছিলেন।
ইবনে আব্বাসের বর্ণনা মতে এ বক্তব্যটি নবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, “মূসা আলাইহিস সালাম দু’টি মেয়াদের মধ্য থেকে যেটি বেশী পরিপূর্ণ এবং তাঁর শ্বশুরের জন্য বেশী সন্তোষজনক সেটি পূর্ণ করেছিলেন অর্থাৎ দশ বছর।”
💂পরিরাজ : এ সফরে হযরত মূসার তূর পাহাড়ের দিকে যাওয়া দেখে অনুমান করা যায় তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে সম্ভবত মিসরের দিকে যেতে চাচ্ছিলেন। কারণ মাদয়ান থেকে মিসরের দিকে যে পথটি গেছে তূর পাহাড় তার ওপর অবস্থিত। সম্ভবত হযরত মূসা মনে করে থাকবেন, দশটি বছর চলে গেছে, যে ফেরাউনের শাসনামলে তিনি মিসর থেকে বের হয়েছিলেন সে মারা গেছে, এখন যদি আমি নীরবে সেখানে চলে যাই এবং নিজের পরিবারের লোকজনদের সাথে অবস্থান করতে থাকি তাহলে হয়তো আমার কথা কেউ জানতেই পারবে না।[৬২]
💂পরিরাজ : ঘটনার বিন্যাসের দিক দিয়ে বাইবেলের বর্ণনা এখানে কুরআন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বাইবেল বলে, হযরত মূসা তাঁর শশুরের ছাগল চরাতে চরাতে “প্রান্তরের পশ্চাদ্ভাগে মেষপালক লইয়া গিয়া হোরেবে ঈশ্বরের পর্বতে” চলে গিয়েছিলেন। তারপর তিনি নিজের শশুরের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন। এবং তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নিজের সন্তান-সন্ততি সহকারে মিসরের পথে যাত্রা করেছিলেন।[ ৬৩]
💂পরিরাজ: অপরদিকে কুরআন বলে, হযরত মূসা মেয়াদ পুরা করার পর নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে মাদয়ান থেকে রওয়ানা হয়েছিলেন এবং এ সফরে আল্লাহর সাথে কথাবার্তা এবং নবুওয়াতের দায়িত্ব লাভ করার ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলেন।
বাইবেল ও তালমূদের সম্মিলিত বর্ণনা হচ্ছে, যে ফেরাউনের পরিবারের হযরত মূসা প্রতিপালিত হয়েছিলেন তাঁর মাদয়ানে অবস্থানকালে সে মারা গিয়েছিল এবং তারপর অন্য একজন ফেরাউন ছিল মিসরের শাসক।
💂পরিরাজ: শুয়াইব (আঃ)-এর কন্যার সঙ্গে মুসা (আঃ)-এর শুভ পরিণয়ের ঘটনা খুবই অস্বাভাবিক ও ব্যতিক্রম। পিতা নিজে স্বেচ্ছায় কন্যাদানে আগ্রহ প্রকাশ করলেন। দুই কন্যা থেকে পছন্দ মত একটিকে বাছাই করার সুযোগ দিলেন। মুসা (আঃ) ছোট কন্যাকে নির্বাচন করলেন। তিনি ছোট মেয়ের মাঝে বিশেষ কিছু গুণ ও উন্নত চরিত্রের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। এছাড়াও আমাদের জন্য আরো কিছু শিক্ষনীয় বিষয় রয়েছে।
👩জেমি : কি শিক্ষা রয়েছে ?
পরিরাজ: কোনো দেশ বা শহরে কেউ যদি নিজের দ্বীন-ধর্ম, ধন-সম্পদ, ও মান-মর্যাদার নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা করে, তাহলে সে হিজরত করে অন্য দেশ বা শহরে আশ্রয় নিতে পারবে।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পরোপকার ও সাহায্য-সহযোগিতা করার মানসিকতা পোষন করা।
কোনো নারী বিপদগ্রস্থ হলে তাদেরও সহযোগিতা করা। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো কথা বলা জায়েজ হবে না।
বিপদ ও সংকীর্ণতায় মহান আল্লাহর উপর ভরসা করা এবং তার নিকট সাহায্য কামনা করা। মানুষের মুখাপেক্ষী না হওয়া।
কাউকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পরিপূর্ণ করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যেমনিভাবে মুসা (আঃ) তার শশুরকে দেওয়া ওয়াদা পুঙ্খানুপুঙ্খ পালন করেছেন। দীর্ঘ দশ বছর ওনার বাড়িতে শ্রম দিয়েছেন এবং পশুপাল দেখাশুনা করেছেন।
কোনো মুসলমান কাউকে আশ্রয় দিলে তার পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া। যেমনিভাবে শুয়াইব (আঃ) হযরত মুসা (আঃ)-কে পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়েছেন।
👩জেমিঃ আচ্ছা কোরআন কী ? আর এই কোরআন পৃথিবীতে নাযিলের পূর্বে কোথায় ছিল ? এখন আমি কোরআন সম্পর্কে কিছু জানতে চাই !
💂পরিরাজ : দাঁড়ি কুচকিয়ে পরিরাজ : কুরআন মাজিদ ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, যা আল্লাহর বাণী বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করে থাকেন৷
এটিকে আরবি শাস্ত্রীয় সাহিত্যের সর্বোৎকৃষ্ট রচনা বলে মনে করা হয়।
কুরআনকে প্রথমে অধ্যায়ে (আরবিতে সূরা) ভাগ করা হয় এবং অধ্যায়গুলো (সূরা) আয়াতে বিভক্ত করা হয়েছে কুরআন তথ্যধর্ম ইসলাম এর ভাষা আরবি যুগ ৬০৯–৬৩২ এর অধ্যায় ১১৪টি৷
💂পরারাজ: এই কিতাব আল্লাহর ফেরেশতা জিবরাইল এর মাধ্যমে ইসলামিক নবি মুহাম্মাদ এর কাছে মৌখিকভাবে ভাষণ আকারে কুরআনের আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন, দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে সম্পূর্ণ কুরআন অবতীর্ণ হয়।
কুরআনের প্রথম আয়াত অবতীর্ণ হয় ৬০৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর যখন মুহাম্মাদের বয়স ৪০ বছর এবং অবতরণ শেষ হয় মুহাম্মাদের তিরোধানের বছর অর্থাৎ ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে। মুসলমানরা বিশ্বাস করে থাকেন কুরআন হচ্ছে মুহাম্মদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অলৌকিক ঘটনা যা তার নবুয়তের প্রমাণস্বরূপ এবং ঐশ্বরিক বার্তা প্রেরণের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায় যা আদম থেকে শুরু হয়ে মুহাম্মাদের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। তবে সুফিবাদের অনুসারীরা বিশ্বাস করে থাকেন মুহাম্মাদের সকল কর্মকান্ড উম্মতের কাছে বোধগম্য করে তোলার জন্যই কুরআন অবতীর্ণ করা হয়।
পরিরাজ : কুরআনে সর্বমোট ১১৪টি সূরা আছে। আয়াত সংখ্যা ৬,২৩৬ টি; মতান্তরে ৬,৬৬৬ টি। এটি মূল আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়৷ মুসলিম চিন্তাধারা অনুসারে কুরআন ধারাবাহিকভাবে অবতীর্ণ ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বশেষ এবং গ্রন্থ অবতরণের এই ধারা ইসলামের প্রথম বাণীবাহক আদম থেকে শুরু হয়।
কুরআনে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে যার সাথে বাইবেলসহ অন্যান্য ধর্মীয়গ্রন্থের বেশ মিল রয়েছে, অবশ্য অমিলও কম নয়। তবে কুরআনে কোনো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা নেই।
💂পরিরাজ : ইসলামি ভাষ্যমতে কুরআন অপরিবর্তনীয় এবং এ সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে " আমি স্বয়ং এ উপদেশগ্রন্থ অবতরণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।” [৬৪]
পরিরাজ : কুরআন মজিদ আল্লাহর কালাম। এই কালাম শাশ্বত এবং চিরন্তন। এ অনাধিকাল থেকে সংরক্ষিত রয়েছে লওহে মাহফুজে। ইরশাদ হয়েছে : বাল হুয়া কুরআনুম মাজীদ, ফী লাওহিম মাহফুজ। [৬৫]
💂পরিরাজ: এই কুরআন মজিদকে সর্বশেষ নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট বিশ্বমানবের দিশারী হিসেবে নাজিলের জন্য লওহে মাহ্ফুজ থেকে সিদ্রাতুল মুন্তাহা মকামে ওহীবাহক ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল আলায়হিস্ সাল্লামের কাছে দেয়া হয়। হযরত জিবরাঈল (আঃ) সেই রাতেই তা বহন করে মক্কা-মুকাররমার হিরা গুহায় নির্জন বাসরত (ইতিকাফ) হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট অবতরণ করেন।
💂পরিরাজ : হেরা গুহায় প্রথম ওহী নাজিলের মধ্য দিয়ে পার্থিব জগতে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে নবুওয়ত ও রিসালতের অভিষেকে অভিষিক্ত করা হয়। আর আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু বিশ্বগত সৃষ্টির সূচনা করেন নূরে মুহম্মদী সৃষ্টি করে।
আল্লাহর নূরের তাজাল্লির ফয়েযে অর্থাৎ প্রাচুর্য প্রবাহে যে নূর মুবারক বিকশিত হয় সেই নূর মুবারকই নূরে মুহম্মদী। সেই নূর মুবারক থেকেই আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু বিশ্বজগতের তাবত কিছু একে একে বিকশিত করেন।
💂পরিরাজ : নূরে মুহম্মদী সৃষ্টি জগতের মূল উৎস। আধুনিক বিগব্যাং থিওরি যথার্থ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে নূরে মুহম্মদীর তাৎপর্য আরও অনুধাবিত হবে। সেই নূর মুবারক মানব সুরতে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে : হে আহলি কিতাব! আমার রসূল তোমাদের কাছে এসে গেছে। সে আল্লাহর কিতাবের এমন অনেক কথা তোমাদের কাছে প্রকাশ করছে যেগুলো তোমরা গোপন করে রাখতে এবং অনেক ব্যাপারে ক্ষমার চোখেও দেখছে। তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে গেছে এক জ্যোতি এবং আমি একখানি সত্য দিশারী কিতাব, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর সন্তোষকামী লোকদেরকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথপ্রদর্শন করেন এবং নিজ ইচ্ছাক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোকের দিকে নিয়ে আসেন এবং সরল-সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। [৬৬]
💂পরিরাজ: প্রিয়নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীতে নবী আগমনের ক্রমধারায় সমস্ত নবীর শেষে আবির্ভূত হন, কিন্তু আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু তাঁকে সবার আগে নবুওয়ত ও রিসালত দান করেন।
প্রিয়নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : আমি তখনও নবী ছিলাম যখন আদম পানি ও মাটিতে বিলীন ছিল। তিনি আরও বলেন, আমি রসূলগণের ভূমিকা ও নবীদের উপসংহার। [৬৭]
এর দ্বারা এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, হযরত আদম আলায়হিস সাল্লামের সৃষ্টিরও বহু পূর্বে হযরত মুহম্মদ মুস্তাফা আহমদ মুজতবা সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম নবী ও রসূল ছিলেন।
💂পরিরাজ : আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু আলমে আরওয়া অর্থাৎ আত্মার জগতে সমস্ত নবী-রসূলের রুহকে সমবেত করে তাঁদের কাছ থেকে মীসাক (চুক্তি বা অঙ্গীকার) গ্রহণ করেন যাতে তাঁরা হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের প্রতি ইমান আনেন এবং তাঁকে রসূল হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাঁকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেন। কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে : [৬৮]
স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীদের থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, “আজ আমি তোমাদের কিতাব ও হিকমত দান করেছি, কাল যদি অন্য একজন রসূল এই শিক্ষার সত্যতা ঘোষণা করে তোমাদের কাছে আসে, যা আগে থেকেই তোমাদের কাছে আছে, তাহলে তোমাদের তার প্রতি ঈমান আনতে হবে এবং তাকে সাহায্য করতে হবে।”
💂পরিরাজ : এই বক্তব্য উপস্থাপন করার পর আল্লাহ জিজ্ঞেস করেনঃ “তোমরা কি এ কথার স্বীকৃতি দিচ্ছো এবং আমার পক্ষ থেকে অঙ্গীকারের গুরুদায়িত্ব বহন করতে প্রস্তুত আছো?” তারা বললো, হ্যাঁ, আমরা স্বীকার করলাম।
💂পরিরাজ : এর অর্থ হচ্ছে এই যে, প্রত্যেক নবীর কাছ থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার নেয়া হয়েছে। আর যে অঙ্গীকার নবীর কাছ থেকে নেয়া হয়েছে তা নিঃসন্দেহে ও অনিবার্যভাবে তাঁর অনুসারীদের ওপরও আরোপিত হয়ে যায়। অঙ্গীকারটি হচ্ছে, যে দ্বীনের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে তোমাদের নিযুক্ত করা হয়েছে সেই একই দ্বীনের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দিয়ে আমার পক্ষ থেকে যে নবীকে পাঠানো হবে তার সাথে তোমাদের সহযোগিতা করতে হবে।
তার প্রতি কোন হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করবে না। নিজেদেরকে দ্বীনের ইজারাদার মনে করো না। সত্যের বিরোধিতা করবে না। বরং যেখানে যে ব্যক্তিকেই আমার পক্ষ থেকে সত্যের পতাকা উত্তোলন করার দায়িত্বে নিযুক্ত করা হবে সেখানেই তার পতাকা তলে সমবেত হয়ে যাবে।
💂পরিরাজ : এখানে আরো এতটুকু কথা জেনে নিতে হবে যে, হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্বে যে নবীই এসেছিলেন তাঁর কাছ থেকে এই অঙ্গীকারই নেয়া হয়েছে। আর এরই ভিত্তিতে প্রত্যেক নবী নিজের উম্মাতকে তাঁর পরে যে নবী আসবেন তার খবর দিয়েছেন এবং তাঁর সাথে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে এ ধরনের কোন অঙ্গীকার নেয়া হয়েছে এমন কোন কথা কুরআনে ও হাদীসে কোথাও উল্লেখিত হয়নি। অথবা তিনি নিজের উম্মাতকে পরবর্তীকালে আগমনকারী কোন নবীর খবর দিয়ে তার প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিয়ে গেছেন বলে কোন কথাও জানা যায়নি।
💂পরিরাজ : আল্লাহ্ বললেনঃ “আচ্ছা, তাহলে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম, এরপর যারাই এ অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে তারাই হবে ফাসেক।”
💂পরিরাজ: অতঃপর হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট হযরত জিবরাঈল ‘আলায়হিস্ সালাম ৬১০ খ্রিস্টাব্দের ২৭ রমাদান রাতে কুরআন মজিদ নাজিলের সূত্রপাত্র ঘটালেন আল্লাহর নির্দেশে এক অনন্য উৎসাহে।
💂পরিরাজ: যে নবীর নবুওয়তের অভিষেকের মাধ্যমে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু পৃথিবীতে নবী প্রেরণের ধারাবাহিকভাবে সূত্রপাত ঘটান, যার সৌজন্যেই আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন তাঁর নিকট কিতাব নাজিলের প্রথম মুহূর্তটা ছিল অত্যন্ত বরকতময়। যে কারণে সেই রাতটা সম্পর্কে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন : লায়লাতুল কাদরি খায়রুম্ মিন্ আলফি শাহরি লায়লাতুল কাদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। [৬৯]
💂পরিরাজ : মুফাস্সিরগণ সাধারণভাবে এর অর্থ করেছেন, এ রাতের সৎকাজ হাজার মাসের সৎকাজের চেয়ে ভালো। কদরের রাত এ গণনার বাইরে থাকবে। সন্দেহ নেই একথাটির মধ্যে যথার্থ সত্য রয়ে গেছে এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রাতের আমলের বিপুল ফযীলত বর্ণনা করেছেন। কাজেই বুখারী ও মুসলিমে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি কদরের রাতে ঈমানের সাথে এবং আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিদান লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদাতের জন্য দাঁড়ালো তার পিছনের সমস্ত গোনাহ মাফ করা হয়েছে।”
💂পরিরাজ : মুসনাদে আহমাদে হযরত উবাদাহ ইবনে সামেত (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “কদরের রাত রয়েছে রমযানের শেষ দশ রাতের মধ্যে। যে ব্যক্তি প্রতিদান লাভের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসব রাতে ইবাদাতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে আল্লাহ তার আগের পিছনের সব গোনাহ্ মাফ করে দেবেন।” কিন্তু আয়াতে উচ্চারিত শব্দগুলোয় একথা বলা হয়নি কদরের রাতের আমল হাজার রাতের আমলের চেয়ে ভালো) বরং বলা হয়েছে, “কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে ভালো।” আর মাস বলতে একেবারে গুণে গুণে তিরাশি বছর চার মাস নয়। বরং আরববাসীদের কথার ধরনই এই রকম ছিল, কোন বিপুল সংখ্যার ধারণা দেবার জন্য তারা “হাজার” শব্দটি ব্যবহার করতো। তাই আয়াতের অর্থ হচ্ছে, এই একটি রাতে এত বড় নেকী ও কল্যাণের কাজ হয়েছে যা মানবতার সুদীর্ঘ ইতিহাসে কোন দীর্ঘতম কালেও হয়নি।
💂পরিরাজ : প্রত্যক্ষ ওহী নাজিলের পূর্বে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম এমন কিছু সত্য স্বপ্ন দেখতেন যার তাবিরও তিনি সকালে ঘটতে দেখতেন। এই স্বপ্নযোগে তাঁকে বহু গুপ্ত রহস্য ও নিগূঢ়তত্ত্ব অবহিত করা হতো ৷
💂পরিরাজ : তিনি হেরা গুহায় গিয়ে নির্জনবাস গ্রহণ করে মুরাকাবা-মুশাহাদা ও যিকির আযকারে নিমগ্ন থাকেন। এক অজানা আকর্ষণ তাঁকে তন্ময় করে তোলে। তিনি লক্ষ্য করেন তরুলতা, গাছপালা এমনকি পাথরও তাঁকে সালাম জানাচ্ছে রসূল্লাল্লাহ সম্বোধন করে। তিনি স্পষ্ট শুনতে পান ওগুলো তাঁকে বলছে : আসসালামু ‘আলায়কা ইয়া রসূল্লাল্লাহ। হেরা গুহায় গুজরান করতে একদিন রাতে সেই মুবারক ক্ষণটি এসে যায়। তিনি শুনতে পেলেন কে যেন তাঁকে সম্বোধন করে ডাকছেন। তিনি উর্ধদিকে এবং আশপাশের দিকে তাকিয়ে দেখলেন। কিছুই তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো না। তিনি হঠাৎ লক্ষ্য করলেন তাঁর সামনে এক আলোকোজ্জ্বল নূরানী মানব সুরত দণ্ডায়মান। তাঁর মাথায় নূরের মুকুট এবং পরিধানে সবুজ পোশাক। তিনি একখানি সোনার পাতের ওপর সোনালি হরফে লেখা কিতাব খুলে ধরে বললেন : পড়ুন। তিনি বললেন : আমি পড়তে পারিনা । তখন সেই নূর দেহধারী তাঁকে দুই বাহু দিয়ে আগলে ধরে বুকের সঙ্গে বুক মিলিয়ে এমন চাপ দিলেন যে তাঁর মনে হচ্ছিল যে, তাঁর সারা দেহ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। এভাবে পড়তে বলা, অপারগতা প্রকাশ করা এবং বুকে চাপ দেয়ার ঘটনা তিনবার ঘটার পর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লামের মধ্যে এমন এক প্রাচুর্য প্রবাহ প্রবাহিত হলো যে, তিনি এমন এক ফয়েজ লাভ করলেন যে, মুহূর্তের মধ্যে জ্ঞান রাজ্যের সমস্ত দুয়ার তাঁর সম্মুখে উন্মোচিত হয়ে গেল। তিনি কুরআন মজিদ থেকে সূরা আলাকের প্রথম পাঁচখানি আয়াতে কারিমা আত্মস্থ করলেন।
💂পরিরাজ : আয়াতে কারিমা ক’খানা আত্মস্থ করা হয়ে গেলে সেই কিতাব বাহক নূরানী সুরত অদৃশ্য হয়ে আকাশ সীমানায় মিলে গেল। এই কিতাব বাহক নূরের সুরতই ছিলেন হযরত জিবরাঈল ‘আলায়হিস সালাম। তিনি ওই রাতেই কুরআন মজিদ প্রথম আসমানে অবস্থিত বায়তুল ইয্যাতে সংরক্ষণ করেন এবং বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে কিংবা কোন প্রেক্ষাপটে আল্লাহর নির্দেশে তা খণ্ড খণ্ড করে ওহী আকারে প্রেরণ করেন।
💂পরিরাজ: পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, [৭০] "আর এ কুরআনকে আমি সামান্য সামান্য করে নাযিল করেছি, যাতে তুমি থেমে থেমে তা লোকদেরকে শুনিয়ে দাও এবং তাকে আমি (বিভিন্ন সময়) পর্যায়ক্রমে নাযিল করেছি।" " হে নবী, আমিই তোমার উপর এ কুরআন অল্প অল্প করে নাযিল করেছি।"
অস্বীকারকারীরা বলে,[৭১] “এ ব্যক্তির কাছে সমগ্র কুরআন একই সাথে নাযিল করা হলো না কেন?” হ্যাঁ, এমন করা হয়েছে এজন্য, যাতে আমি একে ভালোভাবে তোমার মনে গেঁথে দিতে থাকি এবং (এ উদ্দেশ্যে) একে একটি বিশেষ ক্রমধারা অনুযায়ী আলাদা আলাদা অংশে সাজিয়ে দিয়েছি।"
💂পরিরাজ : সূরা আলাকের এই কয়খানি আয়াত দিয়ে কুরআন নাজিল শুরু হয় এবং বিদায় হজের খুতবা শেষে আরাফাত ময়দানে ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে ৯ জিলহজ একটি আয়াতের অংশবিশেষ হিসেবে সর্বশেষ যে ওহী নাজিল হয় তা হচ্ছে : আল ইয়াওমা আকমালতু লাকুম দীনাকুম ওয়া আতমামতু ‘আলায়কুম নিমাতী ওয়া রাদীতু লাকুমুল ইসলামা দীনা৷
💂পরিরাজ : অর্থাৎ বলা হয়েছে, আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছি, আমার নিয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করেছি এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছি ৷ [৭২]
উপরে বর্ণিত একই আয়াতের পূর্বের অংশে বলা হয়েছে , আজ তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে কাফেররা পুরোপুরি নিরাশ হয়ে পড়েছে। কাজেই তোমরা তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় করো।
💂পরিরাজ : আয়াতে বর্ণিত আজ’ বলতে কোন বিশেষ দিন, ক্ষণ বা তারিখ বুঝানো হয়নি বরং যে যুগে ও সময়ে এ আয়াত নাযিল হয় সেই সময়কালকে বুঝানো হয়েছে। আমাদের ভাষায়ও ‘আজ’ শব্দটি একইভাবে সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
💂পরিরাজ : “তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে কাফেররা পুরোপুরি নিরাশ হয়ে পড়েছে।”-অর্থাৎ তোমাদের দ্বীন এখন একটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে এবং সে তার নিজস্ব শাসন ও কর্তৃত্ব ক্ষমতার জোরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।
কাফেররা এতদিন তার পথে বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিল। কিন্তু এখন তারা এ দ্বীনকে ধ্বংস করার এবং তোমাদেরকে আবার জাহেলিয়াতের অন্ধকার গর্ভে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছে।
“কাজেই তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, আমাকে ভয় করো।” অর্থাৎ এ দ্বীনের বিধান এবং এর হেদায়াত কার্যকর করার ব্যাপারে এখন তোমাদের আর কোন কাফের শক্তির প্রভাব, পরাক্রম, প্রতিবন্ধকতা, প্রাধান্য ও হস্তক্ষেপের সম্মুখীন হতে হবে না।
এখন আর মানুষকে ভয় করার কোন কারণ নেই। তোমাদের এখন আল্লাহকে ভয় করা উচিত। আল্লাহর বিধান কার্যকর করার ব্যাপারে এখন যদি তোমরা কোন ত্রুটি করো তাহলে এ জন্য তোমাদের কাছে এমন কোন ওজর থাকবে না যার ভিত্তিতে তোমাদের সাথে কোমল ব্যবহার করা যেতে পারে। এখন আর শরীয়াতের বিরুদ্ধাচরণের অর্থ এ হবে না যে, এ ব্যাপারে তোমরা অন্যদের প্রভাবে বাধ্য হয়ে এমনটি করেছো। বরং এর পরিষ্কার অর্থ হবে, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করতে চাও না।
💂পরিরাজ : দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দেবার অর্থই হচ্ছে তাকে একটি স্বতন্ত্র চিন্তা ও কর্ম ব্যবস্থা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থায় পরিণত করা হয়েছে। তার মধ্যে জীবনের সমস্ত প্রশ্নের নীতিগত বা বিস্তারিত জবাব পাওয়া যায়। হেদায়াত ও পথনির্দেশ লাভ করার জন্য এখন আর কোন অবস্থায়ই তার বাইরে যাবার প্রয়োজন নেই।
নিয়ামত সম্পূর্ণ করে দেবার অর্থ হচ্ছে এই যে, তোমরা আমার আনুগত্য ও বন্দেগী করার যে অঙ্গীকার করেছিল তাকে যেহেতু তোমরা নিজেদের প্রচেষ্টা ও কর্মের মাধ্যমে সত্য ও আন্তরিক অঙ্গীকার হিসেবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছো, তাই আমি তাকে গ্রহণ করে নিয়েছি এবং তোমাদেরকে কার্যত এমন অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছি যে, এখন তোমাদের গলায় প্রকৃতপক্ষে আমার ছাড়া আর কারোর আনুগত্য ও বন্দেগীর শৃংখল নেই।
এখন আকীদা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যেমন তোমরা আমার মুসলিম (আনুগত্যকারী) ঠিক তেমনি কর্মজীবনেও আমার ছাড়া আর কারোর মুসলিম (আনুগত্যকারী) হয়ে থাকতে তোমরা কোনত্রুমেই বাধ্য নও।
এ অনুগ্রহগুলোর কথা উচ্চারণ করার পর মহান আল্লাহ নীরবতা অবলম্বন করেছেন। কিন্তু এ বাক পদ্ধতি থেকে একথা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফুটে ওঠে, যেন এখানে আল্লাহ বলতে চাচ্ছেন, আমি যখন তোমাদের ওপর এ অনুগ্রহগুলো করেছি তখন এর দাবী হচ্ছে, এখন আমার আইনের সীমার মধ্যে অবস্থান করার ব্যাপারে তোমাদের পক্ষ থেকে যেন আর কোন ত্রুটি দেখা না দেয়।
💂পরিরাজ : বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়াত থেকে জানা যায়, এ আয়াতটি বিদায় হজ্জের সময় ১০ হিজরীতে নাযিল হয়েছিল। কিন্তু যে বক্তব্যের ধারাবাহিকতার সাথে এর সম্পর্ক তা ৬ হিজরীতে হোদাইবিয়া চুক্তির সমসাময়িক কালের। বর্ণনা রীতির কারণে বাক্য দু’টি পরস্পর এমনভাবে মিশে গেছে যার ফলে কোন ক্রমেই ধারণা করা যাবে না যে, শুরুতে এ বাক্যগুলো ছাড়াই এ ধারবাহিক বক্তব্যটি নাযিল হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে এ বাক্যগুলো নাযিল হবার পর তা এখানে এনে বসিয়ে দেয়া হয়েছে।
অবশ্য প্রকৃত ব্যাপার একমাত্র আল্লাহই জানেন, তবে তাফসীরকারকের অনুমান, প্রথম এ আয়াতটি এ একই প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছিল। তাই লোকেরা তখন এর আসল গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেনি। পরে যখন সমগ্র আরব ভূখণ্ড বিজিত হল এবং ইসলাম শক্তি অর্জন করে পূর্ণ যৌবনে পৌঁছে গেলো তখন মহান আল্লাহ পুনর্বার এ বাক্য তাঁর নবীর প্রতি নাযিল করেন এবং এটি ঘোষণা করে দেবার নির্দেশ জারি করেন।
💂পরিরাজ: আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন : আমি যদি এই কুরআনকে কোন পাহাড়ের ওপর নাযিল করতাম তাহলে তুমি দেখতে পেতে তা আল্লাহর ভয়ে ধসে পড়ছে এবং ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে ৷ আমি মানুষের সামনে এসব উদাহরণ এ জন্য পেশ করি যাতে তারা (নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে) ভেবে দেখে। [৭৩]
💂পরিরাজ : এই উপমার তাৎপর্য হলো, কুরআন যেভাবে আল্লাহর বড়ত্ব ও মাহাত্ম্য এবং তাঁর কাছে বান্দার দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে পাহাড়ের মত বিশাল সৃষ্টিও যদি তার উপলব্ধি লাভ করতে পরতো এবং কেমন পরাক্রমশালী ও সর্বসময় ক্ষমতার অধিকারী প্রভুর সামনে নিজের সব কাজকর্মের জবাবদিহি করতে হবে তা যদি জানতো তাহলে সেও ভয়ে কেঁপে উঠতো।
কিন্তু সে মানুষ কুরআনকে বুঝতে পারে এবং কুরআনের সাহায্যে সবকিছুর তাৎপর্য ও বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করছে, কিন্তু এরপরও তার মনে কোন ভয়-ভীতি সৃষ্টি হয় না কিংবা যে কঠিন দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত হয়েছে সে সম্পর্কে তার আল্লাহকে কি জবাব দেবে সে বিষয়ে আদৌ কোন চিন্তা তার মনে জাগে না।
বরং কোরআন পড়ার বা শোনার পরও সে এমন নির্লিপ্তি ও নিষ্ক্রীয় থাকে যেন একটি নিষ্প্রাণ ও অনুভূতিহীন পাথর। শোনা, দেখা ও উলপব্দি করা আদৌ তার কাজ নয়। মানুষের এই চেতানাহীনতা ও নিরুদ্বিগ্নতা বিষ্মরকর বৈকি।
💂পরিরাজ : আল্লাহ আরেকটি আয়াতে বলেন; " আমি এ আমানতকে আকাশসমূহ, পৃথিবী ও পর্বতরাজির ওপর পেশ করি, তারা একে বহন করতে রাজি হয়নি এবং তা থেকে ভীত হয়ে পড়ে। কিন্তু মানুষ একে বহন করেছে, নিঃসন্দেহে সে বড় জালেম ও অজ্ঞ।[৭৪]
💂পরিরাজ: বক্তব্য শেষ করতে গিয়ে আল্লাহ মানুষকে এ চেতনা দান করতে চান যে, দুনিয়ায় সে কোন ধরনের মর্যাদার অধিকারী এবং এ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত থেকে যদি সে দুনিয়ার জীবনকে নিছক একটি খেলা মনে করে নিশ্চিন্তে ভুল নীতি অবলম্বন করে, তাহলে কিভাবে স্বহস্তে নিজের ভবিষ্যত নষ্ট করে।
💂পরিরাজ: এ স্থানে “আমানত” অর্থ সেই “খিলাফতই” যা কুরআন মজীদের দৃষ্টিতে মানুষকে দুনিয়ায় দান করা হয়েছে। মহান আল্লাহ মানুষকে আনুগত্য ও অবাধ্যতার যে স্বাধীনতা দান করেছেন এবং এ স্বাধীনতা ব্যবহার করার জন্য তাকে অসংখ্য সৃষ্টির ওপর যে কর্তৃত্ব ক্ষমতা দিয়েছেন। তার অনিবার্য ফল স্বরূপ মানুষ নিজেই নিজের স্বেচ্ছাকৃত কাজের জন্য দায়ী গণ্য হবে এবং নিজের সঠিক কর্মধারার বিনিময়ে পুরস্কার এবং অন্যায় কাজের বিনিময়ে শাস্তির অধিকারী হবে।
এসব ক্ষমতা যেহেতু মানুষ নিজেই অর্জন করেনি বরং আল্লাহ তাকে দিয়েছেন এবং এগুলোর সঠিক ও অন্যায় ব্যবহারের দরুন তাকে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে, তাই কুরআন মজীদের অন্যান্য স্থানে এগুলোকে খিলাফত শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে এবং এখানে এগুলোর জন্য আমানত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
💂পরিরাজ : এ আমানত কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্বল সে ধারণা দেবার জন্য আল্লাহ বলেন, আকাশ ও পৃথিবী তাদের সমস্ত শ্রেষ্ঠত্ব এবং পাহাড় তার বিশাল ও বিপুলায়তন দেহাবয়ব ও গম্ভীরতা সত্ত্বেও তা বহন করার শক্তি ও হিম্মত রাখতো না কিন্তু দূর্বল দেহাবয়বের অধিকারী মানুষ নিজের ক্ষুদ্রতম প্রাণের ওপর এ ভারী বোঝা উঠিয়ে নিয়েছে।
💂পরিরাজ : পৃথিবী ও আকাশের সামনে আমানতের বোঝা পেশ করা এবং তাদের তা উঠাতে অস্বীকার করা এবং ভীত হওয়ার ব্যাপারটি হতে পারে শাব্দিক অর্থেই সংঘটিত হয়েছে। আবার এও হতে পারে যে, একথাটি রূপকের ভাষায় বলা হয়েছে। নিজের সৃষ্টির সাথে আল্লাহর যে সম্পর্ক রয়েছে তা আমরা জানতেও পারি না এবং বুঝতেও পারি না। পৃথিবী, চাঁদ, সূর্য ও পাহাড় যেভাবে আমাদের কাছে বোবা, কালা ও প্রাণহীন, আল্লাহর কাছেও যে তারা ঠিক তেমনি হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। আল্লাহ নিজের প্রত্যেক সৃষ্টির সাথে কথা বলতে পারেন এবং সে তার জবাব দিতে পারে। এর প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করার ক্ষমতা আমাদের বুদ্ধি ও বোশক্তির নেই। তাই এটা পুরোপুরিই সম্ভব যে, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ নিজেই এ বিরাট বোঝা তাদের সামনে পেশ করে থাকবেন এবং তারা তা দেখে কেঁপে উঠে থাকবে আর তারা তাদের প্রভু ও স্রষ্টার কাছে এ নিবেদন পেশ করে থাকবে যে, আমরা তো আপনারই ক্ষমতাহীন সেবক হয়ে থাকার মধ্যেই নিজেদের মঙ্গল দেখতে পাই।
নাফরমানী করার স্বাধীনতা নিয়ে তার হক আদায় করা এবং হক আদায় না করতে পারলে তার শাস্তি বরদাশত করার সাহস আমাদের নেই। অনুরূপভাবে এটাও সম্ভব, আমাদের বর্তমান জীবনের পূর্বে আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে অন্য কোন ধরনের একটি অস্তিত্ব দান করে নিজের সামনে হাজির করে থাকবেন এবং তারা নিজেরাই এ দায়িত্ব বহন করার আগ্রহ প্রকাশ করে থাকবেন।
একথাকে অসম্ভব গণ্য করার জন্য কোন যুক্তি আমাদের কাছে নেই। একে সম্ভাবনার গণ্ডীর বাইরে রাখার ফায়সালা সেই ব্যক্তিই করতে পারে যে নিজের চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতার ভুল ধারণা নিয়ে বসে আছে।
💂পরিরাজ : তবে এ বিষয়টাও সমান সম্ভবপর যে, নিছক রূপকের আকারে আল্লাহ এ বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন এবং অবস্থার অস্বাভাবিক গুরুত্বের ধারণা দেবার জন্য এমনভাবে তার নকশা পেশ করা হয়েছে যেন একদিকে পৃথিবী ও আকাশ এবং হিমালয়ের মতো গগণচুম্বী পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে আর অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে ৫/৬ ফুট লম্বা একজন মানুষ। আল্লাহ জিজ্ঞেস করছেনঃ
“আমি আমার সমগ্র সৃষ্টিকূলের মধ্যে কোন একজনকে এমন শক্তি দান করতে চাই যার ফলে আমার সার্বভৌম কর্তৃত্বের মধ্যে অবস্থান করে সে নিজেই স্বেচ্ছায় ও সাগ্রহে আমার প্রাধান্যের স্বীকৃতি এবং আমার হুকুমের আনুগত্য করতে চাইলে করবে অন্যথায় সে আমাকে অস্কীকার করতেও পারবে আর আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঝাণ্ডা নিয়েও উঠতে পারবে।
এ স্বাধীনতা দিয়ে আমি তার কাছ থেকে এমনভাবে আত্মগোপন করে থাকবো যেন আমি কোথাও নেই। এ স্বাধীনতাকে কার্যকর করার জন্য আমি তাকে ব্যাপক ক্ষমতা দান করবো, বিপুল যোগ্যতার অধিকারী করবো এবং নিজের অসংখ্য সৃষ্টির ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করবো। এর ফলে বিশ্ব-জাহানে সে যা কিছু ভাঙা-গড়া করতে চায় করতে পারবে।
এরপর একটি নির্দিষ্ট সময়ে আমি তার কাজের হিসেব নেবো। যে আমার প্রদত্ত স্বাধীনতাকে ভুল পথে ব্যবহার করবে তাকে এমন শাস্তি দেবো যা কখনো আমার কোন সৃষ্টিকে আমি দেইনি
। আর যে নাফরমানীর সমস্ত সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও আমার আনুগত্যের পথই অবলম্বন করে থাকবে তাকে এমন উচ্চ মর্যাদা দান করবো যা আমার কোন সৃষ্টি লাভ করেনি। এখন বলো তোমাদের মধ্য থেকে কে এ পরীক্ষাগৃহে প্রবেশ করতে প্রস্তুত আছে?
💂পরিরাজ : এ ভাষণ শুনে প্রথমে তো বিশ্ব-জগত নিরব নিথর দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর একের পর এক এগিয়ে আসে। সকল প্রকাণ্ড অবয়ব ও শক্তির অধিকারী সৃষ্টি এবং তারা হাঁটু গেড়ে বসে কান্নাজড়িত স্বরে সানুনয় নিবেদন করে যেতে থাকে তাদেরকে যেন এ কঠিন পরীক্ষা থেকে মুক্ত রাখা হয়।
সবশেষে এ একমুঠো মাটির তৈরি মানুষ ওঠে। সে বলে, হে আমার পওয়ারদিগার! আমি এ পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত। এ পরীক্ষায় সফলকাম হয়ে তোমার সালতানাতের সবচেয়ে উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হবার যে আশা আছে সে কারণে আমি এ স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারের মধ্যে যেসব আশঙ্কা ও বিপদাপদ রয়েছে সেগুলো অতিক্রম করে যাবো।
💂পরিরাজ : নিজের কল্পনাদৃষ্টির সামনে এ চিত্র তুলে ধরেই মানুষ এই বিশ্ব-জাহানে কেমন নাজুক স্থানে অবস্থান করছে তা ভালোভাবেই আন্দাজ করতে পারে। এখন এ পরীক্ষাগৃহে যে ব্যক্তি নিশ্চিন্তে বসে থাকে এবং কতবড় দায়িত্বের বোঝা যে সে মাথায় তুলে নিয়েছে, আর দুনিয়ার জীবনে নিজের জন্য কোন নীতি নির্বাচন করার সময় যে ফায়সালা সে করে তার সঠিক বা ভুল হবার ফল কি দাঁড়ায় তার কোন অনুভূতিই যার থাকে না তাকেই আল্লাহ এ আয়াতে জালেম ও অজ্ঞ বলে অভিহিত করছেন।
সে অজ্ঞ, কারণ সেই বোকা নিজেই নিজেকে অদায়িত্বশীল মনে করে নিয়েছে। আবার সে জালেম, কারণ সে নিজেই নিজের ধ্বংসের ব্যবস্থা করছে এবং নাজানি নিজের সাথে সে আরো কতজনকে নিয়ে ডুবতে চায়।
💂পরিরাজ : আল্লাহ তাআলা অন্য জায়গায় বলেন ; এ আমানতের বোঝা উঠাবার অনির্বায ফল হচ্ছে এই যে, আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও নারীদেরকে সাজা দেবেন এবং মু’মিন পুরুষ ও নারীদের তাওবা কবুল করবেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময় ৷ [৭৫]
💂পরিরাজ: সেই মহান কিতাব প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট নাজিলের যে সূত্রপাত হলো তা ২৩ বছর ধরে ক্রমান্বয়ে নাজিল হয়। হেরা গুহায় হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস্ সাল্লাম প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে আলিঙ্গন করে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর নির্দেশে যে ফয়েজ সঞ্চারিত করলেন ইলমে তাসাওউফে একে ইত্তিহাদী ফয়েজ বলা হয়।
এই ফয়েজের ফলে তার কলব মুবারকে যে প্রাচুর্য প্রবাহ সঞ্চারিত হয়েছিল তা আল্লাহর কুদরতের সামগ্রিক শক্তিতে ভরপুর। মূলত শরিয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারুফাতের দুর্বার গতিধারার অগ্রসফরের নবদিগন্ত উন্মোচিত হয় সেদিন হেরা গুহায় কুরআন নাজিলের মধ্য দিয়ে।
👩জেমি: কোরআন কী? আর এ কোরআনের বৈশিষ্ট কী?
💂পরিরাজ : ওকে , বলছি ;
👉নবীন প্রেমের উদয় ! দ্বিতীয় খণ্ড,
👉পর্ব : চৌদ্দ
👉 সমাপ্ত ৷৷
👉রচনাকাল : সংশোধিত ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ ইং
👉বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন