যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২

উপন্যাস নবীন প্রেমের উদয়! লেখক নাঈম হোসেন , প্রথম খণ্ড, পর্ব : আট

💕 নবীন প্রেমের  উদয়! প্রথম খণ্ড

নাঈম হোসেন 

পর্ব: আট [হুবহু জেমির বর্ণনা ];


👩জেমি: সম্প্রতি দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি মহামারিরূপ  ধারণ করছে, কখন কী ঘটে যায় তা বলাই মুশকিল। ঘনঘন হরতালের কারণে University অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে । এদিকে ফোনে দিদিমার নিমন্ত্রণ পেয়ে আদিম বাড়িতে দিদিমাকে দেখতে আসছি।

জেমি: দিদিমার সঙ্গে শৈশব থেকেই আমার একটা স্পেশাল গুড সম্পর্ক রয়েছে।  তাছাড়া ওনাকে দেখলেই আমার Raillery টার পরিমাণটা একটু বেশি বেড়ে যায়।  বহুদিন ধরে গ্রামের মৃদুমন্দ বায়ু, হিমায়িত বাতাস গায়ে লাগেনি। পুকুরবর্তী জলে স্নান করতে পারিনি,  অবাধে আমোদ ফূর্তি করা যাবে। এইরকম আরও অনেক Ambition নিয়েই দিদিমার বাড়িতে আসছি। 

জেমি: দিদিমা আমাকে পেয়ে সেকী খুশী! যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে; খুব মজা করা হচ্ছে। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে পুরো মহল্লা ঘুরে দেখলাম। আনন্দে হৃদয় ভরে গেল। পুরো বাড়িতে খুশির ঢেউ উপচে পড়ছে।  এদিকে চাচাতো বোন রিংকুর গায়েহলুদ উপলক্ষে আমাকে স্বতন্ত্রভাবে আমন্ত্রণপত্র ছাপিয়ে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। বারবার মোবাইলে নানারকম চ‍্যাংড়ামি করে আমাকে ফরমাশ দিচ্ছে।

জেমি: আমি  ওর শাঁখা বদলের সময় কাছে না থাকলে ফুলশয‍্যার আসর হতে পালানোর ঢের  ভয় দেখাচ্ছে। আমি কসম কেটে বলতে পারি ওযে হাঁদারাম, পাগলী! আমি ওর বিয়েতে না গেলে ঠিক তাই করবে যেমনটা বলছে।
 
অবশেষে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ওর সিঁথির সিঁদুর দিন আমাকে আসতেই হলো। ও যেন আমাকে পেয়ে আকাশপ্রদীপ হাতে পেল! ওর জন্য খুব দামি একটা গিফট নিয়ে আসলাম। ওদের বাড়িতে এসে আমার খুব ভালো লাগছে। সঠিক সময় মালাবদল হলো,  সিঁথে সিঁদুর পরানো হলো, সাতপাকে বাঁধানো হলো; সর্বস্তরেই আমার একটা আলাদা কর্তৃত্ব খাটাতে হয়েছে। 

জেমি: শৈশব হতেই ফান করাটা আমার খুব পছন্দ। রিংকু আমাকে Jokes female বান্ধবী হিসেবে চিনে। এছাড়া ওর সাথে আমার Cousin সম্পর্ক তো বহাল রয়েছে বটে। সেজন্য বাসরশয‍্যায় গোপন মধুর হাস‍্যালাপেও ওর সঙ্গে বহুসময় ধরে আমারও থাকতে হয়েছে। ওর মিষ্টি বরটাকে এক চিমটি দুষ্ট খিলখিল হাসাতে আমাকে ব‍্যবহার করা হলো। পরের দিন থেকেই রিংকু আমার পায়ে-পায়ে ঘুরে-ঘুরে, গা ঘেঁষে-ঘেঁষে কানের কাছে বারংবার ঘ‍্যানর-ঘ‍্যানর, প‍্যানর-প‍্যানর, করছে; 

জেমি: ওর সাথে প্রথম যাত্রায় নাকি আমাকেও ওর শ্বশুরালয়ে যেতে হবে? ও যেভাবে কাঁইমাই করে উঠপড়ে লেগেছে, তাতে হয়তো ওর এই হাতউপরোধ এযাত্রায়ও প্রত‍্যাখ‍্যান করতে পারবনা। আর একদিন পরেই রিংকু পতিগৃহে যাবে। এমনসময় পড়ন্তবেলায় দুলাভাইয়ের সঙ্গে সবাই মিশে একটা চমৎকার গোলক-ধাঁধাঁর আড্ডা ফাঁদিয়া বসলাম। আচমকা মোবাইলে রিংটোন বেজে উঠল; রিসিভ করেই মায়ের গলা শুনতে পেলাম। তাড়াহুড়ো করে মা বলল; জেমি! মা শোন; হঠাৎ তোর বুড়িমার সাংঘাতিক ওলাউঠা হয়েছে। উনি কষ্টে হাঁসফাঁস করছে। তোকে একনজর দেখার জন্য আইঢাই করছে। তুই এক্ষুনি রওয়ানা দিয়ে দিন থাকতে বাড়িতে চলে আয়। 

জেমি:  মা চিন্তা করনা। বেলা ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আমি বাড়িতে পৌঁছে যাবো।

জেমি: ফোন কেটে দিয়ে  এক মূহুর্তও দেরী করলাম না। দ্রুত বান্ধবী রিংকুদের বাড়ি প্রস্থান করলাম। প্রায় পাঁচ ঘন্টার লম্বা সড়ক। আমাকে একা শেষবিকেলে পায়ে হেঁটে বাড়ি যেতে হবে। রাস্তা এতো সরু যে, দুজন লোক একত্রে পাশাপাশি গা ঘেঁষে হাঁটতেও কষ্ট হয়। ভুলেও কোনদিন এইপথে কোন রিক্সা প্রবেশ করছে বলে আঁচ হচ্ছে না। তাই Personal গাড়িটা দিদিমার বাড়িতে রেখে পায়ে হেঁটে এসেছিলাম। ফের পায়ে হেঁটেই যাচ্ছি;

জেমি: আমার হাঁটার অভ‍্যাস নেই, তবুও উপায় কী? বিকল্প কোন রাস্তাও নেই;  বেলাও প্রায় ইতির পথে, ঘন্টা আড়াই পথ হেঁটে পার করছি। আরও আড়াই ঘন্টা হাঁটলে ঠিক বাড়িতে পৌঁছতে পারব। জোরেশোরে হাঁটতে হাঁটতে অনেক হাঁপিয়ে গেছি। হাত-পা নিস্তেজ হয়ে আসছে, তবুও জোরেশোরেই হাঁটতে চেষ্টা করছি।

জেমি: সময় একেবারে হাতে নেই, সন্ধ্যা প্রায় ছুঁই ছুঁই করছে। 
আর কিছুদূর সামনে অগ্রসর হলে একটা চিতাখোলা দেখা যাবে। ভরা দুপুরেও লোকজন এইপথ দিয়ে হাঁটতে বুককাঁপে। বুকেরপাটা নিয়েই সামনে অগ্রসর হচ্ছি। আরও কিছুসময় হাঁটার পর সূর্য  প্রায়ই ডুবিডুবি করছে; 

জেমি: চারদিকে সন্ধ্যা ঘিরে আসছে। অল্প কিছুক্ষণ পরেই লোকজন দেবপূজায় ব‍্যস্ত হয়ে উঠবে। আকাশে অনেকগুলো সন্ধ্যাতারা উঁকি দিয়েছে।  এমনি সময় হঠাৎ বিজলী চমকাচ্ছে,  আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা দেখছি; মুহুর্তেই পরিবেশের চারদিক হিমশীতল হয়ে গেল, প্রচণ্ড ধমকা হাওয়া শুরু হচ্ছে। 

জেমি: শান্ত পরিবেশটা হঠাৎই অশান্ত হয়ে উঠছে। মূহুর্তেই প্রবল শিলাবর্ষণ শুরু হলো, নির্ভীক প্রাণে ভয়ের সঞ্চার হলো; মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছি। 
নির্জন পথের মাঝে আমি একা। সামনে কিছুটা অগ্রসর হলে সেই ভয়ংকর চিতাখোলা দেখছি। সেখানে ঝোপঝাড়ের মধ্যে একটা পুরানো বিল্ডিংয়ের ঘর দেখতে পাচ্ছি। 

জেমি: আমি নিরুপায় হয়ে ভয়টয় ভুলে গিয়ে সেই বিল্ডিংয়ে ঝটপট মাথা গোঁজার আশ্রয় নিচ্ছি। ঘরে ঢুকতেই দেখি বাড়িতে কোন লোকজন নেই। ঘরের মেইন মেইন কপাটে কোন Padlock নেই। ভিতরে কোন আসবাবপত্র নেই। দেখেই আঁচ হচ্ছে এটা সেই মান্দাতার আমলের বিল্ডিং। এখন ছাড়াবাড়ি হয়ে পড়ে আছে। 

জেমি: তুমুল বৃষ্টিতে আমার পরনের পোশাক ভিজে টপটপ করে জলফোঁটা পড়ছে। চারদিকে আরেকবার উঁকিঝুঁকি দিয়ে নিশ্চিত হলাম কোথাও কোন লোকজন নেই। পরনের সিল্কের ডানাকাটা আসমানী থ্রি-পিছটা এতো সরু যে,  ভিতরের গুপ্তস্থান সমূহ বাহির থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। 

জেমি: লজ্জা - ঘৃণায় আমি Soft- headed. মুহুর্তেই চিন্তারেখায় আমার আরেকটি নতুন ভয় উঁকি দিল। এই গহীন নির্জন ছাড়াবাড়িতে আমি একা। আমার ভিতরের লুকায়িত উত্তপ্ত যৌবন শিখা চতুর্দিক দিয়ে চমকাচ্ছে। 
জেমি: এইমূহুর্তে কোন বখাটে যুবকের সাক্ষাৎ হলেই হলো; আমি সিউর একশোতে একশো সতীত্বনাশ হবোই। আমি নিজেকে ধিক্কার দিয়ে বলছি, এই কানে ধরছি আর কখনও এতো পাতলা পোশাক পরব না। 

জেমি: ব‍‍্যানিটিব‍্যাগে কোন অতিরিক্ত পোশাক নেই। কোথাও লোকজন না দেখায়, তাই পরনের পোশাক খুলে ভালকরে কষিয়ে- ছেঁকিয়ে পুনরায় পরিধান করলাম। কিন্তু কোন লাভ হলনা। পাতলা সেলোয়ার ও জামা ভেজার কারণে একেবারেই টাইট হয়ে শরীরের সঙ্গে ফিটিং হয়েছে। ভিতরের উঁচুনিচু সবই বাইরের থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আয়নার পর্দায় দেখলে বলিউডের তারকাদেরকেও হার মানাবে৷ 

জেমি: বাইরে এখনো অঝোরে  থোকায় থোকায় শিলাবৃষ্টি পড়ছে, আকাশের অবস্থা ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ খারাপের দিকে দেখছি; বাদল থামার কোন লক্ষণ দেখছিনা। অনুমান হচ্ছে নিশিভর বৃষ্টি হইবে, তাই মনে মনে ঠিক করছি শিলাবর্ষণ বন্ধ হলে বাড়ির দিকে পা বাড়াবো। 

জেমি: আসন্ন বিপদের কথা ফোনে মাকে জানানো জরুরী মনে করছি, তাই মোবাইল বের করার জন্য ব‍্যানিটি ব‍্যাগে হাত দিলাম। ব‍্যাগ খুলতেই দেখি মোবাইল নেই; তখন মনে পড়ছে মোবাইল রিংকুদের বাড়িতেই চার্যে রয়েছে। ভুল করে তাড়াহুড়োয় আনা হয়নি।মা এতক্ষণে হয়তো অনেকবার কল দিয়েছেন। আমাকে না পেয়ে অবশ্যই বিষম চিন্তা করছে। 

জেমি: সূর্য অস্তমিত হলো। ক্রমশ সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে; কিছুক্ষণের মধ্যেই  চারদিক দিয়ে রাতের আঁধার আমাকে ঘিরে ফেলল, বড্ড ভয় লাগছে। বাইরে এখনো শিলাবর্ষণ হচ্ছে, এই শিলাবর্ষণে ঘরের বাইরে বের হওয়া সম্ভব নয়। অনেক বেকায়দার মধ্যে পড়লাম; চারদিক থেকেই রাহুরদশা দেখতে পাচ্ছি।
উপায় কী? উপায় একটা খুঁজে বের করতেই হবে। 

জেমি: চারদিক থেকে কেমন যেন একটা শোঁ-শোঁ, হায়-হায় নিনাদ শব্দ শুনতে পাচ্ছি, ঘরের মধ্যে আচম্ভা আকস্মিক খসখসানির শব্দ পাচ্ছি। আচকা-আচকা কিশোর -কিশোরিদের হাহাহা, হিহিহি, হাঁইহুঁই স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি। কোথাও কোন জনমানব দেখছিনা। তবু দেবাৎ কি মজা! কি মজা! এরকম ঢের অলৌকিক কথা শুনতে পাচ্ছি।  

জেমি: মুহূর্তেই নির্ভয় প্রাণে ভয়াবহ ভয়ের সঞ্চার হলো। ভয়ংকর ভয়ে প্রাণবায়ুটা নিবুনিবু করছে, বাইরে এখন আর শিলাবর্ষণ নেই; কিন্তু এখনো তুমুল বর্ষণ হচ্ছে। 

জেমি: ভয় ও শীতে সর্বাঙ্গো ঠকঠক করে কাঁপছে!
জেমি: এটা যে একটা ভূতের আস্তানা তা হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছি।

জেমি: বৃষ্টি যতই হোকনা কেন, এই ভূতের আস্তানা হতে নিজেকে মুক্ত করতে বিদ‍্যুৎ বেগে এইস্থান পরিত্যাগ করা জরুরী মনে হচ্ছে। অন্ধকারে সামনে কিছু দেখা যাচ্ছে না। তবু শত বাঁধা মাথায় নিয়ে এই ভূতের আস্তানা ত‍্যাগ করতে বাড়ির উদ্দেশ্য সামনে পা বাড়ালাম; 

জেমি:ঠিক এইমূহুর্তে আমার চারপাশে বিকট হাসিতে কর্ণদ্বয় ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলো। আমার চারপাশে কারা যেন করতালি বাজাচ্ছে। সে কী বিকট শব্দ!সেই শব্দে ভয়ে আমার প্রাণবায়ু নিবুনিবু করছে। সামনে আরেক পা বাড়াতেই, চারপাশে থোকায় থোকায় অগ্নিকুণ্ড দেখতে পাচ্ছি; আরও ঢের অদ্ভুত অদ্ভুত কাণ্ড দেখতে পাচ্ছি, তৃতীয় পা সামনে ফেলতেই উপর থেকে বিকট হাসিতে ভয়ংকর রুপে এক সুন্দরী রাক্ষসী আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। 

জেমি: তার পরনে ধবধবে সাদা কাফনের কাফন। মাথার কেশগুচ্ছ পায়ের গোড়ালি পযর্ন্ত লম্বা, হাত-পায়ের কীলকগুলি বেশ লম্বা ও ক্ষুরের মত ধারালো। সে বুককাঁপানো বিকট হাসিতে আমার সম্মুখীন হয়ে করতালি বাজাচ্ছে। মূহুর্তেই ঝাঁকেঝাঁকে ডানাকাটা পরির মতো তরুণ - তরুণীর রুপধারী ভূতের অসংখ্য চেলারাও পরস্পরের হাত জোড়া বেঁধে চতুর্দিক থেকে আমাকে বেষ্টন করে নেয়।

জেমি: মাঝখানে আমি একা একটা অসহায় তরুণী। তাদের প্রত‍্যেকের পরনে ঝিলিক চমকানো চুমকিযুক্ত রেশমি কাফতান এবং পায়ে গুরবাঁকও দেখতে পাচ্ছি। তাদের দলনেত্রীর নির্দেশে খোদার খাশির মতো দু'জন আমার দুপাশে এসে দাঁড়াল। আমি ভয়াবহ ভয়ে ধীরে ধীরে কেঁচো হচ্ছি; 


জেমি: তারপর আমার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে খোদার পাঁঠা'দুটো দু'দিক দিয়ে আমার গায়ে উনুনের ফুলকি ছুঁড়ে দিচ্ছে। আমি ভয়ে ক্রমশ কাঠ হচ্ছি।
দলনেত্রী কি যেন কতগুলো মন্ত্রটন্ত্র জপে আমার গায়ে ফুঁক দিলো সঙ্গে সঙ্গে আমার আকৃতি পাল্টে গেল, আমি রাক্ষসরুপী হয়ে গেলাম। 

জেমি: তড়িঘড়ি করে সেখানে একটা নটমঞ্চ তৈরি করা হল। সেই রঙ্গমঞ্চের মধ্যে সবাই আমাকে ঘিরে নৃত্যের তালে তালে অদ্ভুত অদ্ভুত কণ্ঠে গান গেয়ে গীতবাদ‍্য বাজিয়ে নৃত্যগীত গাইছে। আমাকেও তৎক্ষণাৎ নৃত্যবিদ‍্যা শিখতে হলো। 

জেমি: সেই ঈশ্বরবলদ দু'টোই আমার নৃত্যগুরু হয়েছিল। আমাকে নিয়ে ফূর্তিরহাটে ওদের বেশ সময় কেটে যাচ্ছে। বিড়াল যেমন ইদুর ধরে তামাশা খেলে শেষমেষ খেয়ে খতম করে ওরা আমাকে নিয়ে সেইম তাই করছে। 

জেমি: ওরা বিজলী চমকানো ভয় দেখিয়ে নৃত্যের তালে তালে আমাকে অদ্ভুত অদ্ভুত যে কথাগুলো বলছিল তা  হচ্ছে, 

💃ভুতের দল: মোদের পেট খিদে চুঁইচুঁই করছে, 
ভুতের দল: মোরা তোর অপেক্ষায় কতদিন ধরে পথ চেয়ে আছিলাম,
ভুতের দল: তুই এসে মোদেরভাগ্য খুলে দিলি,
ভুতের দল: চারদিক দিয়ে মোদের খুশির ঢেউ উঠছে,

💃ভুতের দল: এখন তোকে জ‍্যান্ত কেটে টুকরো টুকরো করে খাবো; 
ভুতের দল: প্রথমে তোর কলিজা ছিড়ে রক্ত চুষে খাবো। ইত্যাদি-ইত্যাদি, বটেরে-বটেরে। 

👩জেমি: আরও দেদার অলৌকিক ঘটনা দেখতে দেখতে ধীরে ধীরে আমি ভয়ে পাথরপুতুল হচ্ছি। 
জেমি: কাঁইমাই কণ্ঠে দণ্ডবৎ প্রণাম করে ওদের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইলাম। তাতে ওদের হৃদয় কোন মমতা হয়নি।
জেমি: ওরা আমাকে নিয়ে আরও বিকট হাসিতে তামাশা করছে; 

জেমি: আমি নিরুপায় হয়ে ঢের দেবতার নামে বলি দিবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা কেটে দেবতাদের সাহায্য চেয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাচ্ছি, কিন্তু তাতেও কোন লাভ হচ্ছে না। 

জেমি: ভূতের পালেরগোদা আমাকে উদ্দেশ্যে করে বলছে, আমি  ভূতদের সর্দার, কারনিসা আমার নাম, 

💃কারনিসা: হা-হা-হা, হো-হো-হো, 
কারনিসা: আমার সামনে থেকে তোকে কেউ বাঁচাতে পারবেনা। 

জেমি: ভয়ানক ভয় চারদিক দিয়ে আমাকে চেপে ধরল।

💃কারনিসা: ও আল্লাহর নাফারমান বান্দা শোন; কোটিবার প্রাণভিক্ষা চাইলেও কোন দেবতা, দেবদেবী, বা ভূদেব, রামদেব ওদের কেউ তোকে এখন আমাদের হাত থেকে বাঁচিয়ে নিতে পারবেনা। ওদের সাহায্য প্রাপ্তির আশা করা আর ধানগাছের তক্তা চাওয়া একই কথা।

💃কারনিসা:  হাহাহা, হিহিহি দেবতাদের কাছে প্রাণভিক্ষা চাচ্ছে, ছি! ছি কী লজ্জা? দেবতারা দিবে জীবন ভিক্ষা, যারা নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করতে অক্ষম।

💃কারনিসা: প্রাণভিক্ষা দেয়ার মালিক একজনই! তিনি হলেন আল্লাহ।
কারনিসা: জীবনভিক্ষা দিতে একমাত্র তিনিই পারেন। 

💃কারনিসা: একটা হককথা শোন; তোর দেবতারা তোকে প্রাণভিক্ষা তো দূরে থাক; ওরা তো, নিজেদের শরীর থেকে একটা মশা-মাছি তাড়াতেও সক্ষম নয়।

💃কারনিসা: তোরা অন্ধমোহে আর ভ্রান্তমায়ার জালে আবদ্ধ। 

💃কারনিসা: যারা একটা মাছি তাড়াতেও সক্ষম নয়। তারা আবার তোর কল‍্যাণ করবে! 

কারনিসা:হিহিহি এযে দেখছি ; ভূতের মুখে রামরাম! 

কারনিসা: আসলে তোরা একটা বোকার স্বর্গে বাস করছ! 

💃কারনিসা: তোদের এই হতবুদ্ধি দেখে, আমরা confused হয়ে যাই।

কারনিসা: তোদের এখনও wisfom-tooth ( আক্কেলদাঁত) উঠেনি, তাই তোদের সবাইকে আক্কেলমন্ত্র শিখতে হবে। 

💃কারনিসা: এইতো, এখনি হাড়েহাড়ে টের পাবি, কতধানে  কতচাল! একের পর এক disorder নানা কথা।

👩জেমি: হুট করে মনে এলো, মুসলিম বান্ধবী তানিয়ার কথা। আমরা দুজন একই কলেজ থেকে  H.S.C পাশ করেছি। কলেজ জীবনে ও আমার best friend ছিল। 

👩জেমি: ওর কাছ থেকে আমি রসিকতাচ্ছলে মুসলমানদের বিষয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ দোয়াকালাম শিখেছি। কথায় কথায় ওর মুখে খইর মত পবিত্র কালামের বানী ফুটতো। ওর কাছ থেকে যেসকল দোয়াগুলো মুখস্ত করেছি তার মধ্যে দুটি বিশেষ দোয়া হচ্ছে আয়াতুল কুরছি ও দোয়া ইউনুস। 

জেমি: দোয়ার ভাণ্ডারে মর্যাদার দিক দিয়ে নাকি এ দুটি দোয়া সর্বোচ্চ। ঘোর বিপদ মূহুর্তে দোয়াদু'টি পড়লে নাকি যাদুর মত কাজ করে। আমি প্রথমে আমতা আমতা করে আয়াতুল কুরছিটি পড়লাম,পরে দোয়া ইউনুস ও চারকূল পড়ে আল্লাহর সাহায্য চাইতে চাইতে হঠাৎ কখন যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি তা আর মালুম নহি।

জেমি: সহসা আমার ঘুম ভাঙ্গল, চোখ খুলে দেখি ; চাঁ‍দের মত ফুটফুটে লালচে ধলা একজন তরুণ। যাকে দেখতে ঠিক আমার সেই স্বপ্ন নায়কের মতো । 
উনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে সোহাগ করছেন। নরম তুলতুলে অঙ্গুলি দিয়ে আলতোভাবে আমার গাল টিপে দিচ্ছেন। আরও কত কী! 

জেমি: কিন্তু কোন বেশরমা কিছু করছেন না। সে তখন যা কিছু করছে, সবই আমাকে মনুষ্যরূপে ফিরিয়ে আনার জন্য করছে। আমার পুরোপুরি চেতনা ফিরে পেয়ে পূর্বঘটনা ভুলে গেছি, মনে হচ্ছে সদ‍্য ভূমিষ্ঠ হয়েছি। 

জেমি: আমি তোতলাতে তোতলাতে তার কাছে প্রশ্ন  করলাম আমি এখানে কেন? আর আপনি কে? 
জেমি: উনি বললেন; আমি তোমাকে ষোলকলাই বলছি; আমি হচ্ছি পরিরাজ! তারপর সে একএক করে পূর্বঘটনা সবই আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন। 

জেমি: সঙ্গে সঙ্গে আমার মধ্যে ফের ত্রাসের কম্পন উঠল;

জেমি: আমি ফের প্রশ্ন করলাম সেই নরখাদকদের হাত থেকে কী উপায়ে আমাকে উদ্ধার করলেন? 


💂পরিরাজ: ভয় ও চিন্তিত হয়োনা। আল্লাহ সদা সকলের সঙ্গে সহায় আছেন।

💂পরিরাজ: তোমাকে যখন বখাটে রাক্ষসগুলো অর্ধনগ্ন করে নাচাচ্ছিল আর তুমি নৃত্যের তালে তালে নিরুপায় হয়ে ভাঙাগলায় আল্লাহর সাহায্য চেয়ে প্রাণ ভিক্ষা চাচ্ছিলে,

পরিরাজ: ঠিক তখনই আমি এজায়গার উপর দিয়ে মাগরিবের জামায়াতের জন্য পবিত্র কাবার দিকে যাচ্ছিলাম।

পরিরাজ: "আল্লাহ সাহায্য করো" আল্লাহ সাহায্য কর! এমন মিনতি দেখে আমার বড্ড মায়া হয়। 
পরিরাজ: তৎক্ষণাৎ তোমার উদ্ধারে দ্রুত নেমে আসি। 

পরিরাজ: তখন ওরা তোমার চুলের মুষ্টি ধরে চিৎকরে শোয়ায়ে জ‍্যান্ত অবস্থায় বুক ছিড়ে কলিজা বের করে  আনতে ব‍্যস্ত হয়ে উঠেছিল।

পরিরাজ: আমি নীচে নেমে আসার পূর্বেই তোমাকে পাথর পুতুল বানিয়ে দিয়েছিলাম; সবেমাত্র তোমাকে পাথর পুতুল থেকে মনুষ্যরূপে ফিরিয়ে আনলাম। 

পরিরাজ: তারপর  ওদের মুখোমুখি  হলাম; ওদের সঙ্গে মুষ্টামুষ্টি, লাঠালাঠি তুমুল যুদ্ধ হলো। সংখ্যায় ওরা বেশী হওয়ায় আমি হেরে যাচ্ছিলাম, 

পরিরাজ: পরে পবিত্র কোরআনের আয়াতের রহমতে মন্ত্রযুদ্ধে ওদের সবাইকে পরাজয় করলাম।

পরিরাজ: ইতিপূর্বেও অনেক তরুণ - তরুণীরা প্রেমে মজে অবৈধ মেলামেশা করতে এখানে আসছিল। সবক'টাকেই ওরা খেয়ে সাবাড় করেছে।

জেমি: আমাকে ঘরের মধ্যে নিয়ে অনেকগুলো মানুষের কঙ্কালসহ নানারকম আলামত দেখালো। অদ্ভুত অদ্ভুত অনেক আলামত দেখতে দেখতে আমি ফের ভয়ে কাঠ হয়ে গেলাম । 

জেমি: আমি ওনার কাছে ফুঁপিয়ে কেঁদে কেঁদে শেষমেশ বুড়োমার অসুখের কথাটা বললাম এবং বললাম মা হয়তো এতক্ষণে আমাকে খুঁজতে খুঁজতে কিংকর্তব‍্যবিমূঢ় হয়ে গেছেন, আমাকে একটু বাড়িতে পৌঁছে দিবেন কী? 

পরিরাজ : মাথা নেড়ে নেড়ে অবশ্যই! 
জেমি: আমি কী বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ জানাবো সে ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। 

পরিরাজ : আমাকে ধন্যবাদ না জানিয়ে  তুমি তোমার দয়ালু  স্রষ্ঠাকে ধন‍্যবাদ জানাও, যিনি আমাকে তোমার বিপদে পাঠিয়েছেন তোমার সাহায্যের জন‍্য।

পরিরাজ: তবে এতবড় বিপদ থেকে তুমি মুক্তি পেয়েছো শুধুমাত্র পবিত্র কুরআনের বরকতে, যা শুধু খাঁটি মুসলিমরাই পেয়ে থাকে। 

জেমি: পরিরাজ আমার হাতের চারটি আঙ্গুলে বহুগুণ বিশিষ্ট পাথরযুক্ত চারটি আংটি কী যেন কতগুলো পবিত্র কুরআনের আয়াত পড়ে ফুঁক দিয়ে পড়িয়ে দিয়েছেন এবং সোনা, রুপা, হীরা, পান্না, মুক্তা ও আরও অপরিচিত অনেক ধাতু মিশ্রিত একটা নেকলেস আমার গলায় পরিয়ে দিলেন এবং একটা আমার হাতে দিয়ে বললেন, এটা তোমার বুড়োমাকে পরিয়ে দিবে। দেখবে এটা গলায় পরার সঙ্গে সঙ্গে উনি আল্লাহর দয়ায় পবিত্র কোরআনের রহমাতে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন। 

পরিরাজ: আর হ‍্যাঁ একটা কথা স্মরণ রেখ, এরপর কোন বিপদ পড়লে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে এই আংটির উপর একটা ফুঁক দিলেই আমি তোমার সাহায্যের জন্য তৎক্ষণাৎ সামনে এসে হাজির হবো। 

পরিরাজ: আর একটা কথা, তোমাকে পবিত্র ইসলাম ধর্মে আসার আমন্ত্রণ রইল। সময় করে ফের তোমার সঙ্গে দেখা করবো। তখন ইসলাম সম্পর্কে অনেক হককথা শুনাবো। তুমি ইসলাম ধর্মে আসবে তো?

জেমি: প্রত‍্যুত্তরে বললাম; আমি ভেবে দেখবো। অতঃপর, পরিরাজ নেকলেস ও আংটির অনেক গুণাবলী বর্ণনা করতে করতে বলল; আঁখি বন্ধ করো, তোমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি। 

জেমি: আমি চোখ বন্ধ করলাম; চোখের পলক ফেলতে যেটুকু সময় লাগে এতটুকু সময় না যেতেই পরিরাজ আমাকে ফের বলল; চোখ খোল;
জেমি: চোখ খুলেই আমাদের ঘরের দরজা দেখতে পেলাম। চারপাশে তাকিয়ে দেখি, পরিরাজ নিরুদ্দেশ। 

জেমি: মনে হচ্ছে সবকিছু যেন স্বপ্ন ছিল, আমি কিছু না ভেবে কলিংবেল বাজালাম; মা, মা বলে ফের দুয়ারের কয়ড়া খটখটালাম। 
মা আমার গলার আওয়াজ পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে অশ্রুঅঁখিতে দরজা খুলেই আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে আরও উচ্চস্বরে কেঁদে উঠল;

নবীন প্রেমের উদয়! প্রথম খণ্ড, পর্ব : আট ,     
                        সমাপ্ত।।

রচনাকালঃ  সংশোধিত ১০ অক্টোবর ২০২২ইং

বিশেষ দ্রষ্টব : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷ 

1 টি মন্তব্য: