নবীন প্রেমের উদয়! প্রথম খণ্ড,
নাঈম হোসেন
পর্ব: পাঁচ [হুবহু জেমির বর্ণনা];
👩জেমি: সড়ক দুর্ঘনা কী? কেন আমাদের দেশে এতো সড়ক দুর্ঘটনা? একটি সড়ক দুর্ঘটনা একটি পরিবারের জন বয়ে আনে সারাজীবনের কান্না। কিন্তু এর থেকে মুক্তির কী কোন উপায় নেই?
👧তিথি: আছে, অবশ্যই আছে।
👩জেমি: তবে সেটা কী?
👧তিথি: ঠিক আছে বলছি ; তবে শোন, এতক্ষণ ধরে তো শুনলি জীবন কেড়ে নেওয়া বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা এখন বলছি সড়ক দুর্ঘটনা কী ? ও সড়ক দুর্ঘটনার কারণ এবং তার থেকে মুক্তির উপায়।
👩জেমি: হ্যাঁ বল;
👧তিথিঃ দুর্ঘটনা হচ্ছে একটি অদৃষ্টপূর্ব, অকল্পনীয় এবং আকস্মিক ঘটনা বা বিষয় যা প্রায়শঃই অমনোযোগীতা কিংবা প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের ফলে সৃষ্ট হয়ে থাকে। সচরাচর ক্ষেত্রে এটি প্রায়শঃই ব্যক্তিকেন্দ্রীক, মানসিক কিংবা সামাজিক বিপর্যয় বয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু আকস্মিকভাবে ঘটনা ঘটার পূর্বেই যদি দুর্ঘটনা কারণ চিহ্নিত করা যায়, তাহলে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। সাধারণতঃ সড়ক দুর্ঘটনায় গাড়ীর মুখোমুখি সংঘর্ষ, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
তিথি: সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে মূলতঃ চর্চা ও সচেতনতার অভাবে এবং রাস্তায় ভুলভাবে পরিচালনা করলে। রাস্তায় সাইকেল চালনা-সহ রাস্তায় প্রচলিত নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে প্রতিপালনের অভাবই এর অন্যতম কারণ।
তিথি : রাতে সাইকেলে বাতি প্রজ্জ্বলনে দুর্ঘটনা অনেকাংশেই হ্রাস করা সম্ভব। এছাড়াও, সঠিকভাবে শারীরিক ভারসাম্য রক্ষা না করা কিংবা কোন যানবাহনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে এ জাতীয় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
তিথি: গাড়ী দুর্ঘটনায় একটি গাড়ী অপর একটি গাড়ীকে কিংবা অন্য কোন যানবাহনকে সামনে অথবা পিছন দিক দিয়ে ধাক্কা মারার ফলে হয়ে থাকে। এছাড়াও, জীব-জন্তুর আক্রমণ কিংবা বাঁচানোর প্রয়াস, রাস্তা যান চলাচলের অনুপযোগী অথবা গাছের সাথে ধাক্কা লাগার ফলে এ জাতীয় দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এর ফলাফলস্বরূপ ব্যক্তিগত আঘাত, মৃত্যু এবং সম্পত্তি ধ্বংসের মতো ঘটনাগুলো ঘটে থাকে। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তির অকাল মৃত্যু কিংবা পঙ্গুত্ববরণে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে।
তিথি: ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুজনিত কারণে সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন শ্লোগান নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ আন্দোলন চালাচ্ছেন।
তিথি: নৌ দুর্ঘটনা ঘটে মূলতঃ আকস্মিকভাবে সংগঠিত ঝড় কিংবা যুদ্ধের মতো প্রতিকূল পরিবেশের সাথে মোকাবিলা করে পানিতে ডুবে যাবার মতো ঘটনাকে বুঝায়। এছাড়াও, লঞ্চ, স্টীমার, জাহাজ, তেলবাহী, লরীগুলোয় নাবিকের অসচেতনতা, মাস্তুল বা পাল ছিড়ে যাওয়া-সহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট দুর্ঘটনা এর জন্য দায়ী।
তিথি: ১৪ থেকে ১৫ এপ্রিল, ১৯১২ সালে তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে বিশাল এবং বিলাসবহুল টাইটানিক জাহাজ বিরাটাকৃতি বরফখণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে গিয়েছিল। এ ঘটনায় ২২২৩ জন যাত্রীর মধ্যে ১৫১৭ জনই প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয।
জেমি: দুর্ঘটনার কারণগুলো কী কী ?
তিথি: বলছি, তাহলে শোন;
জেমি : হ্যাঁ , হ্যাঁ বল;
তিথি: সড়ক দুর্ঘটনার কারণ গুলো হচ্ছে ,
এক : গাড়ি চালকের জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা না থাকা৷ গাড়ি চালকদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় দেশে সড়ক দুর্ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলেছে ৷
দুই : ওভারটেক করে গাড়ি চালানো , ওভারটেক করে গাড়ি চালানোর জন্য ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা ৷
তিন: প্রতিযোগিতাপ্রবণ হয়ে দ্রুতগতিতে বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো:
তিথি: পুলিশের বেশিরভাগ রিপোর্টে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যায় গাড়ির অতিরিক্ত গতি ও চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মনোভাব। তাই সকল ড্রাইভারদের প্রতি জোর অনুরোধ এই প্রতিযোগিতা প্রথমেই বন্ধ করুন আপনারা!
তিথি: পুলিশের অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান বলছে, সারাদেশে ৮৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ চালকের বেপরোয়া গতি।
চার : অদক্ষ , অপ্রশিক্ষিত চালক দ্বারা গাড়ি চালানো৷
তিথি: বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অদক্ষ চালক। আমাদের দেশের বেশিরভাগ চালকেরই নেই যথাযথ প্রশিক্ষণ। এদের মধ্যে আবার অনেকেরই নেই লাইসেন্স। আবার অনেকে হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়ে থাকেন। অনেক চালক আছেন যারা একেবারেই অদক্ষ এবং ট্রাফিক আইনের বিষয়েও অজ্ঞ। যে কারণে গাড়ি চালানোর সময় তারা মোবাইল ফোনে কথা বলেন; আবার ফুল ভলিউম দিয়ে গান শোনার কারণে আশেপাশের ঘটনা বা কোনো গাড়ির সংকেত বা হর্ন তারা শুনতে পান না। আবার অনেক চালকের গাড়ি চালানোর পর্যাপ্ত বয়সও হয়নি বা শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা ছাড়াই চালকরা গাড়ি চালিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনার সৃষ্টি করে অকালে ঝরিয়ে দেন তাজা প্রাণ। তাই কঠোর আইন করে হলেও এইগুলো বন্ধ করতে পারলেই সড়ক দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
তিথি : পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৯০ দশমিক ৬৯ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী অদক্ষ চালক।
পাঁচ : চোখে ঘুমঘুম ভাব নিয়ে গাড়ি চালানো ৷
তিথি: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ প্রকাশিত বিবিসি বাংলা নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠেছে , বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনার জন্যে চালকদের অতিরিক্ত পরিশ্রমজনিত ঘুমকে দায়ী করেছেন বাস চালক রশীদ সর্দার৷ তিনি ভারতের উত্তরবঙ্গে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মহাসড়কে বাস চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করার কারণে ড্রাইভাররা খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সর্বক্ষণ চালকের কাছে থাকা ইঞ্জিনের গরম হাওয়া এবং বাইরের ও আশেপাশের শব্দের কারণেও চালকরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, "সারা রাত ডিউটি করার পর আমাদেরকে পরদিন সকালে আবার গাড়ি চালাতে হয়।" "একটা লোক কিভাবে ২৪ ঘণ্টা গাড়ি চালাতে পারে? এক সেকেন্ডের জন্যে চোখ বন্ধ হলেওতো অবস্থা খারাপ৷ তিনি আরও জানান, এরকম অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে ঘুমে ঢলে গিয়ে তিনি নিজেও একবার দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিলেন।
তিথি : দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো, ঘুম ঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানাে। অথচ একজন চালকের কোনো অবস্থাতেই একটানা ৫ ঘণ্টার ওপর গাড়ি চালানো নিষেধ। কিন্তু আমাদের দেশের বাস এবং ট্রাকের চালকরা একটানা ১৫/১৬ ঘণ্টা গাড়ি চালাচ্ছেন। বিশ্রাম ব্যতিত গাড়ি চালানোর ফলে তাদের চোখে অনেক সময় ঘুম চলে আসে। ফলে ঘটে যায় মারাত্মক দুর্ঘটনা।
ছয়: লাইসেন্সবিহীন চালকের দ্বারা গাড়ী চালানো,
তিথি : নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বলছে, সারাদেশে অন্তত ২৪ লাখ লাইসেন্সবিহীন চালক সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তিথি: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এক হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ৪৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৮টি৷ আর বেসরকারি হিসাবে-সড়ক-মহাসড়কে নিবন্ধিত গাড়ির বাইরে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ আরও কয়েক লাখ গাড়ি চলাচল করে।
তিথি: ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ২৬৬ চালক নিহত হয়েছে, যা তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট নিহতের ২৫ শতাংশ। আবার যাত্রী কল্যাণ সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাইসেন্সবিহীন চালকের সংখ্যা ৩০ লাখের মতো। আবার অনেক চালক কথিত ওস্তাদের কাছ থেকে শিখে রাস্তায় নেমেছেন।
সাত: যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা৷ যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনা , খামখেয়ালী এবং অনর্থক চালকদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক করার জন্য ঘটে যেতে পারে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা , তাই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চলতি গাড়িতে চালকের সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে ৷
আট: অপরিকল্পিত ও ভঙ্গুর সড়ক এবং সড়কের বিপজ্জনক বাঁক এবং আইল্যাণ্ডে কালার না করা :
তিথি: দেশব্যাপী মহাসড়কের অনেক স্থানেই রয়েছে বিপজ্জনক বাঁক এসব বাঁকের কারণে প্রায় সেসব জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া অবকাঠামোগত কারণেও দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি খুব বেশি বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। আবার রাস্তার মধ্যে যেখানে সেখানে দেওয়া হয়েছে আইল্যাণ্ড সেগুলো করা হয়নি কালার তাই চালকরা যখন দ্রূত গতিতে গাড়ি চালান তখন হঠাৎ করে আইল্যাণ্ড না দেখার কারণে গাড়ি সেই আইল্যাণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ৷ তাই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যেখানে সেখানে কালারবীহিন আইল্যাণ্ড না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি কতৃপক্ষের নিকট ৷
নয়: সড়কের তুলনায় গাড়ি বেশি হওয়া৷
তিথি : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ১ লাখ মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩৩ যানবাহন রয়েছে, চীনে প্রতি ১ লাখ মানুষের জন্য রয়েছে ১৮ হাজার, ভারতে প্রায় ১৩ হাজার আর পাকিস্তানে প্রায় ৫ হাজার। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি দু’জনে একটি করে যানবাহন রয়েছে। অথচ এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা অনেক বেশি। কারণ , আমাদের দেশে বিগত কয়েক বছরে সড়কের তুলনায় মোটরযানের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আবার একই সড়কে চলছে বাস ট্রাক, প্রাইভেট কার, রিকশাসহ নানারকম মিশ্র যানবাহন ফলে সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা বাড়ছে মৃত্যুের ঝুঁকি৷
দশ: ট্রাফিক আইন বেতোয়াক্কাকারী তথা চালক ও পদচারী উভয়ই সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করা৷
তিথি : আমাদের দেশে কেউ সড়কে সরকারি নির্দশনা মেনে চলিনা। অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে গাড়িতে তো আমরাই উঠি। উল্টোপথে গাড়ি আমরাই চালাই। নষ্ট বাস চলাচলের অযোগ্য। সেটার মালিক তো আমাদের মধ্যেই কেউ না কেউ। এমন বাস চলাচলে বাধা দেয়া হয় না কেন? ব্যক্তি যতক্ষণ সচেতন না হবে, ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থ যতদিন না বড় হবে, ততদিন অনেক কিছুই ভালো হবে না। হতে পারে না। হয়ও না।
তিথি :উন্নত রাষ্ট্রের দিকে তাকালে দেখি কত নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলছে তারা,
সেখানে কি রাষ্ট্র সবকিছু করে? নাকি জনগণ বড় ভূমিকা রাখে? সেখানকার জনগণ আইন মানে। নিয়ম মেনে চলে। তাতে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল না হলেও আইন মানতে বাধ্য করা হয় তাদের৷
তিথি : আমরা এর কোনটাতেই নেই। না আইন মানি, না দেশের স্বার্থে কাজ করি, না জনগণকে আইন মানতে বাধ্য করা হয়। ফলে যত পদক্ষেপই নেয়া হোক না কেন, কোনটাই সুফল বয়ে আনে না। সবশেষে আমরা যেটা পারি বা করি সেটা হল সরকারের ওপর দোষারোপ। সরকারি সংস্থার ওপর দোষারোপ।সড়কে তুচ্ছ ঘটনা হলেই গাড়ি ভাংচুর করি । এটা এখন রীতিতে পরিণত হয়েছে। মুখে নয়, কর্মের মধ্য দিয়ে দেশকে যখন আমরা ভালোবাসব, তখন শুধু সড়ক দুর্ঘটনা নয়, আরও অনেক কিছুই কমে আসবে বলে ধারণা করেছেন বিশেষজ্ঞরা । সেই দিনের প্রত্যাশা করছি আমরা সবাই !
জেমি: আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন আমরাও এমন একটা সোনালী দিন পাই, যেদিনটায় মানুষ হবে মানুষের জন্য। নিজেকে বাঁচতে যতটা চেষ্টা করবে তার চেয়ে বেশি চেষ্টা করবে অন্যকে বাঁচাতে সেই স্বর্গীয় মানুষের আগমন হোক এই পৃথিবীতে সেই প্রত্যাশা করি ঈশ্বরের কাছে।
এগারো : ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন বা সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো ৷
তিথি: ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ। আমাদের রাস্তাঘাটের দিকে তাকালে বোঝা যায়, বহুদিনের পুরোনো যানবাহনের সংখ্যাই বেশি। সব থেকে বড় কথা, এদের অধিকাংশের ফিটনেস সার্টিফিকেটও নেই। প্রশাসন এগুলোকে পরিত্যক্ত বলে ঘোষণা করার পরও ওইসব যানবাহন সড়কে চলাচল করছে এবং বড় বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এধরনের যানবাহন চলাচল অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
বারো: চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার ও চলন্ত অবস্থায় ধুমপান করা৷ যদিও ট্রাফিক চত্বরে বা সড়কের পাশে পোস্টার বা সাইন বোর্ডে এ বিষয়ে সতর্কতা হিসাবে লেখা রয়েছে চালকের হাতে মোবাইল ফোন , মৃত্যু ঝুঁকিতে যাত্রীগণ৷ তবুও কথাটি মানছেন না কোন চালকই ৷
তেরো : ওভারক্রসিং৷
তিথি: মাঝে মাঝে দেখা যায় পথচারীরা ট্রাফিক আইন বা জেব্রা ক্রসিং না মেনেই এলোমেলো চলাচল করেন; আবার কখনও বাস বা ট্রাকের ছাদে উঠে অস্বাভাবিক আচরণে লিপ্ত হন; যার ফলে সড়ক দুর্ঘটনা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। যাত্রী বা পথচারীদের এমন বেপরোয়া আচরণ প্রতিহত করতে হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই তাদের এমন আচরণের পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।
চৌদ্দ : ওভারব্রিজের স্বল্পতা,
পনেরো : ট্রাফিক পুলিশের গাফিলতি, অনিয়ম , দুর্নীতি , বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা৷
ষোলো: শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা নিয়ে চালকদের গাড়ি চালানো ৷
সতেরো : মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল৷
আঠার : তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো৷
ঊনিশ : জনসাধারণের ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা,
বিশ: বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহণ খাতে ব্যাপক চাঁদাবাজি।
একুশ : চালক ও হেলপারের উপযুক্ত বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা৷
বাইশ: সড়কের নকশা ও অবকাঠামোগত ত্রুটি৷
তেইশ: সড়কের পারিপার্শ্বিক বিরূপ অবস্থা ৷
চব্বিশ: সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা না থাকা বা ঘাটতি৷
পঁচিশ: সাইন, মার্কিং, সড়ক বিভাজক, পূর্ব সতর্কতামূলক নির্দেশনা বোর্ড ইত্যাদি না থাকা৷
ছাব্বিশ: যানবাহনের উচ্চগতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকা৷
সাতাশ: সড়কের সমস্যা আক্রান্ত স্থানে যানবাহন চালনার ক্ষেত্রে চালকদের সক্ষমতার অভাব বা অদক্ষতা ও সড়ক পার্শ্ববর্তী বা সড়কঘেঁষা জনবসতির মানসিকতা।
সাতাশ: সঠিক স্থানে গাড়ি পার্কিং না করা৷
আঠাশ: ওভার কনফিডেন্ট হয়ে গাড়ি চালানো৷
ঊনত্রিশ : সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পুরোপুরিভাবে না মানা৷
ত্রিশ : মাস্তান, রাজনৈতিক নেতা , অপসাংবাদিকসহ ক্ষমতাশীনদের ক্ষমতার অপব্যবহার ৷ এদের কাছে অনেক সময় ট্রাফিক সার্জেন্ট পর্যন্ত অসহায় ৷
তিথি : ধর ট্রাফিক সার্জেন্ট বল্টু ঢাকা শহরের একটা গোলচত্বরে ফোর্সসহ অভিজান দিতে দাড়িয়েছেন ; তিনি একজন সৎ অফিসার , ঘন্টাখানেক অভিজানের পর ঝণ্টু আসল হেলমেটবীহিন বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে , অফিসার বল্টু তাকে থামিয়ে চেক করে দেখলো তার গাড়ির কাগজপত্র কিছু নেই , অফিসার বল্টু তার নামে ট্রাফিক আইনের মামলা রেডি করল; এবার ঝন্টু বলল; বেটা তুই কী নতুন এসেছিস ? তুই আমাকে চিনিসনা , তুই কী জানিস আমি কে?
অফিসার বলল; না আমি আপনাকে চিনতে পারিনি কে আপনি ?
ঝণ্টু বলল; আমি এমপি সাহেবের ভাগিনা , যুবলীগের নেতা আমি ! এখন আমার নামে মামলা দিবি দে ? এরকম মামলা ডজনখানেক আমার বকেটে পড়ে থাকে৷ সাহসী অফিসার তার নামে একটা ট্রাফিক আইনে মামলা দিয়ে দিল, ঝণ্টু রেগে গিয়ে বলল; দেখে নেব বেটা তোকে৷ অফিসার অসহায়ের মত কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল ...
কিছুক্ষণপর হেলমেটবিহীন আরেকজন মোটরসাইকেল চালিয়ে আসল ; সার্জেন্ট তাকে থামিয়ে চেক করে দেখল তার গাড়ির কোন কাগজপত্র নেই, সার্জেন্ট জিঞ্জেস করল আপনার হেলমেট কাগজপত্র নেই কেন? চালক বলল; দেখছেননা গাড়ির সামনে লেখা প্রেস ? আমি সাংবাদিক ! এতদিন কোন অফিসার আমাকে চেক করেনি , আর আপনি নতুন এসেই চাঁদাবাজি শুরু করে দিলেন? অফিসার বলল; আমি কোথায় চাঁদাবাজি করলাম ? আমি আপনার গাড়ির কাগজপত্র না থাকায় ট্রাফিক আইনে মামলা দিলাম ! চালক বলল; আপনার সাহস তো কম না , সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরেও চাঁদাবাজি করছেন? এখনই আপনার নামে চাঁদাবাজির নিউজ রেডি করছি!
অফিসার বলল, সাংবাদিক হলে যে আইন মানতে হয়না এমন কোন সংবিধান আছে কী ? চালক কোন উত্তর দিলনা ! অফিসার বলল; আপনাদের মত গুটিকয়েক রাজনৈতিক নেতা , অপসাংবাদিকসহ ক্ষমতাশীনদের কারণে ট্রাফিক আইন অমান্য হচ্ছে দেশের প্রতিটি সড়ক মহাসড়কে ফলে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছেনা প্রতিরোধ ৷ এবার মোটরসাইকেল চালক বলল; আমার ভুল হয়ে গেছে এবারের মতো আমাকে ক্ষমা করুন আর কখনও এমন ভুল হবেনা ৷ অফিসার তাকে ক্ষমা করে ছেড়ে দিলেন ৷
জেমি : সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা কোনগুলো ?
তিথি : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন, ২৫ এপ্রিল ২০২১, যুগান্তরকে দেওয়া এক প্রতিবেদন , ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৪৬টি জেলার ১১৪টি এলাকা দুর্ঘটনাপ্রবণ। এর মধ্যে ৫১টি অতি দুর্ঘটনাপ্রবণ ও ৬৩টি দুর্ঘটনাপ্রবণ। এসব এলাকায় নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছেই।
তিথি: ঢাকার অতি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাসমূহ হলো-ধামরাই, বিমানবন্দর সড়ক, হানিফ ফ্লাইওভার ও বাড্ডা-কুড়িল সড়ক।
তিথি: ঢাকার বাইরের স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে- মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক; গাজীপুরের কালিয়াকৈর, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাশের মহাসড়ক; টাঙ্গাইলের কালিহাতী, মির্জাপুর; কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা; মাদারীপুরের টেকেরহাট, কালকিনি; গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর; রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক; নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের এশিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীগঞ্জ,সরাইল; কক্সবাজারের উখিয়া, বান্দরবানের থানচি, রাজশাহীর পুটিয়া, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, হাটিকুমরুল, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশের মহাসড়ক, নাটোরের বড়াইগ্রাম; নওগার মান্দা, পাবনার ঈশ্বরদী, সাঁথিয়া, বগুড়ার শেরপুর, যশোরের অভয়নগর, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা, সিলেটের ওসমানীনগর, হবিগঞ্জের মাধবপুর, বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া; পটুয়াখালীর দশমিনা, ভোলার চরফ্যাশন, রংপুরের তারাগঞ্জ, পীরগঞ্জ; গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ; নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, ময়মনসিংহের ভালুকা, ফুলপুর ও তারাকান্দা।
তিথি: এই সমস্যা বার বার চিহ্নিত হলেও এর কোনো প্রতিকার নেই। দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হলে সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গাড়ির চালক, মালিকসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিথি : যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের মানুষ সচেতন না হবে, ততক্ষণ সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না। আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু শুধু একটি পরিবারে গভীর শোক, ক্ষত সৃষ্টি করে না, ওই পরিবারকে আর্থিকভাবেও পঙ্গু করে ফেলে।
তিথি: দুর্ঘটনা রোধে সরকারি নির্দেশনা মানতে হবে। আমরা কি তা সত্যিই মানি? সঙ্গতকারণেই প্রশ্ন ওঠে, এই অপ্রতিরোধ্য ও প্রতিকারহীন সড়ক দুর্ঘটনা, এই অসহায় মৃত্যু ও আহতদের জীবন-মৃত অবস্থায় বেঁচে থাকার দুর্ভাগ্যের জন্য দায়ী কে বা কারা? ট্রাফিক পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ দায় এড়িয়ে যেতে পারে কী?
তিথি : তাদের অবহেলা, অমনোযোগ ও দায়িত্বহীনতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা গুরুতর জাতীয় সমস্যা ও নাগরিক উদ্বেগের কারণে পরিণত হয়েছে।
তিথি: ইতোপূর্বে বিভিন্ন সমীক্ষা-গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের গাড়ি চালকদের বেশিরভাগ অদক্ষ ও অপ্রশিক্ষিত, অনেকের লাইসেন্স নেই, অনেকের লাইসেন্স ভুয়া। এদের হাতে গাড়ি ছেড়ে দেয়া বিপজ্জনক। অথচ মালিকদের একাংশ সেটাই করছে।
তিথি : লাইসেন্স দেয়ার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সেখানে টাকার বিনিময়ে পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ ছাড়া লাইসেন্স দেয়া হয়। গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রেও এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়াই চলছে অগণিত গাড়ি।
তিথি : সড়কে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ। সেখানেও রয়েছে দুঃখজনক গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতা। সড়কে চলছে হত্যার প্রতিযোগিতা। তাহলে কি এই অনিয়ম, দুর্বৃত্তাচার, যথেচ্ছার, মৃত্যুর প্রতিযোগিতা চলতেই থাকবে?
তিথি: প্রতিবার দুর্ঘটনার পর পরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত প্রতিবেদন কোনো দিন আলোর মুখ দেখে না, দোষীদের শাস্তিও হয় না। সমাজের উঁচু স্তর থেকে নিচু শ্রেণির মানুষ- যারাই দুর্ঘটনার শিকার হন না কেন, কোনো একটি ঘটনার বিচার হয়েছে এমন দৃষ্টান্ত নজিরবিহীন । সরকারি ও বেসরকারিভাবে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধের জন্য কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলেও, বাস্তবে তা কার্যকর করা হচ্ছে না।
তিথি : আর বিচারহীন, প্রতিকারহীন অবস্থায় কোনো কিছু চলতে থাকলে সেটির পুনরাবৃত্তিও তো ঘটতেই থাকবে৷ প্রশ্ন হল, এর প্রতিকার কী? সড়ক দুর্ঘটনা কমছে না কেন? সব দায় কি সরকারের? নাকি জনগণেরও কিছু দায় আছে?
তিথি: কিছু ব্যবস্থা তো নেয়াই হচ্ছে। সড়ক প্রশস্ত করার জন্য গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে। বড় বড় ফ্লাইওভার হচ্ছে। তারপরও কেন এই অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর মিছিল ছোট হচ্ছে না? কী করলে ছোট হবে সেটাই প্রশ্ন। সহজ উপায়
একটাই। সেটা হল সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যা যা করণীয় সেগুলো চালক , যাত্রী এবং পথচারীদের সবাইকেই জানতে হবে এবং মানতে হবে৷
জেমি: আমিও তোর কথায় সহমত পোষণ করছি।
জেমি : তাহলে এবার বলে দে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় কী কী ?
তিথি : বলছি ; সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো অনেক আগেই বিশেষজ্ঞরা শনাক্ত করেছেন । কী করলে দুর্ঘটনা ও মৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব, তাও বিশেষজ্ঞরা বহুবার বলেছেন। তারপরও কিছু হচ্ছে না। আমার বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো সচেতন, তাৎপর ও দায়িত্বশীল হলে সড়ক দুর্ঘটনার অভিশাপ থেকে দেশকে একেবারে মুক্ত করা সম্ভব না হলেও দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনা অবশ্যই সম্ভব হবে ৷
তিথি: সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যুগ্ম মহাসচিব, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)
ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের ২৫ জুন ছয়টি নির্দেশনা এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আরও ১৭টি নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, অদ্যাবধি এসব নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত হয়নি। এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে এমনটা প্রত্যাশা করা যায়।
জেমি: প্রধানমন্ত্রীর সে নির্দেশনা গুলো কী? কী ?
তিথি: বলছি, তিলতিল করে বলছি; সেগুলো হচ্ছে,
এক: গাড়ির চালক ও তার সহকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা,
দুই: লং ড্রাইভের সময় বিকল্প চালক রাখা, যাতে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কোনো চালককে একটানা দূরপাল্লায় গাড়ি চালাতে না হয়।
তিন: নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর সড়কের পাশে সার্ভিস সেন্টার বা বিশ্রামাগার তৈরি করা।
চার: অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাস্তা পারাপার বন্ধ করা;
পাঁচ :সড়কে যাতে সবাই সিগন্যাল মেনে চলে তা নিশ্চিত করা।
ছয় : পথচারী পারাপারে জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধার বিষয়টি নিশ্চিত করা।
তিথি: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সেগুলো হলো—
সাত: দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে;
আট: চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করতে হবে;
নয়: বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে;
দশ: পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে;
এগারো: মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্ব রাস্তা (সার্ভিস রোড) তৈরি করতে হবে;
বারো: পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে;
তেরো: গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে;
চৌদ্দ : রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে হবে;
পনেরো : টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে৷
ষোল : সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিথি : এছারও ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, যুগান্তরকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে ডিসি প্রবীর কুমার রায় (ট্রাফিক উত্তর বিভাগ) তার মতে নয়টি উপায়ে সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
জেমি: সেগুলো কী ? কী ?
তিথি: সে নয়টি উপায়ে হচ্ছে -
সতেরো : সিট বেল্ট বাঁধা: নিরাপদে গাড়ি চালানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গাড়ির সিট বেল্ট বাঁধা। প্রত্যেকটি দেশেই সিট বেল্ট বেঁধে গাড়ি চালানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সিট বেল্ট বেঁধে গাড়ি চালান। অবশ্যই মনে রাখবেন, শুধু আপনি নন আপনার সঙ্গে থাকা যাত্রীদেরও সিট বেল্ট বাঁধতে বাধ্য করবেন। সিট বেল্ট বেঁধে গাড়ি চালানো এবং গাড়িতে চড়া দুটোই নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আঠারো: মনোযোগ: নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের জন্য যা প্রয়োজন আপনার মনোযোগ। আপনি যখনই গাড়ি চালাবেন খেয়াল রাখবেন আপনার মনোযোগ যেন গাড়ি এবং রাস্তার দিকেই থাকে। কখনই গাড়ি এবং রাস্তা থেকে মনোযোগ সরাবেন না। একটু অমনোযোগী ড্রাইভিংয়ের কারণে ঘটতে পারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
ঊনিশ: অল্প দক্ষ বা অদক্ষ চালক:
অল্প দক্ষ বা অদক্ষ চালক দিয়ে কখনোই গাড়ি চালানো ঠিক নয়। কারণ বেশি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে অদক্ষ চালকের জন্য। তাই এক্ষেত্রে গাড়ির মালিকদের সচেতন হতে হবে।
বিশ: রোড স্ক্যানিং বা রাস্তা বিশ্লেষণ: রাস্তা বিশ্লেষণ বা রোড স্ক্যানিং নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন গাড়ি চলাবেন তখন অবশ্যই আপনার চলার রাস্তাটিকে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করবেন। গাড়ি চালানোর সময় রাস্তা-সম্পর্কিত যে বিষয়গুলো আপনাকে অবশ্যই খেয়াল করতে হবে সেগুলো হলো- রাস্তায় গাড়ির পরিমাণ, রাস্তার লেনের পরিমাণ, রাস্তার গঠনগত অবস্থা, রাস্তার প্রশস্ততা।
একুশ: গাড়ির গতিসীমা: গাড়ি চালানোর সময় কখনই হুটহাট করে গাড়ির গতিসীমা বাড়াবেন বা কমাবেন না। হুটহাট গাড়ির গতি বাড়ানো বা কমানো প্রায়শই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই যতদূর সম্ভব এই বিষয়টি মেনে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবেন।
বাইশ: কথা বলা থেকে বিরত থাকুন: গাড়িতে চড়ে অনেক যাত্রী আছেন যারা ভাড়া ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলা থেকে শুরু করে হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যান- এটি কোনোভাবেই ঠিক নয়। গাড়ি চলানোর সময় কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
তেইশ: প্রতিযোগিতা: অনেক সময় প্রতিযোগিতা করে অনেক ড্রাইভার গাড়ি চালিয়ে থাকেন। এটি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তাই ঠাণ্ডা মাথায় গাড়ি চালান। আর মনে রাখবেন আপনি গাড়ি চালানোর প্রতিযোগিতায় নামেননি, নিরাপদে নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে গাড়ি চালাচ্ছেন।
চব্বিশ : লুকিং গ্লাস: প্রত্যেকটি গাড়ির দুটি লুকিং গ্লাস থাকে। একটি ডান হাতের পাশে আরেকটি বাম হাতের পাশে। গাড়ি চালানোর সময় লুকিং গ্লাস দেখা জরুরি। কারণ আপনার পাশ দিয়ে কোন গাড়ি যাচ্ছে- তা আপনি সহজেই দেখতে পারবেন। আর নিরাপদে গাড়ি চালাতে পারবেন।
পঁচিশ : নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি না চালানো : গাড়ি চালানোর সময় চালক নেশাগ্রস্ত থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। আমাদের দেশের বেশির ভাগ পাবলিক বাসের দুর্ঘটনার কারণ নেশাগ্রস্ত চালক। তাই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না।
জেমি: সে ঠিকই বলছে , সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে উপরের কথাগুলো সকলে জেনে মেনে চললে অবশ্যই সড়কে অকাল মৃত্যু থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে।
জেমি: এছাড়া আর কোন উপায় আছে কী ?
তিথি: এছাড়াও চালকের জন্য আরও কিছু নীতিমালা আছে যেগুলো ফলো করলে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে চিরমুক্তি পাওয়া সম্ভব।
জেমি: সেগুলো আবার কী কী?
তিথি : সেগুলো হচ্ছে-
তিথ: মনে কর রশীদ একজন বাস ড্রাইভার , সে গাড়ি নিয়ে প্রতিদিনকার মত লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওয়ানা দিয়েছে , ঘন্টাখানেক গাড়ি চালানোর পর সে দেখলো পথে ট্রাফিক পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করছেন , তখন সে দেখলো তার রুটপারমিট ভুলে আনা হয়নি , পুলিশ তাকে ধারা ২৮ এর বিধান লঙ্ঘনের দায়ে একটা মামলা দিল , সে মামলায় তার জরিমানা হলো তিন) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইল বা যেকোন কৌশলে সে সেখান থেকে মুক্তি পেল এখন তার পক্ষে কী এই হতাশা নিয়ে সঠিকভাবে গাড়ি চালানো সম্ভব হবে ? সে মনেশঙ্কা নিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ফলে অকালে জীবন যেতে পারে যাত্রীগণের!
জেমি: তাহলে এ থেকে মুক্তির উপায় কী ?
তিথি: এজন্য সকল চালকদের গাড়ি চালানোর পূর্বে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গাড়িতে আছে কিনা চেক করে বের হতে হবে৷
জেমি : গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কী কী ?
তিথি : ছাব্বিশ: গাড়ির হালনাগাদ বৈধ কাগজপত্র (রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্সটোকেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইনসিওরেন্স (বিমা) সার্টিফিকেট, রুট পারমিট ইত্যাদি) গাড়ির সঙ্গে রাখতে হবে ।
এছাড়াও প্রত্যেক চালকের উচিৎ ,
সাতাশ: গাড়িতে জ্বালানি আছে কি না পরীক্ষা করা, না থাকলে পরিমাণ মতো নেওয়া।
আঠাশ: রেডিয়েটর ও ব্যাটারিতে পানি আছে কি না পরীক্ষা করা, না থাকলে পরিমাণ মতো নেওয়া।
ঊনত্রিশ: ব্যাটারির কানেকশন পরীক্ষা করা।
ত্রিশ: লুব/ইঞ্জিন অয়েলের লেবেল ও ঘনত্ব পরীক্ষা করা, কম থাকলে পরিমাণ মতো নেওয়া।
একত্রিশ : মাস্টার সিলিন্ডারের ব্রেকফ্লুইড, ব্রেকঅয়েল পরীক্ষা করা, কম থাকলে পরিমাণ মতো নেওয়া।
বত্রিশ: গাড়ির ইঞ্জিন, লাইটিং সিস্টেম, ব্যাটারি, স্টিয়ারিং ইত্যাদি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, নাট-বোল্ট টাইট আছে কি না অর্থাৎ সার্বিকভাবে মোটরযানটি ত্র“টিমুক্ত আছে কি না পরীক্ষা করা, ঠিক না থাকলে ঠিক করে নেওয়া।
তেত্রিশ : ব্রেক ও ক্লাচের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা। খারাপ হলে ঠিক করে নেওয়া।
চৌত্রিশ : অগ্নিনির্বাপকযন্ত্র এবং ফাস্টএইড বক্স গাড়িতে রাখা।
পঁইত্রিশ : গাড়ির বাইরের এবং ভিতরের বাতির অবস্থা, চাকা (টায়ার কন্ডিশন/হাওয়া/নাট/এলাইমেন্ট/রোটেশন/স্পেয়ার চাকা) পরীক্ষা করা। কোথাও কোন সমস্যা দেখলে তা ঠিক করে নেওয়া।
ছত্রিশ : গাড়িতে প্রয়োজনীয় খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, তোয়ালে বা গামছা রাখা।
সাঁইত্রিশ : গাড়ির সঙ্গে অতিরিক্ত ফুয়েল এবং ব্যাটারির পানি রাখা।
জেমি: ঠিকই তো এগুলো ঠিক না করে সেই গাড়ি নিয়ে রোডে বের হলে তো যেকোন মুহুর্তে বড়ো ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা হতে পারে আর অকালে ঝরিয়ে যেতে পারে যেকারো জীকন৷
তিথি : হ্যাঁ।
তিথি: এছাড়া একজন চালকের যে বিষয় গুলো একান্ত জানা প্রয়োজন তা হচ্ছে -
তিথি: আটত্রিশ: জেব্রাক্রসিংয়ে একজন চালকের কর্তব্য সম্পর্কে জানা,
জেমি: জেব্রাক্রসিংয়ে একজন চালকের কর্তব্য কী?
তিথি: জেব্রাক্রসিংয়ে একজন চালকের কর্তব্য হচ্ছে - জেব্রাক্রসিংয়ে পথচারীদের অবশ্যই আগে যেতে দিতে হবে এবং পথচারী যখন জেব্রাক্রসিং দিয়ে পারাপার হবে তখন গাড়িকে অবশ্যই তার আগে থামাতে হবে। জেব্রাক্রসিংয়ের ওপর গাড়িকে থামানো যাবে না বা রাখা যাবে না।
জেমি: এ নিয়মকানুন মানে কয়জনে?
তিথি : না মানার কারণেই তো প্রতিদিন সড়কে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে ।
জেমি: একদম ঠিক বলছো।
তিথি: একজন চালকের জন্য আরও কিছু নিয়ম আছে সেগুলো জেনে, মেনে চলতে হবে। সেগুলো জানা সকল চালকদের জন্য একান্তই দরকার।
জেমি: সেগুলো আবার কী?
তিথি : বলছি;
তিথি: কোন কোন গাড়িকে ওভারটেক করার সুযোগ দিতে হবে ? সেগুলো জানেন না অধিকাংশ চালক আর যারা জানে তারাও মানছে না ফলে হচ্ছে দুর্ঘটনা।
জেমি: ঊনচল্লিশ: কোন কোন গাড়ি কে ওভারটেক করার সুযোগ দিতে হবে?
তিথি : যে গাড়ির গতি বেশি যেমন : এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ইত্যাদি জরুরি সার্ভিস, ভিভিআইপি গাড়ি এই ধরনের গাড়িকে ওভারটেক করার সুযোগ দিতে হবে।
তিথি: হেড লাইট ফ্ল্যাশিং বা আপার ডিপার ব্যবহারের নিয়ম কী এটা জানেনা অনেক চালকই।
জেমি: হেড লাইট ফ্ল্যাশিং বা আপার ডিপার ব্যবহারের নিয়ম কী?
তিথি: বলছি,
তিথি: চল্লিশ: এই হেড লাইট ফ্ল্যাশিং বা আপার ডিপার ব্যবহারের নিয়ম না জেনে না মেনে গাড়ি চালালেও হতে পারে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা। শহরের মধ্যে সাধারণত ‘লো-বিম বা ডিপার বা মৃদুবিম’ ব্যবহার করা হয়। রাতে কাছাকাছি গাড়ি না থাকলে অর্থাৎ বেশিদূর পর্যন্ত দেখার জন্য হাইওয়ে ও শহরের বাইরের রাস্তায় ‘হাই বা আপার বা তীক্ষ্ম বিম’ ব্যবহার করা হয়। তবে, বিপরীতদিক থেকে আগত গাড়ি ১৫০ মিটারের মধ্যে চলে আসলে হাইবিম নিভিয়ে লো-বিম জ্বালাতে হবে। অর্থাৎ বিপরীতদিক হতে আগত কোনো গাড়িকে পাস/পার হওয়ার সময় লো-বিম জ্বালাতে হবে।
জেমি: মনে কর রশিদ ড্রাইভার পরের যাত্রায় গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্য রওয়ানা দিয়েছে পথিমধ্যে হঠাৎ তার গাড়িটি ব্রেকফেক করল এইমূহুর্তে তার করণীয় কি কি?
তিথি: গাড়ির ব্রেক ফেল করলে করণীয় কী এবিষয়টি একজন চালকের জন্য জানা অতীব জরুরী হলেও জানেননা অধিকাংশ চালকই।
তিথি: একচল্লিশ : গাড়ির ব্রেক ফেল করলে প্রথমে অ্যাক্সিলারেটর থেকে পা সরিয়ে নিতে হবে। ম্যানুয়াল গিয়ার গাড়ির ক্ষেত্রে গিয়ার পরিবর্তন করে প্রথমে দ্বিতীয় গিয়ার ও পরে প্রথম গিয়ার ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে গাড়ির গতি অনেক কমে যাবে। এই পদ্ধতিতে গাড়ি থামানো সম্ভব না হলে রাস্তার আইল্যান্ড, ডিভাইডার, ফুটপাত বা সুবিধামত অন্যকিছুর সাথে ঠেকিয়ে গাড়ি থামাতে হবে। ঠেকানোর সময় যানমালের ক্ষয়ক্ষতি যেনো না হয় বা কম হয় সেইদিকে সজাগ থাকতে হবে।
তিথি : মনে কর রশিদ চালক গাড়ি চালিয়ে আসতেছে হঠাৎ তার গাড়ির চাকা ফেটে গেল এখন সে করবে কী ?
জেমি: জানিনা ! তুই বলে দে ,
তিথি : বলছি;
তিথি: গাড়ির চাকা ফেটে গেলে করণীয় কী ? এ বিষয়টি সম্পর্কেও অজ্ঞ রয়েছে বেশিরভাগ চালক ফলে গাড়ির চাকা ফেটে গিয়েও ঘটতে পারে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা। তাই একজন সচেতন চালকের জন্য এবিষয়টি জানাও অতীব জরুরি।
জেমি: গাড়ির চাকা ফেটে গেলে করণীয় কী ?
তিথি :বিয়া:বিয়াল্লিশ: গাড়ির চাকা ফেটে গেলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এই সময় গাড়ির চালককে স্টিয়ারিং দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে হবে এবং অ্যাক্সিলারেটর থেকে পা সরিয়ে ক্রমান্বয়ে গতি কমিয়ে আস্তে আস্তে ব্রেক করে গাড়ি থামাতে হবে। চলন্ত অবস্থায় গাড়ির চাকা ফেটে গেলে সাথে সাথে ব্রেক করা যাবেনা। এতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।
তিথি: গাড়ি চালানোর সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গাড়ি না চালালেও হতে পারে সড়ক দুর্ঘটনা।
জেমি: নিরাপদ দূরত্ব কী?
তিথি: তেতাল্লিশ: নিরাপদ দূরত্ব বলতে বুঝায় সামনের গাড়ির সাথে সংঘর্ষ এড়াতে পেছনের গাড়িকে নিরাপদে থামানোর জন্য যে পরিমাণ দূরত্ব বজায় রেখে গাড়ি চালাতে হয় সেই পরিমাণ নিরাপদ দূরত্ব বলে । উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, পাকা ও ভালো রাস্তায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চললে নিরাপদ দূরত্ব হবে ২৫ মিটার। আবার পাকা ও ভালো রাস্তায় ৫০ মাইল গতিতে গাড়ি চললে নিরাপদ দূরত্ব হবে ৫০ গজ বা ১৫০ ফুট।
তিথি : একজন চালকের জানা উচিত কোন কোন স্থানে গাড়ির হর্ন বাজানো নিষেধ ? কারণ যেখানে হর্ণ বাজানো নিষেধ সেখানে হর্ণ বাজালে একদিকে গুনতে হবে জরিমানা অপরদিকে হতে পারে সড়ক দুর্ঘটনা তাই এ বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছি-
জেমি: কোন কোন স্থানে গাড়ির হর্ন বাজানো নিষেধ?
তিথি : চুয়াল্লিশ: একজন চালক যেখানে হর্ণ বাজানো নিষেধ সাইনবোর্ড থাকবে সেখানে হর্ণ বাজাতে পারেন না। নীরব এলাকায় গাড়ির হর্ন বাজানো নিষেধ। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহের চতুর্দিকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকা নীরব এলাকা হিসাবে চিহ্নিত। এসব জায়গায় একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কোনমতেই হর্ণ বাজানো উচিত নয়।
তিথি: যখন তখন ওভারটেক করতে গিয়েও হয় মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা, মনে কর ড্রাইভার রশীদের খুব তাড়া তাই সে মহাসড়কে ঝনটুর গাড়িকে ওভারটেক করে ফলে সামনের একটি গাড়ি রশীদের গাড়িটি দেখতে না পেয়ে এসে ধাক্কা দেয় রশিদের গাড়িকে ফলে ঘটে গেল মারাত্মক দূর্ঘটনা তাই একজন চালকের কোন কোন স্থানে ওভারটেক করা নিষেধ সেগুলো জানা এবং মানা একান্ত জরুরি।
জেমি: একজন চালকের জন্য কোন কোন স্থানে ওভারটেক করা নিষেধ?
তিথি: যেসকল স্থানগুলোতে ওভারটেক করা নিষেধ সেগুলো হচ্ছে - পঁয়তাল্লিশ : ওভারটেকিং নিষেধ সম্বলিত সাইন থাকে এমন স্থানে, জাংশনে, ব্রিজ/কালভার্ট ও তার আগে পরে নির্দিষ্ট দূরত্ব, সরু রাস্তায়, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকায়।
তিথি: এছাড়া যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা তাই যেসকল স্থানে গাড়ি পার্ক করা নিষেধ সেগুলো মেনে চলতে হবে একজন চালকের।
জেমি: কোন কোন স্থানে গাড়ি পার্কিং করা নিষেধ?
তিথি: বলছি,
তিথি: যেসকল স্থানে গাড়ি পার্কিং করা নিষেধ সেগুলো হচ্ছে, ছেচল্লিশ : যেখানে পার্কিং নিষেধ বোর্ড আছে এমন স্থানে, জাংশনে, ব্রিজ/কালভার্টের ওপর, সরু রাস্তায়, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকায়, পাহাড়ের ঢালে ও ঢালু রাস্তায়, ফুটপাত, পথচারী পারাপার এবং তার আশেপাশে, বাস স্টপেজ ও তার আশেপাশে এবং জ. রেলক্রসিং ও তার আশেপাশে।
তিথি: লেভেল ক্রসিং বা রেলক্রসিং আবার ২ প্রকার। ক) রক্ষিত রেলক্রসিং বা পাহারাদার নিয়ন্ত্রিত রেলক্রসিং, খ) অরক্ষিত রেলক্রসিং বা পাহারাদারবিহীন রেলক্রসিং। রক্ষিত লেভেলক্রসিংয়ে চালকের কর্তব্য হচ্ছে- গাড়ির গতি কমিয়ে সতর্কতার সাথে সামনে আগাতে হবে। যদি রাস্তা বন্ধ থাকে তাহলে গাড়ি থামাতে হবে, আর খোলা থাকলে ডানেবামে ভালোভাবে দেখে অতিক্রম করতে হবে। আর অরক্ষিত লেভেলক্রসিংয়ে চালকের কর্তব্য হচ্ছে - গাড়ির গতি একদম কমিয়ে সতর্কতার সাথে সামনে আগাতে হবে, প্রয়োজনে লেভেলক্রসিংয়ের নিকট থামাতে হবে। এরপর ডানেবামে দেখে নিরাপদ মনে হলে অতিক্রম করতে হবে।
তিথি : এছাড়া বিমানবন্দরের কাছে চালককে খুব বেশি সতর্ক থাকতে হবে ,
জেমি : কেন?
তিথি : কারণ ; সাতচল্লিশ: বিমানের প্রচণ্ড শব্দে গাড়ির চালক হঠাৎ বিচলিত হতে পারেন, সাধারণ শ্রবণ ক্ষমতার ব্যাঘাত ঘটতে পারে, বিমানবন্দরে ভিভিআইপি/ভিআইপি বেশি চলাচল করে বিধায় এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়।
তিথি: আমাদের দেশে অনেক চালককেই দেখা যায় গাড়ি রাস্তার কোনপাশ দিয়ে চলাচল করবে তা জানেনা। ফলে উল্টোপাশে গাড়ি চালিয়ে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন। গাড়ি রাস্তার বামপাশ দিয়ে চলাচল করতে হয় ।
তিথি :যে-রাস্তায় একাধিক লেন থাকবে সেখানে বামপাশের লেনে ধীর গতির গাড়ি, আর ডানপাশের লেনে দ্রুত গাতির গাড়ি চলাচল করবে। এভাবে চললে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া অনেকটাই সম্ভব।
জেমি : কখন বামদিক দিয়ে ওভারটেক করতে হয় ?
তিথি: যখন সামনের গাড়ির চালক ডানদিকে মোড় নেওয়ার ইচ্ছায় যথাযথ সংকেত দিয়ে রাস্তার মাঝামাঝি স্থানে যেতে থাকবেন তখনই পেছনের গাড়ির চালক বামদিক দিয়ে ওভারটেক করবেন এটাই সঠিক নিয়ম৷
তিথি: এছাড়া চলন্ত অবস্থায় সামনের গাড়িকে অনুসরণ করার সময় যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা উচিত সেগুলো করছেনা অনেক চালক ফলে ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা ৷
জেমি: সেগুলো কী ?
তিথি : সেগুলো হচ্ছে - আটচল্লিশ : সামনের গাড়ির গতি (স্পিড) ও গতিবিধি, সামনের গাড়ি থামার সংকেত দিচ্ছে কি না, সামনের গাড়ি ডানে/বামে ঘুরার সংকেত দিচ্ছে কি না, সামনের গাড়ি হতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় থাকছে কি না।
তিথি: এছাড়া রাস্তারপাশে সতর্কতামূলক ‘‘স্কুল/শিশু” সাইন বোর্ড থাকলে সেগুলো ফলো করছে না অনেক চালকই ফলে ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা ৷
জেমি: সেখানে চালকের করণীয় কী ?
তিথি : সেখানে চালকের করণীয় হবে - ঊনপঞ্চাশ : গাড়ির গতি কমিয়ে রাস্তার দু-পাশে ভালোভাবে দেখে-শুনে সতর্কতার সাথে অগ্রসর হতে হবে এবং রাস্তা পারাপারের অপেক্ষায় কোনো শিশু থাকলে তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। গাড়ির গতি কমানোর জন্য চালক তার ডানহাত গাড়ির জানালা দিয়ে সোজাসুজি বের করে ধীরে ধীরে উপরে-নীচে উঠানামা করাতে থাকবেন।
তিথি: মনে কর চালক রশিদ গাড়ি চালিয়ে চট্রগ্রাম থেকে লক্ষ্মীপুরে আসতেছে পথিদধ্যে দুটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলদুটি ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে গেল , এতে একটি মোটরসাইকেলের দুই যাত্রী মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেল , অপর মোটরসাইকেলের দুই যাত্রী মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়ে জখম হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুের সঙ্গে একমাস লড়াই করে বেঁচে গেলো ৷ কারণ ঐ দুজনের মাথায় হেলমেট ব্যবহার করায় তারা মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়েও মাথায় কোন আঘাত লাগেনি , শরীরের অন্যান্য অঙ্গে আঘাত লেগে ভেঙে গেলেও চিকৎসার পরে ঠিক হয়েছে , হয়তো তারা আজীবন পঙ্গু হয়েছেন কিন্তু বেঁচে তো রয়েছেন ৷
জেমি: হেলমেট ব্যবহার করার কারণ কী?
তিথি : সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীর হেলমেট ব্যবহার করা একান্তই উচিত কারণ ; পঞ্চাশ: মানুষের মাথা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এখানে সামান্য আঘাত লাগলেই মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। তাই দুর্ঘটনায় মানুষের মাথাকে রক্ষা করার জন্য হেলমেট ব্যবহার করা উচিত।
তিথি: এছাড়া পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি নিয়ে উঠতে কয়েকটি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে উঠতে হবে নইলে হতে পারে মারাত্মক সড়ক দূর্ঘটনা !
জেমি: কি কি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ?
তিথি : যে বিষয়টি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে তা হচ্ছে- একান্ন : সামনের গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ১ নং গিয়ারে বা ফার্স্ট গিয়ারে সতর্কতার সাথে ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে হবে। পাহাড়ের চূড়ার কাছে গিয়ে আরো ধীরে উঠতে হবে, কারণ চূড়ায় দৃষ্টিসীমা অত্যন্ত সীমিত। নিচে নামার সময় গাড়ির গতি ক্রমে বাড়তে থাকে বিধায় সামনের গাড়ি থেকে বাড়তি দূরত্ব বজায় রেখে নামতে হবে। ওঠা-নামার সময় কোনোক্রমেই ওভারটেকিং করা যাবে না।
তিথি: এছাড়া বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি চালনার সময় কয়েকটি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে গাড়ি চালাতে হয় না হয় হতে পারে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা !
জেমি: সেগুলো কি কি ?
তিথি: যে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে তা হচ্ছে - বায়ান্ন: বৃষ্টির সময় রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় ব্রেক কম কাজ করে। এই কারণে বাড়তি সতর্কতা হিসাবে ধীর গতিতে (সাধারণ গতির চেয়ে অর্ধেক গতিতে) গাড়ি চালাতে হবে, যাতে ব্রেক প্রয়োগ করে অতি সহজেই গাড়ি থামানো যায়। অর্থাৎ ব্রেক প্রয়োগ করে গাড়ি যাতে অতি সহজেই থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেইরূপ ধীর গতিতে বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি চালাতে হবে।
তিথি: ব্রিজে ওঠার পূর্বে একজন চালকের যে বিষয়গুলি করণীয় তা হচ্ছে - তিপ্পান্ন : ব্রিজ বিশেষকরে উঁচু ব্রিজের অপরপ্রান্ত থেকে আগত গাড়ি সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না বিধায় ব্রিজে ওঠার পূর্বে সতর্কতার সাথে গাড়ির গতি কমিয়ে উঠতে হবে। তাছাড়া, রাস্তার তুলনায় ব্রিজের প্রস্থ অনেক কম হয় বিধায় ব্রিজে কখনো ওভারটেকিং করা যাবে না।
তিথি: আবার পাশ্বরাস্তা থেকে প্রধান রাস্তায় প্রবেশ করার সময় একজন চালকের যে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় তা হচ্ছে - চুয়ান্ন : পার্শ্বরাস্তা বা ছোট রাস্তা থেকে প্রধান রাস্তায় প্রবেশ করার আগে গাড়ির গতি কমায়ে, প্রয়োজনে থামায়ে, প্রধান রাস্তার গাড়িকে নির্বিঘ্নে আগে যেতে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধান সড়কে গাড়ির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সুযোগমত সতর্কতার সাথে প্রধান রাস্তায় প্রবেশ করতে হবে।
তিথি: রাস্তার ওপর প্রধানত তিন ধরনের রোডমাকিং অঙ্কিত থাকে। সেগুলো নিয়ম মেনে গাড়ি না চালালেও হতে পারে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা।
জেমি: সেগুলো কী কী?
তিথি : বলছি,
তিথি : সেগুলো হচ্ছে - পঞ্চান্ন: ক) ভাঙালাইন, যা অতিক্রম করা যায়।
খ) একক অখন্ডলাইন, যা অতিক্রম করা নিষেধ, তবে প্রয়োজনবিশেষ অতিক্রম করা যায়।
গ) দ্বৈত অখন্ডলাইন, যা অতিক্রম করা নিষেধ এবং আইনত দণ্ডনীয়। এই ধরনের লাইন দিয়ে ট্রাফিকআইল্যান্ড বা রাস্তার বিভক্তি বুঝায়।
তিথি : আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ , বিষয়টি হচ্ছে, ছাপ্পান্ন : একজন পেশাদার চালক দৈনিক এক নাগাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো উচিত নয়। অতঃপর আধাঘণ্টা বিশ্রাম বা বিরতি নিয়ে আবার তিন ঘণ্টা অর্থাৎ এক দিনে আট ঘণ্টার বেশি নয়। তবে এক সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো কোনোমতেই উচিত নয়। এভাবে নীতিমালা মেনে গাড়ি চালালে সড়কে দুর্ঘটনা জিড়োতে আনা সম্ভব হবে।
তিথি : ট্রাফিক আইন মেনে চলুন নিজের মূল্যবান জীবনকে রক্ষা করুন এই স্লোগানকে সামনে রেখে সড়ক যানজট মুক্ত রাখতে ও মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক কয়েকদিন পরপর মাইকিং করা হলে পথচারী সহ সকলেই ট্রাফিক নীতিমালা সম্পর্কে জেনে মেনে চলতে পারবে, প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে ৷
তিথি : যে বিষয়গুলো মাইকিং করে বারংবার সতর্ক করা উচিৎ ,
জেমি: হ্যাঁ বলে দে সেগুলো কী কী ?
তিথি : হ্যাঁ বলছি; সাতান্ন: ক) বেপরোয়া গতিতে যানবাহন না চালানো ,
খ ) মহাসড়কে মিশুক , ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নসিমন , করিমন, ভড ভডি ও ইজিবাইক না চালানো ৷
গ ) মোটরসাইকেলে ২ জনের অধিক আরোহী এবং হেলমেটবিহীন চলাচল না করা ৷
ঘ ) অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক দ্বারা কোনো প্রকার যানবাহন না চালানো ৷
ঙ) নির্দিষ্ট স্থান ব্যতীত যানবাহন থামানো বা যাত্রী উঠানামা না করা ৷
চ) অটোরিকশা , মিশুক , ইজিবাইক ও সিএনজির ডানপাশে লোহার গ্রীল বা রড দ্বারা বন্ধ করে রাখতে হবে ৷
ছ) রেজিস্ট্রেশন বিহীন , ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যাতীত কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারবে না ৷
জ) শব্দ দুষণ প্রতিরোধে মাত্রাতিরিক্ত হর্ণ না বাজানো ৷
ঝ) মার্কেট , বিপনী বিতান , রাস্তার মোড়ে ও গলির মুখে পার্কিং করে গাড়ি না রাখা ৷
ঞ) গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলা সম্পূর্ণ নিষধ করা ৷
ট) সিএনজির সামনে চালকের পাশে যাত্রী পরিবহন না করা ৷
ঠ রাস্তার উপর বা ফুটপাতে কোন প্রকার দোকান বা মালামাল না রাখা ৷
তিথি : সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এমন উদ্যোগ দেশের সিটি শহর থেকে শুরু করে জেলা , উপজেলা এমনকি মহল্লায় মহল্লায় প্রতি সপ্তাহে বা মাসে অন্তত একবার করে হলেও জনসচেতনতামূলক মাইকিং করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে মনে করছা ৷
তিথি: আটান্ন: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক আইন ও ট্রাফিক সাইনের বিকল্প কিছু নেই।
জেমিঃ ট্রাফিক সাইন আবার কী?
তিথিঃ ট্র্যাফিক সাইন যা আপনাকে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে এবং তথ্য সরবরাহ করে। ট্র্যাফিক সাইনগুলি চালকদের এবং পথচারীদের রাস্তায় সুরক্ষিত রাখার একটি অপরিহার্য অঙ্গ, কারণ তারা প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্কতা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
জেমিঃ ট্রাফিক সাইন কত প্রকার কী কী?
তিথিঃ ট্রাফিক সাইন বা রোড সাইন প্রধানত ৩ প্রকার।
জেমি: সেগুলো কী কী?
তিথি: বলছি,
তিথি : ট্রাফিক সাইন বা রোড সাইনগুলো হচ্ছে-
ক ) বাধ্যতামূলক ⇒ যা প্রধানত বৃত্তকৃতির হয়।
খ ) সতর্কতামূলক ⇒ যা প্রধানত ত্রিভুজাকৃতির হয়।
গ) তথ্যমূলক ⇒ যা প্রধানত আয়তক্ষেত্রাকার হয়।
জেমিঃ ট্রাফিক সাইন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
তিথিঃ ট্র্যাফিক সাইনগুলি ড্রাইভার এবং অন্যান্য রাস্তা ব্যবহারকারীদের জন্য মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে। এগুলি আপনাকে সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন নিয়মের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করে এবং চালক এবং পথচারীদের উদ্দেশ্যে বার্তা যোগাযোগ করতে সহায়তা করে যা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারে এবং দুর্ঘটনা হ্রাস করতে পারে।
তিথিঃ এবার তোকে বিভিন্ন প্রকার ট্রাফিক সাইন সম্পর্কে বলছি :
জেমি: হ্যাঁ বল।
তিথি: লাল বৃত্তাকার সাইন এটি নিষেধ বা করা যাবে না বা অবশ্যবর্জনীয় নির্দেশনা প্রদর্শন করে।
তিথি: লাল ত্রিভুজাকৃতির সাইন এটি সতর্ক হওয়ার নির্দেশ করে, একজন চালকের কোন কোন স্থানে ওভারটেক করা নিষেধ সেগুলি প্রদর্শন করে।
তিথি : নীল বৃত্তাকার সাইন এটি করতে হবে বা অবশ্যপালনীয় নির্দেশনা প্রদর্শন করে।
তিথি: এছাড়া নীল রঙ্গের আয়তক্ষেত্র এটা সাধারণত তথ্যমূলক সাইন এবং সবুজ রঙের আয়তক্ষেত্র এটি পথনির্দেশক তথ্যমূলক সাইন, যা জাতীয় মহাসড়কে ব্যবহৃত হয়।
তিথি: কালো বর্ডারের সাদা রঙের আয়তক্ষেত্র এটিও পথনির্দেশক তথ্যমূলক সাইন, যা মহাসড়ক ব্যতীত অন্যান্য সড়কে ব্যবহৃত হয়।
তিথি: লাল বৃত্তের মধ্যে হর্ন আঁকা থাকলে এর দ্বারা হর্ন বাজানো নিষেধ বুঝানো হয় এবং লাল বৃত্তের ভিতরে একটি বড় বাসের ছবি আঁকা থাকলে এর দ্বারা বড় বাস প্রবেশ নিষেধ বুঝায়।
তিথি: লাল বৃত্তে একজন চলমান মানুষের ছবি আঁকা থাকলে এর দ্বারা পথচারী পারাপার নিষেধ বুঝায় এবং লাল ত্রিভুজে একজন চলমান মানুষের ছবি আঁকা থাকলে এর দ্বারা সামনে পথচারী পারাপার, তাই সাবধান হতে হবে এমনটাই বুঝায় আবার লাল বৃত্তের ভিতর একটি লাল ও একটি কালো গাড়ির ছবি আঁকা থাকলে এর দ্বারা ওভারটেকিং নিষেধ করা বুঝায়।
তিথি : লাল বৃত্তে ৫০ কি. মি. লিখা থাকলে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘন্টায় ৫০ কি. মি. হবে, অর্থাৎ ৫০ কি.মি. এর বেশি গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না।
তিথি : একইভাবে নীল বৃত্তে ৫০ কি. মি. লিখা থাকলে এর দ্বারা গাড়ির সর্বনিম্ন গতিসীমা হবে ঘন্টায় ৫০ কি. মি., অর্থাৎ ঘন্টায় ৫০ কি. মি. এর কম গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না এবং আয়তক্ষেত্রে P লেখা থাকলে এর দ্বারা পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানকে বুঝানো হয়। অর্থাৎ Pলেখা স্থানেই গাড়ি পার্কিং করতে হবে এছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি পার্কিং করা যাবে না বা করাটা ঠিক হবে না।
তিথি : সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আর যা করতে হবে,
সত্তর : ক) সড়কের নকশা ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান করতে হবে ,
খ) সড়ক নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঘাটতি নিরসন করতে হবে ।
গ) যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।
ঘ ) একই সড়কে নানা ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধে সার্ভিস লেন অথবা সড়ক বিভাজক তৈরি করতে হবে ।
জেমিঃ তাহলে ট্রাফিক নিয়ম কি?
তিথিঃ ট্রাফিক পদ্ধতি নির্দেশনা বলতে ট্রাফিক চলার একটি নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতিকে বোঝায় যা অনুসারে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সকল যানবাহন চলাচল করে। সাধারণত দুই ধরনের ট্রাফিক পদ্ধতি লক্ষ করা যায়। একটি হল ডানদিকগামী এবং অপরটি বামদিকগামী এটা অত্যাবশ্যকীয় যে যানবাহনগুলো ট্রাফিক চলার নিয়ম-নীতিগুলো মেনে চলে।
তিথি : এছাও ট্রাফিকে কয়েকটি নিয়ম অতীব জরুরী যা চালকসহ সকলেরই জানা এবং মানা প্রয়োজন।
জেমি: সেগুলো কী কী?
তিথিঃ ট্রাফিক নিয়মে যে নিয়ম আমাদের সকলের মানা উচিত সেগুলো বলছি;
তিথি : ঊনষাট : অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বর্জন করা ,
তিথি: অনেকেই আছেন, যারা অনেকদিন ধরে গাড়ি ড্রাইভ করেন বিধায় মনে করেন তারা সব ট্রাফিক আইন এবং ড্রাইভিং নিয়ম জেনে বসে আছেন। এবং ফলশ্রুতিতে তারা মাঝে মাঝে এইসব ড্রাইভিং সেফটির কথাটি ভুলেও যান। কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিৎ, রাস্তায় বেশিরভাগ দুর্ঘটনার পেছনে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস।
তিথি: ষাট: ট্রাফিক আইন মান্য করে গাড়ি চালানো , একজন সুনাগরিক হিসেবে আপনার উচিৎ এমন ভাবে চলাফেরা করা যা অন্যদের জন্য উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। সবাই যেন বলতে পারে, আপনি খুব সুন্দরভাবে নিয়ম মেনে রাস্তায় গাড়ি ড্রাইভ করে থাকেন।মনে রাখবেন আপনি যখন আপনার সন্তান কিংবা পরিবারের কাউকে পাশে বসিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করেন তখন তারা আপনাকে দেখেই শিখতে থাকে কীভাবে রাস্তায় সুনাগরিকের মতো গাড়ি চালাতে হয়। অতএব, আপনি যদি আজ অফিসে বা কোথাও পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাচ্ছে বিধায় ট্রাফিক আইন অমান্য করেন, আপনাকে অনুসরণ করা মানুষটিও আপনার মতো আইন অমান্য করা শিখে যাচ্ছে। তাই আপনার উচিৎ সবসময় ট্রাফিক আইন মান্য করা।
তিথি: একষট্রি: আপনি কি একই সাথে গাড়ি ড্রাইভ, গান শোনা, স্যান্ডুইচে কামড় দেয়া আর ফোনে কথাবলা চালিয়ে যান? যদি এই অভ্যাস থেকে থাকে তাহলে আপনার উচিৎ অতি দ্রুতই এই অভ্যাস ত্যাগ করা।
তিথি: গাড়ি ড্রাইভ করার সময় মাল্টি টাস্কিং করলে আপনি যতটা না সুপারহিউম্যান হয়ে ওঠেন তার চাইতেও বেশি বিপদকে ডেকে আনেন। কারণ গাড়ি ড্রাইভিং এর সময় একাধিক কাজ একত্রে করলে তা আপনাকে মানসিকভাবে ড্রাইভ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। এর ফলে শুধু যে আপনি নিজে বিপদের সম্মুখীন হবেন তা কিন্তু নয়, গাড়িতে থাকা আপনার পরিবারকেও বিপদের সম্মুখীন করে দিচ্ছেন।
তিথি: : তিথি: সঠিক স্থানে গাড়ি পার্কিং করা, বাষট্রি: সঠিক স্থানে গাড়ি পার্কিং না করার ফলে ঘটতে পারে নানা ধরনের সমস্যা। রাস্তায় অতরিক্ত জ্যাম থেকে শুরু করে নানা ধরনের সড়ক দূর্ঘটনা ঘটতে পারে আপনি যদি গাড়িটি সঠিক স্থানে না পার্কিং করেন। গাড়ি পার্কিং এর জন্য যে নির্দিষ্ট স্থান আছে চেষ্টা করতে হবে সেখানে পার্কিং করার জন্য অথবা আপনার আশেপাশে যদি স্মার্ট পার্কিং ব্যবস্থা থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই সেখানে গাড়ি পার্কিং করবেন। কখনই আপনি রাস্তার পাশে বা কোন মার্কেটের সামনে গাড়ি পার্কিং করবেন না।
তিথি: গাড়ির যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা, তেষট্রি: গাড়ির যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করে গাড়ি চালানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি ত্রুটিযুক্র গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া কতটা ভয়ঙ্কর বিষয়! যখন তখন ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের একটা দূর্ঘটনা। এই জন্য একজন গাড়ি চালকের উচিৎ গাড়ির প্রাথমিক বিষয়গুলো পরীক্ষা করে রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হওয়া।
তিথি: ফিটনেস বিহীন গাড়ি না চালানো, চৌষট্টি : ফিটনেস বিহীন গাড়ি দূর্ঘটনার অন্যতম একটি প্রধান কারণ। গাড়ির যদি ব্রেক, চাকা, ইঞ্জিন ত্রুটিযুক্ত হয় তাহলে দূর্ঘটনা ঘটার চান্স তো এমনিতেই বেড়ে যাবে। এছাড়া ত্রুটিযুক্ত ইঞ্জিনের কারণে গাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হয় যা সাধারণ লোকের স্বাস্থোর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ বিষয়গুলো একজন চালকের অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিৎ।
তিথি: পঁয়ষট্রি: মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানো; প্রতি বছর পৃথিবীতে যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে তার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে মদ্যপান বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি ড্রাইভ করা। বিশেষ করে যারা তরুণ তারা বুঝতেও পারেনা যে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি ড্রাইভ করে তারা কীভাবে নিজের জীবনের মৃত্যু ডেকে আনছেন। নেশাজাত দ্রব্য একজন মানুষের মুডকে পরিবর্তন করে ফেলেন। এলকোহল মানুষকে উগ্র করে তোলে। ফলে একজন মদ্যপ যখন গাড়ি ড্রাইভ করেন তখন তিনি অনেক ট্রাফিক আইন না মেনেই নিজের মতো গাড়ি চালান। আর বিপদের মুখোমুখি হয়ে পড়েন।
তিথি: ছেষট্টি : ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং বাস্তবায়ন করা, একজন সুনাগরিক হিসেবে আমাদের সকলেরই উচিৎ নিজ নিজ দেশের আইন কানুন মেনে গাড়ি চালানো। ট্রাফিক আইন বা সিগন্যাল একটা দেশের খুবই গুরুত্বপূর্ণ আইন। কোন ধরণের তাড়াহুড়া বা আবেগের বশেও ট্রাফিক সিগনাল ভঙ্গ করা উচিৎ নয়। আপনি যদি ভেবে থাকেন সিগন্যাল না মেনে একটু আগে আগে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন তাহলে সেটা একটা ভুল ধারণা। কারন ট্রাইফ সিগন্যাল ভাঙলে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়ে আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে আরো বেশি দেরি হয়ে যেতে পারে।
তিথি: সাতষট্টি : ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানা, রাস্তায় গাড়ি ড্রাইভ করতে গেলে রাস্তার অনেক জায়গায় অনেক রকম সিগন্যাল এবং সাইন দেখা যায়। যেসব সাইন এবং সিগনালগুলো চালকের জন্য নির্দেশক হিসেবে কাজ করে থাকে। তাই কোথায় কীভাবে গাড়ি চালাতে হবে তা বুঝার জন্য, এইসব সিগন্যাল এবং সাইনগুলো সঠিকভাবে জানতে হবে এবং সেই অনুপাতে গাড়ি চালনা রপ্ত করতে হবে। এতে করে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
তিথি: আটষট্টি : পরিবারের সদস্যদের ট্রাফিক আইন শিক্ষা দেওয়া, আপনি একাই যদি ট্রাফিক আইন মেনে চলেন তাহলে কিন্তু নাগরিক হিসেবে আপনার সকল দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় নি। একজন সুনাগরিকের সমাজ এবং দেশের প্রতিও দায়বদ্ধতা থাকে। আর সেই দায়বদ্ধতা থেকেই উচিৎ পরিবার পরিজন বা বন্ধুবান্ধবকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা।
তিথি : ঊনসত্তর : কেউ যদি ট্রাফিক আইন ২০১৮ না জানে তাকে ট্রাফিক আইন শিখিয়ে দেয়াও আপনার সামাজিক দায়িত্ব। আমাদের দেশের সড়ক দুর্ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এইসব দুর্ঘটনায় অনেক শিশু কিশোর হতাহত হয়ে থাকে। তাই তাদের এই হতাহতের পরিমাণ কমিয়ে আনার জন্য তাদেরকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কিত জ্ঞান প্রদান করা দরকার ।
জেমি: তুই ঠিক বলছো, ট্রাফিক সাইন এবং আইনগুলো সবাইকে হাতেকলমে শিখানোর ব্যবস্থা করতে পারলে তখন সবাই আইন জেনে মেনে চলত ফলে সড়ক দুর্ঘটনাও কমে যেতো।
জেমি: সড়ক আইন ২০১৮ কী ?
নবীন প্রেমের উদয়! প্রথম খণ্ড, পর্ব : পাঁচ , সমাপ্ত।।
[রচনাকালঃ ২০ মার্চ ২০১২ইং]
মনমাতানো লেখা পড়ে বিমোহিত হলাম
উত্তরমুছুন