নবীন প্রেমের উদয়! প্রথম খণ্ড,
নাঈম হোসেন
পর্ব : চার [হুবহু জেমির বর্নণা ] ;
জেমি: চোখের পানি মুছতে মুছতে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, তিথি শোন;
তিথি হ্যাঁ বল;
জেমি: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত যেভাবে বেড়েছে এবং দুর্ঘটনায় যে পরিমাণে মানুষ মারা যাচ্ছে আর পঙ্গু হয়ে অসহ্য জীবন কাটাচ্ছেন পুরো জাতি এতে বিচলিত এবং আতঙ্কিত ৷ ঘরের বাইরে বের হলেই এক অজানা মৃত্যুভয় মনের মধ্যে চেপে বসে এই বুঝি গাড়ি উঠে গেল গায়ে , এই বুঝি প্রাণবায়ু বের হয়ে যাবে ? আর মনে হয় পরিবারের কাছে ফেরা হবেনা! সকল স্বপ্ন বুঝি এখনই সড়কের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে যাবে এমন ভয়ে থরোথরো থাকতে হচ্ছে যতক্ষণে না বাড়ি ফেরা হয় তাইনা তিথি?
তিথি : তুই সত্যি কথাই বলছো! আমাদের দেশের সড়ক-মহাসড়কে হরহামেশাই চলছে মৃত্যুর প্রতিযোগিতা প্রতিদিনই একের পর এক তাজা প্রাণ হারিয়ে যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায়।
তিথি: এভাবেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য পরিবার। আর যেসব লোক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন অথবা পঙ্গুত্ব বরণ করেন তাদের পরিবারের খবর আমাদের সমাজে বিত্তশালীরা কেউ রেখেছে কী ?
জেমি: সত্যি -ই আমাদের এই নিষ্ঠুর সমাজে তাদের খবর কেউ রাখেনা৷
তিথি: কখনও কখনও তো এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে সে দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিই মারা যান৷ তখন ঐ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো থাকেনা কেউ , আর যারা পঙ্গুত্ববরণ করে তাদের পরিবারের অবস্থা এতো বেশি শোচনীয় হয় যা বলার কোন ভাষা থাকেনা ৷
জেমি: তাদের খবর আমরা কেউ রাখছিনা , এমনকি রাখার প্রয়োজনও মনে করিনা ৷ এটাই বর্তমান সমাজের বাস্তব চিত্র৷
জেমি: এইতো গেলো কয়েকদিন পূর্বে আমাদের পাশের এক বৌধি বাপের বাড়ি থেকে আসার পথে ট্রাকের নীচে পিষ্ট হয়ে স্বপরিবারে মারা গেছেন। কী মর্মান্তিক মৃত্যুইনা হয়েছে তাদের! কিন্তু তাদের কষ্ট, তাদের আর্তনাদ শুনেও নিষ্ঠুর এই পৃথিবী কিছুক্ষণের জন্য কেঁদেছিল তারপর চিন্তা রেখা থেকে চিরদিনের জন্য মুছে দিয়েছে৷
তিথি : আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করেছিস আজকাল সড়ক দুর্ঘটনা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে একটি ঘটনার রেশ না কাটতেই ঘটছে আরেকটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ৷ আবার এসব দুর্ঘটনার সকল খবর কিন্তু আমরা জানতে পাইনা৷ কারণ , সকল সড়ক দুর্ঘটনার খবর সোস্যাল মিডিয়ায় আসছে না৷ কিছুকিছু সড়ক দুর্ঘটনা ক্ষমতাশীলরা টাকা দিয়ে রাতারাতি কবর দিয়ে দেয়৷ কিন্তু যেগুলোর খবর আসছে, সেগুলোই বা কতটা ন্যায় বিচার পেয়েছে ? কতটুকুই তারা ক্ষতিপূরণ পেয়েছে ?
জেমি: তাহলে শোন; সড়ক বিভাগ ,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী , আরও যেসকল সরকারি বেসরকারি সংস্থা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করছে তারা কিন্তু এর থেকে পরিত্রাণের জন্য কম চেষ্টা করছে না৷ তাদের প্রাণপণ প্রচেষ্টায়ও কার্যকর কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি বরং সংকট দূরীভূত হওয়া তো দূরে থাক আরও ভয়ংকর রুপ ধারণ করছে৷
জেমি: এছাড়া বিভিন্ন ছাত্র-জনতার আন্দোলন-সংগ্রামেও রাজপথ কম্পিত হয়েছে। কিন্তু জনগণের আঁখিদ্বয় এখন শুধু একটাই স্বপ্ন , একটাই চাওয়া- পাওয়া তা হচ্ছে এখন এ মরণব্যধি সড়ক দুর্ঘটনা থেকে চিরমুক্তির প্রত্যাশা !
তিথি : সেটাই !
জেমি: পত্রপত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে সড়ক দুর্ঘটনার খবর ৷ আমার মনে হয় এমন কোন দিন পাওয়া দুরূহ হবে যেদিনটায় নিউজে কোন সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ ছাপা হয়নি৷
জেমি: কী পরিমাণ সড়ক দুর্ঘটনা যে বেড়েছে তা হিসেবে রাখাও মুশকিল ৷ এইতো সেদিন একটা পত্রিকার পাতা খুলেই দেখলাম , জানুআরি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই দশ মাসে দেশে ২ হাজার ৩টি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৭ জন নিহত হয়েছে৷ আহত হয়েছে ১ হাজার ২৮৬ জন৷ ২০ নভেম্বর ২০২২( রবিবার ) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক , ৭ টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যে বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে ৷ তার মানে শুধু মোটরসাইকেলেই ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৯৭ জনের স্বপ্ন কবর হয়েছে৷
জেমি: বর্তমানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে যুব সমাজ হেলমেটবিহীন বিশেষ স্টাইলে লুকিং গ্লাস ব্যতীত দ্রুতগতিতে অধিক সিসিযুক্ত মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেক মা-বাবা হারাচ্ছেন তাদের প্রিয় সন্তানদের।
তিথি : মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা বৃদ্ধির কারণ কী জানিস ?
জেমি: না!
তিথি: ২০১৬ সালে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল আট লাখ, ২০২০ সালে সেটি ৩২ লাখে দাঁড়িয়েছে। চার বছরে মোটরসাইকেলের সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী , মোটরসাইকেল ৪ চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ; কিন্তু দেশে গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য না হওয়া এবং যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনা বাড়ছে।
তিথি : ২০২১ সালে সবচেয়ে বেশি হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। অপর একটি পরিসংখ্যান বলছে, ৫ হাজার ৩৭১টি দুর্ঘটনার মধ্যে ২ হাজার ৭৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ২১৪ জন, যা মোট নিহতের ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
জেমি: কয়েকদিন পূর্বে একটি প্রতিবেদনে দেখলাম , ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং প্রাণহানি বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে ৫০ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং প্রাণহানি বেড়েছে ৫১ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
জেমি : বুয়েটের এক গবেষণা মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ বছরের নিচে তরুণ প্রজন্মের মৃত্যুহার বেশি। কারণ তরুণদের বেশির ভাগই মোটরসাইকেল আরোহী। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনার পরিমাণ ২০১৯ সালে ছিল ২০ দশমিক ২ শতাংশ। সেটা এখন ২৩ শতাংশে চলে গেছে।
তিথি: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্য যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছে ২১ দশমিক ১২ শতাংশ, মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৫ দশমিক ২৭ শতাংশ,
তিথি: মোটরসাইকেলে ভারী যানবাহনের চাপা ও ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ।
তিথি : শোন; আমার একটা মর্মস্পর্শি কথা হঠাৎ মনে পড়েছে, বছর খানেক হয়েছে আমার এক মুসলিম বান্ধবীর ছোট ভাই পুকুরে পড়ে মারা গেছে, তার বাবা ছিলেন মসজিদের ইমাম তিনি এই খবর পেয়ে মেজো ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মটরসাইকেল চালিয়ে বাড়িতে রওনা দিয়েছেন, মাঝপথে এসে একটা সিএনজির সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলে থাকা পিতা -পুত্র দুজনেই মারা যান, এই খবর শুনে বাড়িতে মা স্টক করে সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় বেঁচে থাকে শুধু আমার বান্ধবী। সে মর্মস্পর্শি ঘটনা দেখার পর রাস্তা দিয়ে হাঁটতেই আমার কলিজা কাঁপে। মৃত্যু সকলের জন্যই অনিবার্য। কেউ তা থামাতে পারবে কী? কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু মেনে নেয়া খুবই কঠিন। একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারকে পথে বসিয়ে দেয়। স্বজন হারানোর বেদনা সারা জীবন বইতে হয়। প্রিয়জন হারানোর কষ্টের কোনো বর্ণনা হয় না। যে হারায় কেবল সেই বোঝে। কতটা দিন হয়েগেছে আমি এখনও আমার প্রিয়তমকে ভুলতে পেরেছি কী?
তিথি: কোথাও সড়ক দুর্ঘটনার খবর শুনলেই আমার ওর কথা মনে পড়ে ...
জেমি: সান্ত্বনা দিয়ে থাক ওকথা আর মনে করিসনা ঈশ্বর যেমনটা চাইবেন তেমনটাই হবে ! ঈশ্বরের লিখন কেউ কখনও খণ্ডাতে পেরেছে কী?
তিথি : গুমরে কেঁদে উঠল ! চোখ দিয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে৷
জেমি : ফের শান্তনা দিয়ে বললঃ দেশে সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্যই কিন্তু এসব সড়ক দুর্ঘটনা কিছুতেই কমছে না বরং দিন দিন বাড়ছে, অবস্থা ‘মহামারি’ রুপ ধারণ করেছে৷
জেমি: কয়েকদিন পূর্বে খবরের পেপারে দেখলাম একটা পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৬৪ জন। আর এই সংখ্যা বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহতদের সংখ্যার মধ্যে সর্বোচ্চ। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।
জেমি: বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রকাশিত প্রতিবেদন মতে, সড়ক দুর্ঘটনার ফলে বছরে গড়ে বাংলাদেশের জিডিপির শতকরা দেড় ভাগ নষ্ট হয়, যার পরিমাণ অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকা। বিগত ৬ বছরে সারাদেশে ৩১ হাজার ৭৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩ হাজার ৮৫৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯১ হাজার ৩৫৮ জন।
জেমি: এছাড়া ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণে বছরব্যাপী লকডাউনে পরিবহন বন্ধ থাকা অবস্থায়ও ৪ হাজার ৮৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৬৮৬ নিহত ও ৮ হাজার ৬০০ জন আহত হয়েছেন। আর ২০২১ সালে সারাদেশে ৫ হাজার ৩৭১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ২৮৪ এবং আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬৮ জন।
জেমি: আবার ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে অন্তত ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা আমাদের জিডিপির দেড় শতাংশ। ২০২০ সালে এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা। আর ২০২১ সালে দুর্ঘটনায় মানবসম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা জিডিপির দশমিক ৩ শতাংশ।
জেমি: আমি আরও কয়েকটি পত্রিকার নিউজে দেখলাম , ২০১৬ সালের চেয়ে ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি হয়েছে। প্রায় পাঁচ ভাগের একভাগ বেশি। ২০১৭ সালে ৭ হাজার ৩৯৭ জন নিহত হয়েছেন। আর আহতের সংখ্যা ১৬ হাজার ১৯৩। হাত-পা হারিয়ে পঙ্গু হয়েছেন ১ হাজার ৭২২ জন। এসব দুর্ঘটনায় মোট যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাও জিডিপির প্রায় দুই শতাংশের মতো।
জেমি : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত এক নিউজের প্রতিবেদনে উঠেছে একটি লোমহর্ষক ঘটনা, দিনটি ছিল শুক্রবার ফরিদপুরের নগরকান্দায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা হয় , সে দুর্ঘটনায় ১৩ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়, আহত হয় ৩৩ জন। একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে এই মর্মবিদারি হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরেরদিন শনিবার রাত পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ১২ জন নিহত ও ৪২ জন আহত হয়। তারপরেরদিন রবিবার নরসিংদীতে বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়, আহত হয় ৩০ জন। একই দিনে রাজধানী ও সাভারে পৃথক দুর্ঘটনায় আরো অন্তত ২ জনের মুত্যু হয়। মাত্র তিনদিনে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৯ জন। আহতের সংখ্যা শতাধিক। এই হিসাব মতে, তিন দিনে গড়ে প্রতিদিন ১৩ জন নিহত ও ৩৩ জনের বেশি আহত হয়েছিল ।
জেমি : পুলিশের হিসাবে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে এ সংখ্যা ৬ থেকে ৭ হাজার। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের মতে ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দাবি, ২০ হাজারেরও বেশি। হিসাবগুলোর মধ্যে পার্থক্য থাকলেও পুলিশের হিসাবের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা যে অনেক বেশি তাতে সন্দেহ নেই বললেই চলে৷
জেমি: যাত্রীকল্যাণ সমিতি সাধারণত, পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে হতাহতের হিসাব তৈরি করে। সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের অনেক খবরই পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয় না। এই যে ২-৩ হাজার থেকে ২০ হাজারের মতো মানুষ মারা যায়, একে কি আমরা কেউ আদৌ গুরুত্ব দিই? দেইনা৷ শত শত মানুষ যে প্রতি বছর, আহত কিংবা পঙ্গু হয়ে অক্ষম হয়ে যায়, তাদের কথা কি কেউ বিবেচনায় নেই? নেই না কিন্তু যদি হতাহতের সংখ্যা এবং পরিবার ও সমাজে এর প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিতাম, বিবেচনায় নিতাম তাহলে সড়ক দুর্ঘটনার সয়লাব ও হতাহতের ‘মড়ক’ ঠেকানোর কার্যকর পদক্ষেপ নিতাম এবং অবশ্যই এতদিনে তা সহনসীমার মধ্যে চলে আসত কিন্তু বাস্তবে ঘটছে এর বিপরীত , সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা তো কমছেই না বরং আরও বাড়ছে।
তিথি ওড়নার আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে বললঃ আরও মর্মস্পর্শি কথা শোন; ১৬ জুলাই ২০২২( শনিবার) দিনটি ছিল একটি কাল দিন৷ ঐদিন যেন সড়কে হয়েছে মৃত্যুর মিছিল ৷ কারণ তারপরের দিন রবিবার খবরের পেপার পড়ে জানতে পারলাম , সারা দেশে একদিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসের ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন। এবং এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নয় জন। ভোররাতে ঢাকা - টাঙ্গাইল মহাসড়কে দুল্যা মনসুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটেছিল৷ তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
তিথি: মির্জাপুরে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বাস চাপায় এক নারী ও তার দুই শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। দুপুর পৌনে ১২ টার দিকে ঢাকা -টাঙ্গাইল মহাসড়কের জামুর্কী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে । এতে প্রান দিতে হয় - মির্জাপুর উপজেলার বাশতৈল এলাকার মোঃ মাসুদের স্ত্রী ২৮ বছরের পারভীন আক্তার এবং তার আদরের দুই শিশু সন্তান ৮ বছরের সুমন ও ৬ বছরের সাদিয়ার৷
তিথি : ঐদিন বগুড়ার কাহালু উপজেলায় প্রাইভেটকার ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। হতাহত সবাই প্রাইভেটকারের যাত্রী ছিল বলে জানা যায় ৷ এতে স্বপ্ন পুড়ে কবর হয়েছে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার জহতনগর গ্রামের তানসের আলী ও তার ছেলে টগর। একই গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রহমান ও প্রাইভেটকার চালক সুমন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বগুড়া - নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের কালেরপুকুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছিল ৷
তিথি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও নয় জন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। দুপুর পৌনে ২টার দিকে হাটিকুমরুল-বনপাড়া সড়কের খালকুলা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছিল , তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
তিথি: ব্রামণবাড়িয়ার কুমিল্লা সিলেট মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে দশটার দিকে সদর উপজেলার উজানিসার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ভাগ্যের চাকা চিরদিনের জন্য থেমে যায় সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা ৫০ বছরের অটোরিকশার চালক চাঁন মিয়া এবং অটোরিকশার যাত্রী ৪৫ বছরের বিল্লাল হোসেন । তিনি কসবা উপজেলার খাড়েরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা যায়৷
তিথি: একইদিনে গাজীপুরে ভোর চারটার দিকে মহানগরের পুবাইলের বসুগাঁওয়ে টঙ্গীগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে উল্টোপথে আসা নরসিংদিগামী লেগুনার সংঘর্ষ হয় ৷ এতে লেগুনার ১২ যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে ৩৮ বছরের মনিরুজ্জামান নামে একযাত্রী মারা যান। এবং একই এলাকার পুবাইলের সুকুন্দিবাগ ব্রিজ এলাকায় সকাল সাড়ে আটটায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩৫ বছরের ইব্রাহিম হোসেন নামে একযাত্রী প্রাণ দেন৷ ইব্রাহিম নরসিংদির মনোহরদী উপজেলার ইদ্রিস আলীর ছেলে বলে জানা যায় ৷
তিথি: নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার টেংগনমারী থেকে মীরগঞ্জ সড়কের বটতলা শান্তিনগর বাজারে বেপরোয়া গতির একটি ট্রাকের চাপায় ৪৫ বছরের ভ্যানচালক আজিজুল হক জীবন দেন৷ সকাল সাড়ে দশটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে ৷ তিনি জলঢাকা উপজেলার আরজি কাঠালি বালাপাড়া এলাকার মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে বলে জানা যায় ৷
তিথি: ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটা যাচ্ছিল। পথে বরিশাল - পটুয়াখালী মহাসড়কের মৌকরণ ব্রিজের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে কমছেকম ২০জন আহত হয়েছেন।
তিথি: এছাড়া ভূজপুর থানার মির্জারহাট এলাকায় সকালে গহিরা- হেয়াকোঁ সড়কে পিকআপ - সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ভূজপুর উত্তর শৈলকুপা এলাকার আবু তাহেরের স্ত্রী ১৮ বছরের শারমিন আক্তার নিহত হয়েছেন এবং একই ঘটনায় তার ৯ বছরের ছেলে মোবারক হোসেন ও বোনের মেয়ে ১২ বছরের শম্পা কলি আহত হয়েছে , আহত আরেক ব্যক্তির নাম জানা যায়নি।
তিথি: একই দিনে দিনাজপুরে খানসামা উপজেলার খানসামা বাজার থেকে আমতলী বাজার যাওয়ার পথে ট্রাকের ধাক্কা খেয়ে উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের একরামুল মেম্বার পাড়ার তফসের আলীর ছেলে ২৬ বছরের জাকির হোসেন নামে একজন মোটরসাইকেল চালক নিহত হন।
তিথি: ঐদিন একবুক স্বপ্ন নিয়ে খোসালপুর গ্রামের মৃত আজিবর রহমানের ছেলে কৃষক লোকমান হোসেন সকালে বাড়ি থেকে সবজি নিয়ে আলমসাধুযোগে অন্যদের সঙ্গে উপজেলার বারোবাজারে যাচ্ছিলেন,
তিথি : মাঝপথেই তার সকল স্বপ্ন কবর হয়েছে ৷ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঝিনাইদহ টু যশোর মহাসড়কের কালীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর নামক স্থানে পৌঁছতেই পেছন দিক থেকে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আলমসাধুটিকে ধাক্কা দেয় এতে নিমিষের মধ্যে নিভে যায় তার জীবন প্রদীপ এসময় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছিল কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে তারা বেঁচে যায়৷
তিথি: শনিবার বিকেলে সিলেটগামী মিতালি পরিবহনের একটি বাস ঢাকা টু সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের , নবীগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা একটি সিএনজিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং অপর আরেকজন হাসপাতালে নেওয়ার পরে মারা যায় ৷ এভাবেই দুটি পরিবারের স্বপ্ন পণ্ড হয়ে যায় সেদিন ৷
তিথি :কথায় আছে রাখে আল্লাহ মারে কে? শনিবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা টু ময়মনসিংহ মহাসড়কে ত্রিশালের কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় এমনই একটি লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে ৷
জেমি: কী সে ঘটনা ?
তিথি: তবে শোন ; অন্তঃসত্ত্বা রত্না বেগমের ডেলিভারির তারিখ দুইদিন পার হয়ে যাওয়ায় তিনি একদিকে মনে অনেক হতাশা অন্যদিকে কলিজার টুকরো নতুন মেহমান দেখার অধীর আগ্রহ নিয়ে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে আসেন কিন্তু তিনি কী জানতেন ইঁদুর কপাল তাকে পৈপৈ করে অনন্তকালের দিকে ডাকছে, কোনদিন আর সে সন্তানের মুখ দেখতে পারবেনা৷ শুধু কী তাই সন্তান ও আর কোনদিন মাকে মা বলে, ৪০ বছরের জাহাঙ্গীর আলম কে বাবা বলে ডাকতে পারবে না , ভাই-বোন কেউ থাকবেনা ছয় বছরের বোন সানজিদাও তাকে ছেড়ে বাবা - মায়ের সঙ্গে চলে গেছে ৷ এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে তার আর আপন বলতে কেউ থাকবেনা ৷
তিথি : সবাইকেই সঙ্গে করে কবরে নিয়ে গেছেন মা রত্না বেগম ৷ সেদিন চেকআপ করে ফেরার পথে রাস্তা পারাপারের সময় একটি ট্রাক তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই পরিবারের ওই তিনজনের মৃত্যু হয়। তখন আঘাত পেয়ে গর্ভপাত ঘটে রত্নার। আর অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে পেট ফেটে বেড়িয়ে আসা সেই নবজাতকটি। শিশুটিকে পরে লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে সদরের সিবিএমসিবি ভর্তি করে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। হাসপাতালটির মেডিকেল অফিসার আরিফ আল নূর বলেন, আমরা বাচ্চাটির অবস্থা ভালো পেয়েছি। পরে এক্সরে করার পর ডান হাতের দুটি অংশ ভাঙা পেয়েছি। সেজন্য তাকে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রাখা হয়৷ ঈশ্বর চাইলে সবকিছু সম্ভব !
জেমি: ট্রাকের চাপায় পেট ফেটে কীভাবে বাচ্চা জীবিত বেড়িয়ে এলো?
তিথি: পেট ফেটে শিশুর জন্ম নেয়ার প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আফতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যদি ওই ট্রাক শুধুমাত্র নারীর মাথা থেঁতলিয়ে চলে যেত, তাহলে শিশুটি অক্সিজেন না পেয়ে গর্ভেই মারা যেত। অথবা জরায়ুর মুখ দিয়ে শিশুটি দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসত। ‘পেটের একাংশের ওপর দিয়ে গাড়ি চলে গিয়ে পেটের মাঝখানে চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় পেট ফেটে গর্ভে থাকা শিশুটি শতভাগ মারা যাওয়ার শঙ্কা থাকলেও সৌভাগ্যক্রমে সে বেঁচে আছে ৷ তবে নবজাতকটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছে, পরম মমতায় খাওয়ানো হচ্ছে হাসপাতালটির নার্সদের বুকের দুধ।
তিথি: শিশুটির চিকিৎসা ও পরবর্তী ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ এনামুল হক। তিনি বলেন, ‘আমি ওই শিশুকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে শিশুটির চিকিৎসা খরচসহ ভবিষ্যতে যেন কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য তার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে দেব।’
জেমি : সত্যি এটা খুব মর্মস্পর্শি ঘটনা আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন বাচ্চাটির ভবিষ্যত মঙ্গলময় করেন আর ডিসি এনামুল হকের মতো দেশের সকল ডিসি যেন মানবিক হন৷
তিথি: এছাড়াও ২০২২ সালের মে মাসে সারাদেশে ৫২৮ সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও এক হাজার ৩৬৪ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৮৪ জন এবং শিশু ৯৭ জন। এর মধ্যে, ২৪৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৪৬.৭৮ শতাংশ।
তিথি: মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৭৯ জন। যা মোট মৃত্যুর ৪৩.৫২ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১১৯ পথচারী মারা গেছেন। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৯১ জন। অপরদিকে, ৭টি নৌ দুর্ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুই জন নিখোঁজ রয়েছেন। ১৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু এবং তিন জন আহত হয়েছেন।
তিথি: সোমবার ৬ জুন, গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ২১৭টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৯১টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭৪টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৪৬টি শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১১১টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২১৪টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১২৩টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া, ৬১টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৯টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
জেমি: কোন বিভাগে কতজনের প্রাণহানি হয়েছে?
তিথি: বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে,
ঢাকা বিভাগে: দুর্ঘটনা ২৪.০৫%, প্রাণহানি ২৪.৮০%;
রাজশাহী বিভাগে: দুর্ঘটনা ১৬.০৯%, প্রাণহানি ১৮.০৯%;
চট্টগ্রাম বিভাগে: দুর্ঘটনা ২১.৭৮%, প্রাণহানি ২০.১২%;
খুলনা বিভাগে: দুর্ঘটনা ১২.৫%, প্রাণহানি ১১.৭০%;
বরিশাল বিভাগে: দুর্ঘটনা ৭.৯৫%, প্রাণহানি ৮.৭৩%;
সিলেট বিভাগে: দুর্ঘটনা ৪.১৬%, প্রাণহানি ৩.৫৮%;
রংপুর বিভাগে: দুর্ঘটনা ৭.৫৭%, প্রাণহানি ৭.৮০%
ময়মনসিংহ বিভাগে: দুর্ঘটনা ৫.৮৭%, প্রাণহানি ৫.১৪% ঘটেছে।
তিথি : ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৭টি দুর্ঘটনা ও ১৫৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২২টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন মারা গেছেন। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৩২ টি দুর্ঘটনায় ৩৭ জন নিহত। সবচেয়ে কম ঝালকাঠি জেলায় তিন দুর্ঘটনায় দুই জন আহত হয়েছেন, প্রাণহানি ঘটেনি।
তিথি : আবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪২৭টি। এ সব দুর্ঘটনায় নিহত ৫৪৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৬১২ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৬৭ জন, শিশু ৮১ জন। ১৮৯ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২০৬ জন, যা মোট নিহতের ৩৭.৯৩ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১১৬ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৮৭ জন, অর্থাৎ ১৬ শতাংশ। এ সময়ে ৬টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত হয়েছে এবং ৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। ২১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছে।
তিথি: দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৬ জন (৩৭.৯৩%),
বাস যাত্রী ১৩ জন (২.৩৯%),
ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ৬৩ জন (১১.৬০%),
মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-পুলিশ জীপ যাত্রী ১৪ জন (২.৫৭%),
থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক) ১০০ জন (১৮.৪১%),
স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-টমটম)১৯ জন (৩.৪৯%)
বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান আরোহী ১২ জন (২.২০%) নিহত হয়েছে।
তিথি: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৮৭টি (৪৩.৭৯%) জাতীয় মহাসড়কে,
১২৩টি (২৮.৮০%) আঞ্চলিক সড়কে,
৬৫টি (১৫.৪২%) গ্রামীণ সড়কে, ৪৬টি৷
১০.৭৭%) শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৬টি (১.৪০%) সংঘটিত হয়েছে।
জেমি: এসব দুর্ঘটনার ধরন ছিল কী?
তিথি: দুর্ঘটনার ধরন: দুর্ঘটনাসমূহের ৮৪টি (১৯.৬৭%) মুখোমুখি সংঘর্ষ,
১৬৭টি (৩৯.১১%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে,
১১৩টি (২৬.৪৬%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া,
৫২টি (১২.১৭%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১১টি (২.৫৭%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
জেমি : এসব দুর্ঘটনা কোন কোন যানবাহন দ্বারা ঘটেছে ?
তিথি: দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ৩০.১১%,
ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রামট্রাক-তেলবাহী ট্যাঙ্কার-গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্যাঙ্কার ৬.২০%,
মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-পুলিশ জীপ ৪.৭৫%,
যাত্রীবাহী বাস ১০.৪৩%,
মোটরসাইকেল ২৬%,
থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-শিশুক) ১৫.৩২%,
স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন- (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-টমটম-লাটাহাম্বা-ডাম্পার) ৫.৬৮%
বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান ১.৪৫%।
জেমি : এসব দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা কতটি ছিল?
তিথি: দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৭৫৭ টি। তারমধ্যে ,
(ট্রাক ১৪৪ টি ,
বাস ৭৯ টি,
কাভার্ডভ্যান ২৬ টি,
পিকআপ ৫৮টি,
ট্রলি ৯টি,
লরি ১০ টি,
ট্রাক্টর ১৭ টি,
তেলবাহী ট্যাঙ্কার ৩ টি,
গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্যাঙ্কার ১টি,
ডিএনসিসি’র ময়লাবাহী ট্রাক ১ট,
ড্রামট্রাক ৭টি,
মাইক্রোবাস ১৭টি,
প্রাইভেটকার ১৪টি,
অ্যাম্বুলেন্স ৩টি,
পুলিশ জীপ ১টি,
মোটরসাইকেল ১৯৭টা,
থ্রি-হুইলার ১১৬ টি,
(ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-শিশুক) স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪৩ টি,
(নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-টমটম-লাটাহাম্বা-ডাম্পার) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান ১১ টি ছিল ৷
জেমি: এসব দুর্ঘটনা কখন কোন সময় বেশি ঘটেছে ?
তিথি: দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে
ভোরে ৪.২১%,
সকালে ৩২.৫৫%,
দুপুরে ১৮.৫০%,
বিকালে ২০.৬০%,
সন্ধ্যায় ১০.৭৭%
রাতে ১৩.৩৪%।
জেমি: এসব দুর্ঘটনার মধ্যে কোন বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ?
তিথি: দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে,
ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ৩০.৬৭%, প্রাণহানি ২৮.৭২%,
রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১২.৪১%, প্রাণহানি ১৩.০৭%,
চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২৪.১২%, প্রাণহানি ২২.০৯%,
খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১০.৭৭%, প্রাণহানি ১০.৮৬%,
বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৩৮%, প্রাণহানি ৪.৬০%,
সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪.৪৪%, প্রাণহানি ৬.০৭%,
রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.৩২%, প্রাণহানি ৭.৩৬%
ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৮৫%, প্রাণহানি ৭.১৮% ঘটেছে ৷
তিথি: এখানেও ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে, ১৩১ টি দুর্ঘটনায় ১৫৬ জন নিহত। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৩৯ টি দুর্ঘটনায় ৪৪ জন নিহত। সবচেয়ে কম ঝালকাঠি জেলায়। ৩ টি দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। রাজধানী ঢাকায় ২২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছে।
তিথি: গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে
পুলিশ সদস্য ৪ জন,
সেনা সদস্য ১ জন,
র্যাব সদস্য ১ জন,
বিজিবি সদস্য ১ জন,
গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ২ জন,
ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ১ জন,
স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষক ১৩ জন,
চিকিৎসক ২ জন,
সাংবাদিক ৩ জন,
আইনজীবী ৪ জন,
প্রকৌশলী ২ জন,
সংগীত শিল্পী ১ জন,
বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী ৯ জন,
এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন,
ঔষধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৯ জন,
স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ৩১ জন,
পোশাক শ্রমিক ৭ জন,
চালকল শ্রমিক ২ জন,
ইটভাটা শ্রমিক ৪ জন,
ধানকাটা শ্রমিক ৬ জন,
মাটিকাটা শ্রমিক ৪ জন,
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ১২ জন
দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৩ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
তিথি: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৮ জন নিহত হয়েছে। মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছিল ১৯ জন।
তিথি: এ হিসাবে মার্চের তুলনায় এপ্রিল মাসে প্রাণহানি কমেছে ৪.৭৩ শতাংশ।
তিথি: দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৪৩১ জন, অর্থাৎ ৭৯.৩৭ শতাংশ।
তিথি: ৪ ডিসেম্বর ২০২১ সালের রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৭৯টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪১৩ জন এবং আহত ৫৩২ জন। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এতে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।
তিথি: ঐ প্রতিবেদনে অনুযায়ী নভেম্বরে ১৫৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪.৫৫ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪১.৬৮ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৯৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৩.২৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, যা মোট নিহতের ১২.৮৩ শতাংশ।
তিথি : এই সময়ে ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ১১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ২ জন আহত হয়েছেন।
তিথি: দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৮৪ জন (৪৪.৫৫%),
বাস যাত্রী ২৩ জন (৫.৫৬%),
ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-ট্রাক্টর-ট্রলি যাত্রী ১২ জন (২.৯০%),
মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-এ্যাম্বুলেন্স-জিপ যাত্রী ৯ জন (২.১৭%),
থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক-টেম্পু-লেগুনা) ৬৬ জন (১৫.৯৮%),
স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-বোরাক-মাহিন্দ্র-টমটম)১৭ জন (৪.১১%)
প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান-বাইসাইকেল আরোহী ৬ জন (১.৪৫%) নিহত হয়েছেন।
তিথি: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে,
দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫৬টি (৪১.১৬%) জাতীয় মহাসড়কে,
১৩১টি (৩৪.৫৬%) আঞ্চলিক সড়কে,
৫৩টি (১৩.৯৮%) গ্রামীণ সড়কে,
৩৫টি (৯.২৩%) শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৪টি (১.০৫%) সংঘটিত হয়েছে।
তিথি: দুর্ঘটনাসমূহের মধ্যে ,
৮৯টি (২৩.৪৮%) মুখোমুখি সংঘর্ষ,
১৩৩টি (৩৫.০৯%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে,
৯১টি (২৪%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া,
৫৯টি (১৫.৫৬%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা
৭টি (১.৮৪%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
তিথি: দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে,
ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৬.৫৭%, প্রাণহানি ২৬.৫১%,
রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৫.৯৪%, প্রাণহানি ১৩.৪২%,
চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৯.৩২%, প্রাণহানি ২১.৮১%,
খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৯.১৭%, প্রাণহানি ৭.৭১%,
বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৮.২১%, প্রাণহানি ৬.০৪%,
সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৭.২৪%, প্রাণহানি ৭.০৪%,
রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.৭৬%, প্রাণহানি ৯.৭৩%
ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৭.১৬%, প্রাণহানি ৭.৭১% ঘটেছে।
তিথি: এখানেও কিন্তু সেইম ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৮৩টি দুর্ঘটনায় নিহত ১০৪ জন। সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। ২২টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৪ জন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ২১টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত। সবচেয়ে কম লালমনিরহাট জেলায়। ২টি দুর্ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহত হয়নি। রাজধানী ঢাকায় ১৪টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন।
তিথি : আমরা যদি আরেকটু পিছনে দেখি; তবে দেখা যায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথা অনুযায়ী ২০২০ সালের নভেম্বরে দুর্ঘটনা বেড়েছে ৩২%, প্রাণহানি বেড়েছে ১8%। গত অক্টোবর মাসের তুলনায় এ মাসে দুর্ঘটনা বেড়েছে ৩২ শতাংশেরও বেশি, আর প্রাণহানি বেড়েছে ১৪ শতাংশেরও বেশি। আর গত সেপ্টেম্বরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, দুর্ঘটনা বেড়েছে ৫২ শতাংশেরও বেশি। ওই মাসের তুলনায় নভেম্বরে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণহানিও বেড়েছে ৪৪ শতাংশের বেশি।
তিথি: ৫ ডিসেম্বর ( শনিবার) ২০২০ সালের রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী এ তথ্য উঠে এসেছে৷ সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল ৷
তিথি: সেপ্টেম্বর-অক্টোবর-নভেম্বরের দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে সারাদেশে ২৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩০৪ জন, আহত হয়েছিলেন ৪৯২ জন।
তিথি: আবার অক্টোবর মাসে সারাদেশে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩১৪টিতে। এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৩৮৪ জন, আহত হয়েছেন ৬৯৪ জন।
তিথি: আর নভেম্বর মাসে দেশে দুর্ঘটনার সংখ্যা ৪১৭, তাতে প্রাণহানি আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৯ জনে। তবে নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা অক্টোবরের তুলনায় ১২ জন কম— ৬৮২ জন।
তিথি : এই হিসাব অনুযায়ী অক্টোবর মাসের তুলনায় নভেম্বরে দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে ৩২ দশমিক ৮০ শতাংশ, প্রাণহানি বেশি হয়েছে ১৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর সেপ্টেম্বর মাসের সঙ্গে তুলনা করলে নভেম্বরে দুর্ঘটনা বেড়েছে ৫২ দশমিক ৭৪ শতাংশ, প্রাণহানি বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।
তিথি: নভেম্বরের সড়ক দুর্ঘটনাগুলোতে যে ৪৩৯ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৬৪ জন নারী, শিশু ৫৩ জন।
আর সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। এ মাসে ১২৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪১ জন, যা মোট নিহতের ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আবার দুর্ঘটনায় ১১৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছে ৪৯ জন, যা মোট নিহতের ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। এই সময়ে চারটি নৌদুর্ঘটনায় তিন জন। দুর্ঘটনায় ৩০ জন বাস যাত্রী, আট জন ট্রাক যাত্রী, ১১ জন পিকআপ যাত্রী, চার জন মাইক্রোবাস যাত্রী, ৯ জন অ্যাম্বুলেন্স যাত্রী, দুই জন ট্রলি যাত্রী, লরিতে থাকা তিন জন, ১২ জন সিএনজি যাত্রী, ৬২ জন ইজিবাইক-অটোরিকশা যাত্রী, ২৮ জন নসিমন-ভটভটি-টেম্পু যাত্রী, দু’জন বাইসাইকেল আরোহী, ছয় জন রিকশা-রিকশাভ্যানযাত্রী, দু’জন স্কুলভ্যান যাত্রী এবং তিন জন পাওয়ারটিলার-আলগামন যাত্রী নিহত হয়েছেন।
তিথি: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩৭টি (৩২ দশমিক ৮৫ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে।
তিথি : এছাড়া গ্রামীণ সড়কে ১১৩টি (২৭ দশমিক ০৯ শতাংশ), জাতীয় মহাসড়কে ১১১টি (২৬ দশমিক ৬১ শতাংশ), শহুরে সড়কে ৫১টি (১২ দশমিক ২৩ দশমিক) এবং অন্যান্য স্থানে (ফেরিঘাট, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ মাঠ ও ফসলের মাঠ) পাঁচটি (১ দশমিক ১৯ শতাংশ) দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
জেমি: এসব দুর্ঘটনার কারণ কী ছিল?
তিথি: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি (৩০ দশমিক ২১ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়ার কারণে ঘটেছে। এছাড়া ১০৫টি (২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৯৭টি (২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৭৬টি (১৮ দশমিক ২২ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৩টি (৩ দশমিক ১১ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
তিথি: এসব দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়ী যানবাহনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২২ দশমিক ৬৪ শতাংশ থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু-স্কুটার)। এছাড়া ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, মোটরসাইকেল ১৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ, নসিমন-ভটভটি-আলগামন-পাখিভ্যান ৯ দশমিক ১৪ শতাংশ, রিকশা-ভ্যান-বাইসাইকেল ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেট কার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং অন্যান্য (গ্যাসবাহী গাড়ি, গ্রামবাংলা, লাটাহাম্বা, ভ্যানগাড়ি) ১ দশমিক ৩০ শতাংশ।
তিথি: নভেম্বর মাসের ৪১৭টি দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৬৮৯টি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫৬টি ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু-স্কুটার। এছাড়া মোটরসাইকেল ১৩৬টি, ট্রাক ১০৩টি, বাস ৮২টি, নসিমন-ভটভটি-আলগামন-পাখিভ্যান ৬৩টি, রিকশা-রিকশাভ্যান-স্কুলভ্যান ৩১টি, পিকআপ ২৩টি, কাভার্ড ভ্যান ১৮টি, ট্রলি ১৬টি, মাইক্রোবাস ১৪টি, ট্রাক্টর ৯টি, প্রাইভেটকার ৯টি, লরি সাতটি, অ্যাম্বুলেন্স ছয়টি, বাইসাইকেল তিনটি, জিপ দুইটি, গ্যাসবাহী গাড়ি দুইটি এবং পাওয়ারটিলার-গ্রামবাংলা-লাটাহাম্বা-ভ্যানগাড়ি রয়েছে ৯টি।
তিথি: দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ভোরে ঘটেছে ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ, সকালে ৩৩ দশমিক ০৯ শতাংশ, দুপুরে ১৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ, বিকেলে ১৬ দশমিক ০৬ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং রাতে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তিথি: বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এই বিভাগে ১১১টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১২৮ জন। সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে ২২টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জন। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এই জেলায় ২৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৩ জন। সবচেয়ে কম ভোলা জেলায় তিনটি দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন নভেম্বরে।
তিথি : অপরদিকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেশে ৩৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৪৯৭ জন। এদের মধ্যে ৬৩ জন নারী ও ৪৯টি শিশু রয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য উঠে এসেছে , সংগঠনটি সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
তিথি:প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ১৬৭টি মোটরসাইকেলের, যা মোট দুর্ঘটনার ৪৪ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৮ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ৪৩ শতাংশ।
তিথি : এখানেও সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। ঢাকা বিভাগে ১০২টি দুর্ঘটনায় ১১৩ জন নিহত হয়েছেন। আর রাজধানী শহরে ১৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন।
তিথি: তবে এখানে সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে। এ বিভাগে ১৬টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন।
তিথি : ১০ আগস্ট ২০২২, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের হিসাব মতে, পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরুর পর থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের মহাসড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নারী এবং শিশুসহ ২৮ জন, যার মধ্যে ২০ এবং ২১ জুলাই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সব থেকে বড় দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে বাকেরগঞ্জ ও উজিরপুরে। এই দুই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। তাছাড়া যতগুলো দুর্ঘটনা ঘটেছে তার বেশিরভাগ বরিশাল জেলার সীমান্ত গৌরনদীর ভুরঘাটা থেকে বাকেরগঞ্জের লেবুখালীর মধ্যে ৷
তিথি : এছাড়া শোন আরেকটি মর্মান্তিক কাহিনী ;
জেমি: হ্যাঁ বল ;
তিথি : ২ ডিসেম্বর ২০২২ বেলা তিনটার দিকে এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে , ঐসময় ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজহার জাফর শাহ৷ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ছিলেন ৷ এরপূর্বে তার বিরুদ্ধে ক্লাসসহ একাডেমিক কার্যক্রমে নিষক্রিয়তার অভিযোগে ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছিল৷ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশ করে চারুকলা অনুষদের উল্টো পাশের টিএসসি অভিমুখী সড়কে ৪৫ বছরের রুবিনা তার গাড়ির নিচে আটকে পড়ায় তাকে নিয়েই নিলক্ষেত পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পথ চাকার নিচে আটকে থাকা রুবিনাকে হিঁচড়ে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে যান৷ রুবিনার রক্ত লাল হয়ে যায় পুরোটা পথ৷
তিথি : প্রকাশিত দসংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায় , রুবিনা আক্তার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তেজকুনিপাড়ায় থাকতেন। তাঁর স্বামী এক বছর আগে মারা গেছেন। তাঁদের এক সন্তান রয়েছে।
তিনি শুক্রবার তার দেবরের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে হাজারীবাগে তাঁর (রুবিনার) বাসায় যাচ্ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বিপরীত পাশে মোটরসাইকেলটিকে একটি গাড়ি ঢাকা মেট্রো-ক ০৫-০০৫৫ নম্বরের গাড়িটি চালিয়ে শাহবাগ থেকে টিএসসির দিকে আসছিলেন সাবেক ঐ শিক্ষক ৷
তিথি : গাড়িতে আর কেউ ছিলেন না। হঠাৎ চারুকলা অনুষদের উল্টো পাশের সড়কে প্রাইভেট কারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তাঁর গাড়ির নিচে পড়ে আটকে যান রুবিনা আক্তার ৷ আশপাশে লোকজনের উপস্থিতি দেখে চালক ভয় পেয়ে যান। তিনি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে থাকেন। ওই নারীকে গাড়ির নিচ থেকে উদ্ধার করার জন্য পথচারীরা ওই চালককে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি নিয়ে টিএসসি থেকে নীলক্ষেতের দিকে চলে যান। এ সময় পথচারীরা গাড়িটিকে পেছন থেকে তাড়া করেন। পরে নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ থেকে পলাশী অভিমুখী সড়কের মুখে গাড়িটিকে আটকে ফেলেন পথচারীরা। গাড়ির নিচ থেকে ওই নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিথি : এ সময় গাড়ির চালককে গণপিটুনি দেন পথচারীরা। গাড়িটিকে ব্যাপক ভাঙচুরও করা হয়। আহত চালককেও উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ‘আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ফলে মাথার ছায়া একমাত্র মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে যায় তার সন্তানটি৷ এই এতিম ছেলেকে কে দেখবে ? কে নিবে এই এতিম ছেলের ভরণপোষণের দায়িত্ব ? কে দেখাবে এতিম ছেলেকে বেঁচে থাকার আলোর পথ? এতিম ছেলের জন্য এমন কোন মানবিক অভিভাবক এই নিষ্ঠুর সমাজে আছেন কী? এই মৃত্যুের শেষ কোথায়?
জেমি : সড়ক দুর্ঘটনা কী?
নবীন প্রেমের উদয়! প্রথম খণ্ড, পর্ব : চার ,
সমাপ্ত।।
[রচনাকালঃ ১০ মার্চ ২০১২ইং]
বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷
শিক্ষণীয়
উত্তরমুছুনঅসাধারণ মাধুরী মির্ছিত ভাষায় চয়ন
উত্তরমুছুন