যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২

নবীন প্রেমের উদয়! লেখক নাঈম হোসেন , দ্বিতীয় খণ্ড, পর্ব: এগারো

নবীন প্রেমের উদয়! দ্বিতীয় খণ্ড,

নাঈম হোসেন 

পর্ব: এগারো  [ হুবহু জেমির বর্ণনা; ]

👩জেমি: পরিরাজ গায়রে হেরার পুরো এরিয়া ঘুরে জাবালে নুরের যেখানে নবী মোহাম্মদ (সঃ) ধ‍্যানমগ্ন থাকতেন সেখানে বসে কচি শিশুর মতো হাউমাউ করে কেঁদে উঠল ; 

👩জেমি: তুমি কাঁদছো কেন?

💂পরিরাজ: চোখের পানি মুছতে মুছতে, এখানে বসে অনেক কথা অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল তাই!

👩জেমি: কী এমন কথা স্মরণ করে তুমি এভাবে কাঁদলে?

💂পরিরাজ: আমার নবী কত কষ্ট করে পাহাড় বেয়ে বেয়ে এখানে এসেছেন, তারপর আল্লাহর স্মরণে নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছেন ; তারপর হঠাৎ করে একদিন আল্লাহ নবী (সাঃ) এর উপর ওহী পাঠালেন, তারপর  ওহী নিয়ে তিনি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে সেই ওহীর বার্তা প্রচার করলেন, দ্বীনের দাওয়াত দিতে গিয়ে কত বাঁধা, কত অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করলেন ;  ওহুদের ময়দানে নিজের দাঁত শহীদ করলেন, তায়েফে মার খেলেন, অবশেষে ইসলামের চির বিজয় হলো। নবী (সাঃ) -এর কষ্টের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ হতেই আমার আঁখি অশ্রুতে ভিজে যায়, নবীর প্রেমে আমার মন উদাস হয়ে উঠে। আহা কতো বেদনার এই ইসলাম! আহা কতো শান্তির এই ইসলাম!

মনে পড়ে কত কথা কত স্মৃতি!
কত পথ পাড়ি দিয়ে,
কত নদী সাঁতরিয়ে,
কত বেদনায় পেয়েছি এই ইসলাম নীতি!

কোরআনের বাণী প্রচারে গিয়ে,
কতো সাহাবা গেল শহীদ হয়ে।
তবু করলনা ভয় গেলনা পিছিয়ে,
নবীর প্রেমে জান ও মাল সব গেল বিকিয়ে।

কী বিস্ময় শান্তির বার্তা আল কোরআন!
ধন‍‍্য ওরা,গর্বিত ওরা, ওরা মুসলমান!
ওরা জীবন গঠন করে কোরআনের মতে,
ওদের গন্তব্য সুদূর জান্নাতের পথে।

👩জেমি: এই তুমি চোখের জল মুছো, কারণ কারো কান্না দেখলে আমারও খুব কান্না আসে।
পরিরাজ: খিলখিল এক চিমটি হেসে, তাই নাকি? তাহলে তো তুমি খুব মায়াবী, যাকে বলে মহামায়া!
জেমি: সত্যি আমার খুব মায়া, প্রতিটি প্রাণির জন্যই আমার খুব মমতা হয়। কোথাও কাউকে কষ্টে দেখলে আমারও খুব কষ্ট হয় ; কাউকে কাঁদতে দেখলে আমারও খুব কান্না পায়, কাউকে অভুক্ত দেখলে তাকে কিছু না দিতে পারলে সেদিন আর আমার পেটে কোন খাবার যায়না।

💂পরিরাজ: পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ যদি তোমার মতো হতো তাহলে পৃথিবীটা স্বর্গরাজ্য হয়ে যেতো।
জেমি: হয়েছে আর প্রশংসা করতে হবেনা, তুমি একটু বেশী বলে ফেলেছো;
জেমি: আচ্ছা আমি  একটা বিষয় জানতে কৌতূহলী, তোমাকে প্রশ্ন করতে পারি কী?
পরিরাজ: অফকোর্স।
জেমি: তুমি যে ওহীর কথা বলছো, সে ওহী কী? ওহী সম্পর্কে আমাকে একটু বুঝিয়ে বল;

💂পরিরাজ:  ওকে, বলছি;

💂পরিরাজ: ভ্রু কুচকিয়ে, একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে, ওহী শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, এমন সূক্ষ্ম ও গোপন ইশারা, যা ইশারাকারী ও ইশারা গ্রহণকারী ছাড়া তৃতীয় কেউ টের পায় না। এ সম্পর্কের ভিত্তিতে এ শব্দটি ইলকা বা মনের মধ্যে কোনো কথা নিক্ষেপ করা ও ইলহাম বা গোপনে শিক্ষা ও উপদেশ দান করার অর্থে ব্যবহৃত হয়।

💂পরিরাজ: ওহি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,  [২৪] "আর দেখো তোমার রব মৌমাছিদেরকে একথা অহীর মাধ্যমে বলে দিয়েছেনঃ তোমরা পাহাড়-পর্বত, গাছপালা ও মাচার ওপর ছড়ানো লতাগুল্মে নিজেদের চাক নির্মাণ করো।"

💂পরিরাজ: এখানেও অহীর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, এমন সূক্ষ্ম ও গোপন ইশারা, যা ইশারাকারী ও ইশারা গ্রহণকারী ছাড়া তৃতীয় কেউ টের পায় না। এ সম্পর্কের ভিত্তিতে এ শব্দটি ‘ইলকা’ (মনের মধ্যে কোন কথা নিক্ষেপ করা) ও ইলহাম (গোপন শিক্ষা ও উপদেশ দান করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে যে শিক্ষা দান করেন তা যেহেতু কোন মকতব, স্কুল বা শিক্ষায়তনে দেয়া হয় না বরং এমন সূক্ষ্ম পদ্ধতিতে দেয়া হয় যে, বাহ্যত কাউকে শিক্ষা দিতে এবং কাউকে শিক্ষা নিতে দেখা যায় না, তাই একে কুরআনে অহী, ইলকা ও ইলহাম শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়েছে। এখন এ তিনটি শব্দ আলাদা আলাদা পরিভাষায় পরিণত হয়েছে। অহী শব্দটি নবীদের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গেছে। ইলহামকে আউলিয়া ও বিশেষ বান্দাদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আর ইলকা শব্দটি অপেক্ষাকৃত ব্যাপক অর্থবোধক এবং সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

কিন্তু কুরআনে পারিভাষিক অর্থের পার্থক্যটা পাওয়া যায় না। এখানে আকাশের ওপরও অহী নাযিল হয় এবং সেই অনুযায়ী তার সব ব্যবস্থা পরিচালিত হয়, পৃথিবীর ওপরও অহী নাযিল হয় এবং এর ইঙ্গিত পাওয়ার সাথে সাথেই সে নিজের কাহিনী শুনাতে থাকে ; ফেরেশতাদের ওপরও অহী নাযিল হয় এবং সেই মোতাবেক তারা কাজ করে, মৌমাছিদেরকে তাদের সমস্ত কাজ অহীর (প্রকৃতিগত শিক্ষা) মাধ্যমে শেখানো হয়। আলোচ্য আয়াতে এ বিষয়টিই দেখা যাচ্ছে। আর এই অহী কেবলমাত্র মৌমাছি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নেই বরং মাছের সাঁতার কাটা, পাখির উড়ে চলা, নবজাত শিশুর দুধ পান করার বিষয়টাও আল্লাহর অহীই শিক্ষা দান করে। তাছাড়া চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা অনুসদ্ধান ছাড়াই একজন মানুষকে যে অব্যর্থ কৌশল বা নির্ভুল মত অথবা চিন্তা ও কর্মের সঠিক পথ বুঝানো হয় তাও অহী।

এ অহী থেকে কোন একজন মানুষও বঞ্চিত নয়। দুনিয়ায় যত নতুন নতুন উদ্ভাবন ও কল্যাণকর আবিষ্কার হয়েছে যত বড় বড় শাসক, বিজেতা, চিন্তানায়ক ও লেখক যুগান্তকারী ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী কর্ম সম্পাদন করেছেন তার সবের পেছনেই এ অহীর কার্যকারিতা দেখা যায়। বরং সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত যে অভিজ্ঞতার সুম্মুখীন হয় তা হচ্ছে এই যে, কখনো বসে বসে একটি কথা মনে হলো অথবা কোন কৌশল মাথায় এলো কিংবা স্বপ্নে কিছু দেখা দিলো এবং পরবর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে জানা গেলো যে, অদৃশ্য থেকে পাওয়া সেটি তার জন্য একটি সঠিক পথনির্দেশনা ছিল।

💂পরিরাজ: এ বিভিন্ন ধরনের অহীর মধ্যে নবীদেরকে যে অহী করা হতো সেটি ছিল একটি বিশেষ ধরনের অহী। এ অহীটির বৈশিষ্ট্য অন্যান্য অহী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এতে যাকে অহী করা হয় সে এ অহী আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন ও নিশ্চিত থাকে। এ অহী হয় আকীদা-বিশ্বাস, বিধি-বিধান, আইন-কানুন ও নির্দেশাবলী সংক্রান্ত। আর নবী এ অহীর মাধ্যমে মানব সম্প্রদায়কে পথনির্দেশ দেবেন এটিই হয় এর নাযিল করার উদ্দেশ্য।

💂পরিরাজ: ব্যবহারিক ভাবে ওহী দ্বারা ইসলামে আল্লাহ কর্তৃক নবি-রাসূলদের  প্রতি প্রেরিত বার্তা বোঝানো হয়। কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে,[২৫] "নিশ্চয় আমি তোমার নিকট ওহী পাঠিয়েছি, যেমন ওহী পাঠিয়েছি নুহ ও তার পরবর্তী নবীগণের নিকট এবং আমি ওহী পাঠিয়েছি  ইবরাহিম, ইসমাইল,   ইসহাক, ইয়াকুব, তার বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন  ও   সুলায়মান এর নিকট এবং দাউদকে প্রদান করেছি যাবুর।"

💂পরিরাজ: পবিত্র কুরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, [২৬] "কোনো মানুষের এ মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন, ওহীর মাধ্যম, পর্দার আড়াল অথবা কোনো দূত পাঠানো ছাড়া। তারপর আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে তিনি যা চান তাই ওহী প্রেরণ করেন। তিনি তো মহীয়ান, প্রজ্ঞাময়।"

💂পরিরাজ: কুরআন কারীম মানব জাতির কাছে প্রেরিত মহান আল্লাহর সর্বশেষ বাণী। এর প্রতিটি অক্ষর, শব্দ ও বাক্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত। মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বযস যখন ৪০ বৎসর তখন থেকে আল্লাহ তাঁর কাছে ওহীর মাধ্যমে কুরআন প্রেরণ করতে শুরু করেন। পরবর্তী ২৩ বৎসর যাবৎ বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজন মত কুরআনের বিভিন্ন সুরা ও আয়াত অবতীর্ণ করা হয়। ২৩ বৎসরে তা পরিপূর্ণরূপে অবতারিত হয়। আল্লাহর নিকট থেকে প্রধান ফিরিশতা জিবরাঈল (আঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)- এর কাছে ওহী নিয়ে আসতেন।

💂পরিরাজ:  রাসূলুল্লাহ (সাঃ)  তা পরিপূর্ণভাবে মুখস্থ করে নিতেন। এরপর তিনি তার সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিতেন তা মুখস্থ করার জন্য এবং লিখে রাখার জন্য। এভাবে পরিপূর্ণ কুরআন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -এর জীবদ্দশায় পৃথক পৃথক কাগজ, চামড়া, হাড় ইত্যাদিতে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং অসংখ্য সাহাবী তা মুখস্থ করে নেন।

তাঁর সময় থেকেই তিনি ও সাহাবীগণ সাধারণ সালাতে এবং বিশেষত রাত্রিতে তাহাজ্জুদের সালাতে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও খতম করতেন, অর্থাৎ পরিপূর্ণ কুরআন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মুখস্থ পাঠ করতেন।

💂পরিরাজ: অনেক সাহাবীই ৩ থেকে ৭ রাত্রিতে তাহাজ্জুদের সালাতে কুরআন খতম করতেন। কেউ কেউ একটু বেশি সময় ধরে কমবেশি এক মাসের মধ্যে তাহাজ্জুদ সালাতে কুরআন খতম করতেন। এছাড়া নিজের কাছে সংরক্ষিত লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে দেখে দেখে দিবসে ও রাত্রিতে তা পাঠ করা ছিল সাহাবীগণের প্রিয়তম ইবাদত ও হৃদয়ের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি ও আনন্দের কর্ম।

💂পরিরাজ: এভাবে মূলত মুমিনদের হৃদয়ে মুখস্থ রেখে ও নিয়মিত রাতের সালাতে (তাহাজ্জুদে) খতমের মাধ্যমেই কুরআনকে অবিকল আক্ষরিকভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন আল্লাহ। এছাড়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ওফাতের পরের বৎসর খলীফা আবূ বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সময়ে লিখিত পৃথক কাগজ, চামড়া, হাড় ইত্যাদি থেকে একত্রিত করে পুস্তকাকারে সংকলন করান।

💂পরিরাজ: পরবর্তীকালে খলীফা উসমান (রাঃ) তাঁর শাসনামলে নতুন মুসলিম প্রজন্মের মানুষদের বিশুদ্ধ কুরআন শিক্ষা ও মুখস্থ করণের সুবিধার্থে আবূ বাকর (রাঃ) কর্তৃক পুস্তকাকারে সংকলিত কুরআনটির বিভিন্ন অনুলিপি তৈরি করে বিভিন্ন এলাকায় প্রেরণ করেন।

💂পরিরাজ: এভাবে সকল মুসলিমের প্রাত্যহিক পাঠের প্রিয়তম ধর্মগ্রন্থ হিসেবে কুরআন কারীম পরিপূর্ণ ও অবিকৃতভাবে অগণিত মানুষের হৃদয়পটে এবং পুস্তকাকারে সংরক্ষিত হয়। যেভাবে তা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর উপর অবতারিত হয়েছে আজ পর্যন্ত ঠিক তেমনিভাবে অবিকৃত ও অপরিবর্তিতভাবে সংরক্ষিত রয়েছে এবং সকল যুগেই লক্ষ লক্ষ মুসলিম তা পরিপূর্ণ মুখস্থ করে রেখেছেন।

💂পরিরাজ: এ কুরআনই মানব জাতির পথের দিশারী এবং সকল কল্যাণের উৎস। এতে রয়েছে সকল উপদেশ, শিক্ষা ও সকল আত্মিক ও মানসিক অসুস্থতার মহৌষধ।

💂পরিরাজ: মানবজাতিকে কালো জীবন থেকে হেদায়েতের পথে আনার জন্য পুরো তিরিশ পারা কোরআন শরীফ বিবিধ সময়, বিভিন্ন কারণে যখন ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই বিভিন্নভাবে নবী (সাঃ) এর উপরে অবতীর্ণ হয়েছে।

💂পরিরাজ: কুরআনই প্রত্যেক মুমিনের বিশ্বাস, ঈমান বা আকীদার মূল ভিত্তি। কুরআন কারীমে যা কিছু বলা হয়েছে তা আক্ষরিকভাবে ও সরলভাবে বিশ্বাস করাই ইসলামী আকীদার মূল ভিত্তি।

💂পরিরাজ: কোন বিষয়ে বিশ্বাস করতে হবে, কিভাবে বিশ্বাস করতে হবে, কিসে বিশ্বাস নষ্ট হবে, কিসে কুফরী হবে, কিসে শিরক হবে, কিভাবে ও কি কারণে পূর্ববর্তী উম্মাতগণ ঈমান লাভ করার পরেও বিভ্রান্ত হয়েছিল, কিভাবে বিভ্রান্তি থেকে আত্মরক্ষা করা যায়, কিভাবে ঈমানদার ব্যক্তি জীবনযাপন করবেন, ইত্যাদি বিষয়ই হলো, কুরআন কারীমের মূল শিক্ষা। এককথায় বলতে গেলে আল-কুরআনই ইসলামী আকীদার প্রধান ও মূল উৎস।

💂পরিরাজ: এখানে কুরআনের আয়াত থেকে আক্ষরিক, সরল ও স্বাভাবিক যে অর্থ বুঝা যায় তাই আকীদার মূল উৎস, কুরআনের তাফসীর বা ব্যাখ্যা নামে পরিচিতি পরবর্তী যুগগুলির আলিমগণের মতামত আকীদার উৎস নয়।

💂পরিরাজ: মহান আল্লাহ কুরআন কারীমকে সহজ ও অত্যন্ত সুস্পষ্ট আরবী ভাষায় নাযিল করেছেন এবং তা বুঝা সহজ করেছেন বলে কুরআন কারীমে বারংবার উল্লেখ করেছেন। সাধারণভাবে কুরআন কারীম নিজেই নিজের ব্যাখ্যা করে। এছাড়া কুরআনের ব্যাখ্যার বিষয়ে কোনো সহীহ হাদীস বর্ণিত হলে তাও ওহীর ব্যাখ্যা বলে গণ্য। এছাড়া কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সাহাবী-তাবিয়ীগণের ব্যাখ্যাকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদাণ করা হয়।

💂পরিরাজ: পরবর্তী যুগের আলিমগণ তাফসীরের ক্ষেত্রে যা কিছু বলেছেন তা আলিমগণের ব্যক্তিগত ইজতিহাদ, রায় বা মতামত হিসেবে পর্যালোচনার গুরুত্ব লাভ করে, কিন্তু কখনোই তা ওহীর সমতুল্য বা সম্পূরক নয় এবং তা আকীদার ভিত্তি নয়।

👩জেমি: ওহী কীভাবে নাযিল হতো?
পরিরাজ: বলছি; ফের একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে, আল্লাহ তাআলা যে ওহি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট অবতীর্ণ করেছেন সেগুলো ২টি শাখায় বিভক্ত। ওহিয়ে মাতলু এবং ওহিয়ে গাইরে মাতলু।

👩জেমি:  ওহীর  প্রকার দুটি কী কী ? 

💂পরিরাজ: ওহিয়ে মাতলু : এমন ওহি যার শব্দ, বাক্য অর্থ, মর্ম সবকিছুই আল্লাহর তরফ থেকে আগত। পরিভাষায় এটি আল-কুরআনুল কারিম নামে পরিচিত।

💂পরিরাজ: আর ওহিয়ে গাইরে মাতলু : এমন ওহি যার অর্থ ও মর্ম আল্লাহ প্রেরিত কিন্তু শব্দ ও বাক্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের। ইসলামের পরিভাষায় যা ওহিয়ে হাদিস ও সুন্নাহ নামে পরিচিত। 

💂পরিরাজ: এবার তোমাকে বলছি, ওহি নাযিলের পদ্ধতি ; [ এক]  অন্তরে কোন কথা প্রক্ষিপ্ত করা ( ঢুকিয়ে দেওয়া ) অথবা স্বপ্নে বলে দেওয়া, এই প্রত‍্যায়ের সাথে যে, তা আল্লাহরই পক্ষ হতে স্বপ্নের মাধ্যমে নাবী কারীম (সাঃ)-এর উপর ওহী অবতীর্ণ হয়।

আল্লাহ বলেন, [২৭] কোন মানুষই এ মর্যাদার অধিকারী নয় যে, আল্লাহ তার সঙ্গে  সরাসরি কথা বলবেন, তিনি কথা বলবেন হয় অহীর মাধ্যম,

💂পরিরাজ:  এখানে অহী অর্থ ইলকা, ইলহাম, মনের মধ্যে কোন কথা সৃষ্টি করে দেওয়া কিংবা স্বপ্নে কিছু দেখিয়ে দেওয়া, যেমনটি হযরত ইব্রাহিম ও ইউসুফ নবীকে দেখানো হয়েছিল ;

👩জেমি: তাদেরকে স্বপ্নে কী দেখানো হয়েছিল?
পরিরাজ: বলছি, [২৮] এটা সেই সময়ের কথা, যখন ইউসুফ তাঁর বাপকে বললোঃ “আব্বাজান! আমি স্বপ্ন দেখেছি, এগারটি তারকা এবং সূর্য ও চাঁদ আমাকে সিজদা করছে।”

💂পরিরাজ: [২৯] শহরে প্রবেশ করার পর) সে নিজের বাপ-মাকে উঠিয়ে নিজের পাশে সিংহাসনে বসালো এবং সবাই তার সামনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিজদায় ঝুঁকে পড়লো। ইউসুফ বললো, “আব্বাজান! আমি ইতিপূর্বে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম এ হচ্ছে তার তা’বীর। আমার রব তাকে সত্য পরিণত করেছেন।

আমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ হিসেবে তিনি আমাকে কারাগার থেকে বের করেছেন এবং আপনাদেরকে মরু অঞ্চল থেকে এনে আমার সাথে মিলিয়ে দিয়েছেন। আসলে আমার রব অননুভূত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ করেন। নিঃসন্দেহে তিনি সবকিছু জানেন ও সুগভীর প্রজ্ঞার অধিকারী।

💂পরিরাজ:  অপরদিকে হযরত ইব্রাহিম নবীর স্বপ্ন ছিল যে, [৩০] সে পুত্র যখন তার সাথে কাজকর্ম করার বয়সে পৌঁছলো তখন (একদিন ইবরাহীম তাকে বললো, “ হে পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখি তোমাকে আমি যাবেহ করছি, এখন তুমি বল তুমি কি মনে কর?”  সে বললো, “ হে আব্বাজান! আপনাকে যা হুকুম দেয়া হচ্ছে তা করে ফেলুন, আপনি আমাকে ইনশাআল্লাহ সবরকারীই পাবেন৷”  

💂পরিরাজ: একথা মনে রাখতে হবে , হযরত ইবরাহীম (আঃ ) স্বপ্ন দেখেননি যে , তিনি পুত্রকে যবেহ করে ফেলেছেন৷ বরং তিনি দেখেছিলেন , তিনি তাকে যবেহ করছেন৷

💂পরিরাজ:  যদিও তিনি তখন স্বপ্নের এ অর্থই নিয়েছিলেন যে , তিনি পুত্রকে যবেহ করবেন৷
এ কারণে তিনি ঠাণ্ডা মাথায় পুত্রকে কুরবানী করে দেবার জন্য একেবারেই তৈরি হয়ে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু স্বপ্ন দেখাবার মধ্যে মহান আল্লাহ যে সূক্ষ্ম বিষয় সামনে রেখেছিলেন তা সূরা সফফাতের ১০৫ আয়াতে তিনি নিজেই সুম্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, সেখানে বলা হয়েছে, " তুমি স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়ে দিয়েছো৷ আমি সৎকর্মকারীদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি৷"

💂পরিরাজ: পুত্রকে একথা জিজ্ঞেস করার এ অর্থ ছিল না যে, তুমি রাজি হয়ে গেলে আল্লাহর হুকুম তামিল করবো অন্যথায় করবো না৷ বরং হযরত ইবরাহীম আসলে দেখতে চাচ্ছিলেন , তিনি যে সৎ সন্তানের জন্য দোয়া করেছিলেন সে যথার্থই কতটুকু সৎ ৷ যদি সে নিজে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের লক্ষে প্রাণ উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকে , তাহলে এর অর্থ হয় দোয়া পুরোপুরি কবুল হয়েছে এবং পুত্র নিছক শারীরিক দিক দিয়েই তাঁর সন্তান নয় বরং নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিক দিয়েও তাঁর সুসন্তান৷

💂পরিরাজ: এ শব্দগুলো পরিস্কার জানিয়ে দিচ্ছে , নবী - পিতার স্বপ্নকে পুত্র নিছক স্বপ্ন নয় বরং আল্লাহর হুকুম মনে করেছিলেন ৷ এখন যদি যথাযর্থই এটি আল্লাহর হুকুম না হতো তাহলে অবশ্যই আল্লাহ পরিস্কারভাবে বা ইংগিতের  মাধ্যমে বলে দিতেন যে , ইবরাহীম পুত্র ভুলে একে হুকুম মনে করে নিয়েছে,  কিন্তু পূর্বাপর আলোচনায় এর কোন ইংগিত নেই৷ এ কারণে নবীদের স্বপ্ন নিছক স্বপ্ন নয় বরং তাও হয় এক ধরনের অহী , মুসলমানরা এ বিশ্বাস পোষণ করে৷

💂পরিরাজ:  পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে যে , [৩১] তুমি স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়ে  দিয়েছো৷ আমি  সৎকর্মকারীদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি৷

💂পরিরাজ: অর্থাৎ তুমি পুত্রকে যবেহ করে দিয়েছো এবং তার প্রাণবায়ু বের হয়ে গেছে , এটা তো আমি তোমাকে দেখাইনি৷ বরং আমি দেখিয়েছিলাম , তুমি যবেহ করছো৷ তুমি সে স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়ে দিলে৷ কাজেই এখন তোমার সন্তানের প্রাণবায়ূ বের করে নেয়া আমার লক্ষ নয়৷ আসল উদ্দেশ্য যা কিছু তা তোমার সংকল্প , উদ্যোগ ও প্রস্তুতিতেই সফল হয়ে গেছে৷ 

💂পরিরাজ: অর্থাৎ যারা সংকর্মের পথ অবলম্বন করে তাদেরকে আমি খামখা কষ্টের মধ্যে ফেলে দেবার এবং দুঃখ ও ক্লেশের মুখোমুখি করার জন্য পরীক্ষার সম্মুখীন করি না৷ বরং তাদের উন্নত গুণাবলী বিকশিত করার এবং তাদেরক উচ্চ মর্যাদা দান করার জন্যই তাদেরকে পরীক্ষার মুখোমুখি করি৷

তারপর পরীক্ষার খাতিরে তাদেরকে যে সংকট সাগরে নিক্ষেপ করি তা থেকে নিরাপদে উদ্ধারও করি৷ তাই দেখো , পুত্রের কুরবানীর জন্য তোমার উদ্যোগ প্রবণতা ও প্রস্তুতিই এমন মর্যাদা দানের জন্য যথেষ্ট হয়ে গেছে , যা আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যথার্থই পুত্র উৎসর্গকারী লাভ করতে পারতো৷ এভাবে আমি তোমার পুত্রের প্রাণ ও রক্ষা করলাম এবং তোমাকে এ উচ্চ মর্যাদাও দান করলাম৷

💂পরিরাজ: ওহী নাযিলের আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে, পর্দার আড়াল থেকে সরাসরি কথা বলা, যেমন ফিরিশতা দেখা না দিয়ে অর্থাৎ অদৃশ্য অবস্থান থেকেই রাসূল (সাঃ)-এর অন্তরে ওহী প্রবেশ করিয়ে দেন।

💂পরিরাজ: এ প্রসঙ্গে নাবী কারীম (সাঃ) যেমনটি ইরশাদ করেছেন,  ‘জিবরাঈল (আঃ) ফিরিশতা আমার অন্তরে এ কথা নিক্ষেপ করলেন যে, কোন আত্মা সে পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না যে পর্যন্ত তার ভাগ্যে যতটুকু খাদ্যের বরাদ্দ রয়েছে পুরোপুরিভাবে তা পেয়ে না যাবে। অতএব, তোমরা আল্লাহকে সমীহ কর এবং রুজি অন্বেষণের জন্য ভাল পথ অবলম্বন কর। রুজি প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়ায় তোমরা আল্লাহর অসন্তোষের পথ অন্বেষণে যেন উদ্বুদ্ধ না হও। কারণ  আল্লাহর নিকট যা কিছু রয়েছে তা তাঁর আনুগত্য ছাড়া পাওয়া দুস্কর।

💂পরিরাজ: পর্দার আড়াল থেকে এর সারমর্ম হচ্ছে, বান্দা শব্দ শুনতে পায় কিন্তু শব্দদাতাকে দেখতে পায়না, যেমনটি তূর পাহাড়ে হযরত মূসা নবীর বেলায় ঘটেছিল।

👩জেমি:তূর পাহাড় কোথায়? তুমি আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে পারবে? আমি দেখতে চাই পাহাড়টি কেমন এবং আমাি শুনতে চাই সেই কাহিনী যা মূসা নবীর বেলায় ঘটেছিল!

💂পরিরাজ: তাহলে চোখ বন্ধ করে আমার হাতের উপর দাঁড়াও ; আমি তোমাকে সেখানে নিয়ে যাচ্ছি....! 

নবীন প্রেমের উদয়! দ্বিতীয় খণ্ড, পর্ব: এগারো,
            সমাপ্ত।।
👉রচনাকাল: ৩০ অক্টোবর ২০২২। 
👉বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷





সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২২

উপন্যাস নবীন প্রেমের উদয় ! লেখক নাঈম হোসেন , দ্বিতীয় খণ্ড , পর্ব : দশ

 নবীন প্রেমের উদয় , দ্বিতীয় খণ্ড , 

লেখক : নাঈম হোসেন 

পর্ব: দশ [ হুবহু জেমির বর্ণনা ];


👩জেমি: কিছুক্ষণ পর পরিরাজ বলল, চোখ খোল;

জেমি: আমি চোখ খুলে বিস্মিত হলাম! এত সুন্দর দর্শনীয় স্থান আর কখনও দেখিনি!

জেমি: আমি অতি উৎসাহী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম  এই স্থানের নাম কী?

💂পরিরাজ: গায়রে হেরা বা হেরা পর্বতের গুহা।
জেমি: ওয়াও!
জেমি: জায়গাটাও যেমন সুন্দর নামটা তার থেকেও বেশি সুন্দর!
জেমি: সত্যিই অত্যন্ত মনমোহিনী এই স্থান । এরকম মনকাড়া স্থান আর কভু দেখিনি!
জেমি: এমন একটা সুন্দর জায়গা দেখানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

👩জেমি: আচ্ছা আমি আপনাকে কী নামে ডাকব?
পরিরাজ: কেন, বন্ধু বলে ডাকবে।
পরিরাজ: এখন থেকে তুমি আমাকে আপনি নয় বরং তুমি বলে সম্বোধন করবে।
পরিরাজ: দেখছো না আমি তোমাকে তুমি বলে ডাকছি;

জেমি: ইশ আমার শরম করছে।

💂পরিরাজ: এখানে লজ্জার কী আছে? বন্ধুকে তুমি বলে ডাকলে ভালোবাসা  আরও গভীর হয়।
জেমি: ঠিক আছে চেষ্টা করব;
পরিরাজ: ধন্যবাদ!
জেমি: আপনাকেও, সরি! তোমাকেও ধন্যবাদ।
পরিরাজ: তুমি বলে ডাকার জন্য আবারও তোমাকে ধন্যবাদ।
জেমি : তোমাকেও।
জেমি: তুমি আমাকে এখানে কেন নিয়ে আসলে? আর এ জায়গার রহস্য কী?

পরিরাজ: বলছি,
পরিরাজ: সৌদি আরবের  মক্কা শরিফ থেকে ছয় কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত এই পাহাড়ের নাম জাবালে নূর। এই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত গুহাকে বলা হয় ‘গারে হেরা’ বা ‘হেরা গুহা’ । Jabal an-Nūr, lit. 'Mountain of the Light' or 'Hill of the Illumination'

পরিরাজ: কিছুক্ষণ চুপচাপ তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে, হেরা গুহা'), যা সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অসাধারণ তাৎপর্য রাখে, যেমনটি বলা হয় ইসলামিক নবী মুহাম্মদ এই গুহায় ধ্যান করার সময় কাটিয়েছেন, এবং এখানেই তিনি তাঁর প্রথম ওহী পেয়েছিলেন, যা জিবরাইল ফেরেশতা থেকে সূরা আল-আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত পেয়েছিলেন। পর্বতটিকে জাবাল আন-নূর ("আলোর পাহাড়" বা "আলোকিত পর্বত") উপাধি দেওয়া হয়েছিল।

জেমি: তাহলে এটাই কী সে জাবালে নুর পর্বত?
পরিরাজ: হ্যাঁ৷

পরিরাজ: হেরা গুহা এত ছোট ও এর মধ্যকার জায়গা এত কম যে, প্রথম দেখাতেই বিস্ময়কর মনে হবে। উচ্চতায় ভালোভাবে সোজা হয়ে দাঁড়ানোও কষ্টকর। যদিও সমতল, এ স্থানেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধ্যনমগ্নে নিয়োজিত ছিলেন। গুহাটি ৩.৭ মি (১২ ফু) দীর্ঘ এবং ১.৬০ মি (৫ ফু ৩ ইঞ্চি) প্রশস্ত। এটি পর্বতের ২৭০ মি (৮৯০ ফু) উচুতে অবস্থিত। 

পরিরাজ: মসজিদে হারাম থেকে পূর্ব-উত্তর কোণে ত্বায়েফ (সায়েল) রোডে মসজিদে হারাম হতে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পার্শ্ববর্তী স্থান থেকে এর উচ্চতা ২৮১ মিটার, এর চূড়া উটের কুঁজের মতো এবং এর আয়তন হলো ৫ কিলোমিটার। এর কিবলার দিক বিস্তৃত ফাঁকা অংশ, যেখান থেকে মসজিদে হারাম দেখা যায়। গুহায় দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ মিটার।

পরিরাজ:  এটি ছিল সেই জায়গা যেখানে নবী মুহাম্মদ (সঃ) কে  তার অনেকগুলি প্রত্যাদেশের প্রথমটি দিয়ে আশীর্বাদ করা হয়েছিল। ইসলামিক ইতিহাসে এর তাৎপর্য, এর শিখর থেকে মক্কা এবং পবিত্র মসজিদের ক্রমবর্ধমান দৃশ্যের সাথে, জাবাল আল-নূরকে বিশ্বব্যাপী তীর্থযাত্রীদের মধ্যে একটি বিখ্যাত পর্যটন স্পট করে তুলেছে। এটি মক্কার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ।

পরিরাজ: ৬১০ খ্রিস্টাব্দের রমজানে, হেরা গুহায় পবিত্র কুরআনের প্রথম ওহী নবী মুহাম্মদ (সাঃ) দ্বারা গৃহীত হয়েছিল। কুরআন অনুসারে এই রাতকে বলা হয় ‘শক্তির রাত’। কিংবদন্তি আছে যে, নবী মুহাম্মদ (সঃ)যখন গুহায় তার স্বাভাবিক নির্জনে পশ্চাদপসরণে ছিলেন, রমজান মাসের শেষ ১০ দিনে, হজরত জিবরীল (প্রধান দূত গ্যাব্রিয়েল) তাকে দেখতে আসেন এবং তাকে কুরআনের  প্রথম আয়াত তিলাওয়াত করতে বলেছিলেন। হজ্জ্বের মৌসুমে,

জেমি: এটা মুসলমানদের কেবলা থেকে কতটুকু দূর হবে?

পরিরাজ: জাবালে নূর: জাবালে নূর পবিত্র কাবা শরীফ থেকে মাত্র দুই মাইল দূরে অবস্থিত। এর নাম হেরা গুহা হলেও বিশ্বব্যাপী জাবালে নূর বা জাবালে হেরা নামেই বেশি পরিচিত।  

জেমি: জাবালে নুর মানে কী?

পরিরাজ: জাবালে নূর অর্থ হলো নূর বা আলোর পাহাড়। কেননা এ পাহাড়েই আল্লাহর পক্ষ থেকে হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর ওপর সর্বপ্রথম বরকতময় আলোকিত কোরআন মজিদ নাজিল হয়। যা শুধু মুসলিম উম্মাহ নয় বরং বিশ্ব মানবতার জন্য নূর বা আলো। সে কারণেই এ পাহাড় বিশ্বব্যাপী জাবালে নূর নামেই পরিচিত।  

পরিরাজ: এই গুহাটি তীর্থযাত্রীদের দ্বারা সবচেয়ে বেশি পরিদর্শন করা হয়, তবে ওমরাহ চলাকালীন, যাত্রীরা গুহায় যাওয়া বাধ্যতামূলক করে না। মহানবী
মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনুসারীরা পাথরে আরোহণ করে চূড়ার গুহায় পৌঁছে দোয়া চান।

পরিরাজ: তবে জাবালে নূর কিংবা গারে হেরা তথা হেরা গুহা সম্পর্কে জানতে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। জাবালে নূরে যে গুহায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধ্যানমগ্ন থাকতেন। সেখানে ওঠা একদমই সহজ ছিল না তখন। ছিল না উপরে ওঠার কোনো সহজ পথ বা সিঁড়ি ৷

পরিরাজ: বর্তমানে যেখানে ওঠতে শক্তিশালী ও সামর্থবান মানুষদের প্রায় ১ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। প্রায় ১০০০ ফুট উচ্চতার ভয়ংকর পথ পাড়ি দিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠতে বেশ কয়েকবার বিশ্রাম নিতে হয়।

সমতল ভূমি থেকে পাহাড়ের ওপরের দিকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ ফুট পথ গাড়িতে যাওয়া যায়। সেখান থেকে ৮৯০ ফুট উচ্চতায় হেরা গুহা অবস্থিত।

পরিরাজ:  হেরা গুহায় যেতে আরও প্রায় ১০০ ফুট রাস্তা পাড়ি দিতে হয়।
কেননা পাহাড়ের চড়ূা থেকে বিপরীত দিকে একটু নিচে অবস্থিত হেরা গুহায় যাওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

জেমি: তাহলে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে সেখানে যেতেন ?

পরিরাজ : সেটাই তো নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুজেযা বৈ আর কী? তিনি ঈমানের বদৌলতে মনের শক্তির জোরেই সেখানে যেতে সক্ষম হয়েছেন ৷

পরিরাজ: হেরা গুহাটি পাহাড়ের সর্বোচ্চ চুড়ায় না হলেও সেখানে যেতে হলে পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় ওঠতে হয়। সেখানে ওঠা ছাড়া হেরা গুহায় যাওয়ার কোনো বিকল্প পথ নেই।

পরিরাজ: প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে গুহায় ধ্যান করেছিলেন, সেটি আকারে অনেক ছোট। যেখানে একজন সুঠামদেহী মানুষ ঠিকভাবে নড়াচড়া করতেই কষ্টকর হয়ে যায়। অনেকেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্মৃতিবিজড়িত এ পাহাড় দেখতে যায় এবং হেরা গুহায় নামাজ আদায় করে। এখানে একজনের বেশি লোক নামাজ আদায় করা কষ্টকর হয়ে যায়।

পরিরাজ : এককথায় বলা যায় এটা একটি রহস্যময় পাহাড়! এর রহস্য হচ্ছে,  হেরা পাহাড়, সেই পাহাড় যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে ইবাদতের জন্য নির্জনতা অবলম্বন করতেন। সেখানে জিবরীল আলাইহিস সালাম অবতরণ করেন এবং সে হেরা গুহায় সর্বপ্রথম ওহি অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ তা‘আলার বাণী: [১] “তুমি পড় তোমার সেই রব্বের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিণ্ড থেকে। পড় এবং তোমার রব্ব মহামহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে (এমন জ্ঞান) যা সে জানতো না।”

পরিরাজ: [২] উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, প্রথম দিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অহী প্রাপ্ত হন নিদ্রাযোগে সঠিক স্বপ্নের মধ্যে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা প্রত্যুষের আলো সদৃশ স্পষ্ট হয়ে দেখা দিত। অতঃপর তাঁর নিকট নির্জন ও নিঃসঙ্গ পরিবেশ পছন্দ হয়। কাজেই তিনি একাধারে কয়েক দিন পর্যন্ত নিজ পরিবারে অবস্থান না করে হেরা পর্বতের গুহায় নির্জন পরিবেশে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকেন। আর এই উদ্দেশ্যে তিনি প্রয়োজনীয় খাদ্যসমাগ্রী সাথে নিয়ে যেতেন। তারপর তিনি তাঁর জীবন সঙ্গিনী মহিয়সী বিবি খাদীজার নিকট ফিরে এসে আবার কয়েক দিনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে যেতেন। এভাবে হেরা গুহায় অবস্থানকালে তাঁর নিকট প্রকৃত সত্য (আল্লাহর অহী) সমাগত হয়। (আল্লাহর) ফিরিশতা জিবরীল আলাইহিস সালাম সেখানে আগমনপূর্বক তাঁকে বললেন, আপনি পড়ুন! রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি বললাম, আমি
তো পড়তে জানি না!

নবী (সাঃ) বললেন, তখন আমাকে ফিরিশতা জিবরীল (আলাইহিস সালাম) জড়িয়ে ধরে এত কঠিনভাবে আলিঙ্গন করলেন যে তাতে আমি ভীষণ কষ্ট অনুভব করলাম। অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, আপনি পড়ুন! তখন আমি পূর্বের ন্যায় বললাম, আমি তো পড়তে জানি না! তখন তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে  জড়িয়ে ধরে এত কঠিনভাবে আলিঙ্গন করলেন যে তাতে আমি ভীষণ কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, আপনি পড়ুন! আমি পূর্বানুরূপ তখনও বললাম,  আমিতো পড়তে জানি না। তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে তৃতীয়বার আলিঙ্গন করে ছেড়ে দিলেন। তারপর তিনি বললেন: “আপনি আপনার রব্বের নামে পড়ুন, যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট বাঁধা রক্ত হতে। আপনি পড়ুন ! আর আপনার রব্ব মহামহিমান্বিত!”

পরিরাজ: তারপর [৩] “এ আয়াত নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সঃ) ফিরে এলেন। তাঁর অন্তর তখন কাঁপছিল। তিনি খাদীজা বিনতে খুওয়ালিদের কাছে এসে বললেন, আমাকে চাঁদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাঁদর দিয়ে ঢেকে দাও। ’ তাঁরা তাঁকে চাঁদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তাঁর ভয় দূর হল। তখন তিনি খাদীজা(রাঃ) এর কাছে সকল ঘটনা জানিয়ে তাঁকে বললেন, আমি নিজের উপর আশংকা বোধ করছি। খাদীজা (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌র কসম, কক্ষনো না। আল্লাহ্ আপনাকে কক্ষনো অপমানিত করবেন না। আপনিতো আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করেন, অসহায় দুর্বলের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সাহায্য করেন, মেহমানের মেহমানদারী করেন এবং দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। এরপর তাঁকে নিয়ে খাদীজা (রাঃ) তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনু নাওফিল(অথবা নাওফাল) ইবনু আবদুল আসা’দ ইবনু আবদুল উযযার কাছে গেলেন, যিনি জাহিলী যুগে ঈসায়ী ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী(হিব্রু) ভাষা লিখতে জানতেন এবং আল্লাহ্‌র তওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইঞ্জিল থেকে অনুবাদ করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বয়োবৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদীজা (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন। ’ ওয়ারাকা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ভাতিজা! তুমি কী দেখ?’ রাসুলুল্লাহ (সঃ) যা যা  দেখেছিলেন, সবই খুলে বললেন।
 
তখন ওয়ারাকা তাঁকে বললেন, ইনি সে দূত যাঁকে আল্লাহ্ মূসা(আঃ) এর কাছে পাঠিয়েছিলেন। আফসোস! আমি যদি সেদিন যুবক থাকতাম। আফসোস! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম, যেদিন তোমার কাওম তোমাকে বের করে দেবে। ’ রাসুলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ তাঁরা কি আমাকে বের করে দিবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, অতীতে যিনিই তোমার মত কিছু নিয়ে এসেছেন তাঁর সঙ্গেই শত্রুতা করা হয়েছে। সেদিন যদি আমি থাকি, তবে তোমাকে প্রবলভাবে সাহায্য করব। ’ এর কিছুদিন পর ওয়ারাকা(রাঃ) ইন্তেকাল করেন। ” 

পরিরাজ: খ্রিষ্টান মিশনারীরা আলোচ্য ঘটনার ব্যাপারে বেশ কিছু অভিযোগ করে। ইসলামকে অপমান করবার মানসে নাস্তিক-মুক্তমনাদেরকেও তাদের পালে হাওয়া দিতে দেখা যায়।

জেমি : তারা কী বলে , আর তাদের অভিযোগগুলো কী কী?

পরিরাজ: তাদের অভিযোগগুলো হচ্ছে---

এক নং অভিযোগ :  বাইবেলে পুরাতন নিয়মে(Old testament) তাওরাত অংশে [১ম ৫টি বই/Pentateuch] মুসা(আঃ) এর কাহিনীর কোথাও জিব্রাঈল(আঃ) এর কথা উল্লেখ নেই। বাইবেলে জিব্রাঈল(আঃ) এর সর্বপ্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় তাওরাতের শত শত বছর পর লিখিত দানিয়েল(Daniel) পুস্তকে। [৪]

পরিরাজ: অথচ ওয়ারাকা বিন নাওফাল দাবি করেছিলেন যে মুহাম্মাদ (সাঃ)  এর নিকট সেই নামুস বা দূত এসেছিল যিনি মুসা(আঃ) এর নিকটেও আসতেন।

ইসলাম বিরোধীদের দাবি হচ্ছে—ওয়ারাকা বিন নাওফাল ভুল-ভাল তথ্য দিয়ে নিজ অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। অর্থাৎ নবী(সাঃ)কে প্রথম নবুয়তের সুসংবাদদানকারী ব্যক্তি ভুল তথ্য দিয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)।

পরিরাজ:  তাদের দুই নং  অভিযোগ : তাদের আরেকটি অভিযোগ হচ্ছে-- ওয়ারাকা বিন নাওফাল যেহেতু প্রাচীন কিতাব সম্পর্কে জানতেন, কাজেই তিনিই মুহাম্মাদ(সাঃ)কে শিক্ষা দিতেন এবং এরই আলোকে মুহাম্মাদ(সাঃ) কুরআন ‘লিখতেন’ (নাউযুবিল্লাহ)।

পরিরাজ: ইসলামবিদ্বেষীদের অপপ্রচার এর এক নং অভিযোগের জবাবে বলা হয়  ওয়ারাকা বিন নাওফাল সম্পর্কে যতটুকু তথ্য জানা যায়, তা থেকে আমরা বলতে পারি যে তিনি Ebionite কিংবা এই জাতীয় কোন খ্রিষ্টান চার্চের অনুসারী ছিলেন।

জেমি: Ebionite রা আবার কারা ?

পরিরাজ: শুরুতেই আমরা  Ebioniteদের ব্যাপারে জেনে নিই। সেই যুগে আরব উপদ্বীপে যে সকল খ্রিষ্টান ফির্কা বা দল(denomination) ছিল, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই Ebionite দলটি। [৫]

পরিরাজ:  তৎকালিন শাম অঞ্চল অর্থাৎ বর্তমান বৃহত্তর সিরিয়া-ফিলিস্তিন অঞ্চলে ছিল এদের আধিক্য। [৬]

পরিরাজ:  তাদের নিজস্ব ইঞ্জিল(Gospel) ছিল যা Ebionite Gospel নামে পরিচিত। এর সাথে অন্য খ্রিষ্টানদের ইঞ্জিলের মিল ছিল না। তারা একে হিব্রু বা ইব্রানী ইঞ্জিল বলত কারণ তা ছিল হিব্রু ভাষায় লিখিত। [৭]

এই ইঞ্জিলের হদিস বর্তমানে আর পাওয়া যায় না। [৮]

খ্রিষ্টীয় ১ম শতাব্দী থেকেই এই দলটির অস্তিত্ব ছিল; তারা এক আল্লাহতে বিশ্বাস করত, ঈসা(আঃ)কে আল্লাহর শরিক সাব্যস্ত না করে আল্লাহর নবী বলে মানত, ত্রিত্ববাদকে অস্বীকার করত, সাধু পল(Paul)কে ধর্মত্যাগী ও বিশ্বাসঘাতক মনে করত। অন্য খ্রিষ্টানরা যেমন ঈসা(আঃ) এর তথাকথিত ক্রুশবিদ্ধ হওয়াকে নাজাতের উপায় হিসাবে মানত সেখানে Ebioniteরা কঠোরভাবে ইহুদিদের আইন-কানুন বা তাওরাতের আইনকে মেনে চলত এবং ঈসা(আঃ) এর মৃত্যুকে পাপ থেকে নাজাতের(atonement for sin) উপায় মানতে অস্বীকার করত। [৯]

পরবর্তীতে এই খ্রিষ্টান দলটির সদস্যরা মুহাম্মাদ(সাঃ)কে সত্য নবী হিসাবে মেনে নেয় এবং ইসলাম গ্রহণ করে। [১০]

পরিরাজ: শুরুতে বুখারীর যে হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছে তাতে বলা আছে যে, “ তিনি(ওয়ারাকা) ইবরানী(হিব্রু) ভাষা লিখতে জানতেন এবং আল্লাহ্‌র তওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইঞ্জিল থেকে অনুবাদ করতেন।“ আমরা উপরে দেখেছি যে Ebionite খ্রিষ্টানদের ইঞ্জিল ছিল হিব্রু বা ইবরানী ভাষায়। Ebionite খ্রিষ্টানরা ছিল একত্ববাদী।

পরিরাজ: সিরাত ইবন হিশামে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়ারাকা বিন নাওফাল ছিলেন চারজন সত্য ধর্ম অনুসন্ধানকারীর একজন যাঁরা সমকালিন আরব পৌত্তলিকদের মূর্তিপুজার বিরোধিতা করতেন। তারা সেই পৌত্তলিক ও বহুঈশ্বরবাদী ধর্ম ত্যাগ করে একত্ববাদী ইব্রাহিমী ধর্মবিশ্বাস অনুসন্ধান করছিলেন। এভাবে অনুসন্ধান করে তিনি ঈসা(আঃ) এর দ্বীন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বইপুস্তক অধ্যায়ন করতে থাকেন। [১১]

পরিরাজ:  তাই আমরা বলতে পারি যে ওয়ারাকা বিন নাওফাল Ebionite ছিলেন কিংবা এমন ফির্কার খ্রিষ্টান ছিলেন যারা ছিল একত্ববাদী। [১২] 
পরিরাজ: আমরা জেনেছি  যে Ebionite খ্রিষ্টানরা কঠোরভাবে তাওরাত অনুসারী ছিল। যেহেতু তারা তাওরাতের আইন মেনে চলত কাজেই স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রয়োজন হত ইহুদিদের পূর্ণ তাওরাত সম্পর্কে জ্ঞান লাভের। ইহুদিদের বিশ্বাস হচ্ছেঃ-- ঈশ্বর মুসা(আঃ)কে তাওরাত দান করেছেন। এই তাওরাতের ২টি রূপ আছে; লিখিত ও মৌখিক। ইহুদিদের ‘তানাখ’{খ্রিষ্টানরাও এই কিতাবগুলোতে বিশ্বাস রাখে এবং এগুলো Old Testament হিসাবে বাইবেলে আছে} এর প্রথম ৫টি বই হচ্ছে ‘লিখিত তাওরাত’(written Torah)। আর মুসা(আঃ)কে ঈশ্বর যে মৌখিক শিক্ষা দিয়েছেন তা হচ্ছে ‘মৌখিক তাওরাত’(oral Torah)। এই ‘মৌখিক তাওরাত’কে পরবর্তীতে লিপিবদ্ধ করা হয়, যা ‘মিশনাহ’ (Mishnah) নামে পরিচিত। অর্থাৎ ‘মৌখিক তাওরাত’ এর লিখিত রূপ হচ্ছে মিশনাহ। ইহুদি পণ্ডিতগণ মিশনাহ এর বেশ কিছু ব্যাখ্যা লেখেন যা ‘গেমারা’(Gemara) নামে পরিচিত। মিশনাহ ও গেমারাকে একত্রে বলে ‘তালমুদ’(Talmud)।  [১৩] 

পরিরাজ: মূল ধারার খ্রিষ্টানরা তাওরাতের আইন মানেন না এবং তারা ইহুদিদের মৌখিক তাওরাতকে বাইবেলে অন্তর্ভুক্ত করেননি। কিন্তু ওয়ারাকা বিন নাওফালের পক্ষে অবশ্যই মৌখিক তাওরাতের জ্ঞান থাকা সম্ভব ছিল অথবা বলা যায় প্রয়োজন ছিল। কেননা তিনি ছিলেন Ebionite ধারার খ্রিষ্টান।

জেমি: মৌখিক তাওরাতে মুসা(আঃ) এবং জিব্রাঈল(আঃ) এর ব্যাপারে কী তথ্য আছে?

পরিরাজ: ইহুদিদের মৌখিক তাওরাতের বিবরণ অনুযায়ী--- নবী মুসা(আ:) এর জীবনে সব থেকে বেশি প্রভাব যাঁদের ছিল তাঁদের একজন হচ্ছেন ফেরেশতা জিব্রাঈল(আঃ)।

পরিরাজ:  মৌখিক তাওরাতের বিবরণ অনুযায়ী মুসা(আঃ) শিশুকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জিব্রাঈল(আঃ) এর সংস্পর্শে এসেছেন। মুসা(আঃ) কে তাঁর মা নীল নদে ভাসিয়ে দিলে সেটি ভাসতে ভাসতে ফিরআউনের প্রাসাদের কাছে চলে আসে। মৌখিক তাওরাত বলছে যে, সে সময় জিব্রাঈল(আঃ) শিশু মুসা(আঃ)কে খোঁচা দেন যার দরুণ তিনি কেঁদে ওঠেন। আর সেই কান্নার কারণেই ফিরআউনের কন্যার মনে শিশু মুসা(আঃ) এর প্রতি দয়ার উদ্রেক ঘটে। [১৪]

এবং তিনি মুসা(আঃ)কে তুলে নিয়ে লালনপালন করেন। পরবর্তীতে ফিরআউন শিশু মুসা(আঃ) এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দেখে সন্দেহগ্রস্ত হয়ে পড়ে যে এ কোন অসাধারণ শিশু। জ্যোতিষী তাকে জানায় যে এ হচ্ছে সেই শিশু যে বড় হয়ে তার সাম্রাজ্যের ধ্বংসের কারণ হবে। ফিরআউনের একজন উপদেষ্টা(Balaam) পরামর্শ দেয় শিশু মুসা(আঃ)কে হত্যা করতে। এ অবস্থায় তাঁর প্রাণরক্ষার ব্যাবস্থা করেন জিব্রাঈল(আঃ)। ফেরেশতা জিব্রাঈল (আজিব্রাঈল (আঃ) ফিরআউনের একজন উপদেষ্টার(Jethro ) ছদ্মবেশ নিয়ে ফিরআউনকে পরামর্শ দেন যে, পরীক্ষা করে দেখা হোক এ আসলেই কোন অসাধারণ শিশু কিনা। সকলেই এ পরামর্শে একমত হয়।

পরিরাজ: তখন পরীক্ষা করার জন্য একটি অতি উজ্জ্বল স্বর্ণের খণ্ড এবং একটি জ্বলন্ত কয়লার টুকরাকে পাশাপাশি একটা থালায় রেখে মুসা(আঃ) এর নিকট আনা হয়। উদ্যেশ্য ছিল এটা দেখা যে শিশুটি কোন জিনিসটা তুলে নেয়। যদি সে অবুঝ শিশু হয় তাহলে অপেক্ষাকৃত বেশি উজ্জ্বল কয়লার টুকরা তুলে নেবে। আর যদি অসাধারণ কোন শিশু হয়, তাহলে বুঝেশুনে স্বর্ণের টুকরাটা তুলে নেবে। এমনটি করলে তাঁকে হত্যা করা হবে।

পরিরাজ: জিব্রাঈল শিশু মুসা(আঃ) এর হাতকে জ্বলন্ত কয়লার টুকরাটির দিকে চালিত করলেন। ফলে তিনি কয়লার টুকরাটি তুলে নেন এবং মুখে দেন। ফলে তাঁর জিহ্বা পুড়ে যায়। এর ফলশ্রুতিতেই তিনি পরবর্তীতে তোতলা হয়ে যান। এতে তিনি আহত হয়েছিলেন, কিন্তু প্রাণ রক্ষা পেয়েছিল।

পরিরাজ: মৌখিক তাওরাতের অন্যত্র বলা আছে যে, মুসা(আঃ) নবুয়ত পাবার পর হারুন(আঃ)কে নিয়ে যখন ফিরআউনের নিকট যাচ্ছিলেন, সেখানকার প্রাসাদের প্রতিটি দরজায় প্রহরী ছিল। জিব্রাঈল(আঃ) তাঁদেরকে অদৃশ্য হয়ে প্রাসাদের ভেতর প্রবেশ করিয়ে দেন। 

পরিরাজ: মৌখিক তাওরাতের বিবরণ অনুযায়ী মৃত্যুর সময় মুসা(আঃ) এর জান কবজ করতে আসেন যেসব ফেরেশতা, তাঁদের মধ্যে জিব্রাঈল(আঃ)ও ছিলেন। তিনি সে সময়ে মুসা(আঃ) এর বিছানা ঠিক করে দেন। [১৫]

পরিরাজ: আমরা জেনেছি যে ইহুদিদের আইন সংক্রান্ত কিতাবাদীতে বেশ কয়েক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে যে মুসা(আঃ) এর নিকট জিব্রাঈল(আঃ) আসতেন। কাজেই ওয়ারাকা বিন নাওফালের এই উক্তিঃ  “...ইনি সে দূত [জিব্রাঈল(আঃ)] যাঁকে আল্লাহ্ মূসা(আঃ) এর কাছে পাঠিয়েছিলেন” সম্পূর্ণ সঠিক একটি উক্তি এবং এর মাঝে ভুলের কিছুই নেই। নিঃসন্দেহে আসমানী কিতাবে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ওয়ারাকা বিন নাওফালের পক্ষে মৌখিক তাওরাত এবং মিদরাসে উল্লেখিত মুসা(আঃ) ও জিব্রাঈল(আঃ) এর ঘটনাগুলো জানা থাকার কথা, Ebonite খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের পক্ষে এগুলো জানা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। বরং যে সব খ্রিষ্টান মিশনারীরা এখান থেকে ভুল ধরতে যায়, তাদেরই অজ্ঞতা এর দ্বারা প্রকাশ পাচ্ছে। কেননা ইহুদিদের আইন সংক্রান্ত কিতাবাদীতে মুসা(আঃ) এর নিকট  জিব্রাঈল(আঃ) এর আসার ঘটনাগুলো জানেন না বলেই তারা এমন অভিযোগ করেছেন। না জেনেই তারা দাবি করেন যে দানিয়েলের পুস্তকের আগে কোথাও মুসা(আঃ) এর নিকট জিব্রাঈল(আঃ) এর আসার উল্লেখ নেই। অথবা এটাও হতে পারে যে খ্রিষ্টান মিশনারীরা এই ঘটনাগুলো জেনেশুনেই ইসলামের প্রতি শত্রুতাবশত এমন অভিযোগ করেন।

পরিরাজ: দুই নং অভিযোগের জবাব হচ্ছে, খ্রিষ্টান মিশনারীরা বলতে চায় যে ওয়ারাকা বিন নাওফাল যেহেতু প্রাচীন আসমানী কিতাবে অভিজ্ঞ ছিলেন, কাজেই তিনিই মুহাম্মাদ (সঃ)কে শিখিয়ে দিতেন যা দ্বারা মুহাম্মাদ (সাঃ) কুরআন ‘রচনা’ করতেন (নাউযুবিল্লাহ)। তাদের সাথে নাস্তিক-মুক্তমনাদেরকেও তাল মেলাতে দেখা যায়। 
পরিরাজ: এটি এমনই একটি মূর্খতাপ্রসূত অভিযোগ যা খুব সহজেই খণ্ডন করা যায়। তাছাড়া এই অভিযোগটি একটি স্ববিরোধী অভিযোগ। এরাই দাবি করে যে ওয়ারাকা বিন নাওফাল মুসা(আঃ) এর নিকট জিব্রাঈল(আঃ) এর আসবার ব্যাপারে ‘ভুল’ তথ্য দিয়ে নিজ অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা যখন প্রয়োজন হয় তখন ওয়ারাকা বিন নাওফালকে ‘অজ্ঞ’ প্রমাণ করেন,

পরিরাজ: আবার যখন প্রয়োজন হয় তখন সেই ওয়ারাকা বিন নাওফালকেই আসমানী কিতাবে জ্ঞানী প্রমাণ করতে চান যাতে বলা যায় যে তিনি কুরআন ‘রচনায়’ মুহাম্মাদ(সাঃ)কে সাহায্য করতেন। সত্যিই বড় বিচিত্র কর্মপ্রচেষ্টা ইসলাম বিরোধী এই মানুষগুলোর।

পরিরাজ: শুরুতেই মুহাম্মাদ(সাঃ) এর সঙ্গে ওয়ারাকার সাক্ষাতের ঘটনা নিয়ে একটি হাদিস উল্লেখ করা হয়েছিল যার শেষাংশে বলা হয়েছে – “... এর কিছুদিন পর ওয়ারাকা(রাঁ) ইন্তেকাল করেন। …” [১৬]

পরিরাজ: অর্থাৎ মুহাম্মাদ(সাঃ) প্রথম ওহী{সুরা আলাকের ১ম ৫টি আয়াত} লাভের কিছুদিনের মাঝেই ওয়ারাকা ইন্তেকাল করেন। অথচ মুহাম্মাদ(সাঃ) এর নিকট এরপরেও টানা ২৩ বছর কুরআন নাজিল হতে থাকে। ওয়ারাকা তাহলে কী করে মুহাম্মাদ(সাঃ)কে “কুরআন শিক্ষা” দিতেন? মৃত মানুষ কি কাউকে কিছু শেখাতে পারে?

পরিরাজ: আমরা জানি যে বিভিন্ন অবস্থা ও ঘটনার প্রেক্ষিতে কুরআনের আয়াত নাজিল হত। এছাড়াও মুহাম্মাদ(সাঃ) এর নিকট অনেক সময়েই আহলে কিতাব ইহুদিরা বিভিন্ন প্রশ্ন ছুড়ে দিত। ইহুদিরা নিজেরাই বলত যে, সেগুলো এমন প্রশ্ন ছিল যার জবাব একজন নবী ছাড়া কেউ দিতে পারে না।

জেমি: সেগুলো কী রকম প্রশ্ন ছিল?

পরিরাজ: ইহুদিরা পরীক্ষার্থে রাসুলুল্লাহ(সাঃ) কে বলেছিলঃ যদি আপনি সত্যিই আল্লাহর নবী হনতবে বলুন ইয়াকুব পরিবার শাম থেকে মিসরে কেন স্থানান্তরিত হয়েছিল এবং ইউসুফ(আঃ) এর ঘটনা কী ছিলপ্রত্যুত্তরে ওহীর(সুরা ইউসুফ) মাধ্যমে পূর্ণ কাহিনী অবতারণ করা হয়।...তিনি ছিলেন নিরক্ষর এবং জীবনের প্রথম থেকেই মক্কায় বসবাসকারী।তিনি কারো কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেননি এবং কোন গ্রন্থও পাঠ করেননি।এতদসত্ত্বেও তাওরাতে বর্ণিত আদ্যোপান্ত ঘটনাটি বিশুদ্ধরূপে বর্ণণা করে দেন।বরং এমন কিছু বিষয়ও তিনি বর্ণণা করেন যেগুলো তাওরাতে উল্লেখ ছিল না। [১৭]

পরিরাজ: এরপর ইহুদি(আলেম) বললআমি আপনাকে (কয়েকটি কথা) জিজ্ঞেস করতে এসেছি। রাসূলুল্লাহ(সাঃতাকে বললেনতোমার কী লাভ হবেযদি আমি তোমাকে কিছু বলি? সে বললআমি আমার কান পেতে শুনব।
এরপর রাসূলুল্লাহ(সাঃ) তাঁর কাছে যে খড়িটি ছিল তা দিয়ে মাটিতে আঁকাঝোকা দাগ কাটছিলেন। তারপর বললেনজিজ্ঞেস কর।

পরিরাজ:`ইহুদি বলল, যেদিন এ জমিন ও আকাশমণ্ডলী পাল্টে গিয়ে অন্য জমিন ও আকাশমণ্ডলীতে পরিণত হবে (অর্থাৎ কিয়ামাত হবে) সেদিন লোকজন কোথায় থাকবে?
পরিরাজ: জবাবে রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বললেন, তারা সেদিন পুলসিরাতের কাছে অন্ধকারে থাকবে।
পরিরাজ: তারপর সে [ইহুদি আলেম] বলল, কে সর্বপ্রথম (তা পার হবার) অনুমতি লাভ করবে?
পরিরাজ: তিনি[রাসূলুল্লাহ(সাঃ)] বললেন, দরিদ্র মুহাজিরগণ।
পরিরাজ: ইহুদি বলল, জান্নাতে যখন তারা প্রবেশ করবে তখন তাদের তোহফা কি হবে?
পরিরাজ: নবী (সাঃ) বললেন, মাছের কলিজার টুকরা।
পরিরাজ: ইহুদি বলল, এরপর তাদের দুপুরের খাদ্য কি হবে?
পরিরাজ: নবী (সাঃ) বললেন, তাদের জন্য জান্নাতের ষাঁড় জবাই করা হবে যা জান্নাতের আশেপাশে চড়ে বেড়ায়।
পরিরাজ: ইহুদি বলল, এরপরে তাদের পানীয় কি হবে? 
পরিরাজ: নবী (সাঃ) বললেন, সেখানকার একটি ঝর্ণার পানি যার নাম সালসাবীল।

পরিরাজ: তখন ইহুদি বলল, আপনি ঠিক বলেছেন। সে আরো বলল যে, আমি আপনার কাছে এমন একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছি যা নবী ছাড়া পৃথিবীর কোন অধিবাসী জানে না অথবা একজন কি দু'জন লোক ছাড়া।

পরিরাজ: তখন নবী (সাঃ) বললেন, আমি যদি তোমাকে তা বলে দেই তবে তোমার কি কোন উপকার হবে?
পরিরাজ: ইহুদি বলল, আমি আমার কান পেতে শুনব। সে বলল, আমি আপনাকে সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছি।

পরিরাজ: নবী ( সাঃ) বললেন, পুরুষের বীর্য সাদা এবং মেয়েলোকের বীর্য হলুদ। যখন উভয়টি একত্রিত হয়ে যায় এবং পুরুষের বীর্য মেয়েলোকের বীর্যের উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন আল্লাহর হুকুমে পুত্র সন্তান হয়। আর যখন মেয়েলোকের বীর্য পুরুষের বীর্যের ওপর প্রধান্য লাভ করে তখন আল্লাহর হুকুমে কন্যা সন্তান হয়।

পরিরাজ: তখন ইহুদি বলল, আপনি ঠিকই বলেছেন এবং নিশ্চয়ই আপনি একজন নবী। এরপর সে চলে গেল।

পরিরাজ: তখন রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বললেন, এ লোক আমার কাছে যা জিজ্ঞেস করেছেইতোপূর্বে আমার সে সম্পর্কে কোন জ্ঞানই ছিল না। আল্লাহ তা'আলা এক্ষণে আমাকে তা জানিয়ে দিলেন। [১৮]

পরিরাজ:  এ রকম আরও অনেক ঘটনা আছে যখন অন্য ধর্মের পণ্ডিতরা নবী(সাঃ)কে বিভিন্ন প্রশ্ন করত এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার সঠিক উত্তর দিতেন। ওয়ারাকা বিন নাওফালই যদি তাঁকে শিখিয়ে দিয়ে থাকতেন (নাউযুবিল্লাহ), তাহলে কী করে মুহাম্মাদ(সাঃ) তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোর উত্তর দিতেন?

পরিরাজ: সব থেকে বড় কথা এসব ঘটনার বহু আগেই ওয়ারাকা বিন নাওফাল মারা গিয়েছিলেন। কাজেই মুহাম্মাদ(সাঃ)কে সকল কিছু ওয়ারাকা বিন নাওফাল শিখিয়ে দিতেন—এ অভিযোগের আদৌ কোন ভিত্তি নেই।

জেমি: তাহলে ইসলামে ওয়ারাকা বিন নাওফেলের মর্যাদা কী?
পরিরাজ: ইসলামে ওয়ারাকা বিন নাওফালের মর্যাদা হচ্ছে; সহীহ হাদিসে উল্লেখ আছে যে ওয়ারাকা বিন নাওফাল একজন জান্নাতী। আয়িশা(রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেনঃ “তোমরা ওয়ারাকা বিন নাওফালকে মন্দ বলো না কেননা আমি দেখেছি যে তিনি জান্নাতে ১টি বা ২টি উদ্যান লাভ করবেন।” [১৯]

পরিরাজ: খাদিজা(রাঃ) রাসূলুল্লাহ(সাঃ)কে ওয়ারাকা বিন নাওফালের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে নবী(সাঃ) বলেন,“আমি তাঁকে স্বপ্নে সাদা জামা পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। তাঁর জন্য যদি জাহান্নাম নির্ধারিত হত, তাহলে আমি তাঁকে সাদা জামা পরা অবসস্থায় দেখতাম না।” [২০]

পরিরাজ: প্রাচীন আলিমদের মধ্যে ইমাম তাবারী(রাঃ), বাগাওয়ী(রঃ), ইবন  কানী(রঃ), ইবন সাকান(র.) এবং আরো অনেকের মতে ওয়ারাকা বিন নাওফাল ছিলেন একজন সাহাবী।

পরিরাজ: বর্তমান যুগের আলিমদের মধ্যে শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালিহ আল উসাইমিন(রহঃ), সালিহ আল ফাওযান(হাফিজাহুল্লাহ) এর মতেও ওয়ারাকা বিন নাওফাল ছিলেন একজন সাহাবী এবং তাঁর নামের শেষে ‘রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু’{আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন} পড়া যেতে পারে।

পরিরাজ: আবার ইবন কাসির(রঃ), ইমাম যাহাবী(রঃ), ইবন হাজার(রঃ) প্রমুখের মতে ওয়ারাকা বিন নাওফাল সাহাবী ছিলেন না। [২১]

পরিরাজ: এবার শোন , হেরাগুহা সম্পর্কে বলছি;
পরিরাজ: [২২] আল্লাহর নবীর সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার হেরা পাহাড়ে অবস্থান করছেন এমন সময় পাহাড় নড়া-চড়া শুরু করে, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: হে হেরা স্থির হও, তোমার উপর তো একজন নবী, এক সিদ্দীক ও শহীদ রয়েছেন” সে সময় তার উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর, উমার, উসমান, আলী, ত্বালহা, যুবায়ের ও সা‘দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম উপস্থিত ছিলেন।

জেমি: আচ্ছা এখানে আসলে মুসলমানদের জন্য কোন ইবাদত করতে হয় কী?
পরিরাজ: এ হেরা পাহাড়ের চূড়ায় যে গুহা রয়েছে, অহী অবতীর্ণ হওয়ার পর, এমনকি মক্কা বিজয়ের পর, কিংবা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হজের সময় বা তাঁর কোনো সাহাবী কখনও আসা-যাওয়া করেছেন বলে কোনো দলীল-প্রমাণ নেই।

পরিরাজ: এর  সত‍্যতা সম্পর্কে ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: [২৩] হেরা গুহায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবী হওয়ার পূর্বেই নির্জনতা গ্রহণ করত: ইবাদত করেন। অতঃপর আল্লাহ যখন তাঁকে নবুওয়াত ও রিসালাত দ্বারা সম্মানিত করলেন, সৃষ্টির ওপর তাঁর প্রতি ঈমান আনা, তাঁর অনুসরণ ও আনুগত্য ফরয করে দিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও যারা তাঁর প্রতি ঈমান আনেন সেই সর্বোত্তম সৃষ্টি মুহাজিরগণ মক্কায় বেশ কিছু বছর অবস্থান করেন; কিন্তু সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বা তাঁর কোনো সাহাবী হেরা পাহাড়ে যান নি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরত করেন ও চারবার উমরা করেন। অথচ সেগুলোর কোনোটিতে না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, না তাঁর কোনো সাহাবী হেরা গুহায় আগমন করেন, না সেখানে তারা যিয়ারত করেন, না মক্কার পার্শ্ববর্তী কোনো স্থানের কোনো অংশ তাঁরা যিয়ারত করেন। অতএব, সেখানে মসজিদে হারাম, সাফা-মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থান, মিনা, মুযদালিফা ও ‘আরাফাত ব্যতীত আর কোনো স্থানে কোনো ধরণের ইবাদত নেই।

পরিরাজ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরবর্তীতে খোলাফায়ে রাশেদীন ও অন্যান্য মহান উত্তরসূরীগণ অতিবাহিত হয়েছেন তারা হেরা গুহা বা এ ধরণের অন্য কোথাও সালাত বা দো‘আর জন্য গমন করেন নি।

পরিরাজ: আর সর্বজনবিদিত যে, যদি তা শরী‘আতসম্মত হত বা এমন মুস্তাহাব আমলের অন্তর্ভুক্ত হত যাতে আল্লাহ নেকী দিবেন তবে এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মানুষ অপেক্ষা বেশি জানতেন ও সাহাবীগণও এ সম্পর্কে জানতেন। আর সাহাবীগণ ছিলেন নেকীর কাজসমূহের ক্ষেত্র সর্বাধিক অবগত ও আগ্রহী। তা সত্ত্বেও যেহেতু তারা এ সবের কোনো কিছুর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন নি, তাতে বুঝা যায় যে, এ পর্বত বা এ জাতীয় কোনো স্থানে গিয়ে ইবাদত করা হচ্ছে সেই সব নতুন নতুন আবিস্কৃত বিদ‘আতসমূহের অন্তর্ভুক্ত; যেগুলোকে তারা কোনো ইবাদত, নৈকট্য অর্জনের উপায় বা অনুসরণযোগ্য গণ্য করতেন না। সুতরাং যে সেগুলোকে কোনো ইবাদত, নৈকট্য অর্জনের উপায় বা অনুসরণযোগ্য গণ্য করল সে অবশ্যই তাদের হক পথের অনুসরণ পরিত্যাগ করে অন্য ভ্রান্ত পথের অনুসরণ করল এবং এমন নিয়ম-নীতি প্রবর্তন করল যার অনুমতি আল্লাহ প্রদান করেন নি।

পরিরাজ: হেরা পাহাড়ে কোনো কোনো হাজী বেশ কিছু বিদ‘আত ও সুন্নাত পরিপন্থী কার্যকলাপে পতিত হয়। আর তার কারণ হলো, এ পাহাড়ের পবিত্রতা ও ভিন্ন মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য আছে বলে তাদের ভ্রান্ত ধারণা, যার ভ্রান্ততা সম্পর্কে ইতোপূর্বে সতর্ক করা হয়েছে। হাজীগণ যেন এ সমস্ত বিদ‘আত ও কুসংস্কারে পতিত হওয়া থেকে সতর্ক থাকে এজন্য নিম্নে তার কতিপয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হলো:

পরিরাজ: নেকীর উদ্দেশ্যে হেরা পাহাড় যিয়ারত করা, তার উপর আরোহণ ও তার পবিত্রতা ও ভিন্ন মর্যাদার বিশ্বাস পোষণ করা। হেরা পাহাড়কে কিবলা করে উভয় হাত উঠিয়ে খুব করে দো‘আ করা। সেখানে সালাত আদায় করা। তার উপর বিভিন্ন নাম বা অন্য কিছু লেখা-লেখি করা। সেখানে ত্বাওয়াফ করা। সেখানকার গাছ-পালা ও পাথর দ্বারা বরকত গ্রহণ ও সেগুলোতে নেকড়া, সূতা বাঁধা। বিভিন্ন ভ্রান্ত বিশ্বাসে যেমন, যেন বার বার সেখানে আগমন করতে পারে। অমুক ব্যক্তি হজ করতে পারে, রোগ-ব্যাধি মুক্ত হয়, সন্তান প্রসব হয় না এমন মহিলার যেন সন্তান প্রসব হয় ইত্যাদি বিশ্বাসে ম্যাসেজ, কবিতা, চিত্র, নেকড়া ইত্যাদি স্থাপন করা, পয়সা দেওয়া। এ ধরণের বিদ‘আত ও কুসংস্কার সেখানে ঘটে থাকে অথচ যে ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা কোনো দলীল অবতীর্ণ করেন নি।

পরিরাজ: জাবালে নূর খ্যাত এই সেই ঐতিহাসিক গুহা। যেখান থেকে  ওহি লাভের মাধ্যমেই প্রথম শুরু হয়েছিল প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তি দায়িত্ব পালনের কঠিন জীবনের শুভ সূচনা। কেননা তিনি যখন ওহি নিয়ে হেরা গুহা থেকে পাহাড়ের অর্ধেক নিচে নেমে আসলেন, তখন তাঁর কানে একটি কণ্ঠের আওয়াজ আসে- ‘হে মুহাম্মাদ! আপনি আল্লাহর নবী আর আমি জিবরিল।’

পরিরাজ: তিনি পৃথিবীতে নবী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনে হলেন আল্লাহ তাআলা সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসুল(সঃ)।

পরিরাজ: হেরা গুহায় যে দিন প্রথম জিবরিল আলাইহিস সালাম ওহী নিয়ে আসলেন, সে রাতটি ছিল প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য কঠিন রাত। সে রাতে হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম বিদায় গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত প্রিয় নবি যে দিকেই তাকাতেন দেখতেন হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম সব দিক থেকেই সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। আর এতে তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নেমে আসার সময়ই তাঁর নবুয়তি পরিচয়সহ জিবরিল নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন।

তারপর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেরা গুহা থেকে নিজ ঘরে ফিরে আসলেন এবং হজরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, আমাকে কম্বল দ্বারা আবৃত করে দাও, জড়িয়ে ধরো।

হেরা গুহা থেকে কুরআনের প্রথম ওহি নাজিল হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ২২ বছর ৫ মাস ১৪দিন সময়ে মানব জাতির জন্য সংবিধান হিসেবে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ওহী নাজিলের মাধ্যমে পুরো কুরআনুল কারিম অবর্তীণ করেন। যার শুভ সূচনা হয়েছিল জাবালে নূর থেকেই…

পরিরাাজ: জেমি!
জেমি: জি!
পরিরাজ: তোমার সামনে এখন যে গায়রে হেরা দেখতে পাচ্ছো এটা সংস্করণ হওয়ার পরের দৃশ্য।
জেমি: এটা সংস্করণ করা হয়েছে কখন?
পরিরাজ: বলছি, একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ; করোনা পরিস্থিতির জন্য দেওয়া লকডাউনের সময় মক্কায় অবস্থিত হেরা গুহা সংস্কারের জন্য এপ্রিলের মাঝামাঝিতে মক্কা প্রদেশের শাসক যুবরাজ খালেদ আল ফয়সাল অনুমোদন দেন। সৌদির রাজকীয় কমিশন ও মক্কা প্রদেশের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে ও মক্কার ভারপ্রাপ্ত আমির যুবরাজ বদর বিন সুলতানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সংস্কার কাজ শেষ হয়।

পরিরাজ: বিগত বছরগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজের অভাবে হেরা গুহার ব্যাপক সৌন্দর্যহানি হয়। দর্শনার্থীদের মাত্রাতিরিক্ত চলাচল ও ফেলে আসা বিভিন্ন জিনিসের কারণে মূল অবয়বও অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারের পরিকল্পনা থাকলেও স্বাভাবিক সময়ে হেরা গুহায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজিদের ভীড়ের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই লকডাউনের সময় সেই সংস্কার করা সম্ভব হয়েছে।

পরিরাজ: সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে সিঁড়ি সম্প্রসারণ ও রাস্তা বড় করা হয়েছে। গুহার আশেপাশে থাকা অবাঞ্চিত পাথর সরিয়ে ফেলাসহ, বিভিন্ন পাথরের গায়ের লেখা মুছে ফেলা হয়েছে। গুহার পাশে হাজিদের ফেলে আসা নানা জিনিসপত্র, পুঁতে রাখা তাবিজ-কবজ ও অস্থায়ীভাবে নির্মিত অবকাঠামোগুলো অপসারণ করা হয়েছে।

পরিরাজ: এখন আর হেরা গুহায় কোনো লেখা বা অঙ্কন নেই। এতদিন অনেকে বিভিন্ন মান্নত পূরণের জন্য পাথরে কালি দিয়ে বিভিন্ন কিছু লিখে আসতো।

পরিরাজ: পাহাড়ের ওপর থেকে মসজিদের হারামের মিনার দেখা যায়। পাহাড়ের বড় বড় পাথরের ছোট ছোট ফাঁক দিয়ে লোকজন গুহার ভেতরে প্রবেশ করেন। গুহার প্রবেশপথ ছাড়া সবদিক পাথরবেষ্টিত। মেঝেতে রয়েছে পাথর খণ্ড, যাকে জায়নামাজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

পরিরাজ: হেরা গুহার পাশাপাশি গারে সাত্তরেরও সংস্কার কাজ হয়েছে। হিজরতের সময় মক্কার কোরাইশ গোষ্ঠীর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নবী করিম (সাঃ) হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)-কে নিয়ে সাওর গুহায় আত্মগোপন করেছিলেন। আল্লাহতায়ালার প্রতি নবী করিম (সাঃ)-এর অবিচল বিশ্বাস এবং হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)-এর অসীম ধৈর্য ও প্রেমের অনন্য সাক্ষী এই পাহাড় ও গুহা।

জেমি : সত্যিই এক বিস্ময়কর কাহিনী তুমি শুনালে!
পরিরাজ: চল; তোমাকে পুরো গুহাটি দেখাই ; তারপর তোমাকে আরও  বিস্ময়কর কিছু কাহিনী শুনাবো;

         নবীন প্রেমের উদয়! দ্বিতীয় খণ্ড, পর্ব: দশ ,
                       সমাপ্ত।।

রচনাকাল: সংশোধিত ২৪ অক্টোবর ২০২২ইং

বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷


রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২২

লেখকের কথা

 লেখকের কথা ; 

নবীন প্রেমের উদয় আমার লেখা প্রথম উপন্যাস, এই উপন্যাসটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক চিন্তাধারায় রচিত,  যদি কোন ব্যক্তির জীবন কাহিনীর সঙ্গে হুবহু মিলে যায় তা একমাত্র কাকতালীয় বৈ আর কী? এর জন্য লেখক দায়ী নয়৷ 

লেখকের প্রথম উপন্যাস নবীন প্রেমের উদয় 

উপন্যাস নবীন প্রেমের উদয় , লেখক নাঈম হোসেন , প্রথম খণ্ড , পর্ব : নয়

💔নবীন প্রেমের উদয়! প্রথম খণ্ড
নাঈম হোসেন 

পর্বঃ- নয় (হুবহু জেমির বর্ণনা);


👩জেমি: গভীর রাত, চারদিক নিঝুম। সারাদিন প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। আকাশে সন্ধ্যাতারা উঁকি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহওয়া ক্রমশ খারাপের দিকে এগোতে থাকে। ক্ষণে-ক্ষণে দমকা হাওয়া প্রবাহিত হচ্ছে। আবার কখনো সখনো টপাটপ রিমিকিঝিমিকি বাদলের ধারা ঝরছে। 

👩জেমি: নিস্তব্ধরাতে টিনের উপরে ঝমঝম, বৃষ্টির শব্দ শুনতে বেশ ভালো লাগছে। এই কিছুক্ষণ পূর্বেও মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এখনো রিমঝিম বৃষ্টি পড়ছে এবং সেই সাথে হিমেল হাওয়া বইছে। ঘন্টা দুয়েক ধরে নিশাচর প্রাণি ও ব‍্যাঙের ডাকে কানদ্বয় বিষাক্ত হয়ে উঠেছে।

👩জেমি: এখন পরিবেশটা পুরোপুরি শান্ত মনে হচ্ছে, তাই ঘুমানোর এখনই উপযুক্ত সময়। চোখেও ঘুমঘুম ভাব হচ্ছে, মুখে ঘনঘন ঘুমের হাই আসছে,  হাত-পা ঝিমঝিম করছে, হয়তো হুট করে ঘুমিয়ে পড়বো।

👩জেমি: এমনি সময় হঠাৎ রুমের ঠিক পূর্বকোণে ঠুংঠাং, খসখসে কীসের যেন শব্দ পাচ্ছি। কীসের শব্দ, ইদুর -টিদুর হবে নাতো? নাতো এমনটা তো হওয়ার কথা নয়, ইদুর ঢুকবে কোথা থেকে? রুমের কোথাও সাপের জিহ্বা ঢুকবে এমন ফাঁকা জায়গা নেই। 

👩জেমি: আবারও খসখস শব্দ পাচ্ছি; চোখ ঘুমে খুলতে পারছি না,  তবু একবার দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে, রুমে আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। রুম ঘোর অন্ধকার,  দেখতে হলে অবশ্য আলোর প্রয়োজন; তাই চোখ বন্ধ অবস্থায়ই টর্চ লাইটটা হাতের কাছে আনছি। 

👩জেমি: মনে হচ্ছে আমার চোখের উপর কেউ পাথর চাঁপা দিয়ে রেখেছে, তাই চোখ টেনেও খুলতে পারছি না। তবু অনিচ্ছাকৃত আলসে আঁখি খুলতেই চমকে উঠলাম! শোয়া থেকে উঠে বসলাম! ভয়াবহ ভয়ে সর্বাংশে কম্পন উঠেছে, ভয়ংকর ভয়ে কুঁকড়ি-সুকড়ি দিয়ে বসেছি; 

👩জেমি: ঘনঘন মুখ থেকে থুতু এনে বুকে ডলাইমলাই করছি। রুমে পূর্ণিমা রজনীর আলো ঠিকরে পড়েছে; পুরো রুম ধবধবে সাদা, রুমের মধ্যে এতো আলো যে, টেবিলের উপর রাখা বইখাতা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।

👩জেমি: কিন্তু এতো আলো কোথায় থেকে আসছে তার কোন হদিস পাচ্ছি না।

👩জেমি: হঠাৎ দেয়ালে ঝুলন্ত ঘড়ির দিকে নজর পড়ল, চেয়ে দেখি রাত তিনটা ছুঁইছুঁই। 
জেমি: আবার রুমের মধ্যে আচমকা আচমকা জ‍্যোৎস্ম রাতের জুনিপোকার মতো থোকায় থোকায় আলো দেখতে পাচ্ছি। 

👩জেমি: কী জানি, আবার কক্ষে কোন ভূতটূত প্রবেশ করেনি তো?
জেমি: ভয়ে থরোথরো শুকনো কাঠ হচ্ছি।

👩জেমি:  ভয়ে মাকে ডাক দিবার চিন্তা করছি; মা, মা বলে ডাক দিতে মা শব্দটি মুখেও এনেছি,:এমনি সময় মুচকি, মুচকি হাসিতে একজন মহাপুরুষ আমার  সামনে এসে দাঁড়াল। 
জেমি: ভয়ে আমার প্রাণ পাখিটা আমার অজান্তেই আমাকে ছেড়ে রুহ জগতে চলে গিয়েছে। আমি থুবড়ে গেছি ! আমার সাত সমুদ্র জল পিপাসা পেয়েছে; 

👩জেমি: ভালো করে নজর করে দেখি এই মহাপুরুষ আমার পরিচিতি একজন, জেমি: তাই নির্ভয়ে তার সামনাসামনি দাঁড়িয়ে তাকে বসতে বললাম।

👩জেমি: এর পূর্বেও তার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল, প্রথমবার স্বপ্নযোগে আর দ্বিতীয়বার বিপদে সাহায্যকারী বন্ধু হিসেবে। 

👩জেমি: এই অল্প সময়ে তার সম্পর্কে যতটুকু ধারণা, উনি মানুষ হোক কিংবা জীন হোক উনি একজন ভালো মনের হবেন। ওনার আসল নাম পরিরাজ, ওনাকে চিনতে পারার পর আমার উপর থেকে ভয়ংকর ভয়ের কঠিন পাথরটা ঝাঁ-ঝাঁ করে সরে গেল। তবে পিপাসায় গলা শুকিয়ে আসছে। 
জেমি: উনি আমার সামনে একগ্লাস শরবত দিয়ে বললেন, এটা পান করে নাও,

👩জেমি: আমি কিছু না বলেই সঙ্গে সঙ্গে ওনার হাত থেকে নিয়ে এক চুমুকে পান করলাম। তারপর উনি আমাকে বসতে বললেন, আমি বসলাম, উনি আমাকে বললেন; ভয় পেয়োনা, আমি তোমার কল‍্যাণের জন্য আসছি। তারপর উনি আরেক গ্লাস শরবত আমার হাতে দিয়ে বললেন; এটাও পান করে নাও,

👩জেমি: অনেক Orange এর মিশ্রণে পরিপূর্ণ একগ্লাস শরবত এক চুমুকে সবটুকু শেষ করে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে ওনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার পাশে বসতে অনুরোধ করলাম।
জেমি:  উনি আমার পাশাপাশি বসলেন। 

👩জেমি: তারপর মুখ নেড়ে নেড়ে কতগুলো পবিত্র কোরআনের আয়াত পাঠ করে আমার গায়ে তিনটি ঝাঁড়ফুঁক দিলেন এবং নানারকম পাথরযুক্ত রংবেরঙের একটা নেকলেস আমার গলায় পরিয়ে দিয়ে বললেন, ফের আর কখনো তুমি আমাকে দেখে ভয় পাবে না। তারপর খুঁটেখুঁটে উনি আমার পরিবারের সকলের কুশলাদি জিজ্ঞাসা করলেন? কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে তারপর বললেন, জেমি তুমি কী আমাকে বিশ্বাস করো? 

👩জেমি: আমি বললাম হ‍্যাঁ! 

💂পরিরাজ: আমি তো কোন মানুষ নয়, আমি একজন জীন! তবুও তুমি আমাকে বিশ্বাস করো কেন?

👩জেমি: যে পরম সুন্দর, যার মধ্যে ভালো চরিত্রের গুণ বসবাস করে, আর যে পরোপকারী, সে পর ধর্মের হোক, মানুষ কিংবা জীন-পরি যাই হোকনা কেন, যার মধ্যে ভালো গুণাবলি বিদ‍্যমান সেই তো ভালো। 
পরিরাজ: তোমাকে ধন্যবাদ। 

👩জেমি: পরিরাজ কিছুক্ষণ নীরব থেকে তারপর বলল;  
পরিরাজ:  ও মানুষ বন্ধু! তুমি আমার সঙ্গে কোথায় ঘুরতে যাবে? 
জেমি: কোথায়?

💂পরিরাজ: এমন একটা মনোগ্রাহী স্থানে যেখানে তুমি কখনো যাওনি, 

💂পরিরাজ: তবে সে জায়গাটা চক্ষুশীতল হওয়ার মতো দর্শনীয়। 

👩জেমি: ওয়াও, 

👩জেমি: হ‍্যাঁ আমি যেতে রাজি, তবে একটা শর্ত আছে সকাল হওয়ার আগে আমাকে রুমে পৌঁছে দিতে হবে। 

💂পরিরাজ: তোমাকে ধন্যবাদ, 

💂পরিরাজ: ঠিক আছে ফজরের আজানের পূর্বে তোমাকে রুমে পৌঁছে দেব।

👩জেমি: তাহলে আর দেরী না করে এক্ষুনি চলেন;

💂পরিরাজ: তবে চল,  

💂পরিরাজ: তুমি আমার হাতের উপর দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করো; 

👩জেমি: আমি ওনার আদেশ অনুযায়ী হাতের তালুতে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করলাম।;

👩জেমি: সঙ্গে সঙ্গে পরিরাজ আমাকে নিয়ে সেই অপরিচিত মনোগ্রাহী জায়গার উদ্দেশ্য আকাশে উড়াল দিলো।

💕নবীন প্রেমের উদয়! প্রথম খণ্ড , পর্ব: নয় 
                        সমাপ্ত।।
👉রচনাকাল :  সংশোধিত ৩০ অক্টোবর ২০২২ ইং         

👉বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত৷ 
                    
👉সোর্সসমূহ:  
👉তথ্যসূত্র : পুস্তক সমূহ 

[১]সহিহ বুখারী হা/২৪৬৫, ৬২২৯; ছহীহুল জামে হা/২৬৭৫।

[২]সুনানে আবু দাউদ: ৪৮১৯।
[৩]বুখারী হা/২৪৭৩; ছহীহাহ হা/৩৯৬০।
[৪]তিরমিযী হা/১৩৫৫; ইবনু মাজাহ হা/২৩৩৮, সনদ ছহীহ।
[৫]সহিহ মুসলিম: ৩৫।
[৬] জামে তিরমিজি: ১৯৫৬।
[৭]সহিহ মুসলিম: ১৯১৪।
[৮] লোকমান ৩১/১৮
[৯] নূর ২৪/৩০-৩১।
[১০]আবূদাঊদ হা/২১৪৯; তিরমিযী হা/২৭৭৭; মিশকাত হা/৩১১০; ছহীহুল জামে‘ হা/৭৯৫৩।
[১১] মুসলিম হা/২১৫৯; আবূদাঊদ হা/২১৪৮; তিরমিযী হা/২৭৭৬; মিশকাত হা/৩১০৪।
[১২] মুসলিম হা/২৬১৮; ইবনু মাজাহ হা/৩৬৮১; মিশকাত হা/১৯০৬।
[১৩] মুসলিম হা/১০০৮; নাসাঈ হা/২৫৩৮।
[১৪] মুসলিম হা/৩৫; তিরমিযী হা/৫৭; ছহীহাহ হা/১৭৬৯; মিশকাত হা/৫।
[১৫] বুখারী হা/৬৫২, ২৪৭২; মুসলিম হা/১৯১৪; তিরমিযী হা/১৯৫৮।
[১৬] আবূদাঊদ হা/৫২৪৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৭৫৫।
[১৭]মুসলিম হা/১৯১৪; মিশকাত হা/১৯০৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৫১৩৪।
[১৮] মুসলিম হা/৫৪; মিশকাত হা/৪৬৩১।
[১৯] বুখারী হা/১২, ২৮, ৬২৩৬; মুসলিম হা/৩৬; মিশকাত হা/৪৬২৯।
[২০] বুখারী হা/৬২৩৬; মুসলিম হা/২১৬০; মিশকাত হা/৪৬৩২।
[২১] বুখারী হা/৬২৩১; আবূদাঊদ হা/৫১৯৮; তিরমিযী হা/২৭০৪; মিশকাত হা/৪৬৩৩।
[২২]  সূরা নিসা ৪/৮৬।
[২৩]  মুসলিম হা/২১৬২; আবূদাঊদ হা/৫০৩০; ছহীহুল জামে‘ হা/৩২৪১।
[২৪]  সূরা আলে ইমরান ৩/১১০। 
[২৫] সূরা  তওবা ৯/৭১। 
[ ২৬] সূরা :তওবা ৯/৬৭। 
[২৭] তিরমিযী হা/২১৬৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৮৬৮।
[২৮] সূরা : মায়েদা ৫/১০৫। 
[২৯] ইবনু মাজাহ হা/৪০০৫; মিশকাত হা/৫১৪২; ছহীহাহ হা/১৫৬৪।
[৩০] আবূদাউদ হা/৪৮১৬; মিশকাত হা/৪৬৪১।
[৩১]  আহমাদ হা/১৮৬১৩; দারেমী হা/২৬৫৫; ছহীহাহ হা/১৫৬১; ছহীহুল জামে‘ হা/১৪০৭।
[৩২] আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১১৪৯; ছহীহাহ হা/২৫০১।
[৩৩]  তিরমিযী হা/১৯৫৬; মিশকাত হা/১৯১১; ছহীহাহ হা/৫৭২; ছহীহুল জামে‘ হা/২৯০৮।
[৩৪] তিরমিযী হা/১৯৫৬; মিশকাত হা/১৯১১; ছহীহাহ হা/৫৭২।
[৩৫] তিরমিযী হা/১৯৫৭; মিশকাত হা/১৯১৭, হাদীছ ছহীহ।
[৩৬] আহমাদ হা/২৮১৭; ছহীহাহ হা/৩৪৬২।
[৩৭] শারহুস্ সুন্নাহ্, মিশকাত হা/৪৬৬১; ছহীহাহ হা/২৫০১।
[৩৮] বুখারী হা/২৯৮৯; মুসলিম হা/১০০৯; মিশকাত হা/১৮৯৬।
[৩৯] সূরা: আহযাব ৩৩/৪১-৪২। 
[৪০] তাবারাণী, কাবীর হা/৫৫৯২; ছহীহাহ হা/২৫০১।
[৪১] আবূদাউদ হা/৪৮৫৬; মিশকাত হা/২২৭২; ছহীহাহ হা/৭৮।
[৪২] সূরা: বানী ইসরাঈল ১৭/৫৩। 
[৪৩]  বুখারী হা/৬০১৮-১৯; মুসলিম হা/৪৭; মিশকাত হা/৪২৪৩।
[৪৪] বুখারী হা/২৯৮৯; মুসলিম হা/১০০৯; মিশকাত হা/১৮৯৬।
[৪৫] আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৮১১; মুস্তাদরাকে হাকেম হা/৬১; ছহীহাহ হা/১৯৩৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৪০৪৯।
[৪৬]  বুখারী হা/৬০২৩; মুসলিম হা/১০১৬; মিশকাত হা/৫৮৫৭।
[৪৭] বুখারী হা/১৪৪৫; মুসলিম হা/১০০৮; ছহীহাহ হা/৫৭৩।
[৪৮] মুসনাদ আহমাদ হা/২১৫২২; ছহীহাহ হা/৫৭৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৪০৩৮।
[৪৯] বুখারী হা/২৪৪৩-৪৪; মুসলিম হা/২৫৮৪; মিশকাত হা/৪৯৫৭।
[৫০] মুসলিম হা/২৫৮৪।
[৫১]  শারহু মুশকিলিল আছার হা/৩১৮৫,২৬৯০; ছহীহ তারগীব ওয়া তারহীব হা/২২৩৪; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭৭৪
[৫২] আবুদাউদ হা/৫২৭২; মিশকাত হা/৪৭২৭; ছহীহাহ হা/৮৫৬; ছহীহুল জামে হা/৯২৯।
[৫৩] বুখারী হা/৬২০২; মুসলিম হা/২৩২৩।
[৫৪] মুসলিম হা/২১৬২; আবুদাঊদ হা/৫০৩০; ছহীহুল জামে হা/৩২৪১।
[৫৫] বুখারী হা/৬২২৪; আবূদাঊদ হা/৫০৩৩; ইবনু মাজাহ হা/৩৭১৫।
[৫৬] সুরা যুখরুফ : আয়াত ১৩। 
[৫৭] আবু দাউদ, তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ, বুলুগুল মারাম।
[৫৮] তিরমিজি, হাদিস : ৩৪২৬।
[৫৯] মুসলিম, হাদিস : ৯৭৮/২। 
[৬০] সুরা হুদ :৪১।
[৬১] মুসলিম, হাদিস : ২৭০৮।

👉(০১)

👉(০২)

👉(০৩)

(০৪)


(০৫)


(০৬)


(০৭)
                                  

(০৮)


(০৯)


(১০)
                         

(১১)


(১২)


(১৩)


(১৪)
              

(১৫)


(১৬)


(১৭)


(১৮)


(১৯)


(২০)
            

(২১) 


(২২) 


(২৩)

                             
(২৪) 

                                 
(২৫) 


(২৬) 

       নবীন প্রেমের  উদয়! প্রথম খণ্ড  
                   সমাপ্ত।।

👉বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত৷ 

👉লেখক পরিচিতি :

👉আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় খণ্ড , পর্ব - দশ,