যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২

নবীন প্রেমের উদয়! লেখক নাঈম হোসেন , প্রথম খণ্ড, পর্ব : এক

                          নবীন প্রেমের উদয় ! 
                                প্রথম খণ্ড
                     লেখক: নাঈম হোসেন ৷ 

👉উৎসর্গে :

আমার শ্রদ্ধাভাজন মরহুম হাফেজ মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ ওরফে লুৎফর রহমান কে।

👉লেখক পরিচিতি :

মোহাম্মদ নাঈম হোসেন,২০ মার্চ ১৯৮৯ইং বরিশাল বিভাগের  পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া থানার অর্ন্তগত সাপলেজা ইউনিয়নের ঝাটিবুনিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত  মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৃত হাফেজ মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ্ এবং মাতা মোসাম্মাৎ মোর্শেদা বেগম ৷ বতর্মান ঠিকানা রায়পুর, লক্ষ্মীপুর।

লেখকের শিক্ষা জীবন শুরু হয় হাফেজি পড়ার মধ্যে দিয়ে, বান্ধবপাড়া ছালেহিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০০৪ সালে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্ত্বের সাথে পাশ করেন। ২০০৭ সালে টিকিকাটা নুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে দেবিপুর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২০১০ সালে কৃতিত্ত্বের সাথে ফাজিল (বি.এ ) সমমান পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে টগরা কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে পরীক্ষার পূর্বে ভাগ্যের সন্ধ্যানে মালেশিয়া পাড়ি দেন; বতর্মানে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় অত্যন্ত সুনামের সহিত কাজ করছেন।

👉সখ

লেখালেখি করা তার একমাত্র সখ।  তার লেখার মাধ্যমে সমাজের সত্যটা তুলে ধরাই একমাত্র লক্ষ্য। তাছাড়া জিহাদের ময়দানে জীবনের শেষ রক্তবিন্দু উৎস্বর্গ করে ইসলাম ও স্বদেশের জন্য শহীদি মৃত কামনা।

👉স্মরণীয় বাণী- 

"নিজেকে সৎ হিসেবে গঠন করো, তাহলে পৃথিবীর প্রতিটি দরজা দিয়ে স্বর্গীয় সুখ বিরাজ করবে৷"

👉যোগাযোগঃ


মোবাইল এবং ওয়াটসপ নম্বর  ০১৭২৬১০২৭১৫
ইমেইলঃ naimhossen345@gmail.com

👉উপসংহার: 


পরিশেষে লেখকের সাফল্য ও মঙ্গলময় জীবনের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রত‍্যাশী।
লেখকের অন্যান্য বই: স্নিগ্ধ নীল জ‍্যোৎস্নায় যৌথ কাব‍্য সংকলন। প্রথম প্রকাশিত বই ৷

পর্বঃ- এক,  [হুবহু জেমির বর্ণনা];

👩জেমি: ঘুমের মধ্যে দেখছি- কে যেন আমার কচি পাতার মত নরম মধুমাখা ওষ্ঠাধরের অধরামৃত সুধা পান করার জন্য, আমার ওষ্ঠাদ্বয়ে আচমকা অধরচুম্বন করল। অর্থাৎ, সে অপরিচিত লোকটি আমার মিষ্টি ঠোঁটদ্বয়ের উপর অকস্মাৎ দুষ্টু একটি চুমু এঁকে দিল। ছি! ছি! এমন Shameless কথা বলতে আমার বড্ড লজ্জা করছে। 

👩জেমি: মা কালিকাদেবীর দিব‍্যি! মিথ্যা বলবনা, মিথ্যা বলা আমার একেবারে অপছন্দ। আসলে ঘটনাটি ঠিক এমনই ঘটেছিল। কিন্তু রহস্যময় হচ্ছে বাস্তবে নয়, সম্পূর্ণটা ঘটেছিল স্বপ্নজগতে। But আমি কৌতূহল হলাম কে এই তরুণটি? একে কোথাও কখনও দেখছি বলে মনে পড়ছেনা। একেবারেই চির অচেনা এই নব তরুণ। তার গায়ে Sky Blue রঙের ফতুয়া, পরনে Warrior Blue রঙের প‍াজামা এবং পা দুটি বেশ লম্বা। পায়ে Wira Blue  রঙের পাদুকাও ছিল। মাথার কেশগুলো কুচকুচে কালো, উসকো-খুসকো ও হালকা কোঁকড়ানো। মাথায় Raw Silk রঙের মুকুট ছিল। নাসাটা একটু লম্বা হবে। মুখে Smiling ছিল। আঁখিদ্বয় দেখতে হরিণনয়ন। চোখে বোধহয় সুরমা লাগানো হবে। হাত-পায়ের অঙ্গুলির অগ্রভাগ আঙ্গুরের দানার মত তুলতুলে নরম। শরীরের রং বেশ ফর্সা, যেন পূর্ণিমা চাঁদ সদৃশ। সবদিক Scan করে বলতে পারি, যুবকটি নাদুস- নুদুস দেখতে বেশ Suitable. 

👩জেমি: ইশ্বরের দিব‍্যি খেয়ে বলছি, এমন যুবককে জন্মের পর আর একটা দেখছি বলে মনে পড়ছেনা। উচ্চতায় ঠিক ছয় ফুটের কম না। ঠোঁট'দুটো রক্তরাঙানো, যেন লাল গোলাপের পাপড়ি। শরীরের গঠন চমৎকার মানানসই। বয়সটা ঠিক ঠাহর করতে পারছিনা, তবে Supposition করা যায় পঁচিশ কী ছাব্বিশ এর মধ্যে গড়াগড়ি চলছে? Face-এ ঘন কালো কোঁকড়ানো হালকা শ্মশ্রুর ছাপ দেখা যায়। কখনও Shave করছে বলে আঁচ করতে পারছিনা। 

👩জেমি:  আমি Surely বলতে পারি ঘটনা যদি সত্যি হতো, তবে সরস্বতী, দুর্গা, মা কালিকাদেবী সকলে ঐক্য হয়ে আমার জন্য বোধহয় অপরিচিত নবীন সেই মহাপুরুষকে Special guest করে Surprise হিসেবে স্বর্গোদ‍্যান থেকে পাঠিয়েছিল। যাকে প্রথম দেখাতেই আমার Husband হিসেবে মেনে নিতে কোন আপত্তি নেই। এমনকি আমি তার কোন জীবনবৃত্তান্তও Searching করতাম না বরং এমন Handsome young - crown Prince মহাপুরুষকে আমি ঢাকঢোল পিটিয়ে সানাই বাজিয়ে মহানন্দে Salute দিয়ে বরণ করতাম। এমন Shameful স্বপ্ন বলতে আমার খুব লজ্জা করছে। তবুও বেহায়ার মত বলছি, আমার সাথে স্বামী হিসেবে ওনাকে বেশ মানাবে। সেই স্বপ্নপুরুষকে যে কুমারী দু'চোখে দেখেনি, তাকে কিছুতেই  বুঝাতে পারবনা। 

👩জেমি: আমি হলফ করে বলতে পারি, এমন কোন বাপের বেটি নেই,যে ঐ স্বপ্ন যুবককে দেখার পর বর করতে না চাইবে। ঠাকুরের দিব‍্যি খেয়ে বলছি, এই স্বপ্ন নায়কের বধূ হতে না পারলে বহু তরুণী Hopeless হয়ে নিজেকে Hapless মনে করবে। কষ্টে বারংবার হাঁস-ফাঁস করবে। নেশা করে মাতাল হয়ে এদিক-সেদিক ঘুরবে আর না হয় বিষপান করে কিংবা গলায় ফাঁস দিয়ে Suicide করে Sinner(পাপী) হইবে। আমার এই স্বপ্নপুরীর গল্প জনকর্ণে প্রকাশিত হলেও সকলে ছিছিক্কার করতে করতে ওয়াকথু- ওয়াকথু আমার মুখের উপর দলা দলা Spittle( থুথু )ফেলবে। লোকমুখে very very slander তথা ( দুর্নাম) রটাবে।  

👩জেমি: সকলে নির্বোধ ও বাজে ভেবে কুৎসা রটনা করুক, তবু আমি এই স্বপ্ন কল্পনার মহাপুরুষ নায়ককে কখনও ভুলে যেতে পারবনা। সবাই অপবাদ রটনা করুক তাতে আমার কিছু আসে যায় না। সেই স্বপ্নজগতে আমি যা যা দেখছি হুবহু তা বর্ণনা করছি। আহা স্বপ্নের সে মহাপুরুষটি কি মিষ্টভাষী ও সরলমনা! কী মায়াবী চেহারা তার! আহা, যদি সত্যি সত্যিই একবার তার সাক্ষাৎ পেতাম। দর্শন না পাওয়ার জন্য Very very sorroful.


👩জেমি:  ইশ্বরের দোহাই দিয়ে ফের বলছি - কোন রঙ্গমঞ্চের মধ্যেও যদি তার সাথে মোলাকাত ঘটে, তবে সেদিন কোন কম্পিত কণ্ঠে নয় বরং ষোলকলা লজ্জা মাথার উপরে রেখে চিৎকার করে বলব; ওহে স্বপ্নপ্রেমিক! তোমাকে আমি অনেক চেয়েছি। তোমাকে আমি অনেক খুঁজছি। বহু সাধনার পর আজ তোমাকে পেয়েছি। 

👩জেমি: সুতরাং -


আমি তোমাকে চাই 
যদি তোমাকে না পাই
আত্মহনন করব। 

আমার স্বপ্ন তুমি 
তোমার জন্য বাঁচব আমি 
তোমার জন্যই মরব। 

আমি বহুদিন ধরে
অপেক্ষায় আছি তোমার তরে
একটু ভালোবাসা দাও মোরে। 

আমি তোমার প্রেমে বিবশ হয়ে আছি 
আমি তোমাকে পেতে চাই কাছাকাছি 
আমি তোমাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করছি। 

কারণ আমি তোমাকে পছন্দ করি
আমি তোমার প্রেমে মরি মরি
আমাতে তোমাতে হবেনা কভু খুন-সুড়ি। 

তুমি আমার ভালো বন্ধু 
তোমাকে নিয়ে লিখব শত কবিতা ছন্দ 
আমাতে তোমাতে হবেনা কভু দ্বন্দ্ব। 

তুমি আমার স্বপ্নের আশা 
তুমি আমার ভালোবাসা 
তোমায় নিয়ে বাঁধব স্বর্গ সুখের বাসা।  

কারণ আমি তোমাকে ভালোবসি।
তোমার জন্য বাজাই বিরহ বাঁশি।
তোমাকে না পেলে গলায় দিব ফাঁসি। 

তোমার দুঃখে আমি কাঁদব
তোমার সুখে আমি হাসব।
তোমার জন্য বাঁচব - মরব। 

তুমি আমার উত্তম সঙ্গী 
তুমি আমার অর্ধাঙ্গ। 
তুমি ছাড়া জীবন হবে সাঙ্গ। 

আমার চাওয়া পাওয়া আর কিছু নাই 
আমি শুধু তোমাকে চাই 
তোমাকে চাই।। 

you are my best lover.
you are my best partner.
you are my best friend.
you are my best husband.  

👩জেমি: ইস কি শরম পাচ্ছি!

👩জেমি: যাক এবার পূর্বকথায় প্রবেশ করছি- আমার সে অপরিচিত প্রেমিকের যৌবনের উত্তপ্ত শিখা চারদিক দিয়ে টলমল করছে। শরীর থেকে মৃগনাভির Spicy বের হয়ে আমাদের পুরো বাড়িটা সুভাসিত হয়েছিল। মনে হচ্ছে, যেন এখনো সে Smell পাচ্ছি। সত্যিই আমি তাকে বর হিসেবে পেতে খুব আগ্রহী! কিন্তু আমার কল্পনায় একটা কথা বারংবার ঘুরপাক খাচ্ছে,তাই কল্পনার পরিধিটা হুহু করে বেড়ে যাচ্ছে। কিছুতেই একটা কথা বুঝে আসছেনা। যে তরুণ নারীমন না চাইতে হাজার তরুণী তাকে সঙ্গী হিসেবে পেতে জীবন বাজি রাখতে দিব‍্যি কাটবে। সে মহাপুরুষ Sudden আমার ঠোঁটের উপর চুমু দেবার হেতু কী? আমার মুদ্রাদোষ অনুযায়ী আমি বিছানার উপরে Supine (চিৎ)হয়ে শুয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। ঘুমের মধ্যে দেখলাম, তরুণটি আমার চোখের উপর চোখ রেখে Suddenly আমার ওষ্ঠাদ্বয়ের উপর চুমু এঁকে দিল। ছি! ছি! কি লজ্জা? রুমে আমি একা। চারদিকে Soundless. ( নিঃশব্দ ) Stilly. stillness. আমি Stupefy( বোকা ) হয়ে গেলাম। আমার সর্বাঙ্গো শিরশির করে উঠল! 

👩জেমি: আমি ভয়ে থরোহোরি! লজ্জায় মাথা বারংবার হেঁট হয়ে যাচ্ছিল। কাউকে কিছু বলতেও পারছিলাম না। অসহায়ের মত সোজা হয়ে কিছুক্ষণ দুজন দুজনের পানে তাকিয়ে ছিলাম। সে কী মায়াবতী চাহনি? মন বলছিল দৃষ্টির পলক না ফেলে হাজার বছর কাটিয়ে দেই। Kiss(চুমু)টা তিনি এমনভাবে দিয়েছেন, আমার মুখে তখন মৃদু হাসিহাসি ভাব ছিল। মনে হচ্ছে যেন আমি তাকে পূর্বে প্রাণপণে ভালোবেসে আজ কোন শুভদিনের Invitation করে এনেছি। আর তিনি চুম্বনটা আমাকে Surprise দিয়েছেন। আমার ভিতরের মনোভাবটাও এমন লাগছিল, যেন আমিও এমন একটা Surprise এর অপেক্ষায় ছিলাম।   

👩জেমি: আমি কোন heat হলাম না। আমার মধ্যে কোন হতাশার ছাপও ছিলনা। শুধু আমার heart - এ, একটুখানি খসখসে শিহরণ হয়েছিল। ভয়ে সর্বাঙ্গো থরথরে vibrate হয়েছিল। আমি লজ্জায় Soft - headed. তবু ন‍্যাকামি গলায় চুপিচুপি বললামঃ এই তুমি কী করছ? আমাকে ছেড়ে দাও! Please আমাকে ছাড়ো! নইলে আমি shriek (চিৎকার ) করব! বাঁচাও বাঁচাও বলে বিকট গলায় চেঁচামেচি করার অনেক চেষ্টাও করলাম। কিন্তু বিফল হল সব চেষ্টা। ঘুমের মধ্যে চিৎকার দিলে কেন যেন মুখ বোবা হয়ে যায়, সে জানিনা । মনে হচ্ছিলো কেউ আমার মুখের মধ্যে চুইনগাম কিংবা ললিপপের আঁটা আটকে দিয়েছিল। আসলে তেমন কিছুই ছিল না। কিন্তু মুখ ফুটে কোন কথাই তখন বের হয়নি। উনিও ন‍্যাকা ন‍্যাকা মুচকি হেসে মিনমিন করে বললঃ " তোমার মুখে কোন কথা বেরুবে না, সে আমি জানি। কারণ; তোমার মধ্যে ভয়ানক লজ্জার ছাপ স্পষ্ট বিদ‍্যমান দেখছি।" আসলে উনি খুবই Shrewd. সেটা আমার বুঝতে বাকি নেই। আসলে উনি সত্যি কথাটাই বলেছেন;  ভয়াবহ লজ্জায় তখন আমার মুখে কোন কথা আসছিল না। তাই বলে কী উনি আমার মনের দুর্বলতার সুযোগে আমার সরলতা লুফে নিবেন? না এ হতে পারে না? 

👩জেমি: আমি পূনরায় চেঁচামেচি করার চেষ্টা করেছি। উনি খিলখিল দুষ্ট হাসিতে বললঃ " তোমাকে অহেতুক চেঁচাতে হবে না, তোমার উপর আর জোর করছি না।" ভয়ানক নীরবতা চারপাশ দিয়ে তখন আমাকে ঘিরে ছিল। ঘরের দরজা জানালা সবই বন্ধ ছিল। রুমে আমরা দু'জন ছাড়া আর কেউ ছিলনা। আমি কম্পিত কণ্ঠে বললাম Who are you?  

👩জেমি: উনি ফের মিটুর মিটুর হাসিতে বললঃ" আমার পরিচয় জানাটা তোমার কী খুবই দরকার?" আমি ভয়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বললাম জি ! " কিন্তু তোমার ভয়ংকর ভয়টাতো এখনো কাটেনি।" আমার দিকে ফ‍্যালফ‍্যাল কতক্ষণ তাকিয়ে, মুখ নেড়ে নেড়ে কী কতগুলো মন্ত্রটন্ত্র জপে আমার উপর ধমকা হাওয়ার মতো আচমকা তিনটি ঝাড়ফুঁক দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে আমার ভিতরকার সব ভয় দূর হলো। সম্ভবত উনি আমাকে বশীকরণ করলেন। উনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে অনেক আদর করলেন। আমি সবকিছু সাদরে গ্রহণ করলাম। মনে হচ্ছিল যেন তার সঙ্গে আমার বহুদিনের পরিচয় রয়েছে। 

👩জেমি:  অতঃপর দুজনের মধ্যে অনেক প্রেমালাপ হচ্ছে, এমনি সময় চারপাশে বিয়ের সানাইয়ের সুর শুনছি..  
মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাড়িতে ঝাঁকে ঝাঁকে সঙ্গীত শিল্পীরা হৈহৈ, রৈরৈ ঢোলঢাক বাজাতে বাজাতে প্রবেশ করল। পুরো বাড়িটা ঝিকিমিকি জ‍্যোৎস্মা রাতের জোনাকি পোকার মতো ঝিলিক চমকানো বিজলী বাতি দিয়ে সাজানো দেখছি...

পুস্পমালা দিয়ে সুসজ্জিত একটা বাসর কামরা এবং সুসজ্জিত একটা বাসর শয্যা দেখছি.. 
কাজি সাহেবকেও দেখা গেল। মুসলিম ধর্মীয় নিয়ম নীতি মেনে কারা যেন আমাদের চার হাত এক করে দিলেন। আমাদেরকে ফুলশয‍্যায় প্রবেশ করানো হল। ধবধবে সাদা খাঁটি ধেনুর গরম গরম এক গ্লাস দুধ আমাদের সামনে দেওয়া হলো। তারপর যা হবার তাই হলো। মেঘ না গর্জাতেও মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ হয়েছিল। 

👩জেমি: সেই দৃশ্যপট কখনও ভুলে যেতে পারবো না। অকালে জন্মনিয়ন্ত্রণের সব রকমের ফরমুলাও মেনে নেওয়া হয়েছিল। কারণ, তখন আমার মনে পড়েছিল; পাশের বাড়ির স্বর্ণা বৌদির কথা। খুব কচি বয়সে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বরের বাড়িতে এসেও সে, খুবই বিলাসী দিন কাটাতো। আহা! কি অপরূপা সুন্দরী ফুটফুটে মুখখানা তার। কিন্তু অকালে Pregnancy - delivery তে সে মারা যান। হাউমাউ করে ডুকরে কেঁদে উঠলাম। চোখের জল টলমল করছে...
আমি তখন Class Eight এ পড়ি। সেই ভয়ানক দৃশ্য এখনো মনে পড়লেই সহসা হড়হড় করে চোখে জল এসে যায়। 

👩জেমি: সেদিন আমি Promise করছিলাম; অল্প বয়সে বিয়ে করব না আর অল্প বয়সে বাচ্চা নিবো না। থাক, ও দিকে আর বাড়াতে চাইনা। কারণ, কাল্পনিক কথাবার্তা আর সামনে বাড়াতে চাইনা। তাই এখানেই শর্ট করছি। যা হোক, অনেক কথার ছলে সে স্বপ্ন প্রেমিকার নামটা অজানাই রয়ে গেল। ঘুমের মধ্যেই হঠাৎ মায়ের গলা শুনছি... জেমি! এই জেমি! এখনো উঠছো না কেন? কয়টা বাজে দেখছোস? ফের জেমি, জেমি কলিংবেল বাজতে লাগল... 

👩জেমি: আমি চুপিস্বরে বলছি; মা উঠছি। চোখ খুলে দেখছি; জানালার ফাকা দিয়ে সূর্যের চিকিমিকি আলো রুমের মধ্যে ঠিকরে পড়ছে। আমার সর্বাঙ্গো তখনও ভয়ে থরোথরো কম্পিত। রুমের দরজা জানালা খুললাম না। কিছুক্ষণ রুমের ভিতরের সবকিছু তন্নতন্ন করে খোঁজাখুঁজি করলাম। ওনাকে কোথাও পেলাম না। যদি পেতাম, তবে  লজ্জায় মুখ দেখাতাম কি করে? ছি! ছি! স্বপ্নঘোরে চোখে সবকিছু সরষে ফুল দেখছি...। 

👩জেমি: চোখের সামনে স্বপ্ন কল্পনা বারবার ভাসছে, অনুমান করছি, রুমের কোথাও গোপন জায়গায় উনি লুকিয়ে আছেন! তার দেহের সেই সুবাস এখনো পাচ্ছি। স্বপ্ন যে কখনও সত্যি হয়না, তা আমি বেমালুম ভুলে গেছিলাম। ঘড়িতে ন'টার বেশি বাজছে। লজ্জা ও ঘৃণার এক নির্মম পরিহাস চারদিক থেকে আমাকে ঘিরে আছে। কাউকে কিছু বললাম না। এমনকি প্রতিদিনকার নিয়মটাও ঠিক ছিল না। স্বপ্নের ঘোরে দাঁত ব্রাশটাও ভুলে গেলাম। চুপচাপ গোসলখানায় ঢুকে স্নানের কাজটা শেষ করে আসলাম। কাজের বুয়া টেবিলে নাস্তা রাখছিল। কোনোমতে তাড়াহুড়ো করে ব্রেকফাস্ট শেষ করলাম। ততক্ষণে, ঘড়িতে প্রায় দশটা ছুঁই ছুঁই। কলেজ bag টা নিয়ে সোজা ইউনিভার্সিটির দিকে high পাওয়ারে গাড়ি নিয়ে বের হলাম। 
কারণ, University -তে আজ নবীন বরণ অনুষ্ঠান...।

নবীন প্রেমের  উদয়! প্রথম খণ্ড, পর্ব : এক, 

                   সমাপ্ত।৷

রচনাকালঃ ৩০ জানুয়ারি ২০১২ইং 

👉বিশেষ দ্রষ্টব্য :  কপিরাইট সংরক্ষিত৷ 

👉দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন 

২টি মন্তব্য: