যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২

উপন্যাস : নবীন প্রেমের উদয়! লেখক নাঈম হোসেন , প্রথম খণ্ড, পর্ব: দুই,

নবীন প্রেমের উদয়! প্রথম খণ্ড, 
নাঈম হোসেন৷ 

 পর্ব: দুই, (হুবহু জেমির বর্ণনা) ; 


👩জেমি: সময় কারো জন্য অপেক্ষা করেনা একথা চিরসত‍্য। ঘড়ির কাঁটা টিকটিক -টিকটিক বাজতে -বাজতে ঘন্টার কাঁটা ঠিক একটার ঘরে দেখছি। আষাঢ় মাস, কিছুক্ষণ পূর্বেও তুমুল বর্ষণ হয়েছিল। এখনও বাইরে রেণু রেণু বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে। আবহওয়া ভয়ানক খারাপ। কে জানে আবার Tornado. সিডর, নার্গিস, হুদহুদ কোনটা আসে? নিয়মানুযায়ী বিবিসির আবহওয়ার খবরটা গভীর মনোযোগ হয়ে শুনছিলাম। কিন্তু আবহওয়ার পূর্বাভাসে তেমন কোন মারাত্মক (Red signal )ছিলনা। ঘ‍্যাঙর ঘ‍্যাঙর ব‍্যাঙের ডাকে আমার কর্ণদ্বয় ঘন্টা দুই ধরে বিষাক্ত হয়ে আছে। অনেক বিরক্ত বোধ করছি। ঘুমের ভান করে চোখ অনেকবার বুজিবুজি করছি। কিন্তু কিছুতেই ঘুমের হাই আসছেনা। তবু ঘুমানোর অনেক চেষ্টা করতেছি। ব‍্যাঙের ডাকে রাগে আমার সর্বাংশে লাল দগদগে হয়েছে। অনেক রেগে গিয়ে শেষে ঘুমানোর ওষুধ খেয়ে নিয়েছি। তবু ঘুমের কোন নেশা আসছেনা। কি যেন হিজিবিজি কতগুলো প্রশ্ন মনের মধ্যে খুঁজে খুঁজে একেরপর এক উঁকি দিচ্ছে। 

 জেমি: হঠাৎ মনে পড়ে পাশের রুমের তিথির কথা। দুজনের Birthday একই দিনে। তাছাড়া সেই শৈশবেও দুজনে একত্রে বউছি, কানামাছি বোঁ বোঁ, যাকে পাবি তাকে ছোঁ, সাতচারা, পুতুলের বিয়ে, ছিঁ কুতকুত লাইলি তবলা বাজাইলি তবলার সুরে মৌমাছি উড়ে আরও কতকি খেলতাম। এছাড়াও সেই শিশু শ্রেণি থেকে এসএসসি পযর্ন্ত একই স্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। কিন্তু SSC জীবনের ইতি হলে, কলেজে গিয়ে দুজনের মধ্যে অনেক ফারাক হয়ে যায়। উচ্চ শিক্ষার জন্য দুজনেই আলাদা আলাদা পছন্দের মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। দুজনেই পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী ছিলাম। ব‍্যাপক ব‍্যস্ততার কারণে গত তিন বছরে দুজনের মধ্যে সরাসরি কোন সাক্ষাৎ হয়নি। সম্পর্কের দিক দিয়ে তিথি আমার Cousin and she is my Best friend. তবে ওর সাথে মাঝেমধ্যে ফোনালাপ হতো। 

 জেমি: গ্রীষ্মের ছুটিতে তিথি আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসছে। সারাদিন অনেক ঝামেলায় ছিলাম, তাই ওর সাথে তেমন কোন সময় দিতে পারিনি। দুজনের মধ্যে তেমন কোন খোশগল্প হয়নি। ভাবছি ওর রুমে যেয়ে দেখি ; জাগ্রত পাওয়া গেলে দুজনে মিলে চমৎকার একটা খোশগল্পের আড্ডা জমবে। যেমন চিন্তা তেমন কাজ। কালক্ষেপণ না করে ওর রুমের দরজা খটখটালাম। কলিং বেল চাপলাম। ভিতর থেকে বিচলিত কণ্ঠে প্রশ্ন করল Who are you?

জেমি: জি! আমি জেমি! 

👧তিথি: সত্যি জেমি বলছো?
👩জেমি: Yes.
👧তিথি: তুই এতরাতে এখনো ঘুমাসনি?

👩জেমি: না! তিথি: ওড়নার আঁচলে চোখের পানি মুছতে মুছতে দরজাটা খুললাম।

👩জেমি: তুই এখনো ঘুমাসনি?
তিথি: না।

জেমি: আচ্ছা তাহলে এবার সত্যি কথাটা বলে দে, তোর মন এতোটা খারাপ কেন? তোর চোখে অশ্রু কেন? কার প্রেমে পড়ে ছ‍্যাঁকা খেয়েছো? প্রেম মানে ছ‍্যাঁকা! ছ‍্যাঁকা is better than একা! একের পর এক নানা কথা নানান প্রশ্ন করে যাচ্ছি,
তিথির মুখে কোন উত্তর নেই। নীরবতায় ওর দু'চোখ বেয়ে বেয়ে টপটপ করে অশ্রু ঝড়ছে।

জেমি: না এভাবে ওকে আর প্রশ্ন করাটা মোটেই ঠিক হবে না। তাই হারুন কেসেঞ্জারের ফাঁটা হাসির একটা কৌতুক বলে, ওকে হাসাতে চেষ্টা করলাম।কিন্তু তাতেও ফলাফল Empty. তখন হঠাৎ মনে পড়ছে সেই ছোট বেলার কথা; দুজনের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হলে বা ওর মন খারাপ হলে, আচমকা কাতুকুতু দিলেই ও হাসিতে ফেটে যেতো। কিছুক্ষণের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যেতো। এটা ওর শৈশবের মুদ্রাদোষ ছিল।

জেমি: আমি ঠিক সেটাই করলাম। ওর মুখে ঠিকই হাসি ফুটলো, কিন্তু সেটাও কান্নাভেজা হাসি। তিথি উঠে দাঁড়াতেই Pillow(বালিশ) টা বিছানা থেকে সরে গেল। বালিশের নীচ থেকে লুকিয়ে রাখা বিরাট দুটো কবিতার পেইজ বেড়িয়ে আসছে। আমি পড়ার অনুমতি চাই...?

তিথি: মাথা নেড়ে কবিতা আবৃত্তির অনুমতি দিল। জেমি: কবিতার পেইজ দুটো হাতে নিয়ে পড়ছি; 

👩জেমি : কবিতা নং এক,  

জেমি: কবিতার নাম: প্রেম মানে? 


 প্রেম মানে?
 প্রেম মানে শুধু পাগলামী, 
যেখানে থাকবো শুধু তুমি, আমি।

 প্রেম মানে ? 
কিছু কিছু মধুর আলাপ,
 উপহার হিসেবে 
হয়তো থাকবে, 
একটি গোলাপ।

 প্রেম মানে? 
 প্রেম মানে একটি কঠিন ব‍্যাধি। 
যার আছে উদয়, নেই কভু বিদায়, 
 থাকবে নিরবধি। 

 প্রেম মানে?
 প্রেম মানে হঠাৎ মনের কিছু সূচনা।
 হয়তো একদিন পেতে হবে, অসীম যন্ত্রণা।
 হয়তো একদিন পেতে হবে, সীমাহীন লাঞ্চনা। 
হয়তো একদিন পেতে হবে অফুরান বঞ্চনা। 

 প্রেম মানে?
 প্রেম মানে দুটো মনের নবীন কিছু উদয়! 
আর যখন ব্রেকআপ হয়,
 দিবানিশি উপহার তখন, শুধুই কাঁদায়।
 ছটফট করে তখন, শুধু হারানোর যন্ত্রণায়।

 প্রেম মানে? 
 প্রেম মানে দুটো মনে, অনেক অনেক কল্পনা। 
প্রেম মানে হৃদয় কোণে, কারো ছবির আলপনা।

 প্রেম মানে?
 প্রেম মানে অসীম কষ্ট। 
প্রেম মানে জীবনের কতটা মূল্যবান সময় নষ্ট। 
প্রেম মানে বড্ড অভিশাপ। 
প্রতারণার প্রেমে হয় মহাপাপ। 

 প্রেম মানে? 
 প্রেম মানে জীবনের হাহাকার!
 যদি মিলন না হয় দু'জনার।
 প্রেম মানে একটি কাপে দুজনের কফি পান।
 প্রেম মানে দুটি দেহ একটি প্রাণ।

 প্রেম মানে? 
 প্রেম মানে নতুন কিছু চাওয়া। 
প্রেম মানে নতুন কিছু পাওয়া। 
প্রেম মানে কঠিন বিশ্বাস। 
বিরহবেদনায় ক্ষণে ক্ষণে দীর্ঘশ্বাস।

 প্রেম মানে? 
 প্রেম মানে কঠিন ধৈর্য। 
যে গুণ সবার চাই অপরিহার্য। 
প্রেম মানে  দুটি মনের একই সন্ধি। 
পরস্পর একই বন্ধনে বন্দি। 

 প্রেম মানে? 
 প্রেম মানে দুটি মনের একটি চাওয়া।
 প্রেম মানে কিছু কষ্ট দুজনে ভাগ করে নেওয়া। 
প্রেমে চাই, প্রেমিকযুগল অকুতোভয়।
 ছলনামুক্ত প্রেমে নেই কভু ভয়।

 প্রেম মানে? 
 প্রেম মানে কারো সরলতা লুফে নেওয়া নয়।
 প্রেম মানে কারো চরিত্র লুটে নেওয়া নয়। 
প্রেম মানে কারো জীবন নিয়ে খেলা করা নয়। 
প্রেমে চাই সদা, সততার পরিচয়।

 Deceit প্রেমের ইতি ফল,
 বিরহব‍্যথায় নয়ন ভর্তি শুধু জল।
 এটাই প্রতারকের প্রেমের মানে।
 যে সম্পর্কে জড়িয়ে কাঁদে অবুঝ জনে জনে। 

                 সমাপ্ত।।

 জেমি: কবিতা নং- দুই,

জেমি: প্রেম তুমি এসেছো!


প্রেম তুমি এসেছো!
প্রেম অতি ক্ষুদ্র নামটি তোর!
হাসতে হাসতে মিটুর মিটুর;
তুমি চুপিচুপি হুটকরে,
কোন শুভক্ষণে এসেছো, কাছে মোর।

প্রেম তুমি এসেছো,
হয়তো কোন বৈশাখী মেলায়।
না হয় কোন নাট‍্যশালায়।
নতুবা কোন স্কুল, মহাবিদ্যালয়।

প্রেম তুমি এসেছো,
হয়তো কোন বইমেলায়।
নতুবা কোন বাড়ির আঙ্গিনায়।
কিংবা কোন ফুল বাগিচায়।

প্রেম তুমি এসেছো,
হয়তো কোন শিশুপার্ক হতে।
না হয় রমনাপার্ক হতে।
নতুবা সুন্দরবনের পিকনিক হতে।

প্রেম তুমি এসেছো, 
হয়তো কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র হতে।
কিংবা কক্সবাজার পর্যটন কেন্দ্র হতে।
 নতুবা কোন বিয়ের আসর হতে।

প্রেম তুমি এসেছো,
হয়তো কোন স্টেশন হতে।
অথবা কোন মন্দির,পৌষ পার্বণ মেলা হতে।
আরও অনেক অজ্ঞাত স্থান হতে।

প্রেম তুমি এসেছো,
হয়তো কোন রং নাম্বার হতে।
না হয় কোন অচেনা ফেসবুক হতে। 
নতুবা কোন ইমু, ভাইভার হতে।

প্রেম তুমি এসেছো,
হয়তো কোন টুইটার হতে।
না হয় কোন স্কাইফ, টেঙ্গো হতে। 
নতুবা কোন ওয়াটসপ হতে।

প্রেম তুমি এসেছো,
হয়তো কোন ব্লগ হতে।
না হয় কোন ওয়েবসাইট,
ওয়েবপেজ হতে।
নতুবা সোস্যাল মিডিয়ার কোন মাধ্যম হতে।

 প্রেম তুমি এসেছো,
সহস্র সমুদ্র পারি দিতে দিতে
 আমি আরও জানি, তুমি এসেছো, 
আমাকে অথৈ স্রোতে,
 সাঁতার কাটাতে নিতে। 

 প্রেম তুমি এসেছো, 
রক্তবর্ণ কাঁটাযুক্ত ফুটন্ত গোলাপ হয়ে।
আমি আরও জানি, তুমি এসেছো,
ঐ কাঁটার আঘাত আমাকে দিতে, 
চিরসঙ্গী হয়ে।

 প্রেম তুমি এসেছো,
একটি বিষাক্ত বর্শা হাতে, 
লাজুক লাজুক মুচকি হাসতে হাসতে,
আমি আরও জানি, তুমি এসেছো,
 তোমার ঐ চাবুকের আঘাতে 
আমার অন্তরাত্মা কাঁদাতে।

আবার হয়তো কোনদিন অভিমান করে,
আমাকে চিরতরে,
আসবে আবার বিদায় জানাতে।
 সেদিন অশ্রুসজলে, 
তোমাকে যেতে ভুলে,
দিব বিদায় কাঁদতে কাঁদতে।

প্রেম তুমি কালনাগিনী ভয়ংকর।
 তুমি রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
 যতটা কাছে আসে তোমার। 
সবটাই তুমি করো সাবাড়। 

 প্রেম তুমি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। 
তুমি ভয়ানক নার্গিস, সিডর , 
তোমাকে বড্ড করি ডর। 
কভু তুমি কাছে এসোনা মোর।

 প্রেম তুমি এসেছো, 
দুষ্ট, মিষ্টি হাসির অন্তরালে, 
ভয়ঙ্কর অগ্নিশিখা হাতে নিয়ে। 
মনভুলানো কথার আড়ালে, 
একটা উনুনপূর্ণ শূলকাষ্ট নিয়ে।
 প্রেম তোমার রং মাখা মুখোশের অন্তরালে
 রয়েছে লুকিয়ে ,
একটা রক্তাক্ত ফাঁসির রশি। 
আমি অন্ধ তাই মজনু হতে চাই,  
তোমাকে ভালোবেসে বেশি। 

 আজ তোমাকে ভুলে যেতে চাই। 
কল্পনা থেকে মুছে দিতে চাই।
 তুমি দূর হও, 
চিন্তারেখার ত্রিসীমানা হতে।
 তুমি সরে দাঁড়াও, 
কবির চৌদিক হতে। 

 কবি তোমার ভেলকিতে,
 কভু মজিবেনা। 
তোমার পাতানো মৃত্যুর ফাঁদে, 
কবি কখনও পা দিবে না।

 তুমি হটে যাও, 
কবির কল্পনা থেকে চিরতরে। 
তোমাকে কবি বাঁধবেনা, 
কভু মায়ার ডোরে। 
 সাক্ষী থাকল, আকাশ, বাতাস ও চন্দ্র, তারা। 
আরও সাক্ষী রইল, ভূবন মাঝে আছে যারা। 

 একদিন তোমাকে আমি ভালোবেসে ছিলাম।
সেদিন তোমাকে আমি সাদরে গ্রহণ করেছিলাম। 
আজ তোমাকে আমি অশ্রুসজলে বিদায় দিলাম।   
         সমাপ্ত।। 

 জেমি: লেখকের প্রেমিকার সাথে Separation ঘটলে, বিদায় মুহুর্তে এ কবিতা দুটো তার প্রেমিকাকে শেষ উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। সেটা স্পষ্ট কবিতার উপরে লেখা রয়েছে। 

 জেমি: কবিতা পড়া শেষ হলে, চেয়ে দেখি; তিথি ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে..! দু'গাল বেয়ে অজর ধারায় অশ্রু বিগলিত হচ্ছে......

নবীন প্রেমের উদয়! প্রথম খণ্ড, পর্ব : দুই,
                        সমাপ্ত।।

 রচনাকাল: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ইং

 বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত৷



২টি মন্তব্য: