যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২

উপন্যাস নবীন প্রেমের উদয় ! লেখক নাঈম হোসেন , প্রথম খণ্ড , পর্ব : সাত

 💔নবীন প্রেমের উদয়! প্রথম খণ্ড,

নাঈম হোসেন 

পর্ব: সাত [হুবহু জেমির বর্ণনা];


👩জেমি: হঠাৎ রুমের কলিংবেল বেজে উঠল; দরজা খুলেই দেখি মুসলিম বান্ধবী পপি দাঁড়িয়ে আছে। পপিকে দেখেই মনে খুশির ঢেউ উঠল; 
জেমি: অনেকদিন পর ওর সাথে এই প্রথম দেখা। তিথির কথা শুনেই ও কাকডাকা ভোরে ছুটে এসেছে একনজর দেখতে। 

জেমি: পপিকে দেখেই আমরা ওকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে কোলাকোলি করলাম। পরে ও আমাদের আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে আমরা সংক্ষেপে সবকিছু বললাম। 

👵পপি: তোরা কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিস ?
তিথি: সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে৷ 

জেমি:  আচ্ছা  পপি তোদের ইসলামধর্মে  রাস্তায় চলাচল, ফুটপাত ব্যবহার ও গাড়ি পার্কিং বিষয়ে কি শিক্ষা দেয়? সে বিষয়ে তুই কিছু বল; 
তিথি: হ্যাঁ তুই বল; 

পপিঃ ওকে। বলছি;  পার্থিব প্রয়োজনে মানুষকে বাড়ীতে প্রবেশ ও বের হওয়া, বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ইত্যাদি কারণে রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। মানুষের চলাচলের এই রাস্তাকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও নিষ্কণ্টক করাই ইসলামের নির্দেশ। 

পপি: কিন্তু কোন কোন মানুষ এই পথ বা রাস্তাকে বন্ধ করে দিয়ে অন্যকে বিপদে ফেলে, যা ইসলামে বৈধ নয়। 

পপি: আমরা বাজারে বা পথেঘাটে হাঁটার সময় দেখি দোকানদার ব্যবসায়ীরা হাঁটার পথ আটকিয়ে দোকান দিয়ে বসে আছে তাদের একাজ গুলোকে ইসলাম নিষেদ করে তাদের সম্পর্কে ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ার করেছেন, ইসলাম বলেছে, নিষিদ্ধ জায়গায় গাড়ি পার্কিং করা অন্যায়, এ বিষয়ে হাদীসে বলা হয়েছে, [১] সাহাবি হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা রাস্তার পাশে বসে থেকো না। সাহাবারা বললেন, আল্লাহর রাসূল! আমাদের তো এর প্রয়োজন হয়, পরস্পরে প্রয়োজনীয় কথা বলতে হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বসতেই যদি হয় তবে রাস্তার হক আদায় করে বসো। সাহাবারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তার আবার  হক কী?

পপি: হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রাস্তার হক হলো-  
দৃষ্টিকে অবনত রাখা, 
কাউকে কষ্ট না দেওয়া, 
সালামের জবাব দেওয়া,
সৎ কাজের আদেশ করা 
অসৎ কাজ হতে বিরত রাখা। 

পপি: অন্য বর্ণনায় আরও কিছু বিষয় এসেছে। যেমন-[২]  সেগুলো হচ্ছে , 
পথহারাকে পথ দেখিয়ে দেওয়া,
মজলুম ও বিপদগ্রস্তের সাহায্য করা, 
বোঝা বহনকারীকে (বোঝা উঠানো বা নামানোর ক্ষেত্রে) সহযোগিতা করা,
ভালো কথা বলা,
হাঁচির জবাব দেওয়। 

পপি: যেহেতু রাস্তায় বসলে তাতে যাতায়াতকারীদের কষ্ট হয়। আর রাস্তা তো বৈঠকখানা নয়, এটা চলাচলের জন্য। তাই নবী করিম (সাঃ) রাস্তায় বসতে নিষেধ করেছেন। 

পপি: কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাহাবায়ে কেরামের অপারগতা দেখলেন, হক আদায় করার শর্তে প্রয়োজন পরিমাণ বসার অনুমতি দিলেন। সুতরাং রাস্তায় দাঁড়ানো বা বসা ব্যক্তির খেয়াল রাখা উচিত, যেন তার দ্বারা কোনো চলাচলকারীর সামান্য কষ্ট না হয়। এটাই ইসলামের শিক্ষা ও নির্দেশ।

👩জেমি: তাহলে রাস্তার পরিধি কতটুকু ? 


পপি: রাস্তার পরিধি হচ্ছে , রাস্তার পরিধি বা প্রশস্ততা সম্পর্কে ইসলামে নির্দেশনা রয়েছে; এ সম্পর্কে  [৩] সাহাবী হযরত আবূ হুরায়রা বলেন, ‘যখন মালিকেরা রাস্তার ব্যাপারে পরস্পরে বিবাদ করল, তখন নবী করীম (সাঃ) রাস্তার জন্য সাত হাত জমি ছেড়ে দেয়ার ফায়ছালা দেন’। 

পপি: [৪] অন্যত্র তিনি বলেন, ‘সাত হাত প্রশস্ত করে রাস্তা তৈরী কর’। এই প্রশস্ততা এজন্য যে, যাতে সেখানে যানবাহন প্রবেশ ও বের হ’তে কোন সমস্যা সৃষ্টি না হয়। এমনকি ঐ রাস্তা ব্যবহারকারীরা যাতে তাদের প্রয়োজনীয় মালপত্রও সহজে আনা নেওয়া করতে পারে।

জেমি: রাস্তায় কী কী উপায় কষ্ট দেওয়ার  কথা সম্পর্কে ইসলাম বলেছে?

👵পপি: কষ্ট দেওয়ার পদ্ধতিগুলো হচ্ছে , 


এমনভাবে দাঁড়ানো বা বসা যে যাতায়াতকারীর কষ্ট হয়।
কিংবা রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলা, 
টায়ার জ্বালানো, 
অহেতুক রাস্তা বন্ধ করা,
রাস্তা কেটে রাখা,
ফলের খোসা-ময়লা-আবর্জনা ও উচ্ছিষ্ট খাবার ফেলা,
পানের পিক ফেলা, 
দুর্গন্ধ ছড়ায় এমন কোনো জিনিস ফেলে রাখা, 
ছাদ থেকে পানি নিষ্কাষণের পাইপ রাস্তায় দেওয়া, 
রাস্তায় দোকান বসানো, যার কারণে চলাচলের পথ সংকীর্ণ হয়,
দোকানের সীমানা বাড়াতে বাড়াতে রাস্তার মধ্যে চলে যাওয়া, 
অথবা বাড়ির প্রাচীর বাড়িয়ে দেওয়া; যে কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় বা সংকীর্ণ হয়ে যায়।
এগুলোই কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত। 

পপি: সাধারণত বাজার কিংবা মার্কেটগুলোতে দেখা যায়, দোকানের অর্ধেক ভেতরে আর অর্ধেক বাইরে- ফুটপাতে। মনে হয় যেন ফুটপাত দোকানদারের হক! অথচ সবাই জানে এটা দোকানের অংশ নয়; ক্রেতাদের জন্য অথবা চলাচলকারীদের জন‍্য বানানো হয়েছে, যাতে যাতায়াত সহজ হয়। কিন্তু এখন ফুটপাতই দোকান হয়ে গেছে। অনেকে তো ফুটপাতে ঘর বানিয়ে শাটার লাগিয়ে রীতিমতো মার্কেট বানিয়ে ফেলে। কেউ আবার মালসামানা এমনভাবে রাখে যার দ্বারা রাস্তা আর দেখা যায় না। চলাচল করা যায় না।

পপি: গাড়ি পার্ক করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া পাপ এবং  ইসলামে নিষিদ্ধ কাজ, অনেকে আবার ফুটপাত দখল করে দোকান খুলে বসে। এতেও রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যায়। অথচ এটা সরকারীভাবে নিষিদ্ধ। এ কারণে বাজারে আসা-যাওয়া কিংবা চলাচলের সময় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তায় যানজট দেখা দেয়, নানাবিধ দুর্ঘটনা ঘটে। অথচ মানুষ যদি রাস্তার হক আদায় করে চলে, তাহলে রাস্তাগুলো প্রশস্ত থাকবে, চলাচলে আর কষ্ট হবে না- এবং সড়কে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকেও মুক্তি সম্ভব হবে  ইনশাআল্লাহ।

পপি:  ইসলাম আরও বলে ঈমানের সর্বনিম্ন শাখা হলো- রাস্তায় কষ্টদায়ক কোনো জিনিস দেখলে তা সরিয়ে দেওয়া। হাদিসে বলা হয়েছে, এটা ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর।

পপি:  হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,[৫] ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে, সর্বোত্তম শাখা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা, সর্বনিম্ন শাখা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া, আর লজ্জা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা। 

পপি:[৬] অন্য আরেক রেওয়ায়েতে আছে, হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবি হজরত আবু যর গিফারি (রাঃ)-কে নসিহত করেন, তার মাঝে একটি উপদেশ ছিলো- রাস্তা থেকে পাথর, কাঁটা, হাড্ডি সরানোও সদাকা। 

পপি: উল্লেখিত হাদিসের আলোকে বলা যায়, মুমিনের কাছে ঈমানের ন্যূনতম দাবি হলো, সে যখন রাস্তায় চলবে কষ্টদায়ক কিছু দেখলে সরিয়ে দেবে। হতে পারে এই ওসিলায় সে কিয়ামতের দিন নাজাত পেয়ে যাবে।

পপি: রাস্তা থেকে কাঁটাদার গাছ কাটার পুরস্কার বিষয়ে একাধিক হাদিসে এসেছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন; [৭] আমি এক ব্যক্তিকে জান্নাতের গালিচায় গড়াগড়ি খেতে দেখলাম (অর্থাৎ শান্তি ও আরামের সঙ্গে সুখময় জীবন কাটাচ্ছে)। মানুষের চলাচলের পথে একটি গাছ ছিল, যার কারণে চলাচলে কষ্ট হচ্ছিল। এ ব্যক্তি তা কেটে দিয়েছিলো। (ফলে আল্লাহ খুশি হয়ে তাকে জান্নাতে দাখেল করেন)। 

পপি: বড় কোনো আমলের কারণে নয়, বরং মানুষের যাতায়াতের রাস্তায় একটি কাঁটাদার গাছ ছিলো, এ ব্যক্তি সেটি কেটে দিয়েছিল। যাতে পথিকের পথ চলা নির্বিঘ্ন হয় এই আমলের বরকতেই আল্লাহ তাকে জান্নাতে পৌঁছে দিয়েছেন। 

পপি: রাস্তায় চলাচলের সময় অনেক কষ্টদায়ক বস্তু আমাদের নজরে আসে। কিন্তু আমরা মনে করি এটা তো সরকারের কাজ, তারা করবে। ঠিক আছে তাদের করা উচিত, কিন্তু আমরা মুসলমান সুতরাং এটা আমাদেরও দায়িত্ব, কারণ এটা ঈমানের দাবি। তাছাড়া কলার খোসা বা রাস্তায় পড়ে থাকা অন্য যেকোনো কষ্টদায়ক জিনিসের কারণে মোটরসাইকেলসহ যেকোনো ধরনের গাড়ি মারাত্মকভাবে দুর্ঘটনায় পতিত হতে পারে। তাই একজন মুসলমান  ও নাগরিকের উচিত পথ চলাকালীন সময়ে রাস্তার মাঝে কোনকিছু পড়ে থাকতে দেখলে তা সরিয়ে ফেলা।

পপি: রাস্তায় কষ্টদায়ক কাজের আরেকটি কারণ  হলো- যত্রতত্র সাইকেল, মোটরসাইকেল, গাড়ি পার্ক করে রাখা। নিষিদ্ধ জায়গায় গাড়ি পার্ক করা অন্যায়। চাই সেই জায়গা খালি থাকুক কিংবা অব্যবহৃত। নিষেধ সর্বাবস্থায় মানতে হবে। আর যেখানে গাড়ি পাকিংয়ের অনুমতি আছে, সেখানেও এমনভাবে গাড়ি পার্ক করা, যেন অন্য গাড়ি যাওয়ার কষ্ট না হয়। 

পপি: অনেক সময় দেখা যায়, দোকানের সামনে এমনভাবে গাড়ি রাখছে কেউ কেউ, যে কারণে দোকান বন্ধ হয়ে যায়, ক্রেতা-গ্রাহক আসতে পারে না কিংবা আসতে কষ্ট হয়। এটাও অনুচিত কাজ।

পপি: তদ্রূপ রাস্তায় বেশি জোরে গাড়ি চালােনা, রং সাইডে চলাচল কিংবা অযথা হর্ণ বাজানো মানুষ পছন্দ করে না। এগুলোও খেয়াল রাখা দরকার। এক কথায়, গাড়ি এমনভাবে চালাতে হবে, যেন কোনো মানুষ ও প্রাণী কষ্ট না পায়। কারও কোনো পেরেশানের কারণ না হয়।

পপি: রাস্তায় চলার সময় গর্ব-অহংকার প্রকাশ পায় এমনভাবে চলাচল করা মুমিনের জন্য সমীচীন নয়। কেননা অহংকার আল্লাহর বৈশিষ্ট্য, যা হরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। [৮] আর মুমিনকে নম্রভাবে রাস্তায় চলার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, 'আর অহংকারবশে তুমি মানুষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না এবং যমীনে উদ্ধতভাবে চলাফেরা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন দাম্ভিক ও অহংকারীকে ভালবাসেন না’ 

পপি: দৃষ্টি নিম্নগামী করে রাস্তয় চলাচল করতে ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে ,  দৃষ্টি নিম্নগামী রাখার অর্থ হচ্ছে মুমিন নারী-পুরুষের লজ্জাস্থান, যাবতীয় নিষিদ্ধ বিষয় এবং যার দিকে তাকালে ফিৎনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, এমন বস্তুর দিকে না তাকানো। 

পপি: মহান আল্লাহ বলেন [৯], ‘তুমি মুমিন পুরুষদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতর। নিশ্চয়ই তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবহিত। আর তুমি মুমিন নারীদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান সমূহের হেফাযত করে৷ 

পপি: দৃষ্টি অবনমিত রাখাকে রাসূল (ছাঃ) রাস্তার হক বা আদব হিসাবে উল্লেখ করেছেন। যাতে মুমিন অপছন্দনীয় জিনিসের দিকে দৃষ্টি দেওয়া থেকে বিরত থাকে অন্য মুমিনের সম্মানের দিকে লক্ষ্য করে। বিশেষত বর্তমানে যেভাবে নারীরা বেপর্দায় চলাফেরা করে, তাতে পুরুষদের ফিৎনায় পতিত হওয়ার সম্ভাবনা অধিক। তাই দৃষ্টি নিম্নগামী রাখা জরুরি । এজন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আলী (রাঃ)-কে বললেন, [১০] ‘হে আলী! তুমি দৃষ্টির অনুসরণ কর না (কোন নারীকে একবার দেখার পর দ্বিতীয়বার দেখবে না)। কেননা তোমার জন্য প্রথমবার দেখার অনুমতি আছে। কিন্তু দ্বিতীয়বার নয়’।

পপি:  [১১] অন্য বর্ণনায় এসেছে, জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে (কারো প্রতি) হঠাৎ দৃষ্টি পড়া সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি আমাকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে আদেশ করলেন’।

পপি: মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে ইসলাম বলেছে,  মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা। অর্থাৎ তাদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যেসব কথা-কাজে কোন কল্যাণ নেই সেগুলো থেকে বিরত থাকা,

অনুরূপভাবে  পথচারীদের কষ্ট দেয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা। যেমন তাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, তাদের গীবত করা অথবা অনুরূপ কষ্টদায়ক কথা ও কাজ পরিহার করা। তাছাড়া পথচারীদের চলাচলে কষ্ট হয় এমনভাবে রাস্তা সংকীর্ণ করে না বসা, কারো বাড়ীতে যাতায়াতের পথে না বসা, কারো বাড়ীর পার্শ্ববর্তী রাস্তায় এমনভাবে না বসা যাতে বাড়ীর লোকজনের ইজ্জত -আব্রু রক্ষায় সমস্যা হয়। মোটকথা পথচারীকে কথা-কাজের মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম ৷ 

পপি:  [১২] আবূ বারযা আল-আসলামী (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আমাকে এমন একটি কাজের নির্দেশ দিন যার দ্বারা আমি উপকৃত হ’তে পারি। তিনি বলেন, মুসলমানদের যাতায়াতের পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেল’।

পপি: অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন,[১৩] ‘প্রত্যেক মুসলিমের উপর ছাদাক্বাহ করা ওয়াজিব। প্রশ্ন করা হ’ল, যদি ছাদাক্বাহ করার জন্য কিছু না পায়?  তিনি বললেন, তবে সে নিজ হাতে উপার্জন করবে এবং নিজে উপকৃত হবে ও ছাদাক্বাহ করবে। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হ’ল, যদি সে এতেও সক্ষম না হয় তবে কি হবে? তিনি বললেন, তাহলে সে অসহায় আর্ত মানুষের সাহায্য করবে। রাবী বলেন, আবার জিজ্ঞেস করা হ’ল, যদি সে এতেও সক্ষম না হয়? তিনি বললেন, তাহ’লে সৎ কাজের কিংবা কল্যাণের আদেশ করবে। আবারো জিজ্ঞেস করা হ’ল, যদি সে তাও না করে? তিনি বললেন, তবে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকবে। কেননা এটাও ছাদাক্বাহ’।

পপি: রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করতে ইসলাম উৎসাহিত করেছে এবং একে ঈমানের শাখা বলে অভিহিত করেছে। 

পপি: [১৪] রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘ঈমানের সত্তরটির অধিক শাখা রয়েছে। অথবা ষাটটিরও অধিক। এর সর্বোচ্চ শাখা হচ্ছে এ সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন প্রকৃত ইলাহ নেই। আর এর সর্বনিম্ন শাখা হচ্ছে- রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আর লজ্জা ঈমানের একটি অন্যতম শাখা’।

পপি: রাস্তা হ’তে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোর ফযীলত সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বলেন, [১৫]'এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় রাস্তায় একটি কাঁটাযুক্ত ডাল দেখতে পেয়ে তা সরিয়ে ফেলল। আল্লাহ তা‘আলা তার এ কাজ সাদরে কবুল করে তার গুনাহ মাফ করে দিলেন’।

পপি: অন্যত্র তিনি বলেন,[১৬] ‘এক ব্যক্তি কখনো কোন ভালো কাজ করেনি, শুধু একটি কাঁটাযুক্ত ডাল রাস্তা থেকে সরিয়েছিল। হয়তো ডালটি গাছেই ছিল, কেউ তা কেটে ফেলে রেখেছিল অথবা রাস্তায়ই পড়েছিল। সে তা সরিয়ে ফেলেছিল। আল্লাহ তার একাজ সাদরে গ্রহণ করলেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন’।

পপি: রাসূল (সাঃ) আরো বলেন,[১৭] "আমি এক ব্যক্তিকে দেখলাম জান্নাতে একটি গাছের নীচে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটছে। সে এমন একটি গাছ রাস্তার মধ্য থেকে কেটে ফেলে দিয়েছিল যা মানুষকে কষ্ট দিত"।

পপি: পরিচিত-অপরিচিত সকলকে সালাম দেওয়া : রাস্তার আরেকটি আদব হচ্ছে সকল মুসলমানকে সালাম দেওয়া। আর রাসূল (ছাঃ) ব্যাপকভাবে সালামের প্রসার ঘটাতে বলেছেন। আর এটাকে মানুষের পারস্পরিক মহববত বৃদ্ধির উপায় বলে উল্লেখ করেছেন।

পপি: [১৮] তিনি বলেন, ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না ঈমানদার হবে। আর তোমরা ঈমানদার হ’তে পারবে না, যতক্ষণ না পরস্পর ভালোবাসা স্থাপন করবে। আমি কি এমন একটি কাজের কথা তোমাদেরকে বলে দিব না, যখন তোমরা তা করবে, পরস্পর ভালোবাসা স্থাপিত হবে? তোমরা একে অপরের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও’।

পপি: অন্যত্র এসেছে, [১৯] আব্দুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামের কোন জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও পরিচিত-অপরিচিত সকলকে সালাম দিবে’।

👩জেমি: সালাম দেওয়ার নিয়ম কী ? 


👵পপি: সালাম প্রদানের নিয়ম সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বলেন، [২০] ‘আরোহী পদচারীকে, পদচারী উপবিষ্টকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে’।

পপি:  অন্যত্র তিনি বলেন,  [২১] ‘বয়োকনিষ্ঠ বয়োজ্যেষ্ঠকে, পথচারী উপবিষ্টকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে’।

পপি:  সকলের সালামের উত্তর দেওয়া : রাস্তার আরেকটি আদব হচ্ছে সালামের উত্তর দেওয়া। আর কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। আল্লাহ বলেন, [২২]  আর যখন তোমরা সম্ভাষণ প্রাপ্ত হও, তখন তার চেয়ে উত্তম সম্ভাষণ প্রদান কর অথবা ওটাই প্রত্যুত্তর কর’ 

পপি:  রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,  [২৩] ‘প্রত্যেক মুসলিমের উপর তার মুসলিম ভাইয়ের পাঁচটি অবশ্য কর্তব্য রয়েছে আর তা হলো- 

সালামের জবাব দেয়া, 
হাঁচি শুনে জবাব দেয়া,
দাওয়াত কবুল করা, 
অসুস্থ হ’লে দেখতে যাওয়া 
জানাযা ও দাফনে অংশগ্রহণ করা’।

পপি: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা প্রত্যেক মুসলিমের উপরে আবশ্যক। আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর নৈকট্য হাছিল, মানবতার কল্যাণ সাধন এবং শরী‘আত সম্মত যাবতীয় কাজের প্রতি মানুষকে আহবান জানানো সৎকাজের আদেশের অন্তর্ভুক্ত। 

পপি: পক্ষান্তরে যাবতীয় অন্যায়-অপকর্ম যা শরী‘আতে নিষিদ্ধ ও নিন্দনীয় কাজ থেকে মানুষকে বাধা দেওয়া বা বিরত রাখার চেষ্টা করা অসৎকাজের নিষেধের অন্তর্গত। এসব কাজ মুমিনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বলে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। 

পপি: আল্লাহ বলেন, [২৪]  ‘তোমরাই হ’লে শ্রেষ্ঠ জাতি। যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য। তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে’ । 

পপি: মহান আল্লাহ এই কর্মকে মুমিন ও মুনাফিকের মাঝে পার্থক্যকারী নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, [২৫] ‘আর মুমিন পুরুষ ও নারী পরস্পরের বন্ধু। তারা সৎ কাজের আদেশ করে ও অসৎ কাজে নিষেধ করে’।

পপি: অন্যত্র তিনি বলেন, [২৬] ‘মুনাফিক পুরুষ ও নারী পরস্পরে সমান। তারা
অসৎ কাজের আদেশ দেয় ও সৎকাজে নিষেধ করে’। 

পপি: ধ্বংসে নিপতিত হওয়া থেকে প্রধান রক্ষাকবচ হিসাবে রাসূল (সাঃ) সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকে নির্ধারণ করেছেন। 

পপি: [২৭]  রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ করবে। অন্যথা আল্লাহ তা‘আলা শীঘ্রই তোমাদের উপরে তাঁর শাস্তি অবতীর্ণ করবেন। তোমরা তখন তাঁর নিকট দো‘আ করলেও তিনি তোমাদের সেই দো‘আ কবুল করবেন না’।

পপি: অন্য হাদীছে এসেছে, [২৮] কায়েস ইবনে আবূ হাযেম (রাঃ) বলেন, আবূবকর (রাঃ) দাঁড়ালেন, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, অতঃপর বললেন,  ‘হে লোকসকল! তোমরা তো এই আয়াত তেলাওয়াত করো যে, (অনুবাদ) ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সাধ্যমত তোমাদের কাজ করে যাও। পথভ্রষ্টরা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, যখন তোমরা সৎপথে থাকবে’ ।

পপি: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, [২৯] লোকেরা মন্দ কাজ হ’তে দেখে তা পরিবর্তনের চেষ্টা না করলে অচিরেই আল্লাহ তাদের সকলের উপর ব্যাপকভাবে শাস্তি পাঠাবেন’।

পপি: সেদিন রাস্তা দিয়ে বাড়িতে আসার পথে দেখি এক বোন পথ ভুলে গিয়ে একজনকে জিঞ্জেস করছে , সে সঠিক পথটি না বলে তাকে ভুলপথ দেখিয়ে দিল; তখন আমি ঐবোনকে বললাম তুমি এদিকে আসো আমি তোমাকে সঠিক পথটি দেখিয়ে দেই, কারণ  পথহারাকে সঠিকপথ দেখানো এটা ইসয়ামের নির্দেশ ! ইসলাম বলেছে, পথহারাকে পথ দেখিয়ে দেয়া রাস্তার একটি আদব, যা অতি ছওয়াবের কাজ। যাকে ছাদাক্বার সাথে তুলনা করা হয়েছে। পথ দেখানো বিভিন্নভাবে হ’তে পারে। যেমনঃ - 

পপি:( ক) সাধারণ পথিককে পথ দেখানো : যারা গন্তব্যে পৌঁছার পথ চেনে না, তাদেরকে সহজ ও সঠিক পথ বাতলে দেওয়া মুমিনের জন্য অবশ্য কর্তব্য। 

পপি: এ ব্যাপারে ইসলাম উৎসাহিত করেছে এবং এর অনেক ফযীলত রয়েছে। রাসূল (সাঃ) বলেন, [৩০] ‘(রাস্তার হক হ’ল) পথ দেখানো’।

পপি: তিনি আরো বলেন, [৩১] ' রাস্তায় বসা ছাড়া তোমাদের কোন উপায় না থাকলে (পথহারাকে) পথ প্রদর্শন করবে, সালামের উত্তর দিবে এবং অত্যাচারিতকে সাহায্য করবে’।

পপি: (খ) পথহারাকে পথ দেখানো : মানুষ উদ্দিষ্ট স্থানে পৌঁছার পথ হারিয়ে ফেললে সীমাহীন বিড়ম্বনার সম্মুখীন হয়। এ অবস্থা থেকে তাকে উত্তরণের জন্য সঠিক পথ বাতলে দেওয়া জরূরী। রাসূল (সাঃ) বলেন,[৩২] 'তোমরা পথে বা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাক। আর যদি তোমরা সেখানে বসতে বাধ্য হও, তাহ’লে রাস্তার হক আদায় করবে। বলা হ’ল, রাস্তার হক কি? তিনি বললেন, দৃষ্টি নিম্নগামী রাখা, সালামের উত্তর দেওয়া এবং পথহারাকে পথ প্রদর্শন করা।

পপি: পথহারাকে পথ প্রদর্শনের ফযীলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও  বলেন, [৩৩] পথহারা লোককে পথের সন্ধান দেয়া তোমার জন্য ছাদাক্বাহ’।

 তিনি আরো বলেন,[৩৪] ‘তোমার হাস্যোজ্জ্বল মুখ নিয়ে তোমার ভাইয়ের সামনে উপস্থিত হওয়া তোমার জন্য ছাদাক্বাহ। তোমার সৎকাজের আদেশ এবং তোমার অসৎকাজ হ’তে বিরত থাকার নির্দেশ তোমার জন্য ছাদাক্বাহ। পথহারা লোককে পথের সন্ধান দেয়া তোমার জন্য ছাদাক্বাহ, স্বল্প দৃষ্টি সম্পন্ন লোককে সঠিক দৃষ্টি দেয়া তোমার জন্য ছাদাক্বাহ। পথ হ’তে পাথর, কাটা ও হাড় সরানো তোমার জন্য ছাদাক্বাহ। তোমার বালতি দিয়ে পানি তুলে তোমার ভাইয়ের বালতিতে ঢেলে দেয়া তোমার জন্য ছাদাক্বাহ’।

পপি: অন্যত্র তিনি বলেন, ،[৩৫] 'যে ব্যক্তি একবার দোহন করা দুধ দান করে অথবা টাকা-পয়সা ধার দেয় অথবা পথ হারিয়ে যাওয়া লোককে সঠিক পথের সন্ধান দেয়, তার জন্য রয়েছে একটি গোলাম মুক্ত করে দেয়ার সমপরিমাণ ছওয়াব’।

পপি: (গ) অন্ধকে পথ চলতে সাহায্য করা : পথ চলার ক্ষেত্রে অন্ধ ব্যক্তির ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কখনও তাকে হাত ধরে তার সাথে চলে তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা। এটা একটি বড় শিষ্টাচার। যার প্রতি ইসলাম উৎসাহিত করেছে। পক্ষান্তরে অন্ধকে ভুল পথ প্রদর্শন করা হ’তে ইসলাম সাবধান করেছে এবং একে অভিশাপে পতিত হওয়ার কারণ বলে আখ্যায়িত করেছে। রাসূল (সাঃ) বলেন, [৩৬] ‘আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে অভিশাপ করেন যে অন্ধকে ভুল পথ দেখায়’।

পপি: (ঘ) বোঝা বহনকারীকে সাহায্য করা : রাস্তায় উপবেশনকারী বা পথিক অন্যকে তার বোঝা বহনে বা মাথায় উঠাতে অপারগ দেখলে তাকে সাহায্য করবে। এটা রাস্তার অন্যতম আদব।  রাসূল (সাঃ) বলেন, [৩৭] রাস্তার উপর বসা ভালো নয়। তবে হ্যাঁ, সে ব্যক্তির জন্য ভালো, যে রাস্তা দেখিয়ে দেয়, সালামের জবাব দেয়, চক্ষু অবনত রাখে এবং বোঝা বহনকারীকে সাহায্য করে’। এটাও ছাদাক্বার অন্তর্ভুক্ত।

পপি: রাসূল (সাঃ) আরও বলেন,  [৩৮] 'মানুষের প্রত্যেক জোড়ার প্রতি ছাদাক্বাহ রয়েছে, প্রতিদিন যাতে সূর্য উদিত হয়। দু’জন লোকের মধ্যে সুবিচার করাও ছাদাকাহ, কাউকে সাহায্য করে সাওয়ারীতে আরোহণ করিয়ে দেয়া বা তার উপরে তার মালপত্র তুলে দেয়াও ছাদাক্বাহ, ভাল কথাও ছাদাক্বাহ, ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে পথ চলায় প্রতিটি কদমেও ছাদাক্বাহ, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করাও ছাদাক্বাহ’।

পপি: অধিক পরিমাণে যিকর করা : আল্লাহ স্বীয় বান্দাদেরকে অধিক হারে যিকর করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন، [৩৯] ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিকহারে স্মরণ কর এবং সকাল-বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা কর’ । 

পপি: ছাহাবীগণের প্রশ্নের উত্তরে রাসূল (সাঃ) রাস্তার হক সম্পর্কে বলেন, [৪০]  ‘আল্লাহর অধিক যিকর করা, পথ প্রদর্শন করা এবং দৃষ্টি অবনমিত রাখা’।

পপি: কোন বসার স্থানে যিকর না করার পরিণতি সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বলেন, [৪১]  ‘যে ব্যক্তি কোন স্থানে বসল অথচ আল্লাহকে স্মরণ করল না, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে লাঞ্ছনা’।

পপি: উত্তম কথা বলা : পথচারী ও অন্যদের সাথে উত্তম ও শালীন কথাবার্তা বলা রাস্তার অন্যতম শিষ্টাচার। যার প্রতি ইসলাম বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। আল্লাহ বলেন , [৪২] ‘(হে নবী!) তুমি আমার বান্দাদের বল, তারা যেন (পরস্পরে) উত্তম কথা বলে। (কেননা) শয়তান সর্বদা তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়। নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু’ ।

পপি: এটা সর্বসাধারণের জন্য পালনীয় আদব। রাসূল (সাঃ) বলেন, [৪৩]‘যে লোক আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে’।

পপি: উত্তম কথাকে রাসূল (সাঃ) ছাদাক্বাহ হিসাবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন,[৪৪] ‘উত্তম কথাও ছাদাক্বাহ’।

পপি: আবু শুরাইহ আল-খুযাঈ বলেন, [৪৫] আমি রাসূল (সাঃ)-কে বললাম, আমাকে বলুন, কোন বস্তু জান্নাত অবধারিত করে? তিনি বললেন, ‘তোমার জন্য আবশ্যক হ’ল উত্তম কথা বলা এবং খাদ্য দান করা’।

পপি:  অন্যত্র তিনি আরো বলেন, [৪৬]  ‘তোমরা জাহান্নামের আগুন হ’তে বাঁচ এক টুকরা খেজুর দিয়ে হ’লেও। আর যদি তা না পাও, তবে উত্তম কথার মাধ্যমে’।

পপি:  অসহায়কে সাহায্য করা : অসহায়কে সাহায্য করা ও আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেওয়া অশেষ ছওয়াবের কাজ এবং আল্লাহর নৈকট্য হাছিলের অন্যতম মাধ্যম। মানুষের প্রয়োজন পূর্ণ করা এবং তাদের অসুবিধা দূর করা অনেক বড় ছাদাক্বাহ। 

পপি: এ সম্পর্কে নবী করীম (সাঃ) বলেন, [৪৭] ‘প্রতিটি মুসলিমের ছাদাক্বাহ করা উচিত। ছাহাবীগণ আরয করলেন, কেউ যদি ছাদাক্বাহ দেয়ার মত কিছু না পায়? (তিনি উত্তরে) বললেন, সে ব্যক্তি নিজ হাতে কাজ করবে এতে নিজেও লাভবান হবে, ছাদাক্বাও করতে পারবে। 

পপি: তাঁরা বললেন, যদি এরও ক্ষমতা না থাকে? তিনি বললেন, কোন বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করবে। তাঁরা বললেন, যদি এতটুকুরও সামর্থ্য না থাকে? তিনি বললেন, এ অবস্থায় সে যেন সৎ আমল করে এবং অন্যায় কাজ হ’তে বিরত থাকে। এটা তার জন্য ছাদাক্বাহ বলে গণ্য হবে’।

পপি: অন্যত্র তিনি বলেন, [৪৮] ‘প্রত্যেক দিন যাতে সূর্য উদিত হয় তাতে প্রত্যেক ব্যক্তির উপরে ছাদাক্বাহ করা আবশ্যক। (রাবী বলেন,) আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আমি কোথা থেকে ছাদাক্বাহ করব, আমাদের কোন সম্পদ নেই? তিনি বললেন, (শুধু অর্থ-সম্পদ ব্যয় করাই ছাদাক্বাহ নয় বরং) ছাদাক্বার মধ্যে গণ্য আল্লাহু আকবার বলা, সুবহানাল্লাহ বলা, আল-হামদুলিল্লাহ বলা এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আস্তাগফিরুল্লাহ বলা (আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি) ছাদাক্বাহ। 

পপি: তুমি সৎ কাজের আদেশ করবে, অসৎ কাজ হ’তে নিষেধ করবে। মানুষের চলাচলের পথ হ’তে কাঁটা, হাড্ডি ও পাথর সরিয়ে ফেলবে। অন্ধকে পথ দেখাবে, বধির ও বোবাকে শুনিয়ে দিবে যেন সে বুঝে (তাদেরকে কথা বুঝার উপযুক্ত করে গড়ে তুলবে)। কোন অভাবীর অভাব পূরণের পন্থা তোমার জানা থাকলে তাকে সে পথ দেখিয়ে দেওয়া। কোন বিপদগামী সাহায্যপ্রার্থীর দিকে তুমি দ্রুত ছুটে যাবে। দুর্বলের জন্য তোমার বাহুকে দৃঢ়ভাবে উঠাবে (অর্থাৎ পূর্ণরূপে সাহায্য করবে)। এসবই হল ছাদাক্বাহ যা তোমার পক্ষ হ’তে তোমার নিজের কল্যাণের জন্য। আর স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করার মধ্যে তোমার জন্য নেকী রয়েছে’।

পপি: মাযলূম বা অত্যাচারিতকে সাহায্য করা রাস্তার অন্যতম আদব হচ্ছে অত্যাচারিতকে সাহায্য-সহযোগিতা করা। সম্ভব হ’লে বল প্রয়োগে, নতুবা মুখের মাধ্যমে সাহায্য করা। রাসূল (সাঃ) বলেন, [৪৯]  'তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে যালিম হোক অথবা মাযলূম’।

পপি: অর্থাৎ যালিম ভাইকে যুলুম থেকে বিরত রাখবে এবং মাযলূম ভাইকে যালিমের হাত হ’তে রক্ষা করবে। 

পপি: অন্য হাদীছে এসেছে, [৫০] জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আনছার ও মুহাজিরদের দু’টি গোলাম হাতাহাতি করছিল। তখন মুহাজির গোলাম এই বলে চীৎকার দিল, হে মুহাজিরগণ! পক্ষান্তরে আনসারী গোলামও ডাকল, হে আনছারগণ! তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বের হয়ে বললেন, এ কি ব্যাপার! জাহিলী যুগের লোকেদের মতো হাক-ডাক করছ? তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! না, দু’টি গোলাম ঝগড়া করেছে। তাদের একজন অপরজনের পশ্চাতে আঘাত করেছে। তখন তিনি বললেন, এতো মামুলী ব্যাপার। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উচিত যেন সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে, সে অত্যাচারী হোক কিংবা অত্যাচারিত। যদি সে অত্যাচারী হয় তাহ’লে তাকে (যুলম থেকে) বিরত রাখবে। এ হচ্ছে তার জন্য সাহায্য। আর যদি সে অত্যাচারিত হয় তাহ’লে তাকে সাহায্য করবে’।

পপি: মাযলূমকে সাহায্য না করার শাস্তি সম্পর্কে নবী করীম (সাঃ) বলেন, [৫১]  আল্লাহর জনৈক বান্দাকে কবরে একশত কশাঘাতের আদেশ দেওয়া হ’ল। তখন সে তা কমানোর জন্য বার বার আবেদন-নিবেদন করতে থাকল। শেষ পর্যন্ত একটি কশাঘাত অবশিষ্ট থাকল। তাকে একটি মাত্র কশাঘাতই করা হ’ল। তাতেই তার কবর আগুনে ভরে গেল। তারপর যখন আঘাতের প্রভাব দূর হ’ল এবং সে হুঁশ ফিরে পেল তখন বলল, তোমরা আমাকে কেন কশাঘাত করলে? তারা বলল, তুমি এক ওয়াক্ত ছালাত বিনা ওযূতে আদায় করেছিলে আর এক মাযলূম বান্দার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলে। কিন্তু তাকে তুমি সাহায্য করনি’।

পপি:  মহিলাদের রাস্তার পার্শ্ব দিয়ে চলা : রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে মহিলাদের উচিত নিজেদের ইজ্জত -আব্রু বজায় রাখার জন্য এক পার্শ্ব দিয়ে চলাচল করার চেষ্টা করা। যাতে পুরুষের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে না যায়।

পপি: [৫২] হামাযাহ ইবনু আবূ উসাইদ আল-আনছারী (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, যখন তিনি মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দেখেন, ‘রাস্তায় পুরুষরা মহিলাদের সঙ্গে মিলে মিশে গিয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মহিলাদের বললেন, তোমরা একটু অপেক্ষা কর। কারণ তোমাদের রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলাচলের পরিবর্তে পাশ দিয়ে চলাচল করা উচিৎ। সুতরাং মহিলারা দেয়ালের পাশ দিয়ে চলাচল করত, এতে তাদের চাদর দেয়ালের সঙ্গে আটকে যেত’।

পপি:  বাহন দ্রুত চালনা না করা বা বেপরোয়াভাবে যানবাহন না চালানো  : যানবাহনে মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ বিভিন্ন ধরনের যাত্রী থাকে। ফলে যানবাহন দ্রুত চালালে তাদের কষ্ট হয়। আবার এতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা হয়। তাই যানবাহন আস্তে-ধীরে চালাতে হবে।

এসম্পর্কে হাদিস [৫৩] আনাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, একবার উম্মু সুলাইম সফরের সামগ্রীবাহী উটে সওয়ার ছিলেন। আর নবী করীম (সাঃ)-এর গোলাম আনজাশা উটগুলোকে দ্রুত হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন নবী করীম (সাঃ) তাকে বললেন, ‘ওহে আনজাশা! তুমি কাঁচের পাত্র বহনকারী উটগুলো আস্তে আস্তে হাঁকাও’।

পপি: হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া : হাঁচি দেওয়ার পর হাঁচিদাতা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে তার উত্তর দেওয়া ইসলামের সাধারণ আদব। এটা রাস্তার আদবও বটে।[৫৪] রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয় সে যেন বলে, ‘আলহামদুলিল্লাহ’।  আর তার ভাই অথবা সাথী যেন বলে, ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমার উপরে দয়া করুন)। অতঃপর যখন তার জন্য ইয়ারহামুকাল্লাহ বলবে তখন সে (হাঁচিদাতা) যেন বলে, ‘ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়া ইউছলিহু বা-লাকুম’ (আল্লাহ তোমাকে হেদায়াত করুন এবং তোমার অবস্থা সংশোধন করে দিন)’।[৫৫] 

পপি: পরিশেষে বলব, রাস্তা-ঘাটে চলাচলের ক্ষেত্রে উপরোক্ত আদব বা শিষ্টাচার মেনে চলা জরূরী। এর মাধ্যমে ইহকালে যেমন সুফল পাওয়া যাবে, তেমনি পরকালীন জীবনেও অশেষ ছওয়াব হাছিল করা যাবে।

তিথি : সত্যিই তোদের ইসলামে তো রাস্তার নিয়মকানুন ও রাস্তার হক সম্পর্কে  চমৎকার কথা নির্দেশনা দিয়েছে। যে কথাগুলো বলছ;  সেগুলো যদি ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবাই মেনে চলে তাহলে অবশ্যই রাস্তায় চলাচলে কেউ কোন সমস্যায় পড়বে না এমনকি সড়ক দুর্ঘটনাও চিরতরে কমে যাবে। 

জেমি: যানবাহনে চলাকালে তোদের ইসলামে কোন দোয়া আছে কী? 
পপি: হ‍্যাঁ আছে। 
জেমি : তাহলে কয়েকটি দোয়া বল তো শুনি। 
পপি: যানবাহনে চলাকালে কোরআন ও হাদীসে অনেক দোয়া রয়েছে যেগুলো আমল করলেও যানবাহনে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।
পপি:  দোয়াগুলোর মধ্যে থেকে কয়েকটি দোয়া বলছি;

👩জেমি:  হ্যাঁ বল; 

👵পপি: যানবাহনে চলাচলের তাসবিহ ও দোয়া পড়ার নিয়ম হচ্ছে, যানবাহনে চলাচলের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু তাসবিহ ও একাধিক দোয়া পড়তেন। আবার এ দোয়া ও তাসবিহগুলো পড়ার সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও ধারাবাহিকতা ছিল। যা হাদিসে কুদসিতে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন খলিফাতুল মুসলিমিন হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু। 

পপি: যানবাহনের চলাচলের এ তাসবিহ ও দোয়াগুলো কী? কীভাবেই বা এ দোয়াগুলো পড়তে হয়? সেবিষয়ে বলছি, 

পপি: হাদিসে কুদসিতে যানবাহনে চলাচলের নিয়ম, তাসবিহ, দোয়া এবং করণীয় সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আলি ইবনে রাবিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয় নবীর শেখানো নিয়ম, তাসবিহ, দোয়া এবং ধারাবাহিক করণীয়গুলো হাদিসে কুদসিতে হুবহু তুলে ধরেছেন-

পপি: তিনি বলেন, ‘আমি হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেছি, একটি চতুষ্পদ জন্তু আনা হল; যেন তিনি তাতে আরোহণ করেন। তিনি যখন-
১. (শুরুতেই) তাঁর (চতুষ্পদ জন্তুর) ওপর নিজের পা রাখলেন (তখন) বললেন- বিসমিল্লাহ বা আল্লাহর নামে (শুরু করছি);

পপি:  ২. যখন তার বাহনে (সিটে বা আসনে) স্থির হয়ে বসলেন (তখন) বললেন - আলহামদুলিল্লাহ বা সব প্রশংসা আল্লাহ জন্য;

পপি: ৩. অতঃপর (এ দোয়া পড়লেন) বললেন- [৫৬] 
উচ্চারণ : ‘সুবহানাল্লাজি সাখ্‌খারা লানা হাজা ওয়া মা কুন্না লাহু মুক্বরিনিন।’
অর্থ : ‘পবিত্র সেই মহান সত্তা! যিনি এগুলোকে (সব যানবাহন) ‎আমাদের বশীভূত (নিয়ন্ত্রণাধীন) করে দিয়েছেন। আর ‎আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ‎ছিলাম না।’ 

পপি: ৪. অতঃপর তিনবার বললেন-  আল-হামদুলিল্লাহি; সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

পপি: ৫. অতঃপর তিনবার বললেন-  আল্লাহু আকবার; আল্লাহ মহান।
পপি : ৬. তারপর (এ দোয়া) বললেন-
উচ্চারণ : ‘সুবহানাকা ইন্নি জালামতু নাফসি ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’ অর্থ : ‘আপনি কতই-না পবিত্র সত্তা! নিশ্চয়ই আমি আমার নিজের নফসের উপর জুলুম করেছি; সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।’

পপি: ৭. অতঃপর (তিনি; হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু) হাসলেন। বলা হল (জানতে চাওয়া হল)- ‘হে আমিরুল মুমিনিন! (আপনি) কি জন্য হাসলেন?
তিনি বললেন- আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি। তিনি যেরূপ করেছেন; আমিও তদানুরুপ করেছি; অতঃপর (দোয়া ও তাসবিহগুলোর পড়ার পর) তিনি হেসেছেন। আমি বললাম- ‘হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কি জন্য হাসলেন? তিনি বললেন- [৫৭]
‘তোমার রব তার (ওইসব) বান্দাকে দেখে আশ্চর্য হন! যখন সে বলে আমার পাপ ক্ষমা করুন, সে (তাও) জানে, আমি ছাড়া আর কেউ পাপ ক্ষমা করবে না।’ 

পপি: আল্লাহর রাসুল (সা.) বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় একটা দোয়া পড়তে নির্দেশ ও পরামর্শ দিয়েছেন। এই দোয়া পড়লে বাইরে অবস্থানের সারাটা সময় আল্লাহর জিম্মাদারিতে থাকা যায়। সব ধরনের বিপদ-আপদ ও অসুবিধা থেকে আল্লাহ তাআলা রক্ষা করেন। 

পপি: আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,  [৫৮] আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “যদি কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে, ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’, তবে তাকে বলা হয় (আল্লাহ তাআলাই) তোমার জন্য যথেষ্ট, তুমি হেফাজত অবলম্বন করেছ (অনিষ্ট থেকে)। তাতে শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়। 

👵পপি: দোয়াটি হলো ​:


উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
অর্থ : আল্লাহর নামে, আল্লাহ তাআলার ওপরই নির্ভর করলাম, আল্লাহ তাআলার সাহায্য ছাড়া বিরত থাকা ও মঙ্গল লাভ করার শক্তি কারো নেই। 

পপি: বাহনে চড়ার পর মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন,
উচ্চারণ :  বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সুবহানাল্লাজি সাখখারালানা হা-যা ওয়া-মা-কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুন কালিবুন।’
অর্থ : আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি অত্যন্ত দয়ালু ও অশেষ করুণাময়। তিনি পূতপবিত্র ওই সত্তা যিনি বাহনকে আমার অধীন করে দিয়েছেন। আমাদের কাছে তাকে আয়ত্তে আনার ক্ষমতা ছিল না। অবশ্যই আমরা আমাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

.পপি: রাসুল (সা.) আরেকটি দোয়া পড়তেন দোয়াটি হচ্ছে - [৫৯]
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফরিনা হা-জাল বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তার-দা আল্লাহুম্মা হাউয়িন আলাইনা সাফারনা হা-যা, ওয়াতওই আন্না বু’দাহু, আল্লাহুম্মা আনতাস্‌-সাহিবু ফিস্‌-সাফার, ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি ওয়াল মাল। আল্লাহুম্মা ইন্না নাউজুবিকা মিন ওয়া-ছা-ইস সাফারি ওয়া-কাআবাতিল মানজারি, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল আহলি ওয়াল মাল।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের এ সফর সহজ করে দাও। রাস্তার দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের সফরের সঙ্গী এবং আমাদের পরিবারের কাছে তুমি আমাদের স্থলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ! তোমার কাছে সফরের কষ্ট-ক্লান্তি ও ভয়ানক দৃশ্য দেখা থেকে এবং পরিবার, সম্পদ-বিত্ত ও অধীনস্তদের কাছে খারাপ অবস্থায় ফেরত আসা থেকে তোমার কাছে রক্ষা চাই। 

পপি: নৌকা বা জাহাজে ভ্রমণের দোয়া : [৬০]
উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি মাজরিহা ওয়া মুরসা-হা, ইন্না রাব্বি লা গাফুরুর রহিম।
অর্থ : তোমরা এতে আরোহন কর। আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ন, মেহেরবান। 

পপি: সফরে কোথাও থামলে যে দোয়া পড়তে হয় : 
ভ্রমণের মাঝপথে কোথাও অবস্থান করতে হলে এ দোয়া পড়ার নির্দেশ দিয়ে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এই দোয়াটি পড়লে, ঘরে ফেরা পর্যন্ত কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না। 

পপি: দোয়াটি- [৬১]

উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খালাক’
অর্থ : আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমার মাধ্যমে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা চাচ্ছি।

পপি: সুতরাং সুন্নাতের অনুসরণে যানবাহনের চলাচলের সময় উল্লেখিত নিয়মে ধারাবাহিকভাবে তাসবিহ ও দোয়াগুলো যথাযথভাবে পড়ায় রয়েছে কল্যাণ ও বরকত। এতে রয়েছে মহান রবের কৃতজ্ঞতা। নিরাপত্তা ও সুস্থ থাকার উপায়। গোনাহমুক্ত সুস্থ জীবন পাওয়ার হাতছানি।

পপি: আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে হাদিসের অনুসরণ ও অনুকরণে যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন সেই দোয়া করি সর্বদা এবং চলার পথে যানবাহনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ও বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা  করুন সবাইকে।

পপি : কোরআন ও হাদীসের আলোচনা শেষ করতেই জেমির মোবাইলে রিংটন বেজে উঠল; 

জেমিঃ ফোন রিসিভ করে কথা শেষ করে বলল, দিদিমা ফোন দিয়েছে আমাকে এক্ষুনি যেতে হবে! তোরা কথা বল আমি আসছি, গুডবাই। 
জেমি: হাত নেড়ে নেড়ে টা-টা...

    নবীন প্রেমের  উদয়! প্রথম খণ্ড, পর্ব : সাত, 
                       সমাপ্ত।।
  রচনাকালঃ সংশোধিত ৫ অক্টোবর, ২০২২ইং

        বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত৷

২টি মন্তব্য: