নবীন প্রেমের উদয়! প্রথম খণ্ড,
নাঈম হোসেন
পর্ব: ছয় [হুবহু জেমির বর্ণনা];
👧তিথি: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় (দুই) কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হলে সারাদেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন জোড়ালো হয়ে উঠে। উক্ত আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তে তাড়াহুড়া করে সংসদে পাশ করা হয় আইনটি।
তিথি : সুশীলসমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংস্থার জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২২ অক্টোবর ২০১৯ ‘সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮’ কার্যকরের তারিখ ঘোষণা করেছে। সব ধরনের সাজা বাড়িয়ে নতুন আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
তিথি : নতুন এ আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে র্দূঘটনা ঘটিয়ে মৃত্যু ঘটালে মৃত্যুদন্ডের বিধানসহ কঠিন কিছু ধারা সন্নিবেশ করা হয়েছে।
তিথি: গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ জাতীয় সংসদে “সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮” নামে পাশ হওয়া আইনটিতে কোনরূপ পরিবর্তন, সংশোধন ছাড়াই ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর সড়ক-মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরে এই আইন কার্যকরের গেজেট প্রাকাশ করা হয়। এটি নি:সন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও চ্যালেঞ্জিং পদক্ষেপ।
তিথি : নতুন এ আইন পুরনো ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ এর আদলে করা হলেও এতে সময়োপযোগী অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিথি: ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশে অপরাধের জরিমানা ও সাজার পরিমাণ ছিলো একেবারেই নগণ্য।
তিথি: ২০১৮ সালের নতুন সড়ক আইনে অপরাধের উপর ভিত্তি করে বৃদ্ধি করা হয়েছে জরিমানা ও শাস্তির পরিমাণ। একইসাথে অপরাধের তদন্ত, বিচার ও আপিল সংক্রান্ত বিধানে ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিথি: আইনটির একাদশ অধ্যায়ে অপরাধ, বিচার ও দন্ড, দ্বাদশ অধ্যায়ে পুনর্বিবেচনা ও আপীল সংক্রান্ত নিয়ম কানুন স্ববিস্তরে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
তিথি: নতুন এ আইনে ড্রাইভারের লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে ৮ম শ্রেণী পাশের কথা বলা হয়েছে। একই সাথে, ড্রাইভারের সহকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম ৫ম শ্রেণী পাশের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে এবং পূর্বের আইনের মতো সহকারীর ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার বিধানটি বলবৎ রাখা হয়েছে।
তিথি : লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পেশাদার হলে কমপক্ষে ২১ এবং অপেশাদার ড্রাইভারের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৮ বছর বয়স হতে হবে।
তিথি: এককথায় বলতে গেলে, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ তে ঢেলে সাজানো হয়েছে জরিমানা ও শাস্তির পরিমাণ।
জেমি: কী আছে নতুন এ সড়ক আইনে ?
তিথি: নতুন এ আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যাতীত মোটরযান ও গণপরিবহণ চালনার বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত ধারা ৪ এবং ৫ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪ এবং ৫ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: ড্রাইভিং লাইসেন্স হস্তান্তর সংক্রান্ত ধারা ৬ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৬ এর উপ-ধারা (৫) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: বিদেশি নাগরিক কর্তৃক এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের কোন বিধান বা লাইসেন্সে প্রদত্ত শর্ত অমান্য সংক্রান্ত ধারা ৯ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো বিদেশি নাগরিক ধারা ৯ এর উপ-ধারা (৩) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩০ (ত্রিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: কর্তৃপক্ষ ব্যতীত ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুত, প্রদান বা নবায়নে বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত ধারা ১০ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি : যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ১০ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর তবে অন্যূন ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা তবে অন্যূন ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত, প্রত্যাহার বা বাতিল করা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক মোটরযান চালানোর উপর বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত ধারা ১২ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ১২ এর উপ-ধারা (৩) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: কন্ডাক্টর লাইসেন্স ব্যতীত কোনো গণপরিবহণে কন্ডাক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত ধারা ১৪ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ১৪ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত মোটরযান চালনা সংক্রান্ত ধারা ১৬ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ১৬ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: ভূয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার ও প্রদর্শনে বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত ধারা ১৭ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ১৭ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর তবে অন্যূন ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা তবে অন্যূন ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তরের কারণে হস্তান্তরগ্রহীতা কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ধারা ২১ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো হস্তান্তরগ্রহীতা ধারা ২১ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) মাস কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: মোটরযানের ফিটনেস সনদ ব্যতীত বা মেয়াদউত্তীর্ন ফিটনেস সনদ ব্যবহার করিয়া বা ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত বা ফিটনেসের অনুপযোগী, ঝুঁকিপূর্ণ মোটরযান চালনা সংক্রান্ত ধারা ২৫ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ২৫ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: ট্যাক্স-টোকেন ব্যতীত বা মেয়াদউত্তীর্ণ ট্যাক্স-টোকেন ব্যবহার করিয়া মোটরযান চালনা সংক্রান্ত ধারা ২৬ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ২৬ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: রুট পারমিট ব্যতীত পাবলিক প্লেসে পরিবহন যান ব্যবহার সংক্রান্ত ধারা ২৮ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ২৮ এর উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: বিদেশি নাগরিক কর্তৃক বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিজ দেশের মোটরযান/ গণপরিবহণের রুট পারমিট গ্রহণ না করা সংক্রান্ত ধারা ২৯ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো বিদেশি নাগরিক ধারা ২৯ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩০ (ত্রিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: মোটরযানের বাণিজ্যিক ব্যবহার সংক্রান্ত ধারা ৩১ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৩১ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে।
তিথি: গণপরিবহণে ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন ও নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া দাবী বা আদায় সংক্রান্ত ধারা ৩৪ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৩৪ এর উপ-ধারা (৩) ও (৪) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং, চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে।
তিথি: কনট্রাক্ট ক্যারিজের মিটার অবৈধভাবে পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি বা আদায় সংক্রান্ত ধারা ৩৫ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৩৫ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং, চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে।
তিথি: মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ তাৎক্ষণিক অপসারণ সংক্রান্ত ধারা ৩৭ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৩৭ এর উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসরের কারাদণ্ড, বা স্থায়ী স্থাপনার ক্ষেত্রে অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা এবং অস্থায়ী স্থাপনার ক্ষেত্রে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: চাঁদাবাজি নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত ধারা ৩৮ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৩৮ এর উপ-ধারা (৩) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত অপরাধ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860)-এর অধ্যায়-১৭ এর অধীন চাঁদাবাজি (extortion) সংক্রান্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।
তিথি: কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত কোনো মোটরযানের কারিগরি বিনির্দেশ অমান্য সংক্রান্ত ধারা ৪০ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪০ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসরের কারাদণ্ড তবে অন্যূন ১ (এক) বছর, বা অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: ট্রাফিক সাইন ও সংকেতের ব্যবহার মানিয়া চলা সংক্রান্ত ধারা ৪২ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪২ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং, চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে।
তিথি: অতিরিক্ত ওজন বহন করিয়া মোটরযান চালানো সংক্রান্ত ধারা ৪৩ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪৩ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসরের কারাদণ্ড, বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং, চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ২ (দুই) পয়েন্ট কর্তন হইবে।
তিথি: মোটরযানের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ধারা ৪৪ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪৪ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং, চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে।
তিথি: নির্ধারিত শব্দমাত্রার অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার কোনরুপ শব্দ সৃষ্টি বা হর্ণ বাজানো বা কোনো যন্ত্র, যন্ত্রাংশ বা হর্ণ মোটরযানে স্থাপন সংক্রান্ত ধারা ৪৫ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪৫ এর উপ-ধারা (২), (৩) ও (৪) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং, চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে।
তিথি: পরিবেশ দূষণকারী, ঝুঁকিপূর্ণ ইত্যাদি মোটরযান চালনার বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত ধারা ৪৬ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি: (১) যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪৬ এর উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং, চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে। (২) যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪৬ এর উপ-ধারা (৪) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং, চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে।
তিথি : মোটরযান পার্কিং এবং যাত্রী বা পন্য উঠানামার নির্ধারিত স্থান ব্যবহার সংক্রান্ত ধারা ৪৭ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
👧তিথি : যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪৭ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক অনধিক ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে।
থিতি: দ্রুতগতির মোটরযান প্রবেশের ক্ষেত্রে মহাসড়কের ব্যবহার সংক্রান্ত ধারা ৪৮ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি : যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪৮ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে।
তিথি : মোটরযান চলাচলের সাধারণ নির্দেশাবলী সংক্রান্ত ধারা ৪৯ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি : (১) যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪৯ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সাধারণ নির্দেশাবলির প্রথম অংশের কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং, চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে। (২) যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪৯ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সাধারণ নির্দেশাবলির দ্বিতীয় অংশের কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং, চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে।
তিথি : বিস্ফোরক বা দাহ্য পদার্থ মোটরযানে পরিবহন সংক্রান্ত ধারা ৫১ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি : যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৫১ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি : মোটরযানের মালিক বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আর্থিক সহায়তা তহবিলে বাৎসরিক বা এককালীন চাঁদা প্রদানের বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত ধারা ৫৩ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি : যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৫৩ এর উপ-ধারা (৩) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য কর্তৃপক্ষ তাহার গণপরিবহণ চালনার অনুমতিপত্র ও রুট পারমিট বাতিল করিতে বা ক্ষেত্রমত, রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সনদ বা উহার নবায়ন করিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিতে পারিবে এবং তদোতিরিক্ত নির্ধারিত হারে জরিমানা আরোপ করা যাইবে।
তিথি : সড়ক দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত ধারা ৬২ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি : যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৬২ এর উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং, চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে।
তিথি : মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ স্কুল প্রতিষ্ঠা বা পরিচালনা সংক্রান্ত ধারা ৬৩ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি : যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৬৩ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ স্কুল বন্ধ করিতে পারিবে।
তিথি : মোটরযান মেরামত কারখানা স্থাপন বা পরিচালনা সংক্রান্ত ধারা ৬৪ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি : যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৬৪ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অন্যূন ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা এবং অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত মোটরযান মেরামত কারখানা সিলগালা করিয়া বন্ধ করিতে পারিবে।
তিথি : ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মোটরযান চালনার ফলে দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের দণ্ড,
তিথি : যদি নির্ধারিত গতিসীমার অতিরিক্ত গতিতে বা বেপরোয়াভাবে বা ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বা ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মোটরযান চালনার ফলে কোনো দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি সাধিত হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট মোটরযানের চালক বা কন্ডাক্টর বা সহায়তাকারী ব্যক্তির অনুরূপ মোটরযান চালনা হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ০৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং আদালত অর্থদণ্ডের সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
তিথি : অপরাধ সংঘটনে সহায়তা, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের দণ্ড,
তিথি : যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন বা প্ররোচনা প্রদান করেন বা ষড়যন্ত্র করেন এবং যাহার ফলে সংশ্লিষ্ট অপরাধটি সংঘটিত হয়, তাহা হইলে উক্ত সহায়তাকারী, যড়যন্ত্রকারী বা প্ররোচনা প্রদানকারী ব্যক্তি উক্ত অপরাধ সংঘটনের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের সমপরিমাণ দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি : অপরাধ পুনঃ সংঘটনের দণ্ড,
থিতি: এই আইনে উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডভোগকারী একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করিলে, উক্ত ব্যক্তিকে সংঘটিত অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ দন্ডে দন্ডিত করা যাইবে এবং ইহা কোনোক্রমে পূর্বে প্রদত্ত দণ্ডের দ্বিগুণের কম হইবে না।
তিথি : পরিদর্শনে বাধা প্রদান বা প্রদত্ত নির্দেশনা অমান্য সংক্রান্ত ধারা ১১৬ এর উপ-ধারা (২) এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি : যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ১১৬ এর উপ-ধারা (২) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
থিতি: আদেশ পালন ও তথ্য প্রদানে বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত ধারা ১১৮ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি : যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ১১৮ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
থিতি: আক্রমনাত্মক আচরণ ও জনরোষ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ধারা ১১৯ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি : যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ১১৯ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
থিতি: সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ ও নির্দেশনা সংক্রান্ত ধারা ১২৪ এর অধীন প্রণীত বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড,
তিথি : যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ১২৪ এর অধীন সরকার কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশনা এবং প্রণীত নীতিমালায় প্রদত্ত নির্দেশনা লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
থিতি: দুর্ঘটনা সংক্রান্ত অপরাধ,
তিথি : এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মোটরযান চালনাজনিত কোনো দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে কোনো ব্যক্তি আহত হইলে বা তাহার প্রাণহানি ঘটিলে, তৎসংক্রান্ত অপরাধসমূহ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860)-এর এতদ্সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, Penal Code,1860 (Act No. XLV of 1860)-এর section 304B এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালনার কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হইলে বা তাহার প্রাণহানি ঘটিলে, উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ০৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তিথি: কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন,
👧তিথি : (১) কোনো কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে উক্ত কোম্পানির এইরূপ মালিক, পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সচিব, অন্য যে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
তিথি: (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি আইনগত সত্তা হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়াও উক্ত কোম্পানিকে পৃথকভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে শুধু অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।
তিথি: এই ধারার উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে, “কোম্পানি” অর্থে, নিগমিত বা নিবন্ধিত হউক বা না হউক, কোনো কোম্পানি বা সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী কারবার, সমিতি বা একাধিক ব্যক্তি সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন এবং সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা সরকারের সম্পূর্ণ বা আংশিক মালিকানাধীন যে কোনো কোম্পানি বা সংস্থাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
তিথি : সর্বমোট ১৪টি অধ্যায়ে ভাগ করা, ১২৬টি ধারা সম্বলিত এই আইন গত ২৭ মার্চ ২০১৭ ইং তারিখে মন্ত্রীসভায় অনুমোদন হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং সংসদে পাশ হয়, ৮ই অক্টোবর ২০১৮ ইং প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রকাশিত হয়।
তিথি: সংসদে পাশ হওয়া সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ১(২) ধারায় বলা হয়েছে, সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করবে, সেই তারিখ এই আইন কার্যকর হবে।
তিথি: আইনটি পাশের পরপরই আইনের ধারা সংশোধনের দাবী তুলে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। তৎপ্রেক্ষিতে মালিক-শ্রমিক ফেডারেশনসহ মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও গঠিত কমিটির আন্তরিক স্বদিচ্ছার অভাবে পাশ হওয়ার দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও অতিগুরুত্বপূর্ণ এ আইন দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
তিথি : তবে, সকল বাঁধার অবসান কাটিয়ে এস, আর, ও নং ৩৩৩-আইন/২০১৯, তারিখঃ ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ইং এবং ০৬ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১ নভেম্বর, ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ তারিখ হইতে আইনটি কার্যকর করা হয়।
তিথি: এই আইনের সুষ্ঠু কার্যকারিতার সাথে জড়িত আছে দেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট, রাস্তাঘাটের অবকাঠামো, বিআরটিএ এর সেবা প্রদানের স্বচ্ছতা এবং কাজের গতি, ট্রাফিক বিভাগে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়াও জড়িত রয়েছে সচেতন নাগরিক সামাজের ভূমিকা।
তিতিথি: বিআরটিএ থেকে যে সমস্ত সেবাসমূহ প্রদান করা হয় তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন মালিকানা কাগজ বা স্মার্ট কার্ড এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স। এই দু-ক্ষেত্রেই বিআরটিএ এর সেবা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট অসন্তুষ্টি ও সমালোচনা রয়েছে।
তিতিথি : লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে দালালদের দৌরাত্ম, দালালের মাধ্যমে না গেলে পরীক্ষায় পাশ না করানো, বিভিন্ন ধরণের হয়রানি করানো ইত্যাদি নিত্যনৈমিত্তিক অভিযোগ। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন মালিকানাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা, মাসের পর মাস সময় নেয়া, এসএমএস পাঠানোর পরও সঠিক সময়ে ডেলিভারী না পওয়া ইত্যাদি অভিযোগ ও অসন্তোষ জনগণের সাথে কথা বললে জানা যায়।
তিথি : নতুন আইনে সঠিক নিয়মে শৃঙ্খলা মেনে গাড়ি চালানোর ব্যাপারে শক্ত কঠিন ধারা অন্তর্ভূক্ত করলেও সে অনুপাতে নগরীর রাস্তাঘাট গুলো প্রস্তুত করা হয়নি। নিরাপদে নির্বিঘ্নে নিজের লাইনে গাড়ি চালানোর মতো করে অবকাঠামো আমাদের দেশে এখনো তৈরী হয়নি।
তিথি: রাস্তায় চলাচলে দেখা যায়, বাসের আগে কার, কারের আগে সিএনজি অটোরিকশা, অটোরিকশা আগে ম্যানুয়েল রিক্সা আর তার আগে ভ্যানগাড়ি নিজ গতরে ঠেলে টেনে নিয়ে যায়। একটি গাড়ি অন্য গাড়িকে সাইড দেয়ার রাস্তায় পর্যাপ্ত জায়গা নেই। পার্কিং নাই, নাই ফুটপাত। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সিটি কর্পোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা, গ্যাস লাইন, টেলিফোন লাইনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রাস্তাখুঁড়ে রাস্তার স্বাভাবিক চলাচলের নিয়মে বাঁধা প্রদান করে।
তিথি: কিন্তু যদি গাড়ি চালানোর জন্য পরিপাটি একটি রাস্তা দেয়া না যায় তাহলে ড্রাইভারকে গতি, লাইন, শৃঙ্খলা মানার জন্য বাধ্য করা যাবে কিভাবে?
👩জেমি: এটা একদম সত্যি কথা যদি গাড়ি চালানোর জন্য পরিপাটি একটি রাস্তা দেয়া না যায় তাহলে ড্রাইভারকে গতি, লাইন, শৃঙ্খলা মানার জন্য বাধ্য করা ঠিক হবেনা।
তিথি : নতুন আইন কার্যকরের সাথে আরো একটি বড় বিষয় ভাবার আছে, তা হলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ বা থানা। যেহেতু রাস্তায় তারা দায়িত্ব পালন করবে, সেহেতু আইনের অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে যায়। যেহেতু আইনে কঠিন কিছু সাজা আছে, জরিমানাসহ জেলের বিধান আছে, বিনাপরোয়ানায় গ্রেফতারের বিধান আছে, সেহেতু অন্যায় ক্ষমতা প্রয়োগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক লেনদেনের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়গুলো তৎসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রেখে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। যাতে, আইন তার আলোকিত উদ্দেশ্য হারিয়ে শয়তানদের খোরাকে পরণিত না হয়ে যায়।
তিথি: আইনটির প্রারম্ভিকে সংবিধানের ৫ম সংশোধনী ও ৭ম সংশোধনী বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে এবং সবিশেষ নিরাপদ সড়ক পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে যুগোপযোগী আইন তৈরী করে নিয়ম মতে সংসদে পাশ হয়েছে, বহু কাঠখড় পুড়িয়ে আইনটি কার্যকরের ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
তিথি: দুর্ঘটনার কারণগুলো কমবেশি চিহ্নিত হলেও এর থেকে পরিত্রাণের জন্য আশু-স্বল্প-দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার যথাযথ আইনি-সচেতনতামূলক গণপ্রয়োগ একান্ত প্রয়োজন।
তিথি : সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চলতি গাড়িতে যে কথাটি একান্তই মনে রাখতে হবে,
জেমি: কী কথা সেটি ?
তিথি: গাড়িতে ভ্রমনের সময় জানালা দিয়ে মাথা বের না করাঃ
আপনি চালক হন বা যাত্রী। কোন অবস্থাতেই গাড়ির জানালা দিয়ে মাথা বের করে আশেপাশের কোন কিছু দেখার চেষ্টা করবেন না। বা হাত বাইরে রাখবেন না। যখন রাস্তায় অনেক গাড়ির ভিড় থাকে, তখন যদি এমন করে জানালার বাইরে মাথা কিংবা হাত রাখেন তাহলে পাশের গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে হতাহত হতে পারেন। আপনি যদি চালক হন, তাহলে আপনার পাশে বা পেছনে বসা ব্যক্তিকেও এই ব্যাপারে সতর্ক করে গাড়ি চালাবেন।
তিথি : সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে সড়ক দূর্ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। এর কারণ হিসেবে আমরা নির্দিষ্ট কোন কিছুকে দায়ী করতে পারবো না। কিন্তু একটা দূর্ঘটনার কারণে শেষ হয়ে যেতে পারে আমার মতো আপনার সব স্বপ্ন। কিন্তু আমরা সকলেই যদি প্রচলিত সকল ট্রাফিক আইন মেনে চলতে পারি, তাহলে এই সকল অপ্রত্যাশিত সড়ক দূর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা যাবে। সামান্য সতর্কতার ফলে আপনি একটি বড় বিপদ থেকে বেঁচে যেতে পারেন।
জেমি : সঠিক কথা বলছো।
জেমিঃ আচ্ছা বাংলাদেশ ট্রাফিক পুলিশের কাজ কি?
তিথিঃ ট্রাফিক পুলিশ ছোট শহরগুলিতে জেলা পুলিশের অধীনে এবং বড় শহরগুলিতে মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে কাজ করে। ট্রাফিক পুলিশ ট্রাফিক আইনকানুন মেনে চলতে যানবাহনগুলোর ড্রাইভারদের বাধ্য করে এবং অমান্য কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
জেমিঃ সত্যিই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক নীতিমালা নিয়ে যেকথাগুলো তুই বলছো তা যদি আমরা সবাই মেনে চলতে পারি তাহলে অবশ্যই সড়ক দুর্ঘটনা থেকে চিরমুক্তি পাওয়া সম্ভব।
জেমি : আচ্ছা তুই ট্রাফিক নীতিমালা সম্পর্কে এতকিছু কীভাবে জানো?
তিথি: কেন তুই জানছনা ? বাংলাদেশ সরকার জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের এখন অধিকাংশ জেলা এবং উপজেলায় গাড়ি প্রশিক্ষণের জন্য ট্রেনিং সেন্টারের ব্যবস্থা করেছেন পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সেইফ এর মাধ্যমেও ফ্রি কার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখেছেন। যে কেউ ইচ্ছা করলেই ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে একজন দক্ষ চালক হয়ে গাড়ি চালাতে পারেন। সেখান থেকে সরকারি খরচে সম্পূর্ণ ফ্রিতে গাড়ি প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়। শুধু তাই নয় প্রশিক্ষণ শেষে ফ্রি লাইসেন্স এবং যাতায়াত বিলের টাকাও সরকার দিয়ে দিচ্ছে , আমি তো সেখান থেকেই কার প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে এতকিছু জেনেছি।
জেমি : মেয়েরা কী সেখানে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে?
তিথি : অবশ্যই ! না হয় আমি কীভাবে নিলাম ! কেন তুই জানিসনা ? এখন ছেলে মেয়ে কর্মক্ষেত্রে কোন ভেদাভেদ নেই ৷
জেমি: তাহলে তো বাংলাদেশ সরকার আমাদের দেশের জন্য এটা একটা ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। আশা করা যায় এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গাড়ি চালালে সকল চালক সড়ক নীতিমালার পাশাপাশি গাড়ি চালকদের করনীয় সবকিছু জেনে গাড়ি চালাবে। তখন আমাদের দেশ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
জেমি: বাংলাদেশ সরকার মাননীয় জননেত্রী শেখ হাসিনা সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমাতে এবং সড়ককে ঢেলে সাজাতে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা দেশবাসী তাকে ভালোবাসার অভিনন্দন জানাই।
তিথি : অভিনন্দন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে।
নবীন প্রেমের উদয়! প্রথম খণ্ড,পর্ব : ছয় ,
সমাপ্ত।।
রচনাকালঃ সংশোধিত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ইং
বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷
অপূর্ব সৃজন
উত্তরমুছুনচমৎকার
উত্তরমুছুন